সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশকে এগিয়ে নিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে’।

রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগকারী যারা আছে, তাদের উৎসাহিত করে যদি কারখানা স্থাপন করতে হয়, তাহলে পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা থাকতে হবে। বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশীয় বা বিদেশি বিনিয়োগকারী যারা আছে, তারা যখন বিনিয়োগ করবে, তারা তো চাইবে যাতে তার মিল-কারখানার উৎপাদিত পণ্য ঠিকভাবে যেন বন্দর দিয়ে যেতে পারে বা তার কাঁচামাল সঠিকভাবে আসতে পারে। রাস্তাঘাটে যাতে শান্তি থাকে। যদি মিল-কারখানা না চলে সঠিকভাবে, তাহলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব না। এজন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যদি দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা আমাদের তৈরি করতে হয়, সুন্দরভাবে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে হয়, স্কুল-কলেজ সুন্দরভাবে তৈরি করতে হয়, শিক্ষকদের যদি ট্রেনিং দিতে হয়, ছাত্র-ছাত্রীদের যদি নতুন করে বই দিতে হয়, এই সব ব্যবস্থা যদি করতে হয়, তাহলে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। একইভাবে সতর্ক থাকতে হবে, আমাদের যারা বিভ্রান্ত করতে চায়, তারা যাতে কোনও সুযোগ না পায়। কারণ, বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ। বিভ্রান্তকারী যারা, তারা তো নিজেদের মতন করে চলে যাবে, তারা তো জনগণের সঙ্গে থাকবে না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা কী আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো, নাকি আমরা ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত থাকবো। নাকি আমরা বিভ্রান্তকারীদের সঙ্গে থাকবো। এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের পর এক মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে, পাইলট প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশে এই বছর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমরা প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবো।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, লক্ষ্য ছিল, ভাইদের পাশাপাশি যাতে বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারে। একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারে। সন্তানদের লেখাপড়া দেখতে পারে। সন্তানদের স্বাস্থ্যসেবা যাতে দিতে পারে মায়েরা। সেই জন্য মায়েদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি আমরা কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থা করেছি।’

সমুদ্রকে ব্যবহার করে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা কীভাবে উন্নত করা যায়, সেটির প্রচেষ্টা চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ি পর্যন্ত কীভাবে আমরা বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপন করার মাধ্যমে এই দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবো, এই দেশের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে পারবো, সেই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, তার জন্য আমি মাতারবাড়ি গিয়েছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাঁশখালীতে ১০০টি অসচ্ছল পরিবারকে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ ও পাঁচ ফুট বাই পাঁচ ফুটের একটি সংযুক্ত শৌচাগার রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিবেচনায় ঘর তৈরিতে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হয়েছে। চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিশুকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয় এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এর আগে সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারীকে হেলিকপ্টার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি পৌঁছে। প্রধানমন্ত্রীকে হেলিপ্যাডে অভ্যর্থনা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হেলিকপ্টার থেকে নামেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

Ads small one

শ্যামনগরে দুস্থদের আর্থিক সহায়তা দিল উপজেলা পরিষদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে দুস্থদের আর্থিক সহায়তা দিল উপজেলা পরিষদ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে হতদরিদ্র ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পক্ষে সহায়তার এই অর্থ হস্তান্তর করেন কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিজন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। ১০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫৫ জন দুস্থ ব্যক্তির মধ্যে এই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার বাদঘাটা গ্রামের পঙ্গুত্ববরণকারী আব্দুল হামিদ ও মানিকপুর গ্রামের বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমসহ কয়েকজনের হাতে এই অর্থ তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকজন অসচ্ছল ব্যক্তিকে এই সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

শ্যামনগরে গুড নেবারসের দুর্যোগ সহনশীলতা প্রকল্পের সূচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে গুড নেবারসের দুর্যোগ সহনশীলতা প্রকল্পের সূচনা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে জাপানভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা গুড নেবারসের তিন বছর মেয়াদি একটি প্রজেক্ট ইনসেপশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে গুড নেইবারস বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড বার্টিন গোমেজের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় বাঁধে এক লাখ গাছ লাগানোর মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক প্রকল্পের সফলতা কামনায় সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গুড নেইবারস জাপানের এশিয়া সেকশন ম্যানেজার মিয়ুকি সুজিই। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন অংশীজনের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করা হয়।

জেলায় ৮৩ হাজার হেক্টরে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
জেলায় ৮৩ হাজার হেক্টরে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা

 

এম শফিকুল ইসলাম: অনুকূল আবহাওয়ায় সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে পুরোদমে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধানের আবাদ। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসজুড়ে বীজতলা থেকে চারা তুলে মাঠে লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ৮৩ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, কীটপতঙ্গের আক্রমণ ও রোগবালাই রোধে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। এ ছাড়া সারের কৃত্রিম সংকট এড়াতে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।