বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সড়ক যেন নীরব মৃত্যুফাঁদ!/ এম. এম হায়দার আলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
সড়ক যেন নীরব মৃত্যুফাঁদ!/ এম. এম হায়দার আলী

এম. এম হায়দার আলী

মাত্র একটি মাস। ক্যালেন্ডারের পাতায় ৩০টি দিন। অথচ এই একটি মাসেই সড়ক কেড়ে নিয়েছে ৪২৩টি তাজা প্রাণ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চলতি বছরের
সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের এই পরিসংখ্যান শুধু একটি সংখ্যা নয়,এর প্রতিটি অঙ্কের পেছনে রয়েছে একটি করে পরিবার, একটি করে স্বপ্ন, একটি করে অসমাপ্ত জীবন কাহিনি। কেউ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, কেউ ছিলেন সন্তানের নির্ভরতার জায়গা, কেউ ছিলেন মায়ের আদরের সন্তান, কেউ আবার ছিলেন ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে নিয়ে স্কুলে যাওয়া শিশু। একটি দুর্ঘটনার মুহূর্তে তাদের সব স্বপ্ন থেমে গেছে। সেপ্টেম্বরে দেশের ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪২৩ জন, আহত হয়েছেন আরও ৬৭৪ জন। নিহতদের মধ্যে ৭৩ জন নারী এবং ৬১ জন শিশু। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রতিটি দিন গড়ে প্রায় ১৪টি পরিবারকে শুনতে হয়েছে প্রিয়জন হারানোর খবর। প্রশ্ন হলো, এসব মৃত্যুকে আমরা আর কতদিন ‘দুর্ঘটনা’ বলে পাশ কাটিয়ে যাব ?

সড়ক দুর্ঘটনা শব্দটি শুনলেই যেন আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি অনিবার্য ঘটনাÑহঠাৎ কিছু একটা ঘটেছে, মানুষ মারা গেছে, আহত হয়েছে, এরপর তদন্ত হবে, কয়েক দিন আলোচনা হবে, তারপর সবকিছু আবার আগের মতো চলবে। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এত সরল? অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অনিরাপদ সড়ক, চালকদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন এবং ট্রাফিক আইন না মানার মতো কারণগুলো যখন বছরের পর বছর একই ভাবে সামনে আসে, তখন এসব মৃত্যুকে শুধু ‘দুর্ঘটনা’ বলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কতটুকু থাকে ? বরং বলা যায়, আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা, উদাসীনতা এবং দায়িত্বহীনতার সম্মিলিত ফলেই অনেক মৃত্যু প্রতিদিন সড়কে লেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। মাসটিতে ১৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। যা মোট নিহতের ৩২ দশমিক ৮৬ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেলের ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার প্রবণতাও। অনেক তরুণের হাতে মোটরসাইকেল এখন প্রয়োজনের বাহন হওয়ার পাশাপাশি হয়ে উঠেছে গতি প্রদর্শনের মাধ্যম।

 

রাস্তার সামান্য ফাঁক পেলেই গতি বাড়ানো, এক যানবাহনকে আরেক যানবাহনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অতিক্রম করা, ট্রাফিক আইনকে গুরুত্ব না দেওয়া,এসব প্রবণতা শেষ পর্যন্ত অনেক পরিবারকে নিঃস্ব করে দেয়। একটি তরুণ প্রাণের কাছে হয়তো কয়েক মিনিট সময় বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, কিন্তু সেই কয়েক মিনিটের ভুলের মূল্য দিতে হয় একটি পরিবারকে সারাজীবন। সড়কে সবচেয়ে অসহায় মানুষদের একজন পথচারী। অথচ সেপ্টেম্বরে ১০৬ জন পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান শুধু পথচারীদের অসচেতনতার কথা বলে না, বরং আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। কোথাও ফুটপাত নেই, কোথাও ফুটপাত থাকলেও দখল হয়ে আছে, কোথাও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নেই, আবার কোথাও জেব্রা ক্রসিং থাকলেও সেটি ব্যবহার নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে রাস্তা পারাপারের সময় একজন সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনের সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। একদিকে দ্রুতগতির গাড়ি, অন্যদিকে অসহায় পথচারী,এই অসম লড়াইয়ের ফল অনেক সময় হয় মৃত্যু। তাই পথচারী মারা গেলে শুধু পথচারীকে অসচেতন বলে দায় শেষ করার সুযোগ নেই। নিরাপদে হাঁটার জায়গা, নিরাপদে রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রিত গতি নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে ১৬৮টি দুর্ঘটনা বা ৩৮ শতাংশই ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। কিন্তু কেন নিয়ন্ত্রণ হারায় যানবাহন? উত্তর খুঁজতে গেলে আবারও ফিরে আসতে হয় অতিরিক্ত গতি, চালকের ক্লান্তি, অদক্ষতা, যানবাহনের ত্রুটি এবং সড়কের নানা সীমাবদ্ধতার কাছে। একজন চালক যখন দীর্ঘ সময় বিশ্রামহীন অবস্থায় গাড়ি চালান, তখন তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা স্বাভাবিক থাকার কথা নয়। অথচ পরিবহন খাতে চালকদের কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম, বেতন ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বহুদিন ধরেই আলোচনায় থাকলেও বাস্তব পরিবর্তন খুব বেশি দেখা যায় না। একজন ক্লান্ত চালকের হাতে যখন বাস, ট্রাক কিংবা যাত্রীবাহী যান তুলে দেওয়া হয়, তখন শুধু তার জীবন নয়, তার সঙ্গে থাকা অসংখ্য মানুষের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

দুর্ঘটনা ঘটছে জাতীয় মহাসড়কে, আঞ্চলিক সড়কে, গ্রামীণ সড়কে, শহরের সড়কে,অর্থাৎ নিরাপত্তার সংকটটি সর্বত্র। সেপ্টেম্বরে ১৭৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, জাতীয় মহাসড়কে ১৪৫টি, গ্রামীণ সড়কে ৫৬টি এবং শহরের সড়কে ৬৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। মহাসড়কে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি স্বল্পগতির বিভিন্ন যানবাহনের চলাচলও ঝুঁকি বাড়ায়। একই সড়কে যখন একটি যান ঘণ্টায় অনেক বেশি গতিতে ছুটছে এবং অন্যটি ধীরগতিতে চলছে, তখন সংঘর্ষের আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা বহুদিন ধরেই আলোচিত। প্রশ্ন হলো, বাস্তবায়ন কতটা
হয়েছে ? বিভাগ ভিত্তিক পরিসংখ্যানও কম ভয়াবহ নয়। ঢাকা বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ২৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং প্রাণহানির ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশই এই বিভাগে। একক জেলা হিসেবে গাজীপুরে সবচেয়ে বেশি ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকাতেও সেপ্টেম্বরে ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশাল, রংপুর ও সিলেটÑকোনো বিভাগই এই মৃত্যুর মিছিল থেকে মুক্ত নয়। অর্থাৎ এটি কোনো একটি জেলা বা একটি শহরের সমস্যা নয়; এটি জাতীয় সমস্যা।

আরও বেদনাদায়ক বিষয় হলো, এই মৃত্যুর তালিকায় সমাজের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, সেনা সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কাস্টমস কর্মকর্তা, ব্যাংক-বীমার কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও কর্মী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, বিক্রয় প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম বা খাদেম, মোটর মেকানিক, পোশাক শ্রমিক, দিনমজুর এবং ৫৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। অর্থাৎ সড়কের মৃত্যু কাউকে চিনে আসে না। ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান-সাধারণ, শহর-গ্রাম কারও জন্য সড়ক আলাদা কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। আজ যে মানুষটি অন্যের মৃত্যুর সংবাদ পড়ছেন, কাল তিনিই হয়তো একটি দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণও আমাদের ভাবায়। ভোর, সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতে সব সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অর্থাৎ দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময়কে নিরাপদ বলা যাচ্ছে না। যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু নিরাপদ চালনার সংস্কৃতি ততটা বাড়ছে না। শহর ও মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে, কিন্তু সেই তুলনায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো কতটা আধুনিক হয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সড়কের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, সাতজন আহত এবং চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে ২৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। অর্থাৎ মানুষের চলাচলের প্রায় প্রতিটি মাধ্যমেই নিরাপত্তার প্রশ্নটি আজ সামনে এসেছে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা শুধু দ্রুত চলাচলের নিশ্চয়তা দেয় না; মানুষের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তাও দিতে হয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার যেসব কারণ উঠে এসেছে, সেগুলো নতুন নয়।

 

ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, অনির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে নানা অনিয়ম,এসব কারণ বহুবার আলোচনায় এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত আলোচনা, এত প্রতিবেদন, এত মৃত্যুর পরও পরিবর্তন কোথায় ?

শুধু দুর্ঘটনার পর মামলা করে, চালককে গ্রেপ্তার করে কিংবা তদন্ত কমিটি করে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া। প্রয়োজন প্রযুক্তি নির্ভর গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি। প্রয়োজন দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ। চালকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, ন্যায্য বেতন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। রাজধানীতে আধুনিক কোম্পানি ভিত্তিক গণপরিবহন চালুর পাশাপাশি মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য সার্ভিস রোড নির্মাণ করতে হবে। সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ এবং সড়ক ব্যবহার কারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ও কার্যকর প্রচারণা চালাতে হবে। তবে সব কিছুর আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। কারণ নিরাপদ সড়ক কেবল পুলিশের দায়িত্ব নয়, শুধু বিআরটিএর দায়িত্ব নয়, শুধু সড়ক বিভাগের দায়িত্ব নয়। এটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। একটি নিরাপদ সড়ক মানে একটি শিশু নিরাপদে স্কুলে যাবে, একজন শ্রমিক কর্মস্থল থেকে ঘরে ফিরবেন, একজন বাবা সন্তানের কাছে ফিরবেন, একজন মা তার সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকবেন না আতঙ্কে।

সেপ্টেম্বরের ৪২৩টি মৃত্যু তাই আমাদের কাছে শুধু একটি মাসের হিসাব নয়; এটি একটি আয়না। সেই আয়নায় আমরা আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা এবং উদাসীনতার চেহারা দেখতে পাচ্ছি। প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই আয়নায় তাকিয়ে নিজেদের বদলাব, নাকি পরের মাসের নতুন পরিসংখ্যানের অপেক্ষা করব ? কারণ ৪২৩ জন মানুষ কোনো সংখ্যা নন।

 

তারা ৪২৩টি পরিবার, ৪২৩টি অসমাপ্ত গল্প, অসংখ্য স্বপ্ন এবং অসংখ্য মানুষের কান্না। তাদের কেউ আর ফিরবেন না। কিন্তু তাদের মৃত্যু যদি আমাদের সড়ক ব্যবস্থাকে বদলে দিতে পারে, যদি একটি শিশুকে ভবিষ্যতের একটি দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে পারে, যদি একজন চালককে বেপরোয়া গতি থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে, যদি একটি ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি সড়ক থেকে সরিয়ে নিতে পারে,তবেই এই মৃত্যুগুলোর প্রতি আমাদের দায় কিছুটা হলেও পূরণ হবে। সড়ক উন্নয়নের নামে শুধু পিচ ঢালাই, উড়ালসড়ক নির্মাণ কিংবা যানবাহনের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; মানুষের নিরাপদে ঘরে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ যে সড়ক মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছানোর বদলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, সেই সড়ক যত আধুনিকই হোক, তার উন্নয়ন অসম্পূর্ণ। সেপ্টেম্বরে ৪২৩ জন চলে গেছেন। অক্টোবরের হিসাব যেন আরেকটি নতুন সংখ্যা না হয়,এটাই এখন প্রত্যাশা। সড়ককে মৃত্যুর ফাঁদ নয়, মানুষের নিরাপদ পথ বানানোর সময় এখনই। কারণ প্রতিটি মানুষই কারও না কারও অপেক্ষার নাম, প্রতিটি জীবনই একটি পরিবারের পৃথিবী।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

সুন্দরবনের ‘সুন্দরী’ কি হারিয়ে যাবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের ‘সুন্দরী’ কি হারিয়ে যাবে?

তারিক ইসলাম

‎‘সুন্দরবন’—নামটির সঙ্গে গভীর রক্তের টান যেন ‘সুন্দরী’ গাছের। যে বৃক্ষের সমৃদ্ধি আর বিশালতায় টিকে আছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের মূল সৌন্দর্য ও পরিচয়, সেই সুন্দরী গাছই আজ আক্রান্ত এক মরণব্যাধিতে। বনজুড়ে চলছে গাছগুলোর নীরব বিদায়ের করুণ সুর। কেবল পাতা আর ডালপালা শুকিয়ে যাওয়া নয়, মড়ক ছড়িয়ে পড়ছে মূল কাণ্ড পর্যন্ত। এর পাশাপাশি আশঙ্কাজনকভাবে কমছে নতুন চারা গজানোর হারও। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র যে বড় ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সুন্দরী গাছের এই অসুস্থতা তারই এক মারাত্মক বার্তা।

‎সম্প্রতি সুন্দরবনের পরিবেশ নিয়ে প্রকাশিত একটি সমীক্ষার ফলাফল পুরো দেশকে শঙ্কিত করে তুলেছে। ২০২৪–২৫ সালে পরিচালিত ‘সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থার পরিবীক্ষণ’ শীর্ষক দুই বছর মেয়াদি সমীক্ষা অনুযায়ী, বনের প্রায় ৩৯ শতাংশ সুন্দরী গাছই এখন ‘আগামরা’ বা ‘টপ-ডাইং’ (Top-Dying) রোগে আক্রান্ত। সব মিলিয়ে আক্রান্ত গাছের আনুমানিক সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ কোটি ৯৫ লাখ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে দুই কোটিরও বেশি গাছ গুরুতরভাবে মরে যাওয়ার মুখোমুখি।

‎পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের যৌথ পরিচালনায় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক স্বপন কুমার সরকারসহ বিশেষজ্ঞ দলের গবেষণায় এই ভয়াল চিত্র উঠে এসেছে।

‎সুন্দরবনের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রধান বৃক্ষ যখন একযোগে রোগাক্রান্ত হয়, তখন এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট উদ্ভিদের সমস্যা থাকে না; পুরো বনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে দেয়। গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, উজান থেকে আসা মিষ্টি পানির প্রবাহ হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের নোনা পানির অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ এবং মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি—এসব মিলেই সুন্দরী গাছের জীবনীশক্তি শুষে নিচ্ছে। সুন্দরবনের মিষ্টি পানি ও মৃদু লবণাক্ত পরিবেশের ভারসাম্য বজায় না থাকায় মাটির বায়ুসঞ্চালন কমছে, যা গাছগুলোর গোড়া ও কাণ্ডকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার ওপর ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় ও পলি জমার কারণে বন নিজের প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে।

‎

‎সুন্দরবন কেবল নান্দনিক সৌন্দর্যের আধার নয়, এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবর্ম। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের থাবা থেকে বছরের পর বছর বুক দিয়ে বাংলাদেশকে আড়াল করে রেখেছে এই ম্যানগ্রোভ বন। আর সেই বনের মূল কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ সুন্দরী গাছ যদি একে একে উজাড় হয়ে যায়, তবে গোটা উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারসহ দুর্লভ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

‎

‎সুন্দরবনের এই নীরব আর্তনাদ আর উপেক্ষা করার সময় নেই। সময় এসেছে সুনির্দিষ্ট ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার:

‎

‎১. মিষ্টি পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার: উজান থেকে সুন্দরবনমুখী নদ-নদীগুলোতে মিষ্টি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে আন্তঅঞ্চলীয় ও জাতীয় পানিসম্পদ নীতিতে বিশেষ জোর দিতে হবে।

‎

‎২.পলি নিরসন ও নদী-খাল খনন: বনের অভ্যন্তরীণ যে নদ-নদী ও খালগুলো পলি ভরাট হয়ে মিষ্টি ও নোনা পানির ভারসাম্য নষ্ট করছে, সেগুলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে পুনঃখননের উদ্যোগ নিতে হবে।

‎

‎৩.রোগ প্রতিরোধে জোরালো গবেষণা: আগামরা রোগের সঠিক জীবাণু বা অণুজীব শনাক্ত করে তা থেকে সুন্দরী গাছকে রক্ষায় বন অধিদপ্তর এবং বিজ্ঞানীদের সমন্বিত গবেষণা বাড়ানো প্রয়োজন।

‎

‎৪.সুরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা ও নজরদারি: বনের যেসব এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি, সেগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে নতুন চারা উৎপাদন ও বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

‎

‎সুন্দরবন ছাড়া আমাদের মানচিত্রের এক বিরাট অংশকে কল্পনা করা যায় না, আর সুন্দরী গাছ ছাড়া সুন্দরবনের অস্তিত্ব অসম্পূর্ণ। ১২ কোটি ৯৫ লাখ সুন্দরী গাছের রোগাক্রান্ত হওয়া কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের প্রকৃতির বিপন্নতার স্পষ্ট সতর্কবার্তা। এখনই যদি কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে হয়তো মানচিত্রে ‘সুন্দরবন’ নামটি থেকে যাবে, কিন্তু হারিয়ে যাবে তার আসল রূপকার—আমাদের ‘সুন্দরী’।

‎লেখক : তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

ডিসেম্বরে খুলনায় চালু হচ্ছে বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
ডিসেম্বরে খুলনায় চালু হচ্ছে বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট
পত্রদূত ডেস্ক: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় দেশের প্রথম বর্জ্য রিসাইকেল প্ল্যান্টের পাইরোলাইসিস প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩ অক্টোবর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং ফলাফল সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে সবঠিক থাকলে ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে চালু হবে।
প্রকল্পটি চালু হলে একইসঙ্গে মিলবে সার, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ। এটি পরিচালনার জন্য দেশের স্বনামধন্য বেসরকারি একটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি এলজিইডি এবং কেসিসির যৌথ সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফাস্ট ট্রায়াল দেওয়া হয়েছে, এটি চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, এটি চালাবে প্রফেশনাল প্রাইভেট অপারেটর। ইতোমধ্যে কোম্পানি নিযুক্ত করা হয়েছে। এটি থেকে সার, জ্বালানি তেল ও বায়োগ্যাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ, প্লান্টের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরে চালু করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টের কম্পোস্ট ও পাইরোলাইসিস প্লান্টের যন্ত্রকৌশল ম্যাটারিয়ালস এ্যান্ড ম্যাটালোজিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে কারিগরি সহায়তার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ পাঁচ প্রকৌশলীকে নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি টিম। টিমের সদস্যরা প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সরজমিনে পর্যবেক্ষণে গত ১ অক্টোবর খুলনায় আসেন। ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় পরীক্ষা শেষে তারা ঢাকায় ফিরে যান।
টিমের সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. ইনসানুল করিম, প্রাক্তন সিনিয়র প্রকৌশলী একেএম শামসুল হুদা, প্রাক্তন নির্বাহী প্রকৌশলী, সানইয়ার্ড গ্রুপ বর্তমানে ন্যাশনাল কেমিক্যাল ম্যানুফাকচারিং কোঃ লিঃ-এর ডিএমডি প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল জব্বার, প্রাক্তন সিনিয়র প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ উদ্দিন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) প্রাক্তন চিফ সাইন্টিফিক অফিসার ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল গফুর। প্রতিনিধি দলের চারজন বুয়েট এবং বাকি একজন চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। যারা সবাই শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্লান্ট মেশিনারি ডিজাইনার।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে মতামত প্রকল্প পরিচালককে অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন প্রকল্প ম্যানেজার প্রকৌশলী পিন্টু মন্ডল। তিনি বলেন, প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সরজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি দল এসেছিলেন। তারা ২/৩ দিন এখানে ছিলেন। তাদের ক্লান্তির কারণে ৩৬ ঘণ্টা পাইরোলাইসিস করা হয়নি।
পাইরোলাইসিসের প্রসেস অনুযায়ী ৬ ঘণ্টা পর তেল আসা শুরুর ২/৩ ঘণ্টা মেশিন চালানোর পর বন্ধ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে পলিথিন এবং প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেলের মধ্য থেকে ১০ লিটার তেল পরীক্ষার জন্য স্যারেরা ঢাকায় নিয়ে গেছেন। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে পর্যালোচনা করে মিটিং করে মতামত প্রকল্পের পরিচালক স্যারকে জানাবেন। প্রকল্পের পরীক্ষামূলক ফলাফল সফল হয়েছে বলা যায়।
এর আগে গত ১ অক্টোবর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এরপর মেশিনারিজ সম্পূর্ণ সেট আপের পর শনিবার সকালে পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রযুক্তির কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যায়।
বিগত ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শলুয়া বাজার-সংলগ্ন ১৭ একর জমিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যৌথভাবে প্রকল্পটির উদ্যোক্তা। দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরডিপি-২)’র আওতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে এটিতে অর্থায়ন করেছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৫৩ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তিন ধরনের বর্জ্য থেকে তিন ধরনের পণ্য উৎপাদন হবে। গৃহস্থালির পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি হবে জৈব সার, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিক রিসাইকেল করে উৎপাদন করা হবে জ্বালানি তেল এবং কাঁচাবাজার থেকে সংগৃহীত বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োগ্যাস দিয়ে উৎপাদন করা হবে বিদ্যুৎ। অত্যাধুনিক পাইরোলাইসিস প্রযুক্তি ব্যবহারে বায়ু দূষণের কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন ২০ টন জৈব সার, ৪ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল এবং উৎপাদিত বায়োগ্যাস থেকে সাড়ে ৪০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। উৎপাদিত তেল ও বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র সরবরাহ করা হবে। প্রতি ব্যাচ বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সময় লাগবে এক সপ্তাহ।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় স্থাপিত বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট আগামী ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে। একইসঙ্গে বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গায় আরও একটি বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে রাজবাঁধ ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডে মেডিকেল বর্জ্য শোধনাগার প্লান্টও শিগগিরই চালু হচ্ছে। এই তিনটি রিসাইক্লিং প্লান্ট চালু হলে মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

কয়রায় অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে ৬ জনকে আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
কয়রায় অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে ৬ জনকে আটক
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলায় ভাগবা গ্রামের ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। ১২ অক্টোবর বিশেষ অভিযানে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন ভাগবা গ্রামের  মোঃ আব্বাস গাজীর পুত্র ,মোঃ জিয়ারুল ইসলাম (২২), মোঃ মাসুদ সরদারের পুত্র মোঃ জাহিদুল ইসলাম (২০), মোঃ কেনা গাজীর পুত্র, মোঃ আব্দুল আলিম গাজী (২১), মোঃ শহিদুল গাজীর পুত্র মোঃ আলী হোসেন (২১),মোঃ আয়ুব আলী মোড়লের  পুত্র, মোঃ সিফাত হোসাইন (২৪), মোঃ নজরুল শেখের পুত্র মোঃ জাকারিয়া শেখ।
কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ রাশেদুল আলম জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়া খেলায়  ১২ অক্টোবর ভাগবা গ্রাম থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। অনলাইন জুয়া মামলায় আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।