বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

ছবি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঘের দখল ও হয়রানির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
ছবি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঘের দখল ও হয়রানির অভিযোগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার বকচরা গ্রামে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তোলা ছবি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে মাছের ঘের জবরদখল, হামলা এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে আবতাফুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই সন্ত্রাসী কর্মকা-ের প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী আমজাদ আলী।
লিখিত অভিযোগে আমজাদ আলী উল্লেখ করেন, একই গ্রামের কওছার আলীর ছেলে আবতাফুজ্জামান দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর গত ৫ আগস্টের পর দেশে ফেরেন। দেশে ফিরেই তিনি জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে ছবি তুলে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার শুরু করেন এবং একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন। এই বাহিনীর সহযোগিতায় আবতাফুজ্জামান ও তাঁর ভাইয়েরা আমজাদ আলীর ২০ বছরের পুরোনো মাছের ঘের দখলের চেষ্টা চালান। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আমজাদ আলীকে মারধর করা হলে আদালতে একটি নন-জিআর মামলা হয়। সেই ঘটনা আড়াল করতে ১৬ ফেব্রুয়ারি উল্টো আমজাদ আলীর বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৫ মে আবতাফুজ্জামান দলবল নিয়ে আমজাদ আলীর ১ একর ৯ শতক আয়তনের ঘেরের অংশ বেড়িবাঁধ দিয়ে দখলে নেন এবং মাছ লুট করেন। এরপর গত ৮ জুন রাতে ওই ঘেরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয় এবং উল্টো আমজাদ ও তাঁর ভাইদের নামে মিথ্যা মামলা (জিআর-২৪০/২৬) দেওয়া হয়। এই জমি দখলের বিষয়ে আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া গত ১৬ জুন রাতেও এলাকায় অন্য কয়েকজন বাসিন্দার ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগে থানায় পৃথক তিনটি ডায়েরি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবতাফুজ্জামান দাবি করেন, তিনি ১৭ বছর এলাকায় না থাকার সুযোগে আমজাদ আলী তাঁদের জমি দখল করে রেখেছিলেন, যা তিনি প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধার করেছেন। ঘেরে মাছ মারার ঘটনায় তিনি নিজেই মামলা করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অন্য সব অভিযোগ মিথ্যা।
সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহর আলী ও আলাউদ্দিন জানান, কম্বোডিয়ায় লোক পাঠানো ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে স্থানীয় শুকুর আলীর সঙ্গে আবতাফুজ্জামানের পূর্ববিরোধ রয়েছে। গত ১৭ জুনের অভিযোগসহ সামগ্রিক বিষয়টি খতিয়ে দেখে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।