মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সবুজের বুকে রোমাঞ্চ: আমার চোখে প্রথমবার সুন্দরবন ভ্রমন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
সবুজের বুকে রোমাঞ্চ: আমার চোখে প্রথমবার সুন্দরবন ভ্রমন

মাসুদ রানা

পেশাগত ব্যস্ততা, ব্যবসার হিসাব-নিকাশ আর মাস্টার্সের পড়াশোনার চেনা বৃত্ত থেকে বেরিয়ে জীবনকে একটু অন্য রঙে রাঙাতে কার না মন চায়! সেই চাওয়া থেকেই এবার জীবনের প্রথমবার পা বাড়ালাম বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন-সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে। তবে এবার শুধু একজন পর্যটক হিসেবে নয়, কাঁধে ছিল এক বিশাল দায়িত্ব। ১৫ জনের একটি চঞ্চল ও উৎসবমুখর টিমের ‘টিম লিডার’ বা দলনেতা হিসেবে পুরো ট্যুরটি পরিচালনার দায়িত্ব ছিল আমার ওপর।

যাত্রার আগের প্রস্তুতি:একটি সফল ভ্রমণের মূল ভিত্তি হলো সঠিক পরিকল্পনা। ভ্রমণের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই আমরা পুরো টিম একসাথে বসে ইউটিউবে সুন্দরবনের বিভিন্ন ভিডিও দেখে তথ্য সংগ্রহ শুরু করি। ট্রলার ভাড়া, ফরেস্ট অফিসের পাসের খরচ-সবকিছু হিসাব কষে মাথাপিছু চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ করা হলো।

ভ্রমণের আগের দিনই দুপুরের রান্নার সব বাজার সম্পন্ন করা হলো। যেহেতু দুপুরের কড়া রোদে ডি-হাইড্রেশনের ভয় থাকে, তাই ফার্স্ট এইড হিসেবে আমরা সাথে নিলাম খাবার স্যালাইন ও প্যারাসিটামল। আর সকালের হালকা নাস্তার জন্য কেনা হলো কলা, পাউরুটি, বিস্কুট এবং রসালো তরমুজ। রান্নার জন্য আমাদের সাথে একজন দক্ষ বাবুর্চিও যুক্ত হলেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভ্রমণের আগেই আমরা ট্যুরিস্ট পুলিশের অফিসার ইনচার্জকে আমাদের ভ্রমণের বিবরণ জানিয়ে রেখেছিলাম। তিনি সদয় হয়ে আমাদের নিরাপত্তার জন্য দুজন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করলেন।

ভোরের আলোয় যাত্রা শুরু: ২৮ এপ্রিল, নির্ধারিত দিনে সকাল ঠিক ৬টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের মাছখোলা বাজার থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। ভ্রমণের আনন্দ দ্বিগুণ করতে আমরা বেছে নিয়েছিলাম একটি ছাদখোলা মিনি পিকআপ। আমাদের গাড়ি যখন ধীরলয়ে শ্যামনগর বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিসের দিকে এগিয়ে চলছিল, তখন চারপাশের ঠান্ডা হাওয়া আর ছোট সাউন্ড বক্সে বাজা দেশাত্মবোধক গানগুলো আমাদের মাঝে এক অন্যরকম আবেগের সৃষ্টি করছিল। এরই মাঝে চলল দলবেঁধে সেলফি তোলার ধুম।
প্রায় দুই ঘণ্টার দীর্ঘ জার্নি শেষে সকাল ৮টায় আমরা পৌঁছালাম বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিসে। সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে দেখা করে আমাদের কাঙ্খিত ‘কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম’ এবং ‘দোবেকি ইকো ট্যুরিজম’ কেন্দ্র ভ্রমণের ট্রলার পাস সংগ্রহ করলাম।

নীলডুমুর ঘাট থেকে গহীন বনে: সকাল ১০টায় নীলডুমুর ট্রলার ঘাট থেকে দুজন পুলিশ সদস্য এবং ফরেস্ট অফিসের একজন প্রতিনিধিকে সাথে নিয়ে আমাদের ট্রলারটি সুন্দরবনের বুক চিরে ছুটে চলল। নদী কেটে ট্রলার এগিয়ে যাওয়ার ২০ মিনিট পর আমরা সবাই মিলে সকালের নাস্তা সেরে নিলাম। এই রোদে সকালের নাস্তায় ঠান্ডা তরমুজের স্বাদ যেন অমৃতের মতো লাগল!

ফরেস্ট অফিসের সদস্য আমাদের হুট করেই সতর্ক করলেন, “আপনারা সবাই একদম চুপ হয়ে যান। বন্যপ্রাণীরা মানুষের শব্দ পেলে দূরে চলে যায়। যত নীরব থাকবেন, বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ তত বাড়বে। “তার কথা শুনে আমরা সবাই নিশ্চুপ মেরে গেলাম। চোখ জোড়া চাতক পাখির মতো বনের দিকে চেয়ে রইল-এই বুঝি ‘বাঘ মামা’র দেখা মিলল! কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, যাওয়ার পথে একটা বক ছাড়া আর কোনো প্রাণীর দেখা পেলাম না।

আমাদের ট্রলার যখন বিশাল মালঞ্চ নদীর মোহনায় গিয়ে পৌঁছাল, তখন চারপাশের উত্তাল রূপ দেখে আমরা কিছুটা আতঙ্কিত ও রোমাঞ্চিত হলাম। মালঞ্চের বুক চিরে ওঠা বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছিল আমাদের ট্রলারে। ফরেস্ট অফিসের সদস্য জানালেন এখানে হরিণ দেখার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু এবারও আমরা হতাশ হলাম।

দোবেকি, বাঘের পায়ের ছাপ আর গোল ফলের গল্প: কোস্ট গার্ডের একটি স্টেশন পার হয়ে আমাদের ট্রলার অবশেষে দোবেকি ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রের জেটিতে ভিড়ল। আমরা সুশৃঙ্খলভাবে সেখানে নামলাম। প্রবেশ করতেই বামে চোখে পড়ল সুন্দরবনে অবৈধভাবে মাছ ধরার অপরাধে বন বিভাগের জব্দ করা বেশ কিছু ছোট ছোট নৌকা। আরেকটু এগোতেই দেখা মিলল প্রায় এক একর আয়তনের এক বিশাল মিঠা পানির পুকুর। পুকুরের চারপাশ আরসিসি রাস্তা দিয়ে বাঁধানো, আর পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে দুটি চমৎকার গোল ঘর। এখানে দুটি ওয়াচ টাওয়ার আছে-একটি পুরনো আর অন্যটি নবনির্মিত। আমরা পুরো টিম একসাথে নতুন ওয়াচ টাওয়ারে উঠলাম। উপর থেকে চারপাশের সুন্দরবনের যে রূপ চোখে পড়ল, তা এককথায় অনবদ্য, চিরসবুজ!

টাওয়ার থেকে নেমে মনের ভেতরের রোমাঞ্চ চেপে রাখতে না পেরে আমরা গহীন অরণ্যের কাদাভরা রাস্তা দিয়ে খালি পায়ে হাঁটতে শুরু করলাম। চারপাশে সুনসান নীরবতা। হঠাৎ খেয়াল করলাম, মাটিতে হরিণের একদম টাটকা পায়ের ছাপ! ফরেস্ট প্রতিনিধি জানালেন, এই এলাকায় বাঘের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। মনের মধ্যে তখন এক অদ্ভুত ভয় আর উত্তেজনা-এই বুঝি বাঘ মামা সামনে চলে এলো! বাঘের দেখা না পেলেও বনের ভেতর থেকে আমরা একটি ‘গোল ফল’ সংগ্রহ করলাম, যা আমাদের জন্য ছিল এক দারুণ স্মৃতি।

বনের ভেতর ছবি তোলা আর ভিডিও ডকুমেন্টারি শেষ করে আমরা সেই মিঠা পানির পুকুরে গোসল করতে নামলাম। দুপুরের তপ্ত রোদে সেই পুকুরের জল যেন আমাদের শরীরে স্বর্গীয় প্রশান্তি এনে দিল। পরে জানতে পারলাম, এই পুকুরটি এলাকার একমাত্র মিঠা পানির উৎস হওয়ায় গভীর রাতে বাঘ মামারাও নাকি এখানে পানি খেতে আসে! গোসল শেষে ট্রলারে ফিরে আমরা বাবুর্চির রান্না করা ধোঁয়া ওঠা সুস্বাদু খিচুড়ি দিয়ে দুপুরের খাবার তৃপ্তি সহকারে খেলাম।

কলাগাছিয়া,বানরের আক্রমণ আর মদনটাক: আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র। জেটিতে ট্রলার ভিড়তেই আমরা নেমে পড়লাম। কলাগাছিয়ায় পা রাখতেই স্বাগত জানাল একঝাঁক বানর। এখানে একটা নিয়ম আছে-হাতে বা কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ঢুকলে বানরের দল দলবেঁধে আক্রমণ করে ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। আমার সাথেও ঠিক তাই ঘটল! বানরের সেই চটজলদি হামলা থেকে কোনোমতে নিজেকে সামলে নিলাম।

কলাগাছিয়ার প্রবেশপথের ডানপাশে রয়েছে বিশ্রামের গোল ঘর আর বামপাশে ঘেরাও করা অবস্থায় কিছু হরিণ। তবে এখানকার সবচেয়ে বড় চমক ছিল একটি বিরল প্রজাতির ‘মদনটাক’ পাখি। পাখিটির খুব কাছে গিয়ে বেশ কয়েকটি দারুণ ছবি তোলার সুযোগ হাতছাড়া করলাম না। এখানেও চারপাশ ঘুরে দেখার জন্য আরসিসি ঢালাই রাস্তা এবং বনের সৌন্দর্য দেখার জন্য সুন্দর একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। শুনলাম এখানে খাঁচায় একটি কুমিরও আছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের টিমের কেউ সেটির দেখা পেল না। এখানেও মনের মতো কিছু ছবি ও ভিডিও ধারণ করে আমরা ফেরার পথ ধরলাম।

ঘরে ফেরা: নদীপথে যাওয়া-আসা মিলিয়ে ট্রলারে আমাদের প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় কেটেছিল। অবশেষে আমাদের ট্রলার পুনরায় নীলডুমুর ঘাটে এসে পৌঁছাল। ততক্ষণে বিকেলের আলো ফুরিয়ে এসেছে। সেখান থেকে আমরা আবার আমাদের গাড়িতে উঠে মাছখোলার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

 

 

Ads small one

পাইকগাছায় আমড়ার বাম্পার ফলন: দূর-দূরান্তে যাচ্ছে উপকূলের টক-মিষ্টি ফল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় আমড়ার বাম্পার ফলন: দূর-দূরান্তে যাচ্ছে উপকূলের টক-মিষ্টি ফল

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে মুখরোচক ফল আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ ফলের ফলন ও বাজার দর ভালো পাওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় আমড়া চাষি ও ব্যবসায়ীদের।

খুলনার লবণাক্ত এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গদাইপুর, রাড়ুলী, হরিঢালী ও কপিলমুনির মতো উঁচু এলাকাগুলোতে প্রচুর আমড়ার চাষ হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনসমৃদ্ধ এ ফলটি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখে। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা আমড়া বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়।

আষাঢ় থেকে ভাদ্রÑএই তিন মাস আমড়ার প্রধান মৌসুম। ব্যাপারীরা এ সময় গ্রাম ঘুরে পুরো গাছের ফল এককালীন চুক্তিতে কিনে নেন। এরপর আড়ত হয়ে এ আমড়া সরবরাহ করা হয় ঢাকা, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, রোদযুক্ত উঁচু স্থানে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করলে ৩-৪ বছরের মধ্যে ফল পাওয়া যায়। এখানে মূলত দেশি ও হাইব্রিড—দুই জাতের আমড়া চাষ হয়। হাইব্রিড জাতের চারা রোপণের মাত্র এক বছরের মধ্যেই ফলন মেলে। দানাদার সার ও বর্ষার মৌসুমে পোকা দমনে সামান্য কীটনাশক ব্যবহার করলেই গাছ রোগমুক্ত থাকে।

চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একরামুল হোসেন জানান, আমড়া উপকূলীয় এলাকার একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল। উৎপাদন আরও বাড়াতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নতুন চারা রোপণে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

 

খানাখন্দে জর্জরিত পাটকেলঘাটা-চোমরখালি সড়ক: দুর্ভোগে শত গ্রামের মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
খানাখন্দে জর্জরিত পাটকেলঘাটা-চোমরখালি সড়ক: দুর্ভোগে শত গ্রামের মানুষ

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটা বাণিজ্যিক কেন্দ্রের দক্ষিণ অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এখন বেহাল দশা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হওয়া বিশাল খানাখন্দকের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত গ্রামের বাসিন্দা।

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হওয়া এ সড়কটি সরুলিয়া ও খলিশখালী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রসারিত হয়েছে। রাজেন্দ্রপুর, লালচন্দ্রপুর, জুসখোলা, চোমরখালি, আমতলা ডাঙা, শিয়ালডাঙ্গা, কাশিয়াডাঙ্গা ও খলিশখালীসহ বহু গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এটি। প্রতিদিন এই পথ দিয়েই খুলনা, সাতক্ষীরা, কেশবপুর, আশাশুনি ও গোয়ালপোতাগামী যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয় কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শামীম শেখ আফসোস করে জানান, পুরো সাতক্ষীরা জেলায় এত খারাপ রাস্তা আর কোথাও আছে বলে তাঁর জানা নেই। অন্যদিকে খলিশখালী ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দারাও জানান, সড়কটির এমন চরম দুরবস্থা তাঁরা আগে কখনো দেখেননি।

যোগাযোগব্যবস্থার এই নাজুক অবস্থা নিয়ে সরুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাসুদ রানা ও ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রুস্তম মোড়ল জানান, সড়কটি মেরামতের বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোস্তফা লুৎফুল্লাহর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, সড়কটির বেহাল দশার বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

 

জমি দখলের হুমকি ও বেড়া ভাঙচুর: আদালতের দ্বারস্থ অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
জমি দখলের হুমকি ও বেড়া ভাঙচুর: আদালতের দ্বারস্থ অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা

পত্রদূত রিপোর্ট: “কালই জমি দখল নেব, কত ক্ষমতা আছে ঠেকাস”—এমন হুমকি দিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাবাসপুর মৌজায় এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা, লেখক ও গবেষকের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি, অশালীন গালাগাল ও বেড়া ভাঙচুরের মুখে পড়ে আতঙ্কে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভুক্তভোগী শেখ সিদ্দিকুর রহমান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আবেদন করেছেন।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, শেখ সিদ্দিকুর রহমান ২০১০ সালে রেজিস্টারকৃত দলিলের মাধ্যমে হাবাসপুর মৌজার বিআরএস খতিয়ান নং-৪৭১, দাগ নং-১২৩৫-এর ১৬.৩৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। নামজারি সম্পন্ন করে ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি জমিটি ভোগদখল করছিলেন। সীমানা নির্ধারণে সিসি পিলার স্থাপনের পাশাপাশি সেখানে তিনি ফলজ ও বনজ গাছও রোপণ করেন।

সম্প্রতি একই এলাকার মো. খলিলুর রহমান ওই দাগের পশ্চিম পাশে ৩.৩০ শতাংশ জমি কেনার পর শেখ সিদ্দিকুর রহমানকে তাঁর জমির মধ্য থেকে ৪ শতাংশ ছেড়ে দিতে চাপ দেন। পূর্বে কেনা ৮ শতাংশ ও নতুন ৩.৩০ শতাংশ জমি একত্রে ভোগ করার অজুহাতে তিনি ভুক্তভোগীকে পূর্বদিকে সরে যেতে বলেন।

পরিস্থিতি নিরসনে গত ১৮ জুলাই উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত জরিপকারক দিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়। জরিপে শেখ সিদ্দিকুর রহমানের দলিলাংশের ১৬.৩৩ শতাংশ জমি সঠিক পাওয়া গেলেও দেখা যায়, খলিলুর রহমান ৩.৩০ শতাংশের স্থানে প্রায় ৬.৫৭ শতাংশ জমি দখলে রেখেছেন।

পরিমাপ শেষে ঐদিন বিকেলে নিজের জমির এক কোণে গবাদিপশুর সুরক্ষায় একটি অস্থায়ী বেড়া দিয়ে শেখ সিদ্দিকুর রহমান গ্রামে চলে যান। পরে জানতে পারেন, অভিযুক্ত খলিলুর রহমান বেড়াটি উপড়ে ফেলেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাঙচুরের সময় পুনরায় বেড়া দিলে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীকালে ২১ জুলাই বুধহাটা বাজারে জমি জরিপকারী শেখ হেদায়েতুল ইসলামকে হেনস্তা করা হয়। একই দিনে মোবাইল ফোনে শেখ সিদ্দিকুর রহমানকে চরম অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে ২২ জুলাই জমি দখলের হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরমর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলেও শঙ্কা কাটেনি। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে শেখ সিদ্দিকুর রহমান সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করে আদালতের আদেশের অপেক্ষায় আছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. খলিলুর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।