সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

রুপির বিপরীতে কেন এত শক্তিশালী হলো টাকা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
রুপির বিপরীতে কেন এত শক্তিশালী হলো টাকা?

গত প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় রুপির বিপরীতে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। একসময় ১০০ ভারতীয় রুপি কিনতে যেখানে প্রায় ১৪০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হতো, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১২৭ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে। ২১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে ১ ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা ছিল প্রায় ১ টাকা ২৭ পয়সা।

অর্থাৎ, একই পরিমাণ বাংলাদেশি টাকা নিয়ে এখন আগের তুলনায় বেশি ভারতীয় রুপি পাওয়া যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাচ্ছেন ভারতগামী বাংলাদেশিরা; বিশেষ করে রোগী, পর্যটক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা।

তবে এর পেছনে শুধু বাংলাদেশের টাকার শক্তিশালী হওয়া কাজ করছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় রুপির দুর্বলতাও বড় একটি কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জানুয়ারি ২০২৬-এর শেষ দিকে ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে আগের অর্থবছরের জুনের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্বল হয়েছিল। একই সময়ে বাংলাদেশের টাকা ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। ফলে দুই দেশের মুদ্রার পারস্পরিক বিনিময় হারে বাংলাদেশের টাকা সুবিধাজনক অবস্থানে এসেছে।

এক বছরে বড় পরিবর্তন

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ১ ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা ছিল প্রায় ১ টাকা ৩৭ থেকে ১ টাকা ৪০ পয়সার মধ্যে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তা কমে আসে প্রায় ১ টাকা ৩৪–৩৬ পয়সায়। আর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তা আরও নেমে এসেছে প্রায় ১ টাকা ২৭ পয়সায়।

অর্থাৎ, ভারতীয় মুদ্রায় খরচ করা বাংলাদেশিদের জন্য বিনিময় হার এখন আগের তুলনায় বেশ অনুকূল।

একটি সহজ হিসাব করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। কারও ভারতে গিয়ে ১ লাখ রুপি খরচ হলে, প্রতি রুপি ১ টাকা ৪০ পয়সা দরে তার প্রয়োজন হতো প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এখন ১ টাকা ২৭ পয়সা হিসাবে একই ১ লাখ রুপি কিনতে লাগবে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ব্যবধান প্রায় ১৩ হাজার টাকা।

অবশ্য বাস্তবে ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ বা কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় ব্যবধান, কমিশন ও অন্যান্য চার্জ থাকে। তাই বাজারের ঘোষিত হার আর একজন ভ্রমণকারীর প্রকৃত খরচ এক নাও হতে পারে।

সবচেয়ে বেশি স্বস্তি চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের

ভারতে বাংলাদেশিদের যাতায়াতের বড় একটি কারণ চিকিৎসা। কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, ভেলোর, দিল্লি ও মুম্বাইয়ের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি চিকিৎসা নিতে যান।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধু হাসপাতালের বিল নয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, হোটেল, খাবার ও স্থানীয় যাতায়াত; সবকিছুর জন্য ভারতীয় রুপি প্রয়োজন হয়। ফলে রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হলে পুরো ভ্রমণ ব্যয়ের ওপরই তার প্রভাব পড়ে।

ধরা যাক, কোনও রোগী ও তার পরিবার চিকিৎসা ও অন্যান্য কাজে ২ লাখ রুপি খরচ করবেন। ১ রুপি ১ টাকা ৪০ পয়সা হলে শুধু মুদ্রা বিনিময়েই খরচ দাঁড়ায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। একই ২ লাখ রুপি এখন ১ টাকা ২৭ পয়সা হিসাবে কিনতে প্রয়োজন প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ, বিনিময় হারের পার্থক্যেই প্রায় ২৬ হাজার টাকা কম লাগতে পারে।

মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই সাশ্রয় কম নয়।

পর্যটকদের জন্যও সুখবর

চিকিৎসার পাশাপাশি ভারত বাংলাদেশিদের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। কলকাতা, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, দিল্লি, আগ্রা, কাশ্মীর, গোয়া কিংবা দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশি পর্যটকদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।

রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ায় হোটেল, খাবার, পরিবহন ও কেনাকাটায় একই পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। চার-পাঁচজনের একটি পরিবারের কয়েক দিনের ভ্রমণে বিপুল পরিমাণ রুপি প্রয়োজন হয়। বিনিময় হারে সামান্য পরিবর্তনও তখন মোট ব্যয়ে কয়েক হাজার টাকা পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

শিক্ষার্থীদের ব্যয়ও কমতে পারে

ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের টিউশন ফি, বাসা বা হোস্টেল ভাড়া এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের একটি বড় অংশ রুপিতে পরিশোধ করতে হয়।

রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী থাকলে শিক্ষার্থীদের পরিবারকে একই পরিমাণ রুপি কিনতে তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় করতে হবে। ফলে বিদেশে পড়াশোনার খরচ বহনকারী পরিবারগুলোর ওপর কিছুটা চাপ কমতে পারে।

সুবিধা পেতে পারেন আমদানিকারকরাও

বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার ভারত। দেশটি থেকে শিল্পের কাঁচামাল, তুলা, সুতা, রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি, খাদ্যপণ্যসহ নানা ধরনের পণ্য আমদানি হয়।

ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হলে রুপিতে মূল্য নির্ধারিত পণ্যের আমদানি ব্যয় কমার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে যেসব ব্যবসায়ী সরাসরি রুপিতে লেনদেন করেন, তারা এর তাৎক্ষণিক সুবিধা পেতে পারেন।

তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সব আমদানি সরাসরি রুপিতে নিষ্পত্তি হয় না। অনেক লেনদেন ডলারভিত্তিক। ফলে রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী হওয়ার সুফল সব আমদানিতে একইভাবে পড়বে না।

বেনাপোল, ভোমরা, হিলি ও আখাউড়াসহ সীমান্তকেন্দ্রিক বাণিজ্যেও মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতীয় বাজার থেকে পণ্য কেনা বা স্থানীয় পর্যায়ে রুপির লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা অনুকূল বিনিময় হারে সুবিধা পেতে পারেন।

তবে এই সুবিধা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, শুল্ক, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের ওপর। অর্থাৎ, রুপির দাম কমেছে বলেই ভারত থেকে আসা সব পণ্যের দাম কমে যাবে; এমন নিশ্চয়তা নেই।

কেন এমন হলো?

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে গত এক বছরে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে, রিজার্ভও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগস্টের প্রথম ২৯ দিনেই এসেছে ২৬৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে আগস্ট ২০২৬ শেষে মোট রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়েছে। ফলে দুই দেশের মুদ্রার আপেক্ষিক শক্তির পার্থক্য বাংলাদেশের টাকাকে রুপির বিপরীতে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখেও ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯৫ দশমিক ৮২ রুপিতে লেনদেন শেষ করেছে।

এটাকে কি শুধু ‘টাকার শক্তি’ বলা যাবে?

রুপির বিপরীতে টাকার দাম বাড়ার অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের অর্থনীতি সব দিক থেকে শক্তিশালী হয়ে গেছে। এটি মূলত দুই মুদ্রার পারস্পরিক বিনিময় হার। একটি মুদ্রা স্থিতিশীল থাকার পাশাপাশি অন্যটি দুর্বল হলেও আপেক্ষিকভাবে প্রথম মুদ্রা শক্তিশালী দেখাতে পারে।

তাই রুপির বিপরীতে টাকার বর্তমান অবস্থানকে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতার সঙ্গে দেখা গেলেও এটিকে অর্থনীতির সামগ্রিক শক্তির একক সূচক হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

রফতানিতে বিপরীত প্রভাবের ঝুঁকি

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সহজভাবে বললে, বাংলাদেশি টাকার মান শক্তিশালী হলে এক টাকায় আগের তুলনায় বেশি ভারতীয় রুপি পাওয়া যায়। ফলে ভারতে ১০০ রুপি দামের কোনও পণ্য কিনতে আগে যে পরিমাণ বাংলাদেশি টাকা প্রয়োজন হতো, এখন তার চেয়ে কম টাকা লাগবে। এতে ভারত থেকে পণ্য আমদানির প্রাথমিক খরচ কমার সুযোগ তৈরি হয়।’

তিনি বলেন, তবে আমদানি ব্যয় কমলেই বাজারে পণ্যের দাম একই হারে কমবে; এমন নয়। কারণ পণ্যের দামের সঙ্গে শুল্ক, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ এবং ব্যবসায়ীর মুনাফা যুক্ত থাকে। ফলে বিনিময় হারের সুবিধার পুরোটা ভোক্তা পর্যায়ে নাও পৌঁছাতে পারে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হলে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতে চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভ্রমণের ব্যয়ও তুলনামূলক কমে আসে। তবে এর বিপরীত দিকও রয়েছে। বাংলাদেশি টাকা শক্তিশালী হলে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে যেতে পারে। এতে কিছু পণ্যের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমার ঝুঁকি তৈরি হয়।”

তিনি আরও বলেন, ভারতীয় পণ্য তুলনামূলক সস্তা হয়ে গেলে সেসব পণ্যের আমদানি বাড়তে পারে। এতে একদিকে ভোক্তারা কম দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ পেলেও অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতার চাপে পড়তে পারেন। তাই বিনিময় হার নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি আমদানি-রফতানির ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ভারতগামী বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমান বিনিময় হার স্বস্তির। চিকিৎসা, পর্যটন, শিক্ষা ও কিছু ধরনের ব্যবসায় এর সরাসরি আর্থিক সুবিধা রয়েছে। কিন্তু এই সুবিধা কতদিন থাকবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের মুদ্রার ভবিষ্যৎ গতিপথ, ডলারের আন্তর্জাতিক মূল্য, তেলের দাম, রেমিট্যান্স, রফতানি আয় এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতার ওপর।

Ads small one

গভীর রাতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
গভীর রাতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম

সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে ট্রলারে করে তাঁর মরদেহ শ্যামনগরের গাবুরার সরদারপাড়ায় পৌঁছায়।

মরদেহের সঙ্গে ছিলেন মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপি ও ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ স্বজনেরা। লাশ পৌঁছানোর পর রাত ১২ টা ৩৫ মিনিটে গাবুরা পশ্চিম পাড়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা। এ সময় স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে স্বজনদের পুরোনো কবরগুলোর পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় মরিয়মকে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই মরিয়মকে দাফনের সব প্রস্তুতি শেষ করে রাখা হয়েছিল। পারিবারিক কবরস্থানে প্রস্তুত রাখা হয় নতুন কবর। কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের কিনারা ঘেঁষে ইটের সড়ক ধরে সরদারপাড়ায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। বাড়ির সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রতিবেশীরা।

মরিয়মের চাচা মিলন সরদার প্রবাসে থাকায় বাড়িতে থেকে দাফনের সব প্রস্তুতি সামলান তাঁর স্ত্রী মুন্নী খাতুন। তিনি জানান, মরদেহবাহী গাড়িটি পদ্মা সেতু পার হয়ে খুলনার কয়রা হয়ে সড়কপথে আসে। এরপর কয়রার কাশিরহাটখোলা খেয়াঘাট থেকে ট্রলারে করে গাবুরার বাড়িতে পৌঁছায়। দাফন শেষে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা মরিয়মের অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

মরিয়মের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন সরদার জানান, ২০০৯ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আইলার পর—যখন মরিয়মের বয়স মাত্র দুই-তিন বছর—তখন থেকেই সে পরিবারসহ ঢাকায় থাকত। একই এলাকার ৮২ বছর বয়সী সাবেক গ্রাম পুলিশ গোলাম রহমান বলেন, ‘মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় থাকত। মাঝে মাঝে শুনতাম সে লেখাপড়া করছে, এসএসসি পরীক্ষাও দিয়েছিল। কিন্তু এত অল্প বয়সে এমন একটি ঘটনা কেন ঘটল, তার কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না।’ নাতনির মৃত্যুর খবরে শোকে পাথর হয়ে দাদা ইউনুস সরদার বাড়ির এক কোণে চুপচাপ বসে ছিলেন।

উল্লেখ্য, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত রোববার সন্ধ্যায় মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মরিয়মের স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে এবং অন্য আসামি ওবায়দুর পলাতক রয়েছেন।

মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে

আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা আল্লু অর্জুন অভিনীত ‘রাকা’ সিনেমার। ছবিটিতে দেখা যাবে দীপিকা পাড়ুকোনকেও। তবে মুক্তির এক বছর আগেই রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি।

‘রাকা’র নাম উঠেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। সর্বভারতীয় এই সিনেমার শুটিংয়ে একসঙ্গে ৩৭ জন শিল্পীর মোশন-ক্যাপচার করা হয়েছে। আর এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সিনেমাটি জায়গা করে নিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।

ছবির প্রযোজক সংস্থা সান পিকচার্স সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক্সে এই আপডেটটি শেয়ার করেছে।

ছবিতে পরিচালকের পাশে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের সনদ হাতে দেখা যায় আল্লু অর্জুনকে। ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইতিহাস তৈরি হলো। এক বিশ্বব্যাপী বিজয় যা ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গেল!’

অন্যদিকে, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিসিয়াল সাইটে ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘বাস্তব সময়ে সর্বাধিক ৩৭ জন মানুষের গতিবিধি ধারণ করার রেকর্ডটি অর্জন করেছে সান টিভি নেটওয়ার্ক লিমিটেড এবং ভি. অরুণকুমার (ওরফে) অ্যাটলি (উভয়েই ভারত), আল্লু অর্জুন অভিনীত ‘রাকা’ সিনেমা।’

বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা

বাংলাদেশে সোনার গহনা পরে চলাফেরা নিরাপদ মনে করেন না জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিশা।

তার কথায়, ‘সত্যি কথা বলতে, বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না। আমাদের দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে।’

তিশা বলেন, ‘আমরা নিজেরাই অনেক ঝামেলায় পড়ি, যেগুলো আমরা ডিজার্ভ করি না। অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো অন্যায় মনে হয়, ন্যায়বিচারও পাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যে কোনও পরিস্থিতিতে নারীদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো দরকার।’

টিভি নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এর মধ্যে সিনেমাতেও নাম লেখালেন তিনি। শাকিব খানের বিপরীতে দেখা যাবে তাকে। ‘সোলজার’ সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন তারা।