ছবি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঘের দখল ও হয়রানির অভিযোগ
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার বকচরা গ্রামে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তোলা ছবি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে মাছের ঘের জবরদখল, হামলা এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে আবতাফুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই সন্ত্রাসী কর্মকা-ের প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী আমজাদ আলী।
লিখিত অভিযোগে আমজাদ আলী উল্লেখ করেন, একই গ্রামের কওছার আলীর ছেলে আবতাফুজ্জামান দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর গত ৫ আগস্টের পর দেশে ফেরেন। দেশে ফিরেই তিনি জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে ছবি তুলে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার শুরু করেন এবং একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন। এই বাহিনীর সহযোগিতায় আবতাফুজ্জামান ও তাঁর ভাইয়েরা আমজাদ আলীর ২০ বছরের পুরোনো মাছের ঘের দখলের চেষ্টা চালান। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আমজাদ আলীকে মারধর করা হলে আদালতে একটি নন-জিআর মামলা হয়। সেই ঘটনা আড়াল করতে ১৬ ফেব্রুয়ারি উল্টো আমজাদ আলীর বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৫ মে আবতাফুজ্জামান দলবল নিয়ে আমজাদ আলীর ১ একর ৯ শতক আয়তনের ঘেরের অংশ বেড়িবাঁধ দিয়ে দখলে নেন এবং মাছ লুট করেন। এরপর গত ৮ জুন রাতে ওই ঘেরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয় এবং উল্টো আমজাদ ও তাঁর ভাইদের নামে মিথ্যা মামলা (জিআর-২৪০/২৬) দেওয়া হয়। এই জমি দখলের বিষয়ে আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া গত ১৬ জুন রাতেও এলাকায় অন্য কয়েকজন বাসিন্দার ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগে থানায় পৃথক তিনটি ডায়েরি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবতাফুজ্জামান দাবি করেন, তিনি ১৭ বছর এলাকায় না থাকার সুযোগে আমজাদ আলী তাঁদের জমি দখল করে রেখেছিলেন, যা তিনি প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধার করেছেন। ঘেরে মাছ মারার ঘটনায় তিনি নিজেই মামলা করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অন্য সব অভিযোগ মিথ্যা।
সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহর আলী ও আলাউদ্দিন জানান, কম্বোডিয়ায় লোক পাঠানো ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে স্থানীয় শুকুর আলীর সঙ্গে আবতাফুজ্জামানের পূর্ববিরোধ রয়েছে। গত ১৭ জুনের অভিযোগসহ সামগ্রিক বিষয়টি খতিয়ে দেখে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।









