সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

শ্যামনগরে বোরোর বাম্পার ফলন: লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বোরোর বাম্পার ফলন: লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

রনজিত বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চর (শ্যামনগর): লবণাক্ততার প্রতিকূলতা জয় করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে কিছু এলাকায় আংশিক ক্ষতি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ এবং হেক্টর প্রতি ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় খুশি প্রান্তিক কৃষকেরা।

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৭১৫ হেক্টর। তবে আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে। ফলনের চিত্রও গত বছরের তুলনায় ইতিবাচক। এবার হেক্টর প্রতি গড় ফলন পাওয়া গেছে ৬.৫ মেট্রিক টন (ধান), যা গত বছর ছিল ৬.৩ মেট্রিক টন। চালের হিসেবে এবার হেক্টর প্রতি উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪.৩৩ মেট্রিক টন।

উপজেলার রমজাননগর, মুন্সিগঞ্জ, কৈখালী ও ভুরুলিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্রি-৬৭, ব্রি-৯৯ ও এসএল-০৮ জাতের ধানের আবাদ বেশি হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ ও কৈখালী এলাকার চাষি আবদুল্লাহ ও তপন জানান, এবার বিঘাপ্রতি ১৪ থেকে ১৫ মণ ধান ঘরে তুলেছেন তাঁরা।

তবে কাটার ঠিক আগমুহূর্তে শিলাবৃষ্টিতে ১৭ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রমজাননগরের চাষি ফারুক হোসেন বলেন, “শিলাবৃষ্টিতে আমার তিন বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘার ধান পানির নিচে চলে গিয়েছিল। তবে সামগ্রিকভাবে অন্যদের ফলন বেশ ভালো হয়েছে।”

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন ম-ল জানান, মাঠের প্রায় ৯০ শতাংশ ধান ইতিমধ্যে কৃষকেরা ঘরে তুলতে পেরেছেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে মিষ্টি পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে সুন্দরবন সংলগ্ন এই অঞ্চলে বোরো আবাদ আরও বাড়ানো সম্ভব।

এদিকে, গত ৩ মে থেকে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় জানিয়েছে, এবার প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬টাকা। উপজেলায় ২৭৮ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সদর ও নওয়াবেঁকী খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

মাইক্রোপ্লাস্টিক ও আমাদের সন্তানদের দাঁত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
মাইক্রোপ্লাস্টিক ও আমাদের সন্তানদের দাঁত

আখলাকুর রহমান

ধরুন একটি সকাল। শীতের কুয়াশা তখনও কাটেনি সম্পূর্ণ। আপনার ছোট্ট সন্তানটি ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে গিয়েছে, প্রতিদিনের মতোই ব্রাশ হাতে নিয়েছে, টুথপেস্ট লাগিয়েছে, দাঁত মেজেছে। আপনি রান্নাঘরে ব্যস্ত, চা বসিয়েছেন, ভাবছেন আজকের দিনটা কেমন যাবে। কিছুদিন পর লক্ষ করলেন সন্তানটির পেটে মাঝেমধ্যেই ব্যথা হয়, খাবারে অরুচি, কখনো কখনো ত্বকে র‌্যাশ দেখা দেয়। ডাক্তারের কাছে ছোটাছুটি করলেন। নানারকম পরীক্ষা হলো। শেষে যে কারণটি বের হলো তা শুনে আপনি হয়তো বিশ্বাসই করতে পারবেন না প্রথমে। ডাক্তার বললেন, প্রতিদিন সকালে যে টুথপেস্টটি সে ব্যবহার করছে, তার ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য শত্রু। নাম তার মাইক্রোপ্লাস্টিক।

এই গল্পটি কল্পনা নয়। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, প্রতিদিন সকালে ও রাতে যে পেস্টটুকু আপনি নিজের ও সন্তানের ব্রাশে তুলে দিচ্ছেন, তার ভেতরে আসলে কী আছে? সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে বাজারে প্রচলিত অসংখ্য টুথপেস্টে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মিশে থাকে, যাদের বলা হয় মাইক্রোবিডস বা মাইক্রোপ্লাস্টিক। এই কণাগুলো এত ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না, অথচ প্রতিদিন দুবেলা এগুলো আমাদের মুখগহ্বরে প্রবেশ করছে, রক্তে মিশছে, শরীরের ভেতরে জমা হচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তখনও পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে ওঠেনি।

মাইক্রোপ্লাস্টিক আসলে কী, আর কেন তা এত বিপজ্জনক?
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো পাঁচ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট প্লাস্টিক কণা। টুথপেস্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একসময় দাঁত পরিষ্কারের ক্ষমতা বাড়াতে এবং টুথপেস্টের গঠন আকর্ষণীয় করতে এই পলিইথিলিন কণা ব্যবহার শুরু করেছিল। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, যে জিনিস আমরা খাই না অথচ প্রতিদিন মুখে নিয়ে কুলকুচি করি, তা যদি অংশত গিলেই ফেলি, তবে কী হতে পারে? গবেষকরা দেখেছেন এই কণাগুলো দাঁতের ফাঁকে, মাড়ির কিনারে আটকে মাড়ির প্রদাহ ঘটায়, দাঁতের ক্ষয় বাড়িয়ে দেয়। গিলে ফেলা কণাগুলো পাকস্থলীতে গিয়ে হজমে ব্যাঘাত ঘটায়, অন্ত্রের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্লাস্টিক কণা হরমোনজনিত সমস্যা, প্রদাহজনিত রোগ, এমনকি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণ হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

শিশুরা প্রতিদিন গড়ে দুবার ব্রাশ করে, বছরে প্রায় সাতশো বার। এই সাতশো বারের প্রতিবারে সামান্য পরিমাণ প্লাস্টিক যদি শরীরে প্রবেশ করে, বছর শেষে তার পরিমাণটা কি সত্যিই নগণ্য থাকে? আমরা যারা অভিভাবক, আমরা প্রতিদিন সন্তানকে যতœ করে খাওয়াই, রোদ থেকে বাঁচাই, অসুখ হলে ছুটে যাই ডাক্তারের কাছে, তবে প্রতিদিন সকালে যে টিউব থেকে পেস্ট বের করে দিচ্ছি সন্তানের ব্রাশে, তার উপাদান নিয়ে আমরা কি কখনো প্রশ্ন তুলেছি?

উত্তরটা হলো, না। মানুষ বহু হাজার বছর ধরে দাঁতের পরিচর্যা করে আসছে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে। প্রাচীন মিশরীয়রা প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে এক ধরনের গুঁড়ো তৈরি করত, যাতে থাকত ষাঁড়ের খুরের ছাই, পোড়া ডিমের খোসা এবং ঝামা পাথরের গুঁড়ো। প্রাচীন গ্রিক ও রোমানরা দাঁত পরিষ্কারের জন্য ব্যবহার করত হাড়ের গুঁড়ো এবং ঝিনুকের খোসা। ভারতীয় উপমহাদেশে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাশাস্ত্রে নিম, বাবলা এবং বিভিন্ন গাছের ছাল দিয়ে দাঁত মাজার প্রচলন ছিল বহু শতাব্দী ধরে।
তাহলে মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে ঢুকে পড়ল আমাদের দৈনন্দিন জীবনে?

আধুনিক টুথপেস্টের যাত্রা শুরু হয় উনিশ শতকে, চক পাউডার, সাবান ও নানারকম প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ফ্লোরাইড যুক্ত হলো, দাঁতের ক্ষয় রোধে যা কার্যকর প্রমাণিত হলো। কিন্তু এরপর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো টুথপেস্টকে করে তুলল আরও রঙিন, আরও সুগন্ধি, আরও চকচকে। প্রশ্ন হলো, এই চকচকে ভাব আনতে গিয়ে আমরা কি আসলে স্বাস্থ্যের বিনিময়ে সৌন্দর্য কিনে নিলাম?

আমাদের দাদা পরদাদার আমলে টুথপেস্টের প্রচলন ছিল না বললেই চলে। গ্রামবাংলার মানুষ দাঁত মাজত নিমের ডাল দিয়ে। ভোরবেলা উঠে নিমগাছ থেকে একটি সরু ডাল ভেঙে তার আগা চিবিয়ে ব্রাশের মতো তৈরি করে দাঁত মাজতেন তারা। নিমের রয়েছে প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক গুণ, যা মুখগহ্বরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করত। অনেকে ব্যবহার করতেন কাঠ কয়লার গুঁড়ো, যা দাঁতের হলদেটে দাগ তুলতে সাহায্য করত। কেউ কেউ সরিষার তেলের সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে আঙুল দিয়ে মাড়িতে মালিশ করতেন, যা মাড়ি শক্ত করত এবং দাঁতের গোড়া মজবুত রাখত।

মধ্যপ্রাচ্যে এবং মুসলিম বিশ্বে বহু শতাব্দী ধরে প্রচলিত ছিল মেসওয়াক বা দাঁতনের ব্যবহার। আরাক গাছের শিকড় বা ডাল থেকে তৈরি এই মেসওয়াকে প্রাকৃতিকভাবেই থাকে ফ্লোরাইড, ট্যানিন এবং জীবাণুনাশক উপাদান। তাহলে প্রশ্ন জাগে, আধুনিক বিজ্ঞান যে ফ্লোরাইডকে টুথপেস্টে রাসায়নিকভাবে যোগ করছে, তা কি প্রকৃতি বহু আগেই একটি সাধারণ গাছের ডালে দিয়ে রেখেছিল?

তবে কি আমাদের পূর্বপুরুষদের দাঁত সত্যিই বেশি মজবুত ছিল?
প্রবীণদের মুখে এখনো শোনা যায়, আশি নব্বই বছর বয়সেও তাদের বাবা দাদারা শক্ত সুপারি চিবিয়ে খেতেন, দাঁত পড়ত না সহজে। তাহলে কারণটা কী? শুধুই প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার, নাকি তাদের খাদ্যাভ্যাসও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল? চিনিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার তখন ছিল না বললেই চলে, আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হতো, যা দাঁত ও মাড়ি প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করত।

প্রশ্ন হলো, আমরা কি আবার সম্পূর্ণভাবে সেই পুরনো অভ্যাসে ফিরে যাব? বাস্তবতা হলো আধুনিক জীবনযাত্রায় সম্পূর্ণভাবে ফিরে যাওয়া কঠিন, তবে কিছু অভ্যাস কি আমরা চাইলেই মিশিয়ে নিতে পারি না দৈনন্দিন জীবনে? বাজারে এখন মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত টুথপেস্ট পাওয়া যায়, প্যাকেটের গায়ে খুঁজে দেখা যেতে পারে পলিইথিলিন বা মাইক্রোবিড উপাদান আছে কিনা। সপ্তাহে দুই একদিন নিমের ডাল বা মেসওয়াক ব্যবহার করলে কি ঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যও রক্ষা করা যায় না? শিশুদের ছোটবেলা থেকেই আঁশযুক্ত ফলমূল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস করানো গেলে তাদের দাঁত ও মাড়ি কি স্বাভাবিকভাবেই মজবুত থাকবে না?

আমরা যা কিছু আমাদের সন্তানের মুখে তুলে দিচ্ছি, তার প্রতিটি উপাদান সম্পর্কে জানার অধিকার কি আমাদের নেই? টুথপেস্টের প্যাকেটের গায়ে লেখা উপাদানের তালিকাটুকু কি একবার পড়ে দেখা যায় না? শুধু বিজ্ঞাপনের চাকচিক্যে মুগ্ধ না হয়ে প্রশ্ন তোলা কি উচিত নয়, এই পেস্ট আসলে কী দিয়ে তৈরি?

সেই সকালের গল্পে ফিরে আসি। যে মা তার সন্তানের অসুখের কারণ খুঁজে পেয়েছিলেন টুথপেস্টে, তিনি সেদিন থেকে বদলে ফেলেছিলেন তাদের দৈনন্দিন অভ্যাস। ঘরে ফিরিয়ে এনেছিলেন নিমের ডাল, বেছে নিয়েছিলেন সতর্কতার সঙ্গে টুথপেস্ট। প্রকৃতি আমাদের যা দিয়েছে, তা কি সত্যিই ফেলনা? আধুনিকতাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান নয়, বরং প্রাচীন প্রজ্ঞা আর বর্তমান বিজ্ঞানকে একসঙ্গে মিলিয়ে চলাই কি হতে পারে না প্রকৃত সমাধান? আমাদের সন্তানদের জন্য এই সচেতনতা আজই কি জরুরি নয়, কালকের অপেক্ষায় থাকলে হয়তো দেরি হয়ে যাবে বলে?

লেখক : একজন উদ্যোক্তা

টানা বৃষ্টির ধাক্কায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
টানা বৃষ্টির ধাক্কায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বস্তি

এম শফিকুল ইসলাম

শ্রাবণের টানা বৃষ্টির প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে আবারও দেখা দিয়েছে অস্বস্তি। সাতক্ষীরার শহর ও গ্রামাঅঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের সবজি, কাঁচা ঝাল, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম ও মুরগির দাম বেড়েছে। কোথাও কোথাও সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি পণ্যের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ১০০ টাকা। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ হাটবাজারে পেঁপে, পটল, চিচিঙ্গা, ঢেড়স, ও ঝিঙে ছাড়া অধিকাংশ সবজি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। কাঁচা ঝালের দাম বেড়েছে ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা কেজি। সোমবার গ্রামাঞ্চলের হাট -বাজার ঘরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

 

ভোমরা বন্দর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজের দাম সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে। বেগুন ১১০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ২০০ থেকে ২২০ কোটি টাকা, গাঁজর ৭০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় উঠেছে। আলু বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকা ৩০ টাকা কেজি দরে। পদ্মা শাঁখরা, মাহুদপুর, ভারুখালী ও ঘোনা বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। কাঁচা ঝাল ২৩০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভোমরা পুরাতন হাটখোলা সবজির বাজারে পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দাল ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং বেগুন ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে বাজারের সবজিসহ কৃষিপণ্যের সরবরাহ কমেছে।

 

একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। ভোমরা বাজারের সবজি বিক্রিতা জিয়াদ আলী জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার কারণে হু হু করে সবজির দাম বেড়েছে। দাম বাড়ায় আমাদের বেচা কেনাও অনেক কমে গেছে। ক্রেতারা আগে বেশি করে বেশাতি করলেও এখন অল্প করে কিনছেন। আরেক বিক্রেতা সুশান্ত সরকার বলেন, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ভোমরা বন্দর সবজির বাজারে অর্ধেকের বেশি দাম বেড়েছে। যে সবজি ৪০ টাকা ছিল, সেটিই এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা ঝাল ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকায় উঠেছে।

 

বাজারের এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নি¤œ আয়ের মানুষ। শুধু সবজি নয়, মুরগি ও ডিমের বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭০ টাকা ২০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৯০ টাকা থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে নিত্যপণ্যের বাজারের দূরত্ব স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দামও কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। লেখক: নাট্যকর্মী

 

প্রকৃতি ও প্রজন্মের মেলবন্ধন: টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
প্রকৃতি ও প্রজন্মের মেলবন্ধন: টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

আমাদের অস্তিত্বের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা হলো এই ধরিত্রী। বাতাস গ্রহণ থেকে শুরু করে যে জল পান করে আমরা বেঁচে আছি, তার প্রতিটি ফোঁটার উৎস এই প্রকৃতি। আবহমানকাল থেকেই মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক ছিল পরিপূরকÑ একটি অচ্ছেদ্য সখ্য। কিন্তু আধুনিকতার ছদ্মবেশে অপরিকল্পিত নগরায়ন, যান্ত্রিকায়ন এবং অতিরিক্ত ভোগের মানসিকতা আজ এই সুপ্রাচীন ভারসাম্যকে তীব্র সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রতি বছর ২৮ জুলাই পালিত ‘বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস’ আমাদের সেই নির্মম সত্যটিই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়: প্রকৃতি বাঁচলেই কেবল মানবজাতি বেঁচে থাকবে।

১৯৭২ সনে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ‘মানব পরিবেশ সম্মেলন’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিবেশ রক্ষার দাবির প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এই ঐতিহাসিক সম্মেলন থেকেই বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ প্রকৃতি সুরক্ষার দিকে আকৃষ্ট হয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়ন এবং সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে দিনটি প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আজ পৃথিবীর বুকে মানুষের সংখ্যা আট বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে এবং তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিশাল জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ পড়েছে নজিরবিহীনভাবে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের বহু অঞ্চল তীব্র পানিসংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

 

বিশ্বের বহু উষ্ণম-লীয় বনাঞ্চল দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, ফলে কার্বন শোষণের প্রাকৃতিক সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে দেখা দিচ্ছে রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ, আকস্মিক বন্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী খরা। আইপিবিইএস-এর বৈশ্বিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১০ লক্ষ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বাস্তুতন্ত্রের এই ধস মানবজাতির খাদ্য নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি।

আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য চিরকালই প্রকৃতিকে মায়ের আসনে বসিয়েছে। আবহমান বাংলার লোকায়ত জীবন ও ঐতিহ্যে নদী, বৃক্ষ এবং প্রান্তর কেবল জীবিকার উপাদান নয়, বরং গভীর শ্রদ্ধার বস্তু। গাছকে জীবনদাতা এবং নদীকে মাতৃসম গণ্য করার এই দর্শন আমাদের আত্মস্থ করতে হবে। প্রকৃতি ধ্বংস করা মানে নিজের শেকড় কেটে ফেলাÑএই উপলব্ধিই হতে হবে আমাদের সব কাজের নৈতিক মানদ-। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ এবং ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ আমাদের জন্য প্রকৃতি সংরক্ষণকে বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার অপরিহার্য শর্তে পরিণত করেছে।

২০২২ সালে গৃহীত কুনমিং-মন্ট্রিয়ল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক-এর মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি পুরোপুরি থামানো ও তা পুনরুদ্ধার করা। চলতি ২০২৬ সাল এই বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার ঠিক মাঝামাঝি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দিবসটির বার্তা মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেÑগাছ লাগানোর পাশাপাশি নদী ও জলাভূমি সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা; জলবায়ু পরিবর্তনের চরম আঘাত মোকাবিলা করার সক্ষমতা অর্জন করা; এবং ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বর্জ্য হ্রাস ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা।

প্রকৃতি রক্ষা কেবল রাষ্ট্রীয় নীতিমালা বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনের খাতায় আটকে থাকার বিষয় নয়; এটি শুরু হতে হবে আমাদের নিজ নিজ ঘর থেকেই। দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস পরিবর্তন করেই আমরা বড় পরিবর্তন আনতে পারি: একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন—পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পাটের ব্যাগ, কাপড় বা কাগজের ব্যবহার বাড়ানো।

 

সম্পদের সদ্ব্যবহার—’আর’ (জবফঁপব, জবঁংব, জবপুপষব) নীতি মেনে চলা এবং পানির কল বন্ধ রেখে বা বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করে প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নÑনিজের আঙ্গিনায়, ছাদবাগান বা স্থানীয় বনায়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা।

প্রকৃতি আমাদের কোনো সম্পত্তি নয়, বরং এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি মূল্যবান আমানত। বিশুদ্ধ বাতাস, উর্বর মাটি আর নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা পেতে হলে প্রকৃতির সাথে লড়াই নয়, বরং তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলার বিকল্প নেই। বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসের এই শুভলগ্নে আমাদের পণ হোক—অযথা সম্পদ নষ্ট না করে, আসুন আমরা প্রকৃতিকে পুনরুদ্ধার করি, যাতে আমাদের আগামী দিনগুলো হয় আরও নিরাপদ, সুন্দর ও প্রাণবন্ত।