শার্শায় থামছে না ভ্যান চুরি: স্কুলছাত্রের স্বপ্ন কেড়ে নিল প্রতারক চক্র
সোহাগ হোসেন, শার্শা (যশোর): এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য নতুন একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনেছিলেন নয়ন হোসেন। অভাবের সংসারে বাবাকে সাহায্য করতে মাঝে মাঝে সেই ভ্যান নিয়ে বের হতো ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র শাওন (১২)। কিন্তু শুক্রবার সেই ভ্যানটিই কৌশলে নিয়ে গেছে একটি প্রতারক চক্র। চোখের সামনে বাবার উপার্জনের একমাত্র সম্বল হারিয়ে এখন দিশেহারা শিশু শাওন।
ভুক্তভোগী শাওন শার্শার গোগা কালিয়ানি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোগা বাজার থেকে বাগআঁচড়া যাওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তি শাওনের ভ্যানটি ভাড়া নেয়। বাগআঁচড়া বাজারের একটি নির্জন স্থানে ভ্যানটি রাখতে বলে কৌশলে শাওনকে অন্যদিকে সরিয়ে নিয়ে যায় চক্রের এক সদস্য। এই সুযোগে ওত পেতে থাকা অন্য সদস্যরা ভ্যানটি নিয়ে চম্পট দেয়।
বাগআঁচড়া এলাকায় ভ্যান চুরির ঘটনা এটিই প্রথম নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক বছরে এই এলাকায় অন্তত ডজনখানেক ভ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ৪ অক্টোবর ঝিকরগাছার এক বৃদ্ধ চালক এবং ২১ জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পরিচয়ে আরও এক চালকের ভ্যান চুরি হয়। গত ১৭ মার্চ চোর চক্রের দুই সদস্যকে স্থানীয় জনতা হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিলেও থামেনি এই উৎপাত।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত একটি ভ্যানও উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে ভুক্তভোগীরা এখন আর থানায় অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এই নীরবতার সুযোগে চোর চক্র এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যার জেরে অনেক সময় চালকদের হত্যা বা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটছে।
এ বিষয়ে বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম বলেন, “ভ্যান চুরির ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে প্রশাসনের এমন ‘দায়সারা’ বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে পারছেন না স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও চুরি হওয়া ভ্যান উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন বাগআঁচড়াবাসী।









