বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শুক্রবার মহাষষ্ঠী: জাগ্রত হোক বিবেকের শক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
শুক্রবার মহাষষ্ঠী: জাগ্রত হোক বিবেকের শক্তি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা, শিউলির সুবাস আর ঢাকের শব্দ জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের বার্তা। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে। ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার পালিত হবে এই তিথি। দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু মহাষষ্ঠীর তাৎপর্য প্রতিমা প্রতিষ্ঠা কিংবা আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল শিক্ষা অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির জাগরণ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। হিন্দু পুরাণের কাহিনি অনুসারে, মহিষাসুরের অত্যাচার থেকে দেবতাদের রক্ষা করতে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। দীর্ঘ সংগ্রামের পর তাঁর হাতে মহিষাসুরের পরাজয় ঘটে। এই কাহিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হলেও এর অন্তর্নিহিত বার্তা সর্বজনীন। অহংকার, নিপীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহার যত প্রবলই হোক, তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজন কখনো ফুরায় না। দেবী দুর্গার অসুরবিনাশী রূপ তাই অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার প্রতীক। মহাষষ্ঠীর অন্যতম প্রধান আচার দেবীর বোধন।

 

প্রচলিত বিশ্বাসে, এদিন দেবীকে জাগ্রত করে মর্ত্যে আহ্বান জানানো হয়। এই বোধনের একটি সামাজিক তাৎপর্যও রয়েছে। দেবীকে জাগ্রত করার পাশাপাশি মানুষের বিবেকও কি জাগ্রত হচ্ছে? প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিনাশ কামনা করি আমরা, অথচ বাস্তব জীবনে অন্যায় দেখেও অনেক সময় নীরব থাকি। নারী নির্যাতন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিলে অসুরবিনাশিনীর আরাধনা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় আটকে থাকে। এবারের দুর্গাপূজায় দেবীর আগমন ও গমনের বাহন নিয়েও প্রচলিত শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা রয়েছে। পঞ্জিকার গণনা অনুযায়ী, দেবীর আগমন ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় ঘোটকে আগমনকে ‘ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে’ বলা হয়, যা বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয়ের আশঙ্কার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। অন্যদিকে, নৌকায় গমনকে শস্যবৃদ্ধি ও সুখ-সমৃদ্ধির লক্ষণ মনে করা হয়; পাশাপাশি জলবৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কার কথাও প্রচলিত রয়েছে।

 

এসব বিশ্বাস ধর্মীয় ঐতিহ্য ও লোকাচারের অংশ। তবে দেবীর বাহনের সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্কের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এসব ব্যাখ্যাকে আতঙ্কের কারণ না করে বাস্তব দায়িত্ব পালনের তাগিদ হিসেবে দেখা উচিত। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করে গণতান্ত্রিক আচরণ, সহনশীলতা ও আইনের শাসনের ওপর। আর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজন আগাম সতর্কতা, কার্যকর প্রস্তুতি ও দ্রুত ব্যবস্থা। দেবীর কাছে শান্তি কামনা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; শান্তি রক্ষার কাজটিও মানুষকেই করতে হয়। দুর্গোৎসবের আরেকটি বড় শক্তি সামাজিক সম্প্রীতি।

 

বাংলাদেশে এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আয়োজন হলেও এর আনন্দ বহু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পূজাম-পে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতি, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সুযোগ তৈরি করে। এই মিলনই উৎসবের সামাজিক সৌন্দর্য। কিন্তু সম্প্রীতির প্রকৃত পরীক্ষা ম-পের আলোকসজ্জায় নয়, বরং উৎসবের বাইরের দৈনন্দিন জীবনে। সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তা, ধর্মীয় উপাসনালয়ের সুরক্ষা ও সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পূজার কয়েকটি দিনে নিরাপত্তা জোরদার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; সারা বছরই নাগরিকদের নিরাপদে ধর্ম পালন ও জীবনযাপনের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

 

প্রতিমা ভাঙচুর, উপাসনালয়ে হামলা, ভয়ভীতি কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীর পরিচয় যা-ই হোক, আইনের প্রয়োগে পক্ষপাতের সুযোগ থাকা উচিত নয়।দুর্গোৎসবের সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িয়ে আছে। প্রতিমাশিল্পী, ঢাকি, মৃৎশিল্পী, বাঁশ ও কাঠের কারিগর, আলোকসজ্জাকর্মী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মাসের পর মাস প্রস্তুতি নেন। তাঁদের শ্রমেই উৎসবের আয়োজন পূর্ণতা পায়।

 

অথচ ম-পের জাঁকজমক নিয়ে আলোচনা হলেও এই শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও কাজের নিরাপত্তা সব সময় যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। উৎসবের সাফল্য বিচার করতে হলে তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদার বিষয়টিও সামনে আনতে হবে। পরিবেশ ও জন নিরাপত্তাও আয়োজকদের দায়িত্বের অংশ। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনিরাপত্তা, যানজট ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিমা বিসর্জনে নদী-জলাশয়ের দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতা ও যাতায়াতের নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি। আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রস্তুতি থাকলে অনাকাক্সিক্ষত ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

 

মহাষষ্ঠী আমাদের সামনে তাই দুটি প্রশ্ন রাখে: আমরা কীভাবে দেবীর আরাধনা করছি, আর তাঁর শিক্ষাকে জীবনে কতটা ধারণ করছি? দেবী দুর্গার শক্তি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। সেই সাহসের বাস্তব প্রকাশ ঘটতে হবে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানে, ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যানে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। এবারের মহাষষ্ঠীতে অঙ্গীকার হোকÑধর্মের পরিচয় দিয়ে কাউকে ভয় দেখানো যাবে না, অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা যাবে না, আর নাগরিক অধিকার কারও দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় হতে পারে না।

 

দেবীর বোধন তখনই সার্থক হবে, যখন মানুষের বিবেক জাগবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে উঠবে এবং রাষ্ট্র প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ম-পে অসুরবিনাশিনীর বন্দনা আর বাস্তবে অন্যায়ের সঙ্গে আপসÑএই দ্বিচারিতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ, দেবীর আরাধনার সার্থকতা প্রতিমার উচ্চতায় নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের অবস্থানে; উৎসবের আলোকসজ্জায় নয়, প্রতিটি মানুষের নিরাপদে বাঁচার অধিকারে।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

বড়দল আফতাব উদ্দীন কলেজিয়েট স্কুলে কমিটি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
বড়দল আফতাব উদ্দীন কলেজিয়েট স্কুলে কমিটি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল আফতাব উদ্দীন কলেজিয়েট স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের আজীবন দাতা সদস্য রফিকুল ইসলাম সানা। তিনি প্রার্থীদের হাতে মনোনয়ন ফরম তুলে দিয়ে এ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক জি এম আল ফারুক, অধ্যক্ষ মো. বাবলুর রহমান, বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ, বড়দল ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আজহারুল ইসলাম (আজগর)সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। উপস্থিত ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে, যা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আশাশুনিতে বিশ্ব সাদা ছড়ি দিবস উদযাপিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে বিশ্ব সাদা ছড়ি দিবস উদযাপিত

আশাশুনি প্রতিনিধি: ‘দৃষ্টি যেখানে সীমাবদ্ধ, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আশাশুনিতে বিশ্ব সাদা ছড়ি দিবস উদযাপিত হয়েছে। আশাশুনি বিআরডিবি মিলনায়তনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডুর নেতৃত্বে র‌্যালি শুরু হয়ে বিআরডিবি অফিস প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

বিআরডিবি হলরুমে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিআরডিবি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ও বিআরডিবি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা। সিবিআর অফিসার সুব্রত বাছাড়ের সঞ্চালনায় বিশ্ব সাদা ছড়ি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মিহির কুমার দাশ।

আমন্ত্রিত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে প্রকল্পের এবং আশাশুনি উপজেলার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে চলাচল এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে সুযোগ প্রদানের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে দুজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবককে সাদা ছড়ি প্রদান করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। এ ছাড়া সকলের উদ্দেশে ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রদর্শন করা হয়।

কলারোয়ায় মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় পাবদা, গুলশা ও টেংরা মাছের চাষ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক দিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসারের কার্যালয়, কলারোয়ার বাস্তবায়নে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাইদুর রহমান রেজা। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন প্রশিক্ষক রাকিব হোসেন। প্রশিক্ষণে স্থানীয় মৎস্যচাষি, খামারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এতে পাবদা, গুলশা ও টেংরা মাছের পোনা মজুদ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, পানির গুণাগুণ রক্ষা, রোগবালাই প্রতিরোধ ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষণে বক্তারা বলেন, পাবদা, গুলশা ও টেংরা দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু ও বাজারে চাহিদাসম্পন্ন মাছ। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করলে অল্প জায়গায় অধিক উৎপাদন সম্ভব, যা চাষিদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।