বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

শ্যামনগরে বোরোর বাম্পার ফলন: লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বোরোর বাম্পার ফলন: লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

রনজিত বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চর (শ্যামনগর): লবণাক্ততার প্রতিকূলতা জয় করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে কিছু এলাকায় আংশিক ক্ষতি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ এবং হেক্টর প্রতি ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় খুশি প্রান্তিক কৃষকেরা।

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৭১৫ হেক্টর। তবে আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে। ফলনের চিত্রও গত বছরের তুলনায় ইতিবাচক। এবার হেক্টর প্রতি গড় ফলন পাওয়া গেছে ৬.৫ মেট্রিক টন (ধান), যা গত বছর ছিল ৬.৩ মেট্রিক টন। চালের হিসেবে এবার হেক্টর প্রতি উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪.৩৩ মেট্রিক টন।

উপজেলার রমজাননগর, মুন্সিগঞ্জ, কৈখালী ও ভুরুলিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্রি-৬৭, ব্রি-৯৯ ও এসএল-০৮ জাতের ধানের আবাদ বেশি হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ ও কৈখালী এলাকার চাষি আবদুল্লাহ ও তপন জানান, এবার বিঘাপ্রতি ১৪ থেকে ১৫ মণ ধান ঘরে তুলেছেন তাঁরা।

তবে কাটার ঠিক আগমুহূর্তে শিলাবৃষ্টিতে ১৭ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রমজাননগরের চাষি ফারুক হোসেন বলেন, “শিলাবৃষ্টিতে আমার তিন বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘার ধান পানির নিচে চলে গিয়েছিল। তবে সামগ্রিকভাবে অন্যদের ফলন বেশ ভালো হয়েছে।”

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন ম-ল জানান, মাঠের প্রায় ৯০ শতাংশ ধান ইতিমধ্যে কৃষকেরা ঘরে তুলতে পেরেছেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে মিষ্টি পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে সুন্দরবন সংলগ্ন এই অঞ্চলে বোরো আবাদ আরও বাড়ানো সম্ভব।

এদিকে, গত ৩ মে থেকে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় জানিয়েছে, এবার প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬টাকা। উপজেলায় ২৭৮ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সদর ও নওয়াবেঁকী খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

শখ থেকে স্বপ্নপূরণ: কলারোয়ায় আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
শখ থেকে স্বপ্নপূরণ: কলারোয়ায় আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

0-4024x1784-0-0-{}-0-12#

শেখ জিল্লু, কলারোয়া: কলারোয়ায় শখের বশে শুরু হওয়া আঙুর চাষ এখন রীতিমতো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে করা এই চাষেই বাগানে ঝুলছে থোকা থোকা আঙুর। স্থানীয়দের বিস্মিত করে আঙুর চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন জাহিদ হোসেন নামের এক উদ্যোক্তা কৃষক। কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের ধানঘরা গ্রামে জাহিদ হোসেনের এই আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই কৌতূহলী মানুষের আগমন ঘটছে। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে আঙুর বাগান ঘুরে কেরালকাতা গ্রামের জাহিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি পৈত্রিকভাবে পাওয়া দুই বিঘা জমি চাষাবাদ করে কোনো রকমে সংসার নির্বাহ করছিলেন। সচ্ছলতা ফেরাতে এর আগে কুল ও ড্রাগন চাষ করেছেন। গত বছর ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে তিনি এই চাষে উদ্বুদ্ধ হন। গত বছরের জুনে আড়াই বিঘার মতো জমি লিজ নিয়ে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেন। কারো কোনো পরামর্শ ছাড়া সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে আঙুর গাছের চারা নিয়ে এসে রোপণ করেন। এরপর জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ, নিয়মিত পানি দেওয়াসহ নেট, বেষ্টনী ও রশির মাচা বানিয়ে চারাগুলো গত ১১ মাস নিবিড় পরিচর্যা করেন। এরপর চলতি মাসে প্রতিটি গাছেই থোকায় থোকায় আঙুর ধরেছে। এই বাগানের আঙুরগুলো স্বাদেও অনন্য। সবুজ ও বেগুনি রঙের এই আঙুরগুলো যেনো নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। আধুনিক কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকে স্বল্প পরিসরে আঙুরের চারা রোপণ করেন জাহিদ হোসেন। পরিপাটি এই বাগান ঘুরে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে নজরকাড়া থোকা থোকা আঙুর। প্রতিদিন বাগান দেখতে ভিড় করছেন মানুষ। অনেকেই বলছেন, এই অঞ্চলের মাটিতে আঙুর চাষ সম্ভব-এ ধারণা আগে তাদের ছিল না। জাহিদ হোসেন জানান, প্রথমবার করা এই বাগানে লিজসহ ত ৮ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। তিনি বলেল, এখানে বাগান করার বিষয়টি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর অবগত ছিলো না। পরে জানতে পেরে তারা সবধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার জিয়াউল হক জানান, খুলনা বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা এই আঙুর বাগান পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম ইতোমধ্যে এই বাগানটি পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে বাগান উদ্যোক্তা জাহিদুল ইসলাম ধানঘরা প্রাইমারি স্কুল থেকে বাগান অভিমুখী রাস্তাটি কাঁচা হওয়ায় তা পাকাকরণের দাবি জানান। এছাড়া এখানে বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি বিদ্যুতায়নেরও দাবি জানান। বাজারে বিদেশি আঙুরের চাহিদা থাকায় দেশীয়ভাবে উৎপাদিত আঙুরেরও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এখকনকার সুস্বাদু এই আঙুর আমদানিকৃত আঙুরের তুলনায় মানগত দিক থেকে যথেষ্ট উৎকৃষ্ট। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের আশা করছেন জাহিদ হোসেন। শখের বসে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন এলাকার কৃষিতে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।

তিন ম্যাচেই হ্যাটট্রিক বিস্ময়বালিকা আলেয়ার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
তিন ম্যাচেই হ্যাটট্রিক বিস্ময়বালিকা আলেয়ার

অনলাইন ডেস্ক: জীর্ণ কুটির থেকে উঠে আসা এক কিশোরীর স্বপ্ন এখন আকাশ ছুঁতে চাইছে। দারিদ্র্য যার নিত্যসঙ্গী, ফুটবল মাঠই সেখানে তার আশার বাতিঘর। নাটোরের লালপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম জোতদৈবকির কৃষক পরিবারের সন্তান মোছা. আলেয়া খাতুন প্রমাণ করেছেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই পথ রুখতে পারে না।

প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এ বল পায়ে জাদুকরী নৈপুণ্য দেখিয়ে লালপুর উপজেলাকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি নাটোরের ফুটবলে নতুন এক আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছেন এই কিশোরী।

মাঠে নামলেই যেন আলেয়ার পায়ে গোলবন্যা ছোটে। টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচেই টানা তিনটি হ্যাটট্রিক করে এক কীর্তি গড়েছেন তিনি।

প্রথম ম্যাচে নাটোর পৌরসভার বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিকে লালপুর জয় পায় ৩-০ গোলে। সাফল্যের সেই ধারা ধরে রেখে দ্বিতীয় ম্যাচে সিংড়া উপজেলার বিপক্ষেও তিনটি গোল করে দলকে ৬-০ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন আলেয়া। আর তৃতীয় ম্যাচে তার অসামান্য নৈপুণ্যে ৪-০ গোলে প্রতিপক্ষ গুরুদাসপুরকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে লালপুর। পুরো টুর্নামেন্টে এমন পারফরম্যান্সের কারণে নাটোর জেলার নারী ফুটবলে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আলেয়া।

লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আলেয়ার এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। চার বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে বড় হওয়া এই কিশোরীর প্রধান সাহস তার কৃষক বাবা।

বাবার অনুপ্রেরণাতেই নর্থ বেঙ্গল ফুটবল একাডেমির এই খেলোয়াড় কোচ জুয়েলের অধীনে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল মাঠে নিয়মিত ঘাম ঝরিয়ে যাচ্ছেন।

অভাবের চোখরাঙানি এড়িয়ে তার দুচোখ জুড়ে এখন শুধু একটাই স্বপ্ন—লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে একদিন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকা ওড়ানো।

পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) বিকেল ৩ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফজলে রাব্বী, থানার ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী, পাইকগাছা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অজ্ঞন সরকার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আঃ মজিদ, পৌরসভা সভাপতি আসলাম পারভেজ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম রায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন গাজী, জেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা এস.এম. আমিনুল ইসলাম, প্রেসক্লাব পাইকগাছার সভাপতি প্রকাশ ঘোষ বিধান, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল ইসলাম, শিক্ষক রহিমা আক্তার সম্পা।

 

এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা তুষার কান্তি মন্ডল, সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস, প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাসেম, মোঃ আব্দুল্লাহ সরদার, পীযুষ মন্ডল, খোরশেদুজ্জামান, ইউএনও কার্যালয়ের সিএ আব্দুল বারী, উপজেলা পরিষদের সিএ কৃষ্ণপদ মন্ডলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ।