রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

যখন ছবিটা সময় পেরিয়েও থেকে যাবে, সাফল্য তখনই: শঙ্খ দাসগুপ্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
যখন ছবিটা সময় পেরিয়েও থেকে যাবে, সাফল্য তখনই: শঙ্খ দাসগুপ্ত

নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত পরিচালিত চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘চা গরম’ বেশ আলোচিত এবং প্রশংসা পাচ্ছে। যারা দেখেছেন, সবাই ভালো বলছেন। নির্মাতার সাফল্য হয়তো এটাই? কিন্তু না শঙ্খ দাশগুপ্তের কাছে এটাই চূড়ান্ত সাফল্য নয়। তাহলে কখন নিজেকে সফল মনে হবে শঙ্খর?

তার উত্তর, “সবাই ভালো বলছে এটা নিশ্চয়ই ভালো লাগার। কিন্তু এটাকে চূড়ান্ত সাফল্য বলব না। আমার কাছে সাফল্য তখনই, যখন ছবিটা সময় পেরিয়েও থেকে যাবে, বা কেউ আবার ফিরে এসে দেখবে। আর সবচেয়ে বড় কথা পরের কাজে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারলে, সেটাই আসল সাফল্য।”

শঙ্খ দাশগুপ্তের কথার মিল খুঁজতে একটু পেছনে যেতে হবে। তার পরের কাজটা কী, সেটা এখনও প্রকাশিত না। কিন্তু ‘চা গরম’– এর আগের কাজ বা তার আগের কাজগুলো দেখে আসলে হয়তো শঙ্খর নিজেকে আবিষ্কারের চর্চাটি বোঝা যেতে পারে।

‘চা গরম’–এর আগে শঙ্খ নির্মাণ করেছেন তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘প্রিয় মালতী’ তার আগে তিনি নির্মাণ করেছেন চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘গুটি’। এসব কনটেন্টের বিষয়বস্তু এবং নির্মাণে নির্মাতা নিজেকে ভাঙতে বা আবিষ্কার যেমন করতে চেয়েছেন আবার কিছু সাদৃশ্যও রেখে গেছেন।

‘গুটি’, ’প্রিয় মালতী’ এবং এখনকার ‘চা গরম’– তিনটি কনটেন্টেই নির্মাতা আশ্রয় করেছেন নারী চরিত্রকে। অর্থাৎ গল্পগুলো এগিয়ে নিয়ে গেছেন কোনো নারী চরিত্র বা নারী চরিত্রকে সামনে রেখে সমস্যা এবং সম্ভাবনা দেখানোর চেষ্টা আছে। এটা সচেতনভাবেই করেলন কী শঙ্খ দাশগুপ্ত?

তার উত্তর, ‘নারী চরিত্রকে সামনে আনা কোনো স্টেটমেন্ট দেয়ার চেষ্টা নয়। বাস্তবে অনেক সময় নারীরাই নীরবে সবচেয়ে বড় চাপ, দ্বন্দ্ব আর পরিবর্তনের জায়গাগুলো বহন করে। ‘গুটি’, ‘প্রিয় মালতী’ বা ‘চা গরম’-এও সেই বাস্তবতাটাই ধরতে চেয়েছি! সমস্যা যেমন আছে, সম্ভাবনাও আছে।”

নাকি শঙ্খ নারী কেন্দ্রীক বা নারীর ক্ষমতায়নের গল্প বলতে ভালোবাসেন?

“‘ওম্যান সেন্ট্রিক গল্প বলতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু যদি গল্প নিজে থেকেই সেই দিকে নিয়ে যায়, আমি থামাই না। আমার কাছে চরিত্রটাই আগে, সে নারী না পুরুষ, সেটা পরে।” পরিষ্কার করলেন তিনি।

‘গুটি’, ‘প্রিয় মালতী’, ‘চা গরম’– শঙ্খর তিন কাজেই রাজনীতি ও ধর্মীয় কিছু দৃষ্টিভঙ্গি আছে। যারা দেখেছেন, বুঝতে পারবেন। নির্মাণে এসব স্পর্শকাতর বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখান নি নির্মাতা। এগুলো যেহেতু বাস্তবতা সেহেতু তার নির্মাণে থাকতেই পারে। কিন্তু এটাও কি একটা প্যাটার্ন হয়ে যাচ্ছে কি না তার কাজে?

শঙ্খ মনে করেন, “রাজনীতি বা ধর্ম এগুলো আলাদা করে ঢোকানোর কিছু নেই, এগুলো আমাদের জীবনের অংশ। তাই গল্পে এলে সেটাকে এড়িয়ে যাওয়া কৃত্রিম লাগে। তবে প্যাটার্ন হয়ে যাচ্ছে কিনা এই প্রশ্নটা আমার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে বারবার ভাঙার চেষ্টা করছি।”

কিন্তু এই ভাঙার চেষ্টা করেও নিজের শেষ তিন কাজে একটা ঢং ভাঙতে পারেননি শঙ্খ দাশগুপ্ত। কোনো এক কারণে তার শেষ তিন কাজের প্রতিটিতেই মূল চরিত্রের পাশাপাশি আরেকটি চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দর্শকরা তাদের অনুভূতির বহিঃপ্রকাশে অনেক সময় প্রোটাগনিস্টের চেয়ে ‘সাইড ক্যারেক্টার’–এর প্রতি রাগ বা ভালোবাসা বেশি দেখিয়েছেন।

যেমন বলা যায়, ‘গুটি’তে শাহরিয়ার নাজিম জয়, ‘প্রিয় মালতী’–তে রিজভী রিজু, শাহজাহান সম্রাট দর্শকদের নজর কেড়েছেন। ‘চা গরম’–এ রবিন চাঁদ মুর্মূ চরিত্রটি তো এক কাঠি সরেস।

শঙ্খ জানালেন, তিনি আসলে ‘হিরো’–‘নায়ক’ এসব বানাতে আগ্রহী নন। তিনি মানুষ–চরিত্র বানাতে আগ্রহী। তাই অনেক সময় মূল চরিত্র না হয়েও অন্য চরিত্রগুলো বেশি স্পেস পেয়ে যেতে পারে বা বেশি মনে থাকে। নির্মাতা বলেন, ‘জীবনেও তো তাই হয়! সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটা সবসময় কেন্দ্রের মানুষটা হয় না।’

শঙ্খ দাশগুপ্তের কাজে বিষয়বস্তু, চিত্রায়ণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংলাপ। ছোট ছোট সংলাপে খুবই গুরুত্পূর্ণ তথ্য বা ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন তিনি। মনোযোগী দর্শক না হলে সেগুলো বের করা কঠিনই বটে। কিন্তু এই কঠিন কাজটা করতে গিয়ে পুরো বিষয়টাই গুরুগম্ভীর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

শঙ্খ বিষয়টি যেভাবে দেখেন, “হ্যাঁ, সংলাপ নিয়ে আমি সচেতন। কারণ আমার কাছে সংলাপ শুধু তথ্য দেয় না, একটা ইমেজ তৈরি করে। তবে গুরুগম্ভীর হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এটা ঠিক। সেই ব্যালান্সটাই খোঁজার চেষ্টা করি সবসময়।”

শেষবারের মতো ’চা–গরম’–এ ফেরা যাক। চা বাগানের থেকে, সেখানকার মানুষের সঙ্গে মিশে ‘চা গরম’ করেছেন শঙ্খ দাশগুপ্ত। চা বাগানের শ্রমিকদের নানা বিষয় জাতীয় ইস্যু হতেও দেখা গেছে। তেমন একটি বিষয় নিয়ে নির্মাণ করতে গিয়ে শঙ্খ যে পরিসরে সিনেমাটি নির্মাণ করলেন বা যে পরিমিতি তিনি দেখালেন সেটা কী পর্যাপ্ত বা ঠিক মনে হলো?

শঙ্খ দাশগুপ্ত বললেন, “জাতীয় ইস্যু বলেই আমি এটাকে বড় করে বলার চেষ্টা করিনি। বরং ছোট পরিসর, নির্দিষ্ট মানুষ আর তাদের দৈনন্দিনতার ভেতর দিয়ে বলেছি। আমার বিশ্বাস- গল্পটা যখন ব্যক্তিগত হয়, তখনই সেটা আসলে বড় হয়ে ওঠে। তাই টোনটা ইচ্ছাকৃতভাবেই সংযত।”

গত ১৪ এপ্রিল চরকিতে মুক্তি পেয়েছে ’চা গরম’ ফিল্মটি। সাইফুল্লাহ রিয়াদের গল্প ও চিত্রনাট্যে এতে অভিনয় করেছেন সাফা কবির, রেজওয়ান পারভেজ, সারাহ জেবীন অদিতি, পার্থ শেখ , এ কে আজাদ সেতু।

Ads small one

তালায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
তালায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

তালা প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচীর বাস্তবায়ন উপলক্ষে তালায় বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন হয়েছে। তালা উপজেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ তালা উপজেলা কেন্দ্রের বাস্তবায়নে এই বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন হয়।

‎শনিবার (১৩ জুন) সকালে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন।

‎এছাড়া, তালা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হাজিরা খাতুন, তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

‎তালা উপজেলা বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইউনুস আলীর সভাপতিত্বে এসময় বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা ও ফারুক জোয়ার্দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‎পরে, তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হরিশ্চন্দ্রকাটি গ্রামে কপোতাক্ষ নদের বাঁধের উপর গোবিন্দ ঋসির বাড়ির পাশ থেকে তালা ব্রীজ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতির ২৫ হাজার বৃক্ষ চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়।

 

 

শ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় দুইজনের কারাদন্ড, বাল্কহেড জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় দুইজনের কারাদন্ড, বাল্কহেড জব্দ

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দুর্গাবাটি মন্দির সংলগ্ন ঝাপারচর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় একটি বাল্কহেড জব্দ করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে হাবিলদার জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিজিবি টহল দল স্পিডবোটযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনরত একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত বাল্কহেডে আনুমানিক ৫ হাজার ৩০০ ঘনফুট বালু ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ হাজার ২০০ টাকা। পরে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বাল্কহেডটি ব্যাটালিয়ন সদর পল্টন ঘাট সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে আসা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসেন এবং বুড়িগোয়ালিনী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তদন্ত শেষে বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী মামলা নং-৩২/২৬ দায়ের করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্ত বাল্কহেডের চালক মোঃ নজরুল ইসলাম (পিতা: মৃত আফসার আলী, গ্রাম: দরগাহপুর, থানা: আশাশুনি, জেলা: সাতক্ষীরা)-কে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন।

এছাড়া সহকারী মোঃ আক্তারুল জামান (৩০) (পিতা: জিল্লুর গাজী, গ্রাম: রাড়ুলী, থানা: পাইকগাছা, জেলা: খুলনা)-কে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।

এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সাতটি পিভিসি পাইপ অপসারণ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

কার্যক্রম শেষে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে দন্ডপ্রাপ্তদের নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নৌ-পুলিশের কর্মকর্তারা শ্যামনগর থানার উদ্দেশ্যে রওনা হন। জব্দকৃত বাল্কহেডটি বর্তমানে বিজিবির তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত রয়েছে।

স্থানীয়রা সুন্দরবন ও উপকূলীয় নদী-খালে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

নিঃশব্দ বিপ্লবের নাম রক্তদান/ ‎তারিক ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
নিঃশব্দ বিপ্লবের নাম রক্তদান/ ‎তারিক ইসলাম

‎তারিক ইসলাম

‎ডিজিটাল স্ক্রিনে তখন রাত দুটো। ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতেই চোখে পড়ল একটা পরিচিত আর্জি-“জরুরি ভিত্তিতে ও-নেগেটিভ রক্ত প্রয়োজন। স্থান: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যোগাযোগের নম্বর…”। এই একটি পোস্টের পেছনে লুকিয়ে থাকে এক একটি পরিবারের আকুলতা, উৎকণ্ঠা আর বেঁচে থাকার শেষ লড়াই। প্রতি বছর ১৪ জুন ‘বিশ্ব রক্তদাতা দিবস’ যখন আমাদের দরজায় কড়া নাড়ে, তখন এই স্ক্রিনশটগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেয়-বিজ্ঞান যতই মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়ার স্বপ্ন দেখুক না কেন, ল্যাবরেটরিতে আজও এক ফোঁটা কৃত্রিম রক্ত তৈরি করা সম্ভব হয়নি। মানুষের জীবনের বিকল্প আজও কেবলই মানুষ।

‎আজকের এই আধুনিক পৃথিবীতে রক্তদান কেবল একটি ‘মানবিক কাজ’ বা ‘ধর্মীয় পুণ্য’ নয়; এটি মূলত একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নাগরিক সচেতনতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

‎আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন অনেক বেশি প্রযুক্তি-নির্ভর। ওপেন হার্ট সার্জারি, জটিল ক্যানসার থেরাপি, অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট কিংবা থ্যালাসেমিয়া ও হিমোফিলিয়ার মতো জেনেটিক রোগের চিকিৎসায় রক্তের চাহিদা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, একটি দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ মানুষ যদি নিয়মিত রক্তদান করেন, তবে সেই দেশের রক্তের মৌলিক চাহিদা মেটানো সম্ভব।

‎উন্নত বিশ্বে যেখানে ‘ভলান্টিয়ার ব্লাড ডোনেশন’ বা স্বেচ্ছায় রক্তদানের হার প্রায় শতভাগ, সেখানে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এখনো সিংহভাগ রক্ত আসে রোগীর আত্মীয়-স্বজন বা ‘রিপ্লেসমেন্ট ডোনার’-দের কাছ থেকে। এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।

‎আজকের তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তিতে দারুণ পারদর্শী। তারা রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করছে, ফুড ডেলিভারি নিচ্ছে এক ক্লিকে। কিন্তু রক্তের মতো জরুরি প্রয়োজনের সময় এখনো আমাদের ফেসবুক গ্রুপ বা মেসেঞ্জার চ্যাটের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অনেক সময় সঠিক সময়ে রক্ত প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে না।

‎আমাদের এখন ‘স্মার্ট ডোনেশন’ কালচারের দিকে যেতে হবে। রক্তদানকে একটি সামাজিক ফ্যাশন বা লাইফস্টাইল হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বছরে তিনবার রক্ত দেওয়াকে যদি একজন তরুণ তার ফিটনেস রুটিনের অংশ করে নেয়, তবে ব্লাড ব্যাংকগুলো কখনোই শূন্য থাকবে না।

‎‎আপনি যখন এক ব্যাগ রক্ত দিচ্ছেন, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেটিকে ভেঙে লোহিত কণিকা, প্লাটিলেট এবং প্লাজমা-এই তিনটি উপাদানে ভাগ করা হচ্ছে। অর্থাৎ, আপনার এক ব্যাগ রক্ত আধুনিক চিকিৎসায় তিনজন ভিন্ন রোগীকে নতুন জীবন দিচ্ছে। এর চেয়ে বড় ‘মাল্টিটাস্কিং’ আর কী হতে পারে?

‎অনেকে এখনো ভাবেন রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। নিয়মিত রক্তদান আসলে শরীরের এক চমৎকার ‘রিসেন্ট বাটন’।

‎নতুন রক্তকণিকা সৃষ্টি: রক্ত দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শরীরের তরল অংশ পূরণ হয়ে যায় এবং দ্রুত নতুন ও সতেজ রক্তকণিকা তৈরি হতে শুরু করে।

‎হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: রক্তে অতিরিক্ত আয়রন জমা হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত রক্তদান শরীরে আয়রনের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী।

‎ফ্রি হেলথ চেকআপ: প্রতিবার রক্ত দেওয়ার আগে হেপাটাইটিস বি, সি, এইডসের মতো মারাত্মক রোগের স্ক্রিনিং এবং রক্তচাপ পরীক্ষা করা হয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

‎১৪ জুনের ক্যালেন্ডারে রক্তদাতা দিবস আসে মূলত সেইসব নায়কদের স্যালুট জানাতে, যারা কোনো প্রতিদান ছাড়াই নিজেদের শরীরের তরল সোনা বিলিয়ে দেন অন্যকে বাঁচানোর জন্য। তবে এই দিবসটিকে শুধু সেমিনার আর র‌্যালির ফ্রেমে বন্দি রাখলে চলবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্লাড ব্যাংকগুলোর আধুনিকায়ন, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে রক্তের উপাদান পৃথকীকরণের প্রযুক্তি পৌঁছানো এবং রক্তদান প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ কাগজহীন ও ডিজিটাল করা এখন সময়ের দাবি।

‎আসুন, এই রক্তদাতা দিবসে আমরা ট্র্যাডিশনাল চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক হই। রক্ত দেওয়া কোনো দয়া বা করুণা নয়, এটি একজন সুস্থ মানুষের সুস্থ থাকার এবং অন্যকে বাঁচিয়ে রাখার আধুনিক নাগরিক দায়িত্ব। আপনার রক্তে সচল থাকুক অন্য কারও লাইফ-সাপোর্ট।

‎লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।