শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতি শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন: স্পিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন: স্পিকার

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন রাষ্ট্রপতির সই করা পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদে স্পিকারের দফতরে পৌঁছে দেন। পরে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্পিকার বলেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের দফা (৩) অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আজ ২৪ জুলাই বিকাল ৫টা ১ মিনিটে আমার কাছে দাখিল করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্পিকার বলেন, ‘কেন তিনি পদত্যাগ করেছেন, এটি নিশ্চয়ই জানার কৌতূহল আপনাদের মধ্যে রয়েছে। তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় তিনি ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামে একটি রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। এই কারণেই তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে আমি এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি।’

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়েও বক্তব্য দেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনেরও শপথ নিয়েছি। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও যখন শপথ নেন, তখন শপথের অংশে উল্লেখ থাকে যে, কোনও কারণে স্পিকারের পদ শূন্য থাকলে তিনি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।’

দেশে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে চলমান নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের নানা ধরনের কথাবার্তা চলছে। আমি দুপুরে এসেই শুনছি। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তিনি শারীরিক অসমর্থ্যের কারণেই পদত্যাগ করেছেন।’

ব্রিফিংয়ের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতির সুস্থতা কামনা করে স্পিকার বলেন, ‘আমি তার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। আমার মনে হয়, তিনি মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’

Ads small one

সূবর্ন কিরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
সূবর্ন কিরণ

মো: হায়দার আলি শান্ত
ভাবের মহলে সুপ বন দোলে
কোন কবি আসিয়া রচিতে কহিল
অমর প্রেম কাহিনি অশ্রু জলে
শব্দ ছন্দ মোর অন্তরে বাজিল।
মহা মায়া কাননে যাঁর আসন
সে কেন আসে ভাবের সংসারে
যার হাতে গড়া মায়া কানন
কোন স্বপ্ন চারিণী আসে অন্তরে।
সুবর্ন কিরণ জ্বেলে চলে যায়
ঐ সুদুর নীল আকাশ পানে
মোর ভাবনা বাড়ে গোধূলি বেলায়
যমের ভয়ে আমি ভীত ক্রন্দনে।
সেই কবির আসন পাতা জগৎ সভায়
তাঁরি মনে পড়ে ক্ষনে ক্ষনে।

বর্ষার জলছবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
বর্ষার জলছবি

আসাদুজ্জামান খান মুকুল
ঘন ঘোর মেঘমালা
গগণে যে ভাসিছে,
বিজলীর চমকেতে
চারিদিক হাসিছে।

রিমঝিম বারিধারা
অবিরাম ঝরিছে,
মাঠঘাট নদীনালা
জলে সব ভরিছে।
কদমের কুঁড়িগুলি
বৃষ্টিতে ফুটিছে,
ভ্রমরেরা গুঞ্জরি
ফুলপানে ছুটিছে।

ব্যাঙগুলো আনন্দে
একটানা ডাকিছে,
কৃষকেরা বারি পেয়ে
স্বপ্নকে আঁকিছে।

তটিনীর বুকে মাঝি
নায়ে পাল তুলিছে,
ভাটিয়ালি গানে তার
মনোব্যথা ভুলিছে।

বিরহের প্রভাত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
বিরহের প্রভাত

জহুরুল হক জুলু
তুমি গেলে দূর অচেনা পথে,
ফিরে চাহিলে না একবার;
তবু তোমার স্মৃতির ছায়া
ছুঁয়ে আছে আমার দুয়ার।
সাঁঝের তারা আকাশপানে
যখন মেলে নীরব আলো,
মনে হয় কে ডাকছে আমায়-
কোন্ সুদূরের মধুর ভালো।
বকুলতলার নিঝুম হাওয়ায়
কাঁপে দিনের শেষের গান,
হারানো সেই কথাগুলি যেন
খুঁজে ফেরে আপন স্থান।
অনেক বাণী জমে আছে আজও
অকথিত হৃদয়তলে,
শুকনো পাতার মর্মরধ্বনি
তাদের কথা বলে চলে।

তোমার সাথে ছিল যে পথ
শিউলিঝরা ভোরের মতো,
আজ সে পথে একা হেঁটে যাই
স্মৃতির প্রদীপ জ্বেলে যত।

দুঃখ আমার অভিশাপ নয়,
এও যেন এক স্নিগ্ধ দান;
বিরহের এই গভীর সুরে
জেগে ওঠে প্রাণের গান।

রাত্রি যখন শেষ হয়ে আসে,
পূব আকাশে রঙের খেলা,
মনে হয় হারাইনি কিছুই-
বদলে গেছে শুধু বেলা।

যা হারাল, হারাল না তা,
রয়েছে হৃদয়ের মাঝে;
নদীর জলে চাঁদের মতো
ভেসে আছে নীরব সাজে।

তাই তো আজ আর ডাকি না তোমায়,
নেই কোনো ফেরার দাবি;
ভালোবাসা ফুরায় না কখনো
থাকে চিরদিন অন্তরছবি।