শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সুন্দরবন সুরক্ষায় বনবিভাগ ও সিএমসির সাথে জেলেদের মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন সুরক্ষায় বনবিভাগ ও সিএমসির সাথে জেলেদের মতবিনিময়

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ বা কীটনাশক দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ এবং বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী নীলডুমুর সিএমসি অফিসে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিডিও-এর বাস্তবায়নে এডিপি প্রকল্প ও সুন্দরবন কোয়ালিশনের আওতায় বুড়িগোয়ালিনী ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেরা এতে অংশ নেন।
৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মো. এরফান উদ্দীন, সিএমসি কমিটির সদস্যবৃন্দ ও সিডিও-এর নির্বাহী পরিচালক গাজী আল ইমরান।
সভায় বন কর্মকর্তারা কীটনাশক ব্যবহারের ফলে সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং আইনসম্মত উপায়ে মাছ আহরণের আহ্বান জানান। জবাবে জেলেরা জানান, বছরে প্রায় তিন মাস বনে প্রবেশের পাস বন্ধ থাকায় তাঁরা চরম অর্থকষ্টে পড়েন। এ সময় পরিবার চালাতে তাঁদের চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়।
সমস্যা সমাধানে জেলেরা বিকল্প জীবিকা হিসেবে কাঁকড়া বিপণন, ভ্যান ক্রয়, চাল-খাদ্যপণ্য ও পানি ব্যবসা, মৌচাষ, গবাদিপশু পালন এবং সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানান। পাশাপাশি বিএলসি কার্ড নবায়ন সহজ করার আহ্বান জানান।
সিডিও-এর নির্বাহী পরিচালক গাজী আল ইমরান জেলেদের সামাজিক নিরাপত্তা ও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জেলেদের দাবিসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, এডিপি খাতের সহায়তায় বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরিতে কাজ করা হবে।

Ads small one

জুলাইয়ে মবে নিহত ৩১, কারা হেফাজতে মৃত্যু ৯ , অজ্ঞাতনামা ৫৬ লাশ, সাংবাদিক নির্যাতন বেড়েছে দ্বিগুণ: এমএসএফ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
জুলাইয়ে মবে নিহত ৩১, কারা হেফাজতে মৃত্যু ৯ , অজ্ঞাতনামা ৫৬ লাশ, সাংবাদিক নির্যাতন বেড়েছে দ্বিগুণ: এমএসএফ

অনলাইন ডেস্ক: দেশে গত জুন মাসের তুলনায় জুলাইয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। জুনে দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ছিল ১৮টি। জুলাইয়ে এই সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে হয়েছে ৩৬টি। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মাসিক মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

সংস্থাটি বলছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনার দ্বিগুণ বৃদ্ধি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি। পাশাপাশি জুলাই মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় মামলা ও গ্রেপ্তারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনলাইন মতপ্রকাশের ওপর চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

আজ শুক্রবার এমএসএফ সভাপতি সুলতানা কামালের সই করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে মব সহিংসতায় নিহত হয়েছে ৩১ জন। জুনে এই সংখ্যা ছিল ৩২। এ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছে ৭ জন। সংস্থাটি বলছে, রাজনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। সরকার পতন-পরবর্তী মামলায় জুলাই মাসে নতুন করে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যদিও গ্রেপ্তারের সংখ্যা কমে ১২৬-এ দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও (৩০৩ থেকে ৯৫), নিহতের সংখ্যা সামান্য বেড়েছে। যা সংঘর্ষের ভয়াবহতা অব্যাহত থাকার প্রমাণ।

এমএসএফ বলছে, জুলাই মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ২ জনের এবং কারাগারে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে গোলাগুলিসংক্রান্ত ঘটনায় নিহত না থাকলেও আহতের সংখ্যা এক মাসের ব্যবধানে ২ জন থেকে বেড়ে ২১ জনে পৌঁছেছে। যা নিরাপত্তা পরিস্থিতির অস্থিরতা নির্দেশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা ও পরিচয় শনাক্ত হওয়া লাশ উদ্ধার বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। জুলাই মাসে মোট ৮৯টি লাশ উদ্ধার হয়েছে (অজ্ঞাত ৫৬, পরিচয় শনাক্ত ৩৩। যা আগের মাসের তুলনায় বেশি। অধিকাংশ লাশের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া ও মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। পুশ-ইন, আটক এবং বিচ্ছিন্ন হত্যার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনাও বিচ্ছিন্নভাবে ঘটেছে, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুনে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ছিল ২ হাজার ৮৯৭ জন। জুলাইয়ে এই সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ১৯৬ জনে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি আইন প্রয়োগের তৎপরতা বাড়ার ইঙ্গিত দিলেও এর স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে বলে মনে করে এমএসএফ।

এমএসএফের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুন মাসে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ৩২০টি ঘটনা পেয়েছিল তারা। জুলাই মাসে পেয়েছে ৩০৬টি। সার্বিক ঘটনা প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমলেও পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলছে সংস্থাটি। তাদের পর্যবেক্ষণ হলো, মোট অপরাধ কমলেও নির্যাতনের ধরন এখন আরও বেশি নৃশংস ও জটিল রূপ নিয়েছে। এমএসএফের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, জুলাই মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৯০টি। জুনে এই সংখ্যা ছিল ৬৮টি। অর্থাৎ এক মাসে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। জুনে যৌন নিপীড়ন বা হয়রানির ঘটনা ছিল ২১টি। জুলাইয়ে তা বেড়ে হয়েছে ২২টি। অন্যদিকে জুনে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল ১৭টি। জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ টিতে। এক মাসে আত্মহত্যা বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। এমএসএফ মনে করে, ধর্ষণের মতো ঘটনা বৃদ্ধি নারী ও শিশুদের চরম নিরাপত্তাহীনতার ইঙ্গিত দেয়। আর আত্মহত্যার উচ্চ হার সামাজিক নিপীড়ন ও বিচারহীনতার মানসিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি নবজাতক উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮টি ছিল মৃত, আর ৩টি জীবিত। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত এসব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কার্যকর কোনো তদন্ত করে না। ফলে অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরেই থেকে যায়। মৃত নবজাতকের ক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণত অপমৃত্যুর মামলা করে। আর জীবিত নবজাতকদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এমএসএফের মতে, বেআইনি সালিস ও নবজাতক পরিত্যাগের ঘটনাগুলো সমাজে দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে আরও দৃঢ় করছে।

 

আশাশুনিতে ডা. নুরুল আমিন স্মৃতি পাঠাগারের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ডা. নুরুল আমিন স্মৃতি পাঠাগারের উদ্বোধন

আশাশুনি প্রতিনিধি: জ্ঞানচর্চা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ‘ডা. নুরুল আমিন স্মৃতি পাঠাগার’-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার সকালে পাঠাগার প্রাঙ্গণে প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রফেসর আব্দুস সবুরের সভাপতিত্বে সভায় আশাশুনির গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাঠাগারটি পরিচালনার জন্য ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।
নবগঠিত কমিটিতে প্রফেসর আব্দুস সবুরকে সভাপতি এবং এবিএম আলমগীর পিন্টুকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে। সামাজিক পাঠঅভ্যাস বৃদ্ধি, সাহিত্যচর্চা ও বইভিত্তিক বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করাই এই পাঠাগারের মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়।

সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে প্রায় ১৩ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে প্রায় ১৩ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণের ভারতীয় ওষুধ ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করেছেন। ৩১ জুলাই সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধীনস্থ তলুইগাছা, কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপির একাধিক টহল দল এসব অভিযান পরিচালনা করে।

বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত পেরিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা ১২ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ ও মোবাইল পার্টস আটক করা হয়। এসব চোরাচালানি মালামাল অবৈধভাবে দেশে আসায় দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। সীমান্ত এলাকায় এই চোরাচালানবিরোধী নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।