মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

লোডশেডিং আতঙ্কের মধ্যেই শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
লোডশেডিং আতঙ্কের মধ্যেই শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

আগামী ২ জুলাই থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার পরীক্ষায় অংশ নেবে সাড়ে ১২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। এর একদিন আগে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষাও। তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।

এবার সারা দেশের ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষাজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশ প্রয়োজন। শতভাগ বিদ্যুতায়নের পর বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বিদ্যুতের আলোতেই পড়াশোনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। কিন্তু পরীক্ষা সামনে রেখে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও কোনও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরীক্ষা উপলক্ষে আলাদা কোনও নির্দেশনা নেই। তবে সারা দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

প্রতি বছর রমজান ও সেচ মৌসুমকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ বিভাগ বিশেষ প্রস্তুতি নেয়। তুলনামূলক কম তাপমাত্রার সময়ে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এইচএসসি পরীক্ষা হয় জুলাই মাসের তীব্র গরমে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

লোডশেডিং পরিস্থিতি

গত তিন দিনের তুলনায় মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ২৮ জুন মধ্যরাত থেকে ৩০ জুন বিকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক লোডশেডিং হয়েছে।

২৮ জুন রাত ১২টায় বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল প্রায় ২ হাজার ৭৯৯ মেগাওয়াট। পরদিন ২৯ জুন ভোরে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। দিনের বেলায় ঘাটতি কিছুটা কমলেও সন্ধ্যা ও রাতে আবারও ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি দেখা যায়। ৩০ জুন সকালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে ১০০ থেকে ৪৮০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি ছিল। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হন গ্রাহকরা।

প্রস্তুতিতে বাধা

দেশের অনেক এলাকায় দিন-রাতের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পরীক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে ভ্যাপসা গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

যশোরের পরীক্ষার্থী অনিক হাসান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার সময়ও যদি একই পরিস্থিতি থাকে, তাহলে আমাদের অনেক সমস্যা হবে।’

চট্টগ্রামের বাসিন্দা রাশেদা বেগমও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার ছেলে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘লোডশেডিং শুরু হলে মোমবাতির আলোতে পড়তে বসে। কিন্তু গরমে বেশিক্ষণ বসে থাকা যায় না। ভ্যাপসা গরমে বাচ্চারা অস্থির হয়ে পড়ে।’

বৃষ্টি হলেও কমছে না গরম

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম কমছে না। আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তিকর আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ বলেন, সাধারণত বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কমে যায়। কিন্তু বর্তমানে যে বৃষ্টি হচ্ছে, তা মেঘের অপেক্ষাকৃত নিচু ও পাতলা স্তর থেকে হচ্ছে। ফলে বৃষ্টির পানিও খুব বেশি ঠান্ডা থাকে না। এ কারণে বৃষ্টির পরও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাত তাপমাত্রা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

তিনি জানান, আগামী ২ জুলাই থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ও বিস্তৃত পরিসরে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। তখন তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

Ads small one

কলারোয়ায় তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়ায় বিপাকে ক্রেতারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়ায় বিপাকে ক্রেতারা

কলারোয়া প্রতিনিধি: মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হাটবাজারগুলোতে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ ক্রেতারা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন পাইকারি আড়তে দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলারোয়া বাজার ও সরসকাটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন দিন আগেও ছিল ৩৫ টাকা। অন্যদিকে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭০ টাকা।

নিত্যপণ্যের বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ভ্যানচালক রসুল আমিন ও ক্রেতা মনিরুজ্জামান জানান, আদা, আলুসহ সব পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।

মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে কলারোয়া বাজারের আড়তদার আলাউদ্দিন ও বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন আড়ত এবং বর্ষা মৌসুমের কারণে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মৌসুমের প্রভাব কেটে গেলে ও আমদানি স্বাভাবিক হলে বাজার দর পুনারায় কমে আসবে।

 

 

ময়নাতদন্ত শেষে ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই হাজারো মানুষের ঢল, শোকে স্তব্ধ এলাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
ময়নাতদন্ত শেষে ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই হাজারো মানুষের ঢল, শোকে স্তব্ধ এলাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রাম যেন মঙ্গলবার শোকের জনপদে পরিণত হয়। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা খাতুনের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বিকালে বাড়িতে পৌঁছালে তাকে একনজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি আর এলাকাবাসীর কান্নায় পুরো গ্রামে নেমে আসে হৃদয়বিদারক পরিবেশ।

ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার বাড়িতে ছুটে আসেন। ছোট্ট এই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপস্থিত সবাই গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্বজনরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমাদের ফারজানাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু যারা এই নির্মম ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফারজানার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা নিহতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

ফারজানার মৃত্যুতে পুরো নলতা ইউনিয়নজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় তারা আগে কখনও এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখেননি। ছোট্ট ফারজানার শেষ বিদায়ে মানুষের এই ঢল তার প্রতি সবার ভালোবাসা ও ঘটনার প্রতি গভীর ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য, কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে কানের স্বর্ণের দুলের লোভে ফারজানা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত সুমা বেগম নামের এক নারী নিহত হয়।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ফারজানা কাশিবাটি গ্রামের খান এনামুলের মেয়ে এবং স্থানীয় কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

সকালে ফারজানা স্কুলে গিয়ে স্কুলের সামনের এক ঝালমুড়ির দোকানে যায়। দোকানটি পরিচালনা করতেন স্থানীয় আমিরুলের স্ত্রী সুমা বেগম। ফারজানার কানের স্বর্ণের দুলের লোভে সুমা তাকে কৌশলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির হাত-পা ও মুখ বেঁধে একটি ওয়ারড্রোবের ভেতর আটকে রেখে হত্যা করা হয় এবং মরদেহটি সেখানেই লুকিয়ে রাখা হয়।

 

কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ক্লিনিকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ক্লিনিকে জরিমানা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ক্লিনিক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়ন এর মা জননী নার্সিং হোম এবং মাতৃকল্যাণ ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম।

 

এ সময় ক্লিনিকে সরকারি অনুমোদন না থাকায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অনুমোদিত ডাক্তার না থাকায় উভয় প্রতিষ্ঠানকে মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ- ১৯৮২ অনুযায়ী পাঁচ হাজার করে সর্বমোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

 

আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. বাপ্পি কুমার দাস, বেঞ্চ সহকারী এমএ মান্নানসহ থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম।