শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

মৎস্য ও কাঁকড়া ঘেরের রাস্তার পাশে সবজির চাষ, বদলাচ্ছে উপকূলের কৃষিচিত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
মৎস্য ও কাঁকড়া ঘেরের রাস্তার পাশে সবজির চাষ, বদলাচ্ছে উপকূলের কৃষিচিত্র

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় মৎস্য ও কাঁকড়া ঘেরের রাস্তার দুই পাশ এবং ঘেরের আইলে এখন দেখা মিলছে নানা ধরনের সবজির চাষ। একসময় এসব জায়গা অনেকটাই অনাবাদি পড়ে থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় কৃষক ও ঘের মালিকরা সেই জমি কাজে লাগিয়ে লাউ, কুমড়া, করলা, বরবটি, শসা, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, ঢেঁড়শ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করছেন।

সরেজমিনে উপকূলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মৎস্য ও কাঁকড়া ঘেরের চারপাশের উঁচু রাস্তা ও আইলে সারি সারি সবজির গাছ। কোথাও বাঁশের তৈরি মাচায় লাউ, কুমড়া ও চিচিঙ্গা ঝুলছে, আবার কোথাও মাটিতে বিছিয়ে রয়েছে শসা, বরবটি ও অন্যান্য সবজির গাছ। ঘেরের পানিতে মাছ-কাঁকড়া চাষের পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশে সবজি চাষ করে একই জায়গা থেকে বাড়তি আয় করছেন অনেক পরিবার।

স্থানীয় চাষিরা জানান, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার কারণে কৃষিজমিতে সারা বছর সবজি চাষ করা কঠিন। তবে ঘেরের রাস্তা ও উঁচু আইলে মাটি তুলে জৈব সার প্রয়োগ করে তুলনামূলকভাবে সহজে সবজি চাষ করা যায়। এতে আলাদা করে বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। ঘেরের রাস্তার অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে বাড়তি অর্থও পাওয়া যাচ্ছে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে অনেক এলাকায় মাটির লবণাক্ততা কিছুটা কমে আসায় সবজি চাষের সুযোগ তৈরি হয়। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগরে চলতি মৌসুমে ঘেরের আইলে ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হচ্ছে এবং ঘেরের আইলে সবজি উৎপাদনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য।

শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, ঘেরের রাস্তা ও আইলের অব্যবহৃত জায়গায় পরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ করলে একই জমি থেকে কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারেন। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা সহনশীল সবজির চাষ বাড়ানো গেলে কৃষকের পুষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কৃষকদের ঘেরের পাড়ে সবজি চাষে উৎসাহিত করছেন কি না জানতে চাইলে কৃষিবিদ ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, আমরা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে প্রতিনিয়ত কৃষকদের সাথে পরামর্শ করে এবং তাদের পতিত জায়গায় বিভিন্ন সবজি চাষ করতে উদ্বুদ্ধ করছি এবং প্রতিটি মুহূর্ত কৃষকদের সাথে আমাদের অফিস স্টাফ সহ আমি যোগাযোগ রেখেছি কোথাও কোন কৃষকের কোন সমস্যা থাকলে সাথে সাথে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি ।

কৃষিবিদ মো. ওয়ালিউল ইসলাম প্রতিবেদককে জানান, শ্যামনগরে ২০২৬ অর্থ বছরে ১৫০০ হেক্টর জমিতে কৃষি চাষ হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।

শুক্রবার(২১ আগস্ট) সকালে সরজমিনে দেখাযায় শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী পানখালি, হরিনগর, নীলডুমুর এলাকার বেশ কিছু ঘেরের পতিত জায়গায় সবজি চাষ করা হচ্ছে, এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের কাছে জানতে চাইলে। পানখালী গ্রামের কৃষাণী, কনিকা রানী ও হরিনগর গ্রামের শরমা রানী বলেন,ঘেরের রাস্তার দুই পাশ আগে তেমন কোনো কাজে লাগত না। এখন সেখানে সবজি লাগিয়েছি। পরিবারের সবজির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করে কিছু আয়ও হচ্ছে।”

নীলডুমুর এলাকার মনজুরা খাতুন, জানান, মাছ বা কাঁকড়া চাষের পাশাপাশি ঘেরের রাস্তা ও আইল ব্যবহার করে সবজি উৎপাদন করলে একই জায়গা থেকে দুই ধরনের আয় করা সম্ভব। এতে ঘেরের রাস্তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি জায়গাটিও উৎপাদনশীল হয়ে ওঠে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্ষিকের উপজেলা সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, অতিবৃষ্টি ও বাজারজাতকরণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্যামনগরসহ উপকূলীয় এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে ফসল ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাই উপকূলে মৎস্য ও কাকড়া চাষ এলাকায় পানি সরবরাহ নিয়ম মত রাখতে হবে তাহলে কোন ভাবেই কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। রামকৃষ্ণ আরো বলেন, ঘেরের রাস্তা ও আইলে পরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ বাড়ানো গেলে একদিকে পতিত জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার হবে, অন্যদিকে উপকূলের মানুষের আয় ও পুষ্টি নিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি লবণসহিষ্ণু সবজির জাত, জৈব সার ব্যবহার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং সঠিক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে এ উদ্যোগ আরও সফল হতে পারে।

তবে উপকূলের লবণাক্ত পরিবেশ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মৎস্য-কাঁকড়া ঘেরের রাস্তার দুই পাশে সবুজ সবজির সমারোহ এখন স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। মাছ-কাঁকড়ার পাশাপাশি সবজি উৎপাদনের এই সমন্বিত চাষাবাদ ভবিষ্যতে উপকূলের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

 

Ads small one

কলকাতায় আগুনে নিহত রেবতীকে কলকাতাতেই সৎকার, ভোমরা দিয়ে আসছে আলিমের মরদেহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
কলকাতায় আগুনে নিহত রেবতীকে কলকাতাতেই সৎকার, ভোমরা দিয়ে আসছে আলিমের মরদেহ

পত্রদূত ডেস্ক: কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকান্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপর নিহত রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকার করতে চায় তার পরিবার।

সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে বেনাপোল দিয়ে যাদের মরদেহ দেশে পাঠানো হবে- তারা হলেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা ও আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের বাসিন্দা আহামেদ বাবু।

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতায় সৎকারের বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আগ্রহ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রেবতী সরকারের ছেলে তার মায়ের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে এ জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেবতী সরকারের ছেলে অনিক সরকার বলেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নিউমার্কেট থানার পুলিশ তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর কলকাতাতেই তার সৎকার করার ইচ্ছা পরিবারের।

এদিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করেছে। তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া এবং বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের চিঠি দেওয়ার পরও নিউমার্কেট থানা থেকে জেনারেল ডায়েরির (জিডি) কপি না পাওয়ায় মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে নিহতদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ বলেন, জিডির কপি না পাওয়ায় মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে শুক্রবার বিকেলের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবারের মধ্যে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে অগ্নিকান্ডের পর নিউমার্কেট এলাকার আরও ১৭টি আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকার অভিযোগে এসব নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে একই এলাকায় ৯টি আবাসিক হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছিল। নতুন ১৭টি হোটেলসহ এ পর্যন্ত মোট ২৬টি হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল দমকল বিভাগ।

 

ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

বিশ্ব আজ নানা ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের ৮০০ কোটির অধিক মানুষের মিলিত আবাস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনও পৃথিবীর বহু অঞ্চলে মানুষ কেবল তাদের ধর্ম বা বিশ্বাসের কারণে বৈষম্য, নিপীড়ন, হামলা এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এই বাস্তবতা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয় এবং মানবাধিকারের মৌলিক চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ তার এ/আরইএস/৭৩/২৯৬ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতি বছর ২২ আগস্টকে “ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সংঘটিত সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০১৯ সাল থেকে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে।

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্ম বা বিশ্বাসের কারণে সংঘটিত সহিংসতার শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা, তাদের জন্য যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বব্যাপী সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা। জাতিসংঘ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, কোনো ধর্ম, বিশ্বাস বা মতাদর্শকে কখনোই মানুষের জীবন, মর্যাদা ও মানবাধিকারের ওপর আক্রমণের বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবুও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তি, সম্প্রদায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয় হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এসব ঘটনা শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষতি করে না, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিকেও দুর্বল করে।

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষ মোকাবিলায় জাতিসংঘ বিভিন্ন নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক কাঠামো, রেজল্যুশন ১৬/১৮ এবং রাবাত কর্মপরিকল্পনা। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ঘৃণামূলক বক্তব্য, বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা এবং বাকস্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টার বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করে চলেছেন।

বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তবে একই সঙ্গে ঘৃণা, গুজব, অপপ্রচার ও বিভাজন ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রও তৈরি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রতিরোধে কার্যকর নীতি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্ব বেড়েছে। জাতিসংঘ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ডিজিটাল মাধ্যম শান্তি, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের সংবিধানও ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতা এবং বৈষম্যহীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। সংবিধানের ১২, ২৭, ২৮ ও ৪১ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের সমান অধিকার এবং স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন ও প্রচারের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। পাশাপাশি দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় উপাসনালয় ভাঙচুর, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ধর্মীয় সমাবেশে বাধা এবং সহিংস কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব আইনি সুরক্ষা সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

বিশ্বে আনুমানিক ১০ হাজারেরও বেশি স্বতন্ত্র ধর্ম ও আঞ্চলিক বিশ্বাসের চর্চা রয়েছে। এই বৈচিত্র্য মানবসভ্যতার এক মূল্যবান সম্পদ। তাই কয়েকজন ব্যক্তি বা উগ্র গোষ্ঠীর কর্মকান্ডের জন্য কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সহিংসতার প্রকৃত কারণ ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি। পৃথিবীতে প্রধান ও বড় ধর্মগুলোর বাইরে ক্ষুদ্র অনুসারী বা কম প্রচলিত ধর্মের মধ্যে রয়েছে; শিখ ধর্ম, ইহুদি ধর্ম, বাহাই ধর্ম, তাওবাদ, কনফুসিয়ানিজম, জৈন ধর্ম, শিন্তো ধর্ম, জরথুষ্ট্রবাদ বা পার্সি ধর্ম, আত্মাবাদ বা স্পিরিটিজম ও টেনরিকিও।

সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমকর্মী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান বিশ্বজুড়ে পরিচিত ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস, তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা এবং শিয়া মুসলিম ধর্মীয় সর্বোচ্চ ইরানের নেতা মোজতবা খামেনিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা সহনশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বার্তা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সংলাপ ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২২ আগস্টের এই আন্তর্জাতিক দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানবাধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নয়; এটি প্রত্যেক মানুষের অধিকার। এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা আমাদের যৌথ দায়িত্ব, যেখানে ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে যথার্থ সম্মান করা হবে এবং প্রত্যেক মানুষ নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে। ঘৃণার পরিবর্তে সহমর্মিতা, বিভেদের পরিবর্তে সংলাপ এবং সহিংসতার পরিবর্তে শান্তির পথই হতে পারে মানবতার টেকসই ভবিষ্যতের ভিত্তি।

তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো: শাকিব খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো: শাকিব খান

বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র নায়করাজ রাজ্জাক। শুক্রবার (২১ আগস্ট) এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে হারানোর ৯ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৭ সালের এই দিনে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রয়াণ দিবসে রাজ্জাককে গভীর আবেগে স্মরণ করেছেন ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান। রাজ্জাককে শুধু কিংবদন্তি নয়, চলচ্চিত্রের অভিভাবক, অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসার অন্যতম আশ্রয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাজ্জাকের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতি তুলে ধরে শাকিব বলেন, ‘তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো। স্নেহ দিয়েছেন, আগলে রেখেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক দিন দেখা না হলেও কীভাবে যেন বুঝে যেতেন, আমি কেমন আছি, কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি! তাকে হারানোর বেদনা আমার কাছে নিজের অভিভাবক হারানোর মতো – খুবই ব্যক্তিগত।’

নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত আলোচিত ৫ চলচ্চিত্রনায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত আলোচিত ৫ চলচ্চিত্র
কিং খান পোস্টে আরও লেখেন, ‘তিনি নেই, কিন্তু তার স্নেহ, শিক্ষা ও আশীর্বাদ এখনও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে, নায়করাজ ততদিনই থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের অহংকার হয়ে।’

সবশেষে তিনি জানান, ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি আপনাকে। শান্তিতে থাকুন, আমাদের প্রিয় নায়করাজ।’