বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

শ্যামনগরের এক স্কুলে দুই সেট জামা প্যান্ট নিয়ে আসতে হয়ে বাচ্চাদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের এক স্কুলে দুই সেট জামা প্যান্ট নিয়ে আসতে হয়ে বাচ্চাদের

শ্যামনগর প্রতিনিধি: ‘আমাদের বাড়ি অনেক দুরে, প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার কাঁদা ঠেলে স্কুলে আসতে হয়। পথে খুব কাঁদা বিধায় স্কুলে এসে তাদের দিয়ে যায়, আবার নিয়েও যায়। অন্য সবার মত আমার বাচ্চাডাও দুই সেট জামা প্যান্ট নিয়ে স্কুলে আসে।

বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে পেয়ে কথাগুলো বলেন শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন তীরবর্তী মরাগাং গ্রামের নমিতা রানী মন্ডল। ত্রিশোর্ধ্ব বয়সী এ নারী আরও বলেন তার ছেলে ধৃতরাজ মন্ডল প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। স্কুলে আসা ও যাওয়ার কাজে এক সেট এবং ক্লাসে পাঠ গ্রহণের সময় অপর সেট জামা প্যান্ট ব্যবহার করতে হয় তার।

প্রায় অভিন্ন কথা শোনায় একই গ্রামের প্রিয়াংকা মন্ডল। অনামিকা ও মিহির নামে নিজের দুই সন্তানকে বিদ্যালয়ে পৌছে দিতে আসা এ নারীর দাবি ‘কাঁদার জন্য বাচ্চারা স্কুলে আসতে চাই না। বাধ্য হয়ে সাথে করে নিয়ে আসার পাশাপাশি ছুটির সময় পুনরায় এসে নিয়ে যেতে হয়’। এছাড়া দুই সেট জামা কাপড় না থাকলে স্কুলে এসে কেউ ক্লাস করতে পারে না বলেও দাবি করেন তিনি।

স্কুলে যাতায়াত নিয়ে দুর্ভোগের এমন করুন বর্ণনা শুধু এই দু’জন অভিভাবকের কন্ঠে উচ্চারিত হয়নি। বরং দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র হোসাইন ও তৃতীয় শ্রেণীর খাদিজাসহ আরও অসংখ্য ক্ষুদে ছাত্র-ছাত্রী আর অভিভাবকদের দাবি বর্ষাকালে স্কুলে আসতে ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক কষ্ট পোহাতে হয়।

 

বই খাতা আর জামা প্যান্ট কাঁদায় লেপ্টে যায়। ক্ষুদে শিক্ষার্থীর ভাষ্য স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা চলে গেছে উপকুল রক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে। কিন্তু ইটের সোলিং করা সেই রাস্তা ভেঙে এবড়ো-থেবড়ো হওয়ার কারনে স্বাভাবিক চলাচল করা যায় না। সামান্য বৃষ্টি হলে গোটা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের অন্তত দুই সেট পোশাক নিয়ে স্কুলে আসতে হয়। রাস্তার দুরাবস্থার কারনে তাদেরই অনেক সহপাঠী বর্ষাকালে স্কুলে আসতে চায় না বলেও দাবি ক্ষুদে অনেক শিক্ষার্থীর।

দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র মরাগাং গ্রামের হোসাইনের ভাষ্য, আমাদের রাস্তা অনেক রারাপ, আমাদের আসিত গে বই-টই ভিজে যায়। আমাদের আসতি অনেক কষ্ট হয়’। খাদিজা আক্তার জানায়, ‘আমি প্রথম ওয়ানে পড়ি, স্কুলে আসতে গেলি আমার জামা-কাপড় কাঁদাতে ভিজে যায়’। প্রায় একই কথা বলে তুলসী মন্ডলের মেয়ে হিয়া, নুর হোসেনের ছেলে জাহিদসহ আরও কয়েক শিশু।

বিদ্যালয়ে আসতে ছোট ছোট শিশুরা রীতিমত সংগ্রাম করছে- উল্লেখ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিমেষ কুমার মৃধা জানান রাস্তা এত খারাপ যে অভিভাবকরা দুই সেট পোশাকসহ বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে যায়। আবার ছুটি হলে শ্রেণী কক্ষের পোশাক পরিবর্তন করিয়ে নিয়ে যায়। এসব ধকল সামলাতে না পেরে কোন কোন পরিবার শিশুদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাচ্ছে না।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল জানান বিদ্যালয়ের এক পাশে পায় তিন কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। যার জন্য ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসতে মারাত্মক কষ্ট সহ্য করছে। স্কুলে আসার পথে রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা নিত্যকার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রত্যন্ত জনপদ হওয়ার দরুন সুন্দরবন পাঁড়ের এই মরাগাং স্কুলের যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন উন্নতি ঘটছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক জানান, মারাগং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা টানা তিনবার জাতীয় স্কুল ফুটবল প্রতিযোগীতায় সাফল্য দেখিয়েছে। তাদের জন্য কিছু পুরস্কার বিদ্যালয়ে পৌছে দিতে যেয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার যে চিত্র দেখছেন, তাতে রীতিমত হতবাক। কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।

উল্লেখ্য ১৬৫ নং পুর্ব মরাগাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা সর্বশেষ চারবার স্কুল ফুটবল প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে দু’বার(২০২৪ ও ২০২৬) সালে জাতীয় পর্যায়ের প্রথম রাউন্ডে পৌছায়। এছাড়া বিদ্যালয়টি গত ২০২৫ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পুরস্কার স্বরুপ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল খেলোয়াড়কে ক্রেষ্ট ছাড়াও স্কুল ব্যাগ এবং ফুটবল উপহার হিসেবে দেযা হয়। এসময় অন্যান্যের ম্েযধ উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহিন আলম, প্রেসক্লাব সভাপতি সামিউল মনির, সাাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল প্রমুখ।

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও পদযাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও পদযাত্রা

নিজস্ব প্রতিনিধি: কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় পদযাত্রা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নাটিকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জুলাই সকালে নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা ‘রূপান্তর’।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘গোফরইম্প্যাক্ট’ প্রকল্পের আওতায় এ অনুষ্ঠান হয়। নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক গাজীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান ও জেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আ. ন. ম. নাজমুল উলা। কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরেন রূপান্তরের প্রতিনিধি সবুজ কুমার সাহা। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পদযাত্রা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেয়।

মুন্সীগঞ্জ সুন্দরবন বাজারে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
মুন্সীগঞ্জ সুন্দরবন বাজারে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা

মুন্সীগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের সুন্দরবন বাজারে মাদকবিরোধী আলোচনা ও সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে স্থানীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকালে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আবু কওছার সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম মোড়ল, সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক সরদার এবং সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু প্রশাসনের একার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগেই মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথি আবুল কাসেম মোড়ল বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, এটি সমাজ ও দেশের উন্নয়নের পথেও বড় বাধা। সভায় অন্যান্যের মধ্যে সাবেক প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ইউপি সদস্যরা বক্তব্য দেন।

 

কেশবপুরে ৪৮ ঘণ্টায় ১১ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ইজিবাইক জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে ৪৮ ঘণ্টায় ১১ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ইজিবাইক জব্দ

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে গত ৪৮ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে ১১ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ১টি ইজিবাইক এবং ২৫৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে গাঁজা সেবনের দায়ে ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি ৬ জনসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে উপজেলার বেগমপুর এলাকা থেকে ২৩ পিস ইয়াবাসহ ভোগতি গ্রামের আব্দুস সালাম (৩৬) ও রাহুল ইসলামকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়। একই দিন দুপুরে শহরের গাজীর মোড় থেকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ গাইবান্ধার শাহীনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে রোববার রাতে রামকৃষ্ণপুর, আলতাপোল ও বাজিতপুর এলাকা থেকে ৩৫ পিস ইয়াবাসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে গাঁজা সেবনের অপরাধে বাইসা গ্রামের আব্দুল মোমিন ও আলিমুল ইসলাম এবং ব্রহ্মকাটি গ্রামের জাহিদ হোসেনকে ১৫ দিন করে এবং মির্জাপুরের রাজু হোসেন ও মেহেরপুরের নূর আলমকে ১৮ দিনের কারাদ- দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকসানা খাতুন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।