রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মৎস্যচাষিদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
মৎস্যচাষিদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা

সংবাদদাতা: আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খামারকে লাভজনক করার লক্ষ্য নিয়ে সাতক্ষীরায় মৎস্যচাষিদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) শহরের এল্লারচরের মৎস্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগে ‘মাছ চাষে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এই দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) মৎস্য কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম। ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজের দক্ষিণ-পশ্চিম (সাউথ-ওয়েস্ট) অঞ্চলের আঞ্চলিক বিপণন ব্যবস্থাপক (রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার) কিংকর হালদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্র্যাক ফিশারিজের উপকূলীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক বিপণন ব্যবস্থাপক রাকিব আহমেদ, সাতক্ষীরা অঞ্চলের বিক্রয় কর্মকর্তা মো. বিপ্লব হোসেন ও আসিফ হাসান প্রমুখ।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে পুকুর প্রস্তুত করা, পানির গুণগত মান বজায় রাখা, উন্নত মানের পোনা নির্বাচন এবং সুষম খাদ্য প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। আর এর মাধ্যমেই মৎস্যচাষিরা অধিক লাভবান হতে পারেন। বর্তমান সময়ে সনাতন পদ্ধতি পরিহার করে চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকতে হবে।

দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে পুকুর প্রস্তুতি, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, পোনা মজুদ, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং মাছের রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে চাষিদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়া মাছ চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার—যেমন প্রোবায়োটিক প্রয়োগ, এয়ারেটর (কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহ যন্ত্র) ব্যবহার এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে মৎস্যচাষিরা মাছ চাষের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নানাবিধ সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং বিশেষজ্ঞরা তার সমাধানমূলক পরামর্শ দেন। চাষিদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা বাড়াতে অনুষ্ঠান শেষে একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী মৎস্যচাষিদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। আয়োজক সংস্থা ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের মৎস্য খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বছরব্যাপী এই ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

 

Ads small one

ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষ্যে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষ্যে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক আগামী ১৯ থেকে ২১ মে পর্যন্ত সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে আজ (রবিবার) সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ।

 

আগামী ১৯ মে সকাল ১০টায় তেজগাঁও ভূমিভবন থেকে সারাদেশে একযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধন করবেন।

 

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে ১৯ থেকে ২১ মে পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ মে সকাল ১১টায় শহিদ হাদিস পার্ক থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত মেলা উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 

মেলা চলাকালীন সময় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৃথক দুইটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিনব্যাপী মেলায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ভূমিসেবা বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রতিদিন মেলা পরিদর্শন, ডিজিটাল ভূমিসেবা সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভূমিসেবা ও ভূমি আইন বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

 

সরকার ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাকে সজহীকরণ এবং হয়রানিমুক্ত করতে খুলনা জেলায় ১৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে এবং আরও নয়টি কেন্দ্র সদ্য অনুমোদন করা হয়েছে, যেন ভূমিসেবা সহায়তা আরও বৃদ্ধি পায়। ভূমি সংক্রান্ত যেকোন তথ্য, অভিযোগ বা জিজ্ঞাসার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টারের হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা যাবে।

 

ভূমিসেবা মেলায় তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের জন্য land.gov.bd সার্ভিস পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন, হোল্ডিং এন্ট্রি ও অনুমোদন এবং অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে সার্বিক সহায়তা প্রদান, ই-নামজারির আবেদন দাখিলে সহায়তা করা এবং নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণে সহায়তা করা হবে।

 

অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ করা, অনলাইনে মৌজাম্যাপ প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে সরবরাহ করা বিষয়ে অবহিত করা, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ চেক সরাসরি মেলা থেকে প্রদান, গণশুনানীর মাধ্যমে ভূমিসেবা সংক্রান্ত যেকোন অভিযোগ গ্রহণ এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় দ্রুত সমাধান করা হবে ও ভূমি সংক্রান্ত যেকোন বিষয়ে সেবাগ্রহীতাদের পরামর্শ প্রদান করা হবে এবং একইসাথে জনসাধারণের পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।

 

প্রেস কনফারেন্সে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কানিজ ফাতেমা লিজা, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যবিবরণী

তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): জৈষ্ঠ মাসের শুরুতে তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদ আর অসহনীয় গরমে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। সারা দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। পাশাপাশি বেড়েছে বাতাসে আর্দ্রতা। সব মিলিয়ে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।

পাইকগাছায় প্রচন্ড তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে বিশেষ কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। অনেকে তালের শাস, শরবত খেয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করছেন। দুপুর বারোটার পর থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত রাস্তা ও বাজার এলাকা ফাঁকা হয়ে পড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে প্রচন্ড গরম লাগছে। বোরো ধানের মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা তাপদাহে হাপিয়ে উঠছে। শ্রমজীবী ও স্থানীয়রা বলেন, গরমে কোনো কাজ করতে পারছেন না তারা। উপকূলের পাইকগাছা এলাকায় লবনাক্ত হাওয়ায় গরম বেশী অনুভূত হচ্ছে।

জ্যৈষ্ঠের শেষে আরো তেতে উঠছে সূর্য। কয়েক দিন ধরে দেশের বড় অংশজুড়ে প্রচন্ড গরম পড়েছে। দিনে আগুনে রোদ ও গরমে খাঁ খাঁ করে চারদিক। রাতেও তাপমাত্রা কমে না। আর সেই সাথে লোডশেড়র্িং ও তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। গরমের কারণে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি। ডায়রিয়ায়ও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

ঘরের ফ্যানের বাতাসও যেন গরম হয়ে উঠছে। তারপরও রয়েছে মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বেলা বাড়ার সাথেই বাড়ছে তাপপ্রবাহ। দুপুরের দিকে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী ছুই ছুই অবস্থা। শহর এলাকায় গরমে নাভিশ্বাস বাড়ছে মানুষের।

পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপস গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের প্রখর তাপদাহ ও তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও কর্মজীবীদের জীবন যেন বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম। তারপরও জীবন-জীবিকার তাগিদে ঘাম ঝরিয়ে ছুটতে হচ্ছে তাদের। পাইকগাছার খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুলও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। পাইকগাছা পৌর শহরের ভ্যান চালক আবুল হোসেন বলেন, বেশি তাপের কারণে দুই-তিন ঘন্টার বেশি ভ্যান চালাতে পারছি না। রাস্তা থেকে গরম তাপ এসে যেন মুখে লাগছে। তাপ ও রৌদ্রের কারণে রাস্তায় বেশিক্ষণ থাকতে পারি না। গোপালপুর গ্রামের নুর ইসলাম বলেন, এই তীব্র গরমে মাঠে কাজ করতে ইচ্ছে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে শরীরে আগুনের তাপ লাগছে।

প্রচন্ড গরমের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে রোগীদের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, গরমে শিশুদের ডায়রিয়া, টাইফয়েড, শরীরে ঘাম বসে নিউমোনিয়া, ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর ও প্রস্্রাবে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। বিনা কারণে শিশুকে ঘরের বাইরে বের না হতে বলা হচ্ছে অভিভাবকদের। সেই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি ও টাটকা খাবার খাওয়াতে হবে ও ফ্যানের নিচে বাতাসে রাখতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

 

সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলার উত্তর পাশে অবস্থিত ‘নলেজ একাডেমিক পয়েন্ট কোচিং সেন্টার’-এ এই ঘটনা ঘটে।

এই হামলায় গুরুতর আহত কোচিং সেন্টারের পরিচালক মইনুল ইসলাম (৩০) বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- পুরাতন সাতক্ষীরা (নাথপাড়া) এলাকার ইমরান হোসেন (২৪), মো. তোহা (২১), মো. শিপন হোসেন (২৬) এবং মো. রকি (২২)।

লিখিত এজাহার থেকে জানা যায়, মইনুল ইসলামের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে একজন আসামির ১৬ বছর বয়সী এক বোন পড়াশোনা করত। কোচিংয়ে আসা-যাওয়ার সুবাদে সেন্টারের শিক্ষক আলফাজের সঙ্গে ওই ছাত্রীর অতিরিক্ত কথাবার্তা বলা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন তৈরি হয়। বিষয়টি পরিচালকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি কোচিংয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শিক্ষক আলফাজকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেন এবং ওই ছাত্রীকেও কোচিংয়ে আসতে নিষেধ করে দেন।

এঘটনার পর ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার ভাইদের কাছে বিষয়টি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ১৪ মে রাতে আসামিরা লোহার রড, জিআই পাইপ ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে বেআইনিভাবে কোচিং সেন্টারের নিচতলার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা পরিচালক মইনুল ইসলামের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১নং আসামি ইমরান তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে, যার ফলে তার মাথায় ৪টি সেলাই লেগেছে। ২নং আসামি তোহা লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে মইনুল ইসলামের বাম গাল কেটে রক্তাক্ত জখম হয় এবং সেখানেও ৪টি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া ৩ ও ৪নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

হামলার একপর্যায়ে ১নং আসামি ইমরান হোসেন পরিচালকের কাছে থাকা নগদ ৪২ হাজার ৫২০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং যাওয়ার সময় তাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয় ফরহাদ হোসেন ও আব্দুর রহমানসহ উপস্থিত সাক্ষীদের সহায়তায় গুরুতর আহত মইনুল ইসলামকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নিতে ব্যস্ত থাকার কারণে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানিয়েছেন।