শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সংস্কারের পরিকল্পনা সহজ, বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
সংস্কারের পরিকল্পনা সহজ, বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সংস্কার পরিকল্পনা প্রণয়ন নয়, বরং সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। দুর্বল রাজনৈতিক অঙ্গীকার, সমন্বয়ের ঘাটতি, গোষ্ঠীস্বার্থ এবং জবাবদিহির অভাবের কারণে অনেক ভালো উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীতে সানেম আয়োজিত নবম বার্ষিক অর্থনৈতিক সম্মেলনের অধিবেশনে ‘রোমান্সিং দ্য রিফর্ম: দ্য বাংলাদেশ স্টোরি’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “দেশে ‘সংস্কার’ এখন অনেকটাই প্রচলিত শব্দে পরিণত হলেও বাস্তব পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন শক্ত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা।” সংস্কারের পরিকল্পনা তৈরি করা তুলনামূলক সহজ, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করাই আসল চ্যালেঞ্জ বলেও জানান তিনি।

সংস্কার প্রক্রিয়াকে ‘রোমান্স’-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “এতে যেমন প্রত্যাশা থাকে, তেমনি থাকে নানা বাধা, ধৈর্য ও পুনরুদ্ধারের গল্প।” তার মতে, “সংস্কার কোনও এককালীন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি চলমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া, যা প্রেক্ষাপট, নেতৃত্ব ও জনমতের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “সংকট, বৈশ্বিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, দুর্বল প্রতিষ্ঠান, বৈষম্য কিংবা দুর্নীতির মতো বাস্তবতা থেকেই সাধারণত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়। তবে এসব উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করে এর পরিধি, বাস্তবায়নের ধাপ, গতি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মালিকানাবোধের ওপর।”

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে নানা ধরনের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গঠন, বেসরকারিকরণ, ভ্যাট ব্যবস্থা চালু, বিনিময় হার সংস্কার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, ডিজিটালাইজেশন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়েছে।”

এই মন্থরতার পেছনে তিনি ‘লুণ্ঠনমূলক উত্তরাধিকার’-এর কথা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, “অনিয়ন্ত্রিত দুর্নীতি, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, দুর্বল প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক-আমলাতান্ত্রিক-ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর যোগসাজশ সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং ক্রোনি পুঁজিবাদকে উৎসাহ দিচ্ছে।”

দেবপ্রিয় বলেন, “অনেক সংস্কার উদ্যোগ জোরালোভাবে শুরু হলেও পরবর্তীকালে গতি হারায় বা দিকচ্যুত হয়। এর পেছনে সরকারের অভ্যন্তরে সমন্বিত অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব, অংশীজনদের যথাযথ সম্পৃক্ত না করা এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বাধা অতিক্রমে ব্যর্থতা বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।”

জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, “এমন কোনও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি, যেখানে নাগরিকরা সরাসরি দেখতে পারেন কোন সংস্কার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে।” ব্যাংক খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সাম্প্রতিক ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের সংশোধনীর সমালোচনা করেন। তার মতে, “সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের ওপর সাবেক মালিকদের পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা ‘অলিগার্কিক’ প্রভাবেরই প্রতিফলন।”

ক্রমবর্ধমান খেলাপি-ঋণ মোকাবিলায় রাজনৈতিকভাবে কঠিন হলেও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমাতে হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন জোরদার করতে হবে।”

এছাড়া রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সরকারের সংস্কার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

Ads small one

ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই নিয়ে বিধবার বিয়ে, থানায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই নিয়ে বিধবার বিয়ে, থানায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিপসই নিয়ে বিধবার জাল কাবিননামা তৈরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে দুই জনের নাম উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে ফুলবাড়িয়া থানায় নিজেই এ অভিযোগ জমা দেন ওই নারী। এরপর গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি তদন্তে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যায় পুলিশ।

অভিযুক্ত দুই জন হলেন- স্থানীয় কসমেটিক ব্যবসায়ী ও জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য আবদুস ছাত্তার এবং ভুক্তভোগী নারীর ছেলের উকিলশ্বশুর আবদুল কদ্দুস।

ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর মানুষের জমিতে কাজ করে পাঁচ ছেলেকে বড় করেন। সম্প্রতি এক ছেলের উকিলশ্বশুর আবদুল কদ্দুস তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে তিনি রাজি না হচ্ছিলেন না। পরে কদ্দুসের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় আবদুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেন। একটি কাগজে নেওয়া হয় টিপসই। এরপর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তার বিয়ে হয়ে গেছে এবং একটি কাবিননামাও এলাকার লোকজনকে দেখানো হয়। তবে বিয়ের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন ওই নারী।

বৃহস্পতিবার রাতেই ভাইয়ের সঙ্গে গিয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ওই নারী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ফুলবাড়িয়া থানার একজন এসআই তদন্তের জন্য ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান।

এদিকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টিপসই নিয়ে বিয়ে হয়ে গেছে— এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার প্রথম বুধবার দ্বিতীয় সালিশে বসেন এলাকাবাসী; কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সালিশে না আসায় শুক্রবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে জামায়াত নেতা আবদুল ছাত্তারকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছিল; কিন্তু এতে তিনি সাড়া দেননি।

সালিশে থাকা স্থানীয় প্রাণী চিকিৎসক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘শুক্রবার কোনও সালিস হয়নি। ওই নারী থানায় অভিযোগ দেওয়ায় এটি এখন আইনিভাবেই শেষ হবে। সে কারণে গ্রামের মানুষ সালিশ থেকে সরে এসেছেন। ছাত্তার জামায়াতের নেতা হওয়ায় এলাকায় টুকটাক মাতবরি করতেন। ওই নারীকে বিয়ে করতে আগ্রহী কদ্দুসেরও যোগাযোগ ছিল ছাত্তারের সঙ্গে। নিজের বিয়ের বাসনা পূরণ করতে ছাত্তারকে দিয়ে সব কাজ করিয়েছেন কদ্দুস, আমরা এমনটি ধারণা করছি।’

ঘটনার পর থেকে কদ্দুসকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে শুরু থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে যাচ্ছেন জামায়াতের ইউনিয়ন কমিটির সহযোগী সদস্য আবদুস ছাত্তার। শুক্রবার বিকালে তার মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার শিকার ওই নারী বলেন, ‘এলাকার সালিশে ওরা (আবদুল কুদ্দুস ও আবদুস সাত্তার) না আসায় আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ গতকাল এসে তদন্ত করে গেছে। দেখি, পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়। কদ্দুসের হয়ে ছাত্তার কেন স্বাক্ষর নিলো তা জানি না।’

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, ওই নারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে বিয়ের প্রলোভন, অসদুপায়ে এনআইডি ও টিপসই নিয়ে কাবিননামা তৈরির অভিযোগ করা হয়েছে।

ওসি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। কাবিননামাসহ মূল কাগজপত্রগুলো খোঁজা হচ্ছে। কোন কাজি এটি করেছেন, তা বের করতে পুলিশ কাজ করছে। কাগজপত্র পাওয়ার পর যাচাই–বাছাই করে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।’

রাজধানীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

রাজধানীর তুরাগে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের খুলনার ফুলতলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ওরফে এস কে সাদ্দামকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন জানান, তুরাগ থানা পুলিশের একটি দল শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে তুরাগের খালপাড় ব্রিজসংলগ্ন পাকা রাস্তা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

তিনি জানান, পুলিশের ক্রিমিনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) পর্যালোচনায় সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক রাজনৈতিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দিঘলিয়া ও ফুলতলা থানায় দায়ের করা মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চুরি এবং অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেফতার সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এবার আন্দোলন থেকে আটক নায়ক ইমরান খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
এবার আন্দোলন থেকে আটক নায়ক ইমরান খান

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা আন্দোলনের সমর্থনে মুম্বাইয়ে প্রতিবাদ করার সময় প্রখ্যাত অভিনেতা ইমরান খানসহ চার শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

শনিবার মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক আগস্ট ক্রান্তি ময়দানসহ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। অনুমোদনহীন কোনও রাজনৈতিক জমায়েত ঠেকাতে পুলিশ এই কঠোর পদক্ষেপে নামে।

দিনের শুরুতে একই স্থান থেকে অন্তত ২০০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন সমাজকর্মী তুষার গান্ধীর নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘হাম ভারত কে লোগ’-এর সদস্য এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-এর সমর্থকরা। রাজধানী দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানাতে অনুমতি ছাড়াই সেখানে জড়ো হয়েছিলেন তারা।

তিন হাজার মানুষকে আটকের পর বিজেপি বলছে ‘জনগণের জয়’তিন হাজার মানুষকে আটকের পর বিজেপি বলছে ‘জনগণের জয়’
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য চলমান আন্দোলনে দিল্লিতে প্রায় তিন হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়।