সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শার্শায় থামছে না ভ্যান চুরি: স্কুলছাত্রের স্বপ্ন কেড়ে নিল প্রতারক চক্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
শার্শায় থামছে না ভ্যান চুরি: স্কুলছাত্রের স্বপ্ন কেড়ে নিল প্রতারক চক্র

সোহাগ হোসেন, শার্শা (যশোর): এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য নতুন একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনেছিলেন নয়ন হোসেন। অভাবের সংসারে বাবাকে সাহায্য করতে মাঝে মাঝে সেই ভ্যান নিয়ে বের হতো ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র শাওন (১২)। কিন্তু শুক্রবার সেই ভ্যানটিই কৌশলে নিয়ে গেছে একটি প্রতারক চক্র। চোখের সামনে বাবার উপার্জনের একমাত্র সম্বল হারিয়ে এখন দিশেহারা শিশু শাওন।
ভুক্তভোগী শাওন শার্শার গোগা কালিয়ানি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোগা বাজার থেকে বাগআঁচড়া যাওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তি শাওনের ভ্যানটি ভাড়া নেয়। বাগআঁচড়া বাজারের একটি নির্জন স্থানে ভ্যানটি রাখতে বলে কৌশলে শাওনকে অন্যদিকে সরিয়ে নিয়ে যায় চক্রের এক সদস্য। এই সুযোগে ওত পেতে থাকা অন্য সদস্যরা ভ্যানটি নিয়ে চম্পট দেয়।
বাগআঁচড়া এলাকায় ভ্যান চুরির ঘটনা এটিই প্রথম নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক বছরে এই এলাকায় অন্তত ডজনখানেক ভ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ৪ অক্টোবর ঝিকরগাছার এক বৃদ্ধ চালক এবং ২১ জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পরিচয়ে আরও এক চালকের ভ্যান চুরি হয়। গত ১৭ মার্চ চোর চক্রের দুই সদস্যকে স্থানীয় জনতা হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিলেও থামেনি এই উৎপাত।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত একটি ভ্যানও উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে ভুক্তভোগীরা এখন আর থানায় অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এই নীরবতার সুযোগে চোর চক্র এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যার জেরে অনেক সময় চালকদের হত্যা বা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটছে।
এ বিষয়ে বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম বলেন, “ভ্যান চুরির ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে প্রশাসনের এমন ‘দায়সারা’ বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে পারছেন না স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও চুরি হওয়া ভ্যান উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন বাগআঁচড়াবাসী।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: মামলা নয়, সমঝোতায় সমাধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: মামলা নয়, সমঝোতায় সমাধান

বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, সময় ও অর্থ অপচয় এবং বিচার বিভাগের ওপর ক্রমবর্ধমান মামলাজটের বোঝা লাঘবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থা যে কতটা কার্যকর হতে পারে, তার বাস্তব ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যস্থতার মাধ্যমে ১,৪৬৫টি বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ভুক্তভোগীদের আদায় করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। লিগ্যাল এইডের এই কার্যকর পদক্ষেপের ফলে দেওয়ানি, ফৌজদারি ও পারিবারিকÑতিন খাতেই আদালতে নতুন মামলা দায়েরের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা নিঃসন্দেহে দেশের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থার জন্য এক আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করে।

আমাদের দেশের সনাতন বিচারপ্রক্রিয়া প্রায়শই দীর্ঘসূত্রী ও ব্যয়বহুল। ফলে ছোটখাটো বিরোধ বা পারিবারিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে আদালত পর্যন্ত পৌঁছানো মামলাগুলো বিচারপ্রার্থীদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ ডেকে আনে। এই প্রেক্ষাপটে ‘মামলা নয়, সমঝোতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার’Ñএই দর্শনকে মূল চালিকাশক্তি করে জেলা লিগ্যাল এইড যে ভূমিকা রাখছে, তা কেবল আইনি সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি সামাজিক স্থায়িত্ব ও শান্তি বজায় রাখতেও অমূল্য অবদান রাখছে। বিশেষ করে, জমিজমা বা পারিবারিক ঝগড়াঝাঁটির মতো বিষয়ে সরাসরি মামলা না ঢুকে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-সহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনের আলোকে আইনি পরামর্শ প্রদান এবং বিকল্প সমাধানের পথ বাতলে দেওয়া বিচারপ্রার্থীদের অযাচিত হয়রানি থেকে রক্ষা করছে।

তবে মুদ্রার অপর পিঠও উপেক্ষার সুযোগ নেই। সীমিত সম্পদ ও কাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই এ সাফল্য অর্জিত হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো বেঞ্চ সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ১১টি শূন্য পদ রয়েছে। স্পেশাল মিডিয়েটর বা বিশেষ মধ্যস্থতাকারীর অভাব যেমন রয়েছে, তেমনি নিজস্ব ভবনের অনুপস্থিতি ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের সংকট তাদের সার্বিক কর্মক্ষমতাকে পূর্ণতায় পৌঁছাতে বাঁধা দিচ্ছে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনে সাময়িক স্থান বরাদ্দ কিংবা নিজস্ব ভবনের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির এই সাফল্যকে একটি সাময়িক অর্জনে সীমাবদ্ধ না রেখে টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো প্রয়োজন। এর জন্য লিগ্যাল এইড অফিসের বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামোগত ঘাটতিগুলো জরুরি ভিত্তিতে দূর করতে হবে। একই সঙ্গে স্পেশাল মিডিয়েটর নিয়োগ এবং প্রযুক্তি সুবিধা জোরদার করা গেলে জেলা পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। সাতক্ষীরার এই সফল মডেলটি যদি দেশজুড়ে যথাযথভাবে বিস্তৃত করা যায়, তবে তা কেবল আদালতগুলোর মামলাজটই কমাবে না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝেও সমঝোতা ও দ্রুত আইনি সুফল পাওয়ার বিশ্বাস তৈরি করবে।

ভ্যানে ফেলে যাওয়া পৌনে ৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন চালক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ভ্যানে ফেলে যাওয়া পৌনে ৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন চালক

oplus_2

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় ভ্যানযাত্রীর ফেলে যাওয়া ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি মুঠোফোন ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক ভ্যানচালক। রোববার রাতে ভ্যানচালক ওই টাকা ও মুঠোফোন সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে যান। পরে পুলিশ প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করে তা বুঝিয়ে দেয়।

এই ভ্যানচালকের নাম মো. মিনারুল ইসলাম (৫২)। তিনি আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা গ্রামের মো. আব্দুল লতিফের ছেলে। বর্তমানে তিনি সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের জেয়ালা গ্রামে বসবাস করছেন।

জানা গেছে, ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহরের বকুলতলা মোড় থেকে মিনারুল ইসলামের ভ্যানে ওঠেন শহরের পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা শামসুজ্জামান খান। বেশ কয়েকটি স্থানে ঘোরার পর পলাশপোলে নিজ বাড়ির সামনে নেমে ভাড়া মিটিয়ে চলে যান তিনি। তবে অসাবধানতাবশত ভ্যানের সিটের পেছনের হুকে ঝোলানো একটি ব্যাগ ফেলে রেখে যান। দ্রুত বাড়ি ফিরে মিনারুল ইসলাম ব্যাগে টাকা ও মুঠোফোন দেখতে পান।

পরদিন সকালে মিনারুল ইসলাম শহরে এসে ওই যাত্রীর নামার স্থানে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও তাঁকে পাননি। পরে শনিবার সকালে তিনি ব্যাগটি ধূলিহর বাজারে এক ব্যবসায়ীর কাছে জমা দেন। সেখানে হিসাব করে দেখা যায় ব্যাগে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে এক স্থানীয় সাংবাদিকের সহযোগিতায় রোববার রাতে ভ্যানচালক মিনারুল ইসলাম সদর থানায় যান। সেখানে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ ও মুঠোফোন প্রকৃত মালিক শামসুজ্জামান খানের হাতে তুলে দেন। ভ্যানচালকের এই দৃষ্টান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছে।

আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক মতবিনিময়

সংবাদদাতা: উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মৃত্তিকা সমাজ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান’-এর আয়োজনে প্রতাপনগর ইউনিয়নের হিজলা কোলাগ্রামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রোববার বিকেলে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় উপকূলীয় এলাকার ২০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেন। সভায় বক্তব্য দেন মৃত্তিকা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সালাম আব্দুল আহাদ (সবুজ), কর্মী স্বপ্না, পিপাসা, আছমা, রহিমা, শারমিন প্রমুখ।