শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

লাইনের শেষে ন্যায্যতা নেই: তেলের পাম্পের বাস্তবতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
লাইনের শেষে ন্যায্যতা নেই: তেলের পাম্পের বাস্তবতা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
তেলের পাম্প-নগর ও গ্রামীণ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিক অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কেবল জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্র নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক আচরণেরও এক প্রতিচ্ছবি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই পাম্পগুলো ঘিরে যে চিত্র ফুটে উঠছে, তা উদ্বেগজনক এবং একই সঙ্গে গভীরভাবে চিন্তার বিষয়। ‘জোর যার, মুল্লুক তার’-এই প্রবাদের মতোই কোথাও কোথাও পেট্রোল পাম্পে দেখা যাচ্ছে ক্ষমতা, প্রভাব এবং পরিচয়ের দাপট। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ যখন নিয়ম মেনে অপেক্ষা করছেন, তখন কেউ কেউ বিশেষ সুবিধা নিয়ে সামনে চলে যাচ্ছেন। কেউ প্রতিবাদ করছেন, কেউ চুপ থাকছেন। আর এই নীরবতাই ধীরে ধীরে অন্যায়ের স্বাভাবিকীকরণ ঘটাচ্ছে। একটি সমাজে যখন নিয়মের চেয়ে প্রভাব বড় হয়ে ওঠে, তখন সেটি আর কেবল একটি ছোটখাটো অনিয়ম থাকে না; তা হয়ে ওঠে কাঠামোগত অবক্ষয়ের ইঙ্গিত। তেলের পাম্পে এই ধরনের আচরণ আপাতদৃষ্টিতে ক্ষুদ্র মনে হলেও এর প্রভাব বহুমাত্রিক। সময় নষ্ট, যানজট বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি-এসব তো আছেই, পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে এক ধরনের সামাজিক বৈষম্য, যেখানে শক্তিশালী ব্যক্তি নিয়মের বাইরে দাঁড়িয়ে যান। অনেক সময় অভিযোগ ওঠে, কিছু পাম্পে জ্বালানি বিতরণেও অনিয়ম হয়-পরিমাপে কারচুপি, নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি, কিংবা সংকট তৈরি করে কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি করা। যদিও সব পাম্পের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়, তবুও কিছু ব্যতিক্রমই পুরো ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। প্রথমত, নজরদারির ঘাটতি। বাজার তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে অনিয়ম বাড়ে। দ্বিতীয়ত, সামাজিক প্রতিরোধের অভাব। সাধারণ মানুষ অন্যায় দেখেও চুপ থাকেন, কারণ প্রতিবাদ করলে হয়রানি বা ঝামেলার আশঙ্কা থাকে। তৃতীয়ত, কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়াও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই তিনটি উপাদান মিলেই তৈরি হচ্ছে এক ধরনের “নীরব নৈরাজ্য”-যেখানে আইন আছে, নিয়ম আছে, কিন্তু তার প্রয়োগ দুর্বল। অন্যদিকে, এই সমস্যার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মনস্তাত্ত্বিক। যখন একজন সাধারণ মানুষ বারবার দেখে যে নিয়ম ভাঙা ব্যক্তিই দ্রুত সুবিধা পাচ্ছে, তখন তার ভেতরেও এক ধরনের হতাশা ও নিষ্ক্রিয়তা তৈরি হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ধীরে ধীরে “আমি কেন নিয়ম মানব?”-এই প্রশ্নটি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এভাবেই ছোট ছোট অনিয়ম একসময় বড় সামাজিক অসুস্থতায় রূপ নেয়। তেলের পাম্পে শৃঙ্খলা ভাঙার পেছনে কেবল ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, বরং একটি বড় প্রশাসনিক শিথিলতার চিত্রও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিয়ম-কানুন আছে, নির্দেশনা আছে, এমনকি তদারকি সংস্থাও রয়েছে-তবুও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন অনেক ক্ষেত্রেই দুর্বল। ফলে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের “নিয়ন্ত্রণহীন নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা”-যেখানে কাগজে-কলমে শাসন আছে, বাস্তবে আছে ঢিলেঢালা প্রয়োগ। জ্বালানি খাত এমন একটি সংবেদনশীল খাত, যেখানে সামান্য অনিয়মও বড় আকারের প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ঘাটতি, আকস্মিক পরিদর্শনের অভাব এবং জবাবদিহির দুর্বল কাঠামো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে যেসব অনিয়ম শুরুতে ছোট পরিসরে ঘটে, তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক আচরণে পরিণত হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, অভিযোগ দিলেও তা দ্রুত নিষ্পত্তি হয় না। তদন্ত হয় ধীরগতিতে, এবং অনেক ক্ষেত্রে ফলাফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। এই দীর্ঘসূত্রতা একদিকে যেমন অপরাধীদের সাহস বাড়ায়, অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের আস্থাহীন করে তোলে। ফলে তারা আর অভিযোগ করতেও আগ্রহী হন না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় প্রভাব ও ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা। কিছু এলাকায় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর উপস্থিতি এমনভাবে কাজ করে যে, নিয়ম প্রয়োগে প্রশাসনও অনেক সময় চাপের মুখে পড়ে। এতে করে আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয় এক ধরনের অসহায়ত্ব। জ্বালানি তেলের বাজারব্যবস্থায় আরেকটি সমস্যা হলো তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব। কখন কোথায় কতটুকু সরবরাহ হলো, কী দামে বিক্রি হচ্ছে, বা কী কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে-এসব তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য নয়। এই তথ্যগত অস্পষ্টতা গুজব ও অবিশ্বাসকে আরও উসকে দেয়। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট-শুধু আইন থাকলেই হয় না, তার কার্যকর প্রয়োগই আসল বিষয়। শৃঙ্খলা তখনই প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন নিয়ম ভাঙার পরিণতি নিশ্চিত ও দ্রুত হয়। কিন্তু যখন শাস্তি অনিশ্চিত বা বিলম্বিত হয়, তখন অনিয়মই এক ধরনের “বিকল্প নিয়ম” হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। তারা একদিকে যেমন সময় ও অর্থ হারান, অন্যদিকে ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাতে শুরু করেন। এটি দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তেলের পাম্পকেন্দ্রিক অনিয়মের সবচেয়ে গভীর দিকটি শুধু প্রশাসনিক নয়-এটি সামাজিক মানসিকতারও প্রতিফলন। এখানে একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী স্তর কাজ করে, যাকে অনেক ক্ষেত্রেই বলা যায় “গ্রাম্য পাতি নেতা সংস্কৃতি”। স্থানীয় পর্যায়ে কিছু মানুষ নিজেদের প্রভাব, পরিচয় বা রাজনৈতিক ছায়াকে ব্যবহার করে এমন এক ক্ষমতার বলয় তৈরি করেন, যা নিয়মের ওপরে ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করে। এই পাতি নেতৃত্বের প্রভাব অনেক সময় সরাসরি প্রশাসনের নির্দেশের বিরুদ্ধেও চাপ সৃষ্টি করে। পাম্পে জ্বালানি নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা, সারি ভাঙা, কিংবা অনিয়মকে “ম্যানেজ” করে ফেলা-এসবই কখনো কখনো স্থানীয় প্রভাবশালীদের অঘোষিত অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে আইন নয়, সম্পর্কই হয়ে ওঠে সিদ্ধান্তের মানদ-। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ এই পুরো ব্যবস্থার ভেতরে এক ধরনের মানসিক অসহায়ত্বে ভোগেন। তারা জানেন নিয়ম ভাঙা হচ্ছে, কিন্তু প্রতিবাদ করার মতো সামাজিক বা কাঠামোগত নিরাপত্তা তারা পান না। প্রতিবাদ করলে ঝামেলা বাড়তে পারে-এই আশঙ্কা অনেককে নীরব করে দেয়। এই নীরবতাই ধীরে ধীরে অন্যায়কে আরও শক্তিশালী করে তোলে। সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি এক ধরনের “নীরব সম্মতি”। অর্থাৎ সরাসরি সমর্থন না থাকলেও প্রতিবাদের অভাব অন্যায়কে টিকে থাকতে সাহায্য করে। তেলের পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা একজন সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস শুধু ব্যক্তিগত কষ্ট নয়-এটি একটি ভাঙা সামাজিক চুক্তির প্রতিচ্ছবি। গ্রাম্য পাতি নেতা সংস্কৃতি এখানে আরেকটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি করে-ক্ষমতার ব্যক্তিকরণ। যেখানে নিয়ম বা প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যক্তি-সম্পর্কই মুখ্য হয়ে ওঠে। এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতা কাঠামো ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার বিকল্প ছায়া-ব্যবস্থা তৈরি করে, যা অনেক সময় আনুষ্ঠানিক আইনকেও দুর্বল করে দেয়। ফলে তেলের পাম্পের মতো সাধারণ একটি স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা লাইনও আর শুধু জ্বালানি নেওয়ার লাইন থাকে না-তা হয়ে ওঠে ক্ষমতা, প্রভাব এবং সামাজিক অসমতার এক ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়-এই অবস্থা কি অপরিবর্তনীয়? উত্তর হলো, না। পরিবর্তন সম্ভব, তবে তার জন্য প্রয়োজন দুইটি দিকের শক্তিশালী ভূমিকা। প্রথমত, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা; দ্বিতীয়ত, সামাজিক সাহস তৈরি করা। সাধারণ মানুষ যদি সম্মিলিতভাবে ন্যায্যতার পক্ষে দাঁড়াতে পারে, তবে “জোর যার মুল্লুক তার” সংস্কৃতি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে বাধ্য। তেলের পাম্পে অনিয়ম, প্রভাবশালী দৌরাত্ম্য এবং সাধারণ মানুষের নীরব অসহায়ত্ব-এই পুরো চিত্রটি কেবল একটি খাতের সমস্যা নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক শৃঙ্খলার সংকটের প্রতিচ্ছবি। তবে এই পরিস্থিতি অমোচনীয় নয়। সঠিক উদ্যোগ, কার্যকর নজরদারি এবং নাগরিক সচেতনতা-এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে কাজ করলে পরিবর্তন সম্ভব। প্রথমত, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। জ্বালানি খাতে নিয়মিত ও আকস্মিক তদারকি জোরদার করতে হবে। পাম্পে মূল্য তালিকা, পরিমাপ যন্ত্র এবং বিক্রয় প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে যাচাই করতে হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না থাকলে নিয়ম শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে। বিক্রয় তথ্য, স্টক এবং সরবরাহ ব্যবস্থা যদি স্বচ্ছ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে থাকে, তাহলে অনিয়মের সুযোগ অনেকাংশে কমে আসে। স্বচ্ছতা কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ায় না, বরং জনগণের আস্থাও পুনরুদ্ধার করে। তৃতীয়ত, স্থানীয় প্রভাবশালী বা “পাতি নেতা” সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণ জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন আইন ও নিয়মের বাইরে বিশেষ সুবিধা নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এখানে প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইন প্রয়োগে যদি সামান্যও পক্ষপাত দেখা যায়, তবে পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যায়। চতুর্থত, ভোক্তা অধিকার সচেতনতা বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষ যদি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হন, তাহলে অনিয়ম সহজেই চলতে থাকে। অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা, দ্রুত প্রতিকার এবং ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে মানুষ ধীরে ধীরে সাহসী হয়ে উঠবে।
পঞ্চমত, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। নীরবতা অনেক সময় অন্যায়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। একজন প্রতিবাদ করলে ঝুঁকি থাকতে পারে, কিন্তু সম্মিলিত প্রতিবাদ সেই ঝুঁকি কমিয়ে আনে। সমাজ যদি ন্যায্যতার পক্ষে দাঁড়ায়, তবে অনিয়ম টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানসিক পরিবর্তন। “এভাবেই চলে”-এই স্বাভাবিকীকরণ ভাঙতে হবে। অন্যায়কে মেনে নেওয়া কোনো সমাধান নয়; বরং তা সমস্যাকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। তেলের পাম্পের মতো সাধারণ একটি জায়গায় যদি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা না হয়, তাহলে বৃহত্তর অর্থনীতির প্রতি আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ প্রতিদিনের জীবনে মানুষ যখন নিয়ম ভাঙতে দেখে, তখন রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপর তার বিশ্বাসও ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। অতএব, এই সংকটের সমাধান শুধু প্রশাসনের হাতে নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। রাষ্ট্র, প্রশাসন এবং নাগরিক-এই তিনটি স্তর একসঙ্গে কাজ করলে “জোর যার মুল্লুক তার” সংস্কৃতি বদলানো সম্ভব।শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই-আমরা কি নীরব দর্শক হয়েই থাকব, নাকি ন্যায্যতার পক্ষে দাঁড়িয়ে একটি শৃঙ্খল সমাজ গড়ব? উত্তর নির্ভর করছে আমাদের সম্মিলিত অবস্থানের ওপর। লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী

দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা রবি চৌধুরী ও শাবনূর। একজন গায়ক, অন্যজন অভিনেত্রী। তবে দুজনের মধ্যে রয়েছে বন্ধুত্ব। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সেই বন্ধুত্বের দৃশ্য আবারও দেখা গেল। ফেসবুকের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সিডনির রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন অভিনেত্রী, পাশে বসে গান শোনাচ্ছিলেন গায়ক। পেছনের আসনে শাবনূরের একমাত্র ছেলে আইজান নেহান।

শাবনূর দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ায় আছেন। এদিকে সম্প্রতি স্টেজ শোতে গাইতে সেখানে গেছেন রবি চৌধুরী। তার আসার খবরে শাবনূর আগেই থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন একসঙ্গে ঘুরবেন। শুক্রবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিলো। সিডনির বিভিন্ন মনোরম জায়গা রবিকে ঘুরিয়ে দেখালেন তিনি।

এ সময় শাবনূরের অনুরোধে তার খুব পছন্দের গান ‘যেভাবেই তুমি সকাল দেখো’ গেয়ে শোনান রবি চৌধুরী। পরে গাড়ি থেকে নেমে শাবনূরের অনুরোধে গেয়ে ওঠেন ‘ভালোবাসি তোমাকে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’।

শাবনূর ও রবি চৌধুরীর জন্মদিনও একই দিনে—১৭ ডিসেম্বর। এর আগে শাবনূর ঢাকায় এলে রবি চৌধুরীর বাসায় একসঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করেছেন তারা। সময়ের সঙ্গে দুজনের জীবনের গতিপথ বদলেছে, বদলে গেছে ঠিকানাও; কিন্তু বন্ধুত্ব রয়ে গেছে আগের মতোই।

সামাজিক মাধ্যমে সিডনিতে কাটানো সময়ের ভিডিও প্রকাশ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘সিডনিতে প্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীকে কাছে পেয়ে ফিরে গেলাম ‘ভালোবাসি তোমাকে’ চলচ্চিত্রের সেই মধুর স্মৃতিতে। ছবিটির জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’, যার মূল শিল্পী ছিলেন খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপা।

প্রিয় রবি চৌধুরীর কণ্ঠে আজ সেই গানটির দুই লাইন শুনে নস্টালজিয়ায় ডুবে গেলাম। বাংলা আধুনিক গানের জনপ্রিয় এই শিল্পীর সঙ্গে সিডনিতে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

ভালোবাসি তোমাকে ছবিটির পরিচালক মহম্মদ হান্নান আর গানটির গীতিকার ও সুরকার ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

ভারতের ২৪৯ রান টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য জয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
ভারতের ২৪৯ রান টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য জয়

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৫০। এমন কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু শাই হোপের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর শেরফান রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ইনিংসে সব হিসাব পাল্টে দিলো ক্যারিবীয়রা। শুক্রবার রাঁচিতে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়।

পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সফল রান তাড়ার তালিকায় অবশ্য এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৫৯ রান তাড়া করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার ভারতের ২৪৯ রান পেরিয়ে সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পেসার মায়াঙ্ক যাদব পরপর দুই বলে ফেরান কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ারকে। পরে ২৪ রান করা রোভম্যান পাওয়েলকেও ফিরিয়ে দেন তিনি।

এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হোপ ও রাদারফোর্ড। চতুর্থ উইকেটে ১২০ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে ভারতীয় বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান তারা।

৩৮ রানে থাকতে মায়াঙ্ক যাদবের সহজ ক্যাচে জীবন পান রাদারফোর্ড। জীবন পেয়ে পরে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন রাদারফোর্ড। মাত্র ৩৭ বলে ৮৪ রান করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কুলদীপ যাদবের বলে আউট হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৭টি ছয়।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তোলার গতি ঠিকই ধরে রাখেন হোপ। রোমারিও শেফার্ডকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ৪৫ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন হোপ। তার ইনিংসে ভর করেই ৯ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোপের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছয়।

এর আগে স্যামসনের ৪১ বলে ৮২ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তুলেছিল ভারত। ইনিংসের শুরুতে অভিষেক শর্মা ও স্যামসনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র চার ওভারের কম সময়ে ৪২ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা।

তবে সেই ঝড়ো শুরু থামান রোস্টন চেজ। অভিষেককে (২০) ফেরানোর পর ৪৩ রান করা ঈশান কিষান ও শিবম দুবেকেও (৭) আউট করেন তিনি। শামার স্প্রিঙ্গারের শিকার হন স্যামসন (৮২)।

শেষ দিকে আবারও রান তোলার গতি বাড়ায় ভারত। শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক বর্মা মাত্র ৩২ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। আইয়ার ১৮ বলে করেন ৪০ রান। ইনিংসের শেষ ওভারের আগের বলে আউট হন তিনি। তাতে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৪৯ রান। তিলক ১৮ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ক্যারিবীয়দের হয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন রোস্টন চেজ। ৬৪ রানে দুটি নেন শামার স্প্রিঙ্গার।

সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি হবে রবিবার।

শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর

চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আন্তর্জাতিক আইনের প্রখ্যাত প্রবক্তা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত কৌঁসুলি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে, পিল্লাইয়ের এমন মন্তব্যের জের ধরে এ প্রতিক্রিয়া জানায় দেশটি।

শুক্রবার পিল্লাইয়ের নোবেল বিজয়ের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, নোবেল প্রাইজ কমিটি তাদের নৈতিক দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলেছে। তারা এমন একজন কট্টর বর্ণবাদীকে তাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করেছে, যিনি একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও অপপ্রচার চালিয়ে ক্যারিয়ার গড়েছেন।

একই সঙ্গে পিল্লাই ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ ও কুৎসা রটাতে উসকানি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের অধীনে গঠিত ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব ইনকোয়ারি অন দ্য অকুপাইড প্যালেনস্টাইন টেরিটরি-এর প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেন ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই। অবশ্য এই কমিশনটি জাতিসংঘের মূল প্রতিনিধি হিসেবে সরাসরি কথা বলে না। তবে গত বছর এক প্রতিবেদনে কমিশনটি উল্লেখ করে যে, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা সংঘটিত করছে।

সূত্র: এএফপি