শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

শ্যামনগরের এক স্কুলে দুই সেট জামা প্যান্ট নিয়ে আসতে হয়ে বাচ্চাদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের এক স্কুলে দুই সেট জামা প্যান্ট নিয়ে আসতে হয়ে বাচ্চাদের

শ্যামনগর প্রতিনিধি: ‘আমাদের বাড়ি অনেক দুরে, প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার কাঁদা ঠেলে স্কুলে আসতে হয়। পথে খুব কাঁদা বিধায় স্কুলে এসে তাদের দিয়ে যায়, আবার নিয়েও যায়। অন্য সবার মত আমার বাচ্চাডাও দুই সেট জামা প্যান্ট নিয়ে স্কুলে আসে।

বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে পেয়ে কথাগুলো বলেন শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন তীরবর্তী মরাগাং গ্রামের নমিতা রানী মন্ডল। ত্রিশোর্ধ্ব বয়সী এ নারী আরও বলেন তার ছেলে ধৃতরাজ মন্ডল প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। স্কুলে আসা ও যাওয়ার কাজে এক সেট এবং ক্লাসে পাঠ গ্রহণের সময় অপর সেট জামা প্যান্ট ব্যবহার করতে হয় তার।

প্রায় অভিন্ন কথা শোনায় একই গ্রামের প্রিয়াংকা মন্ডল। অনামিকা ও মিহির নামে নিজের দুই সন্তানকে বিদ্যালয়ে পৌছে দিতে আসা এ নারীর দাবি ‘কাঁদার জন্য বাচ্চারা স্কুলে আসতে চাই না। বাধ্য হয়ে সাথে করে নিয়ে আসার পাশাপাশি ছুটির সময় পুনরায় এসে নিয়ে যেতে হয়’। এছাড়া দুই সেট জামা কাপড় না থাকলে স্কুলে এসে কেউ ক্লাস করতে পারে না বলেও দাবি করেন তিনি।

স্কুলে যাতায়াত নিয়ে দুর্ভোগের এমন করুন বর্ণনা শুধু এই দু’জন অভিভাবকের কন্ঠে উচ্চারিত হয়নি। বরং দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র হোসাইন ও তৃতীয় শ্রেণীর খাদিজাসহ আরও অসংখ্য ক্ষুদে ছাত্র-ছাত্রী আর অভিভাবকদের দাবি বর্ষাকালে স্কুলে আসতে ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক কষ্ট পোহাতে হয়।

 

বই খাতা আর জামা প্যান্ট কাঁদায় লেপ্টে যায়। ক্ষুদে শিক্ষার্থীর ভাষ্য স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা চলে গেছে উপকুল রক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে। কিন্তু ইটের সোলিং করা সেই রাস্তা ভেঙে এবড়ো-থেবড়ো হওয়ার কারনে স্বাভাবিক চলাচল করা যায় না। সামান্য বৃষ্টি হলে গোটা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের অন্তত দুই সেট পোশাক নিয়ে স্কুলে আসতে হয়। রাস্তার দুরাবস্থার কারনে তাদেরই অনেক সহপাঠী বর্ষাকালে স্কুলে আসতে চায় না বলেও দাবি ক্ষুদে অনেক শিক্ষার্থীর।

দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র মরাগাং গ্রামের হোসাইনের ভাষ্য, আমাদের রাস্তা অনেক রারাপ, আমাদের আসিত গে বই-টই ভিজে যায়। আমাদের আসতি অনেক কষ্ট হয়’। খাদিজা আক্তার জানায়, ‘আমি প্রথম ওয়ানে পড়ি, স্কুলে আসতে গেলি আমার জামা-কাপড় কাঁদাতে ভিজে যায়’। প্রায় একই কথা বলে তুলসী মন্ডলের মেয়ে হিয়া, নুর হোসেনের ছেলে জাহিদসহ আরও কয়েক শিশু।

বিদ্যালয়ে আসতে ছোট ছোট শিশুরা রীতিমত সংগ্রাম করছে- উল্লেখ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিমেষ কুমার মৃধা জানান রাস্তা এত খারাপ যে অভিভাবকরা দুই সেট পোশাকসহ বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে যায়। আবার ছুটি হলে শ্রেণী কক্ষের পোশাক পরিবর্তন করিয়ে নিয়ে যায়। এসব ধকল সামলাতে না পেরে কোন কোন পরিবার শিশুদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাচ্ছে না।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল জানান বিদ্যালয়ের এক পাশে পায় তিন কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। যার জন্য ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসতে মারাত্মক কষ্ট সহ্য করছে। স্কুলে আসার পথে রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা নিত্যকার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রত্যন্ত জনপদ হওয়ার দরুন সুন্দরবন পাঁড়ের এই মরাগাং স্কুলের যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন উন্নতি ঘটছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক জানান, মারাগং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা টানা তিনবার জাতীয় স্কুল ফুটবল প্রতিযোগীতায় সাফল্য দেখিয়েছে। তাদের জন্য কিছু পুরস্কার বিদ্যালয়ে পৌছে দিতে যেয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার যে চিত্র দেখছেন, তাতে রীতিমত হতবাক। কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।

উল্লেখ্য ১৬৫ নং পুর্ব মরাগাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা সর্বশেষ চারবার স্কুল ফুটবল প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে দু’বার(২০২৪ ও ২০২৬) সালে জাতীয় পর্যায়ের প্রথম রাউন্ডে পৌছায়। এছাড়া বিদ্যালয়টি গত ২০২৫ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পুরস্কার স্বরুপ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল খেলোয়াড়কে ক্রেষ্ট ছাড়াও স্কুল ব্যাগ এবং ফুটবল উপহার হিসেবে দেযা হয়। এসময় অন্যান্যের ম্েযধ উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহিন আলম, প্রেসক্লাব সভাপতি সামিউল মনির, সাাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল প্রমুখ।

 

 

Ads small one

খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ধস, সংস্কারকাজ শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ধস, সংস্কারকাজ শুরু

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার তুয়ারডাঙ্গার মুচির কোনা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর উপকূলীয় ওয়াপদা বেড়িবাঁধে ধস নেমেছে। খবর পেয়ে দ্রুত জিওটিউব ফেলে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবোর শাখা কর্মকর্তা (এসও) আলমগীর হোসেন জানান, দুপুরে বেড়িবাঁধের আনুমানিক ৩০০ ফুট ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং বিকল্প বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত কাজ শেষ না হলে জোয়ারের পানি ঢুকে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের ১৫ থেকে ২০ হাজার বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পাউবোকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

কয়রায় ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প উপলক্ষে লিফলেট বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
কয়রায় ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প উপলক্ষে লিফলেট বিতরণ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন উপলক্ষে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ১২ আগস্ট এ দিনব্যাপী চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পির ব্যবস্থাপনায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল স্থানে লিফলেট বিতরণ করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এলাকার দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ যেন কোনো খরচ ছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই ক্যাম্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ধানের বীজতলায় বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ধানের বীজতলায় বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পার-কুখরালীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধানের বীজতলায় ঘাস মারার বিষ প্রয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে।
পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু সাইদ জানান, তাঁর বাবা ২০০২ সালে জব্বার সরদারের কাছ থেকে জমিটি কেনেন। কিন্তু বিআরএস রেকর্ডে ভুলবশত প্রতিপক্ষের নাম ওঠায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতে মামলা (নং ১৯৩৭/২৫) চলমান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত জব্বার সরদারের ছেলে আব্দুর রকিব জমিতে ফসল না করার জন্য পূর্বে হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর জমিতে গিয়ে দেখা যায় বীজতলার চারাগুলো বিষ প্রয়োগের কারণে মরে গেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুর রকিব। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবু সাইদ এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।