শ্যামনগরে বোরোর বাম্পার ফলন: লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে
রনজিত বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চর (শ্যামনগর): লবণাক্ততার প্রতিকূলতা জয় করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে কিছু এলাকায় আংশিক ক্ষতি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ এবং হেক্টর প্রতি ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় খুশি প্রান্তিক কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৭১৫ হেক্টর। তবে আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে। ফলনের চিত্রও গত বছরের তুলনায় ইতিবাচক। এবার হেক্টর প্রতি গড় ফলন পাওয়া গেছে ৬.৫ মেট্রিক টন (ধান), যা গত বছর ছিল ৬.৩ মেট্রিক টন। চালের হিসেবে এবার হেক্টর প্রতি উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪.৩৩ মেট্রিক টন।
উপজেলার রমজাননগর, মুন্সিগঞ্জ, কৈখালী ও ভুরুলিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্রি-৬৭, ব্রি-৯৯ ও এসএল-০৮ জাতের ধানের আবাদ বেশি হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ ও কৈখালী এলাকার চাষি আবদুল্লাহ ও তপন জানান, এবার বিঘাপ্রতি ১৪ থেকে ১৫ মণ ধান ঘরে তুলেছেন তাঁরা।
তবে কাটার ঠিক আগমুহূর্তে শিলাবৃষ্টিতে ১৭ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রমজাননগরের চাষি ফারুক হোসেন বলেন, “শিলাবৃষ্টিতে আমার তিন বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘার ধান পানির নিচে চলে গিয়েছিল। তবে সামগ্রিকভাবে অন্যদের ফলন বেশ ভালো হয়েছে।”
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন ম-ল জানান, মাঠের প্রায় ৯০ শতাংশ ধান ইতিমধ্যে কৃষকেরা ঘরে তুলতে পেরেছেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে মিষ্টি পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে সুন্দরবন সংলগ্ন এই অঞ্চলে বোরো আবাদ আরও বাড়ানো সম্ভব।
এদিকে, গত ৩ মে থেকে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় জানিয়েছে, এবার প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬টাকা। উপজেলায় ২৭৮ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সদর ও নওয়াবেঁকী খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।












