বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

সব চাওয়া পূরণ হলেই কি মানুষ সুখী হয়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
সব চাওয়া পূরণ হলেই কি মানুষ সুখী হয়?

সচিচ্চদানন্দ দে সদয়

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত তার আকাক্সক্ষা। জন্মের পর থেকেই মানুষ কিছু না কিছু চায়। শৈশবে খেলনা, কৈশোরে সাফল্য, যৌবনে প্রতিষ্ঠা, মধ্যবয়সে সম্পদ, আর বার্ধক্যে নিরাপত্তা। একটি চাওয়া পূরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আরেকটি চাওয়া জন্ম নেয়। যেন চাওয়ার কোনো শেষ নেই। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়Ñমানুষের সব চাওয়া যদি পূরণ হয়, তবে কি সে সত্যিই সুখী হয়ে ওঠে? আজকের বিশ্বে উন্নয়নের পরিমাপ অনেকটাই অর্থ, ভোগ এবং বাহ্যিক সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিংবা অন্যের সাফল্য দেখে আমরা নিজের জীবনকে অসম্পূর্ণ মনে করি।

 

প্রতিবেশীর বড় বাড়ি, সহকর্মীর দামি গাড়ি কিংবা পরিচিত কারও দ্রুত উন্নতি আমাদের মনে নতুন নতুন চাহিদার জন্ম দেয়। ফলে যা আছে, তার আনন্দ হারিয়ে যায়; যা নেই, তার অভাবই হয়ে ওঠে জীবনের প্রধান অনুভূতি। কিন্তু মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। ইতিহাস, সাহিত্য এবং সমাজÑসবখানেই দেখা যায়, সীমাহীন প্রাপ্তি সব সময় সুখ বয়ে আনে না। বরং অনেক সময় অতিরিক্ত সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা আরাম মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে দেয়। অহংকার বাড়ায়, সম্পর্কের উষ্ণতা কমায়, প্রতিযোগিতা ও অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে। যে সম্পদ একসময় নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ছিল, সেটিই কখনো কখনো উদ্বেগ, ভয় এবং একাকীত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

অন্যদিকে অভাব বা সীমাবদ্ধতা সব সময় দুর্ভাগ্যের প্রতীক নয়। জীবনের অনেক বড় শিক্ষা আসে অপূর্ণতা থেকে। যে মানুষ সংগ্রাম করেছে, প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়েছে, অপেক্ষা করতে শিখেছেÑসে সাধারণত জীবনের মূল্যও বেশি বোঝে। অল্প প্রাপ্তির আনন্দ তার কাছে অনেক গভীর হয়। কারণ সে জানে, প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে শ্রম, ধৈর্য এবং সময়। জীবনের এই বাস্তবতাকে বোঝাতে একটি সাধারণ পারিবারিক উদাহরণই যথেষ্ট। একটি শিশু অসুস্থ। সে তার প্রিয় মিষ্টি খেতে চায়। কিন্তু মা তাকে তা দেন না।

 

শিশুটি হয়তো কাঁদে, অভিমান করে, মনে করে মা তাকে ভালোবাসেন না। অথচ সত্য সম্পূর্ণ উল্টো। মা জানেন, এই মুহূর্তে সেই মিষ্টি শিশুর জন্য ক্ষতিকর। তাই সাময়িক কষ্ট দিয়ে তিনি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে সন্তানকে রক্ষা করেন। এই ঘটনাটি কেবল পারিবারিক সম্পর্কের উদাহরণ নয়; এটি জীবনেরও একটি গভীর সত্য। মানুষ অনেক সময় তাৎক্ষণিক ইচ্ছাকে প্রয়োজন মনে করে। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় সেই ইচ্ছার সঙ্গে একমত হয় না। আজ যে সুযোগটি হাতছাড়া হয়েছে বলে আমরা হতাশ, কয়েক বছর পর হয়তো বুঝতে পারিÑসেই ব্যর্থতাই আমাদের অন্য একটি ভালো পথের দিকে নিয়ে গেছে।

 

আবার যে সাফল্য একসময় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে হয়েছিল, সেটিই হয়তো পরে নতুন সংকটের কারণ হয়েছে। মনোবিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা রয়েছেÑহেডোনিক অ্যাডাপটেশন। অর্থাৎ মানুষ নতুন প্রাপ্তির সঙ্গে খুব দ্রুত মানিয়ে নেয়। নতুন বাড়ি, নতুন গাড়ি কিংবা উচ্চ বেতনÑপ্রথমে এগুলো আনন্দ দেয়, কিন্তু কিছুদিন পর সেগুলোই স্বাভাবিক হয়ে যায়। তখন আবার নতুন কিছুর আকাক্সক্ষা তৈরি হয়। অর্থাৎ সুখের উৎস যদি কেবল বাহ্যিক অর্জনের ওপর নির্ভর করে, তবে সেই সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই প্রকৃত সুখের ভিত্তি বাহ্যিক নয়, অভ্যন্তরীণ। কৃতজ্ঞতা, আত্মসংযম, ধৈর্য, সম্পর্কের উষ্ণতা এবং অর্থপূর্ণ জীবনবোধÑএসবই মানুষের মানসিক শান্তির প্রধান উপাদান।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা প্রতিদিন নিজের প্রাপ্তির জন্য কৃতজ্ঞ থাকতে পারেন, তাঁদের মানসিক চাপ তুলনামূলক কম থাকে এবং জীবনের প্রতি সন্তুষ্টিও বেশি হয়। দুর্ভাগ্য জনক ভাবে আমরা এমন একটি সময়ে বাস করছি, যেখানে মানুষের মূল্যায়ন অনেক ক্ষেত্রেই তার চরিত্র দিয়ে নয়, সম্পদ দিয়ে করা হয়। একটি শিশুকেও ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়Ñপ্রথম হতে হবে, বেশি উপার্জন করতে হবে, অন্যকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। কিন্তু খুব কম মানুষই শেখায়Ñনিজেকে জানো, নিজের সীমা বোঝো, যা আছে তার মর্যাদা দাও এবং অন্যের সুখ দেখে নিজের জীবনকে ছোট করে দেখো না।

 

অতিরিক্ত ভোগের সংস্কৃতি মানুষকে আরও অস্থির করে তুলছে। বিজ্ঞাপন প্রতিনিয়ত আমাদের বোঝায়Ñএই পণ্যটি কিনলে তুমি সুখী হবে, ওই বাড়িটি পেলে জীবন সফল হবে, আরও বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারলেই শান্তি মিলবে। কিন্তু বাস্তব জীবনের পরিসংখ্যান ভিন্ন ছবি তুলে ধরে। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অনেক সমাজেই উদ্বেগ, বিষণœতা, নিঃসঙ্গতা ও মানসিক অবসাদের হার বেড়েই চলেছে। অর্থাৎ সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই সুখের একমাত্র উৎস নয়। এর অর্থ এই নয় যে মানুষ উচ্চাকাক্সক্ষী হবে না বা উন্নতির চেষ্টা করবে না।

 

উন্নতির আকাক্সক্ষা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি এবং সমাজের অগ্র গতিরও চালিকাশক্তি। কিন্তু সেই আকাক্সক্ষা যদি সীমাহীন লোভে পরিণত হয়, তবে তা মানুষকে ক্লান্ত করে। তখন প্রাপ্তির আনন্দের চেয়ে অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা বড় হয়ে ওঠে। বরং জীবনের প্রতি একটি ভারসাম্য পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। চেষ্টা থাকবে, স্বপ্ন থাকবে, পরিশ্রম থাকবেÑকিন্তু সেই সঙ্গে থাকবে ধৈর্য, সংযম এবং ফলাফলকে গ্রহণ করার মানসিক শক্তি। কারণ মানুষ তার প্রচেষ্টাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু সব ফলাফলকে নয়। আমরা প্রায়ই জীবনের ঘটনাগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার করি।

 

চাকরি না পাওয়া, ব্যবসায় ক্ষতি, কাক্সিক্ষত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হওয়া কিংবা কোনো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে আমরা জীবনের শেষ বলে মনে করি। অথচ সময়ের ব্যবধানে দেখা যায়, সেই ঘটনা গুলোই নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। জীবনের অনেক সিদ্ধান্তের প্রকৃত মূল্য তখনই বোঝা যায়, যখন আমরা কিছুটা দূরত্ব থেকে ফিরে তাকাই। আজকের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্যের যে সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে, তার অন্যতম কারণ এই অবিরাম তুলনা।

 

অন্যের জীবন দেখে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে করার প্রবণতা আমাদের সুখ কেড়ে নিচ্ছে। অথচ প্রত্যেক মানুষের জীবন আলাদা, বাস্তবতা আলাদা, সুযোগ-সুবিধাও আলাদা। তাই অন্যের সাফল্যকে নিজের ব্যর্থতার মানদ- বানানো কোনো ভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। প্রকৃত শিক্ষা হলোÑযা আছে, তার সর্বোত্তম ব্যবহার করা; যা নেই, তার জন্য নিরন্তর হাহাকার না করা। কারণ মানুষের চরিত্র গড়ে ওঠে প্রাপ্তি দিয়ে নয়, প্রাপ্তিকে কীভাবে ব্যবহার করছে এবং অপ্রাপ্তিকে কীভাবে গ্রহণ করছে, তার ওপর। শেষ পর্যন্ত সুখ কোনো গন্তব্য নয়; এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গি।

 

যে মানুষ সীমিত সম্পদের মধ্যেও কৃতজ্ঞ থাকতে পারে, সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়, সততা ও সংযমকে জীবনের ভিত্তি বানায় এবং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে, তার জীবনেই শান্তি বেশি। সব চাওয়া পূরণ হওয়াই জীবনের সাফল্য নয়। বরং কখন থামতে হবে, কোন আকাক্সক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং কোন প্রাপ্তির জন্য কৃতজ্ঞ হতে হবেÑএই বোধই একজন মানুষকে পরিণত করে। কারণ জীবনের প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্পদের পরিমাণে নয়, মনের প্রশান্তিতে। আর সেই প্রশান্তি আসে তখনই, যখন মানুষ বুঝতে শেখেÑসব অপ্রাপ্তি ক্ষতি নয়, সব প্রাপ্তিও আশীর্বাদ নয়।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

দল থেকে বহিষ্কার হলেই কি এমপি পদ বাতিল, যা বলছে সংবিধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
দল থেকে বহিষ্কার হলেই কি এমপি পদ বাতিল, যা বলছে সংবিধান

ন্যাশনাল ডেস্ক: নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে স্পিকারের কাছে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল ছিলেন। ফলে শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলেই কোনো সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হয় না। কোনো রাজনৈতিক দল প্রাথমিক সদস্য পদসহ কাউকে বহিষ্কার করে এবং তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানালে বিষয়টি সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হতে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি ও আইনি ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনা নতুন একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনেছে-তিনি যদি দল থেকে বহিষ্কৃত হন, তাহলে কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদও বাতিল হবে? আইনজ্ঞদের মতে, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ পর্যালোচনা করতে হবে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সদস্যপদ শূন্য হতে পারে। তবে কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলে তা ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় পড়ে না।
আইন অনুযায়ী, দল থেকে বহিষ্কারের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারেন। কারণ, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দল থেকে বহিষ্কারকে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে সংসদের স্পিকারের কাছে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন করলে এমপি পদ বাতিল হওয়ার নজির রয়েছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছিল।
অন্যদিকে, কোনো দল শুধু সাংগঠনিক পদ বাতিল করে এবং স্পিকারের কাছে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন না করলে এমপি পদ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নবম জাতীয় সংসদের জাতীয় পার্টির সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানোর কারণে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল।
এদিকে, গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নজরে রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও আলোচনার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে দল।
আইনজ্ঞদের মতে, গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে কয়েকটি সম্ভাবনা রয়েছে
দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারেন।
বিষয়টি স্পিকারের ব্যাখ্যা বা আদালতের আইনি সিদ্ধান্তের পর্যায়ে যেতে পারে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে নতুন কোনো সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, শুধু দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় কোনো সংসদ সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। তবে স্পিকারের সিদ্ধান্ত, আদালতের ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না।
এ কারণে বিষয়টি শুধু একজন এমপির ভবিষ্যৎ নিয়েই নয় বরং বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে দলীয় শৃঙ্খলা ও সংবিধানের প্রয়োগ সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। আমরা ইসিকে জানিয়ে দিয়েছি। ইসি স্পিকারকে জানাবে। আমরা কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করতে পারি, কিন্তু এমপি থেকে বহিষ্কার করতে পারি না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা জামায়াত থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। তাই এ বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না।’

তেলসংকটের গুজবে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের পাম্পে বাইকারদের উপচে পড়া ভিড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
তেলসংকটের গুজবে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের পাম্পে বাইকারদের উপচে পড়া ভিড়

আহাদুজ্জামান আহাদ ও এমএ হালিম: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটের গুজবকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে বুধবার সকাল থেকে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ভবিষ্যতে তেলসংকট হতে পারেÑএমন আশঙ্কায় অনেকে আগেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পাম্পে ছুটছেন।
সরেজমিনে শ্যামনগর উপজেলা এবং কালিগঞ্জের নলতাসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। পেট্রলপাম্পগুলোতে তেল নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই আগেভাগে যানবাহনের ট্যাংক ভর্তি করতে আসায় পাম্পগুলোতে কয়েক গুণ বেশি চাপ সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে তেলসংকটের খবর দেখে আগাম জ্বালানি সংগ্রহ করতে এসেছেন বলে জানান অনেক বাইকার।
তেলসংকটের খবর নাকচ করে শ্যামনগর আশা পেট্রলপাম্পের মালিক জানান, পাম্পে নতুন জ্বালানি তেলের চালান আসার পথে রয়েছে। কিছু সময়ের জন্য সরবরাহে সামান্য চাপ তৈরি হলেও বড় ধরনের কোনো সংকট নেই। গুজব শুনে মানুষ একসঙ্গে তেল নিতে আসায় অতিরিক্ত ভিড় হচ্ছে। তেলসংকট হবে—এমন কোনো সরকারি তথ্য বা নির্দেশনা নেই উল্লেখ করে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করার অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহে কোনো আনুষ্ঠানিক সংকটের তথ্য নেই। সরকারের পক্ষ থেকেও জ্বালানি সংকটের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, গুজবের কারণে একসঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা তৈরি হলে কৃত্রিম সংকট ও পাম্পগুলোতে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এমপি নজরুলের ভিডিও কান্ডে অস্বস্তিতে জামায়াত, চাঙ্গা বিএনপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
এমপি নজরুলের ভিডিও কান্ডে অস্বস্তিতে জামায়াত, চাঙ্গা বিএনপি

Oplus_131072

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অনৈতিক ভিডিও কা-কে কেন্দ্র করে চরম অস্বস্তি ও লজ্জায় পড়েছেন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। গত দুদিন ধরে শ্যামনগরে দলটির কার্যালয় বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। প্রথম সারির কোনো নেতাকেও প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। ঘটনার শুরুতে এটি ‘এআই’ প্রযুক্তির কারসাজি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রচার চালানো হয়েছিল, ভিডিওর সত্যতা প্রকাশের পর নেতা-কর্মীরা তাঁদের নিজ নিজ আইডি থেকে সেই পোস্টগুলো সরিয়ে নিয়েছেন।
অন্যদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে স্থানীয় বিএনপি শিবিরে। বুধবার সকালে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। বিকেলে জামায়াতের পক্ষ থেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের খবর পাওয়ার পর বিএনপির কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায়। এই আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন চাঙ্গাভাব ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে শ্যামনগরের জামায়াত নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা জামায়াতের দুজন দায়িত্বশীল নেতা হতাশা প্রকাশ করে জানান, একটি উদীয়মান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদে না থেকেও একজন সংসদ সদস্য যেভাবে দলকে বিতর্কিত করেছেন, তার মাসুল পুরো সংগঠনকে দিতে হচ্ছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সময়সাপেক্ষ।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ জানান, কেবল দল থেকে বহিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়; নীতি ও আদর্শের প্রমাণ দিতে তাঁকে জাতীয় সংসদ থেকেও অপসারণ করা উচিত। একই সঙ্গে বেহালিপনা ও তা ঢাকার চেষ্টার অভিযোগে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় আনার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবীর উল্লেখ করেন, জামায়াতদলীয় এই এমপির অনৈতিক কর্মকা-ে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন তিনি। জাতীয় সংসদ থেকে তাঁর সদস্যপদ বাতিলের উদ্যোগ নিতে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এদিকে জামায়াত থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের ঘোষণা আসার পর বুধবার সন্ধ্যায় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে শ্যামনগর পৌর সদরে এক আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিএনপি কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।