বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

সভ্য দেশ হয়েও যত্রতত্র কলকারখানা তৈরি করা কাম্য নয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
সভ্য দেশ হয়েও যত্রতত্র কলকারখানা তৈরি করা কাম্য নয়: প্রধানমন্ত্রী

কল কারখানার কারণে যেভাবে পরিবেশের দূষণ হচ্ছে, এর জন্য আমাদের সবারই দায় আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশ সভ্য দেশ হয়েও যত্রতত্র কলকারখানা তৈরি করা হচ্ছে, তা কাম্য নয়। সবকিছু আইন দিয়ে করা সম্ভব নয়, সচেতনতার মধ্য দিয়ে করতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ১০টায়।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে ৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ জনের হাতে জাতীয় পরিবেশ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগেই দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার। তবে কোন পরিবেশে কেমন গাছ লাগাতে হবে, এই ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ইউক্যালিপটাসের মতো ক্ষতিকর গাছ লাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে।” এসময় ঔষধিসহ দেশীয় গাছ রোপণে মনযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইকোসিস্টেমের নিরাপদ লালন ও বিকাশের সঙ্গে মানবসমাজ জড়িত। বৃক্ষমেলা নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের বিনিয়োগ। এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত হবে না, নৈমিত্তিক এটি করতে হবে।”

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য তালিকায় ঢাকা তৃতীয়। এনিয়ে আমাদের সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে অনেক মানুষ অজ্ঞ। তাদেরকে সচেতন করতে সবাইকে দায়িশীল আচরণ করতে হবে।”

তারেক রহমান বলেন, “সন্তান জন্ম নিলে আমরা তার নামে একটি গাছ লাগাতে পারি।” লন্ডনেও এমনটি করা হয় বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম এবং ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালুসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর, সবুজায়নের লক্ষ্যে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করবে সরকার। আমরা ছাদ বাগান, নগর বনায়ন, ইকো ট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে চাই।” এছাড়া রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি করে জলপাই, জারুল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, রাজধানীতে পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকার জাতীয় বৃক্ষমেলায় অংশ নিয়েছে ১২০টি স্টল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Ads small one

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সব উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নিবন্ধন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের লক্ষে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩ (জ) অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জনের তারিখ হিসেবে ৩১ জুলাই ২০০৮ কমিশন নির্ধারণ করেছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে, ভোটার তালিকা ডাটাবেজে ৩১ জুলাই ২০০৮ তারিখ বা তার পূর্বে যাদের জন্ম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত যারা ডাটাবেজে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরত: চূড়ান্তকরণের লক্ষে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিল এবং দাখিল করা আবেদন নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ সংক্রান্তে বিস্তারিত সময়সূচি কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।

হালনাগাদ করা খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত ও মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে লিংক পাঠানোর শেষ তারিখ আগামী ৪ আগস্ট, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৯ আগস্ট। দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ২৪ আগস্ট। সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিল করা আবেদনসমূহ নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৭ আগস্ট, দাবি-আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিল করা আবেদনের ওপর গৃহীত সিদ্ধান্ত সন্নিবেশের শেষ তারিখ ২৮ আগস্ট।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ কার্যক্রম চলাকালীন মুদ্রিত খসড়া ভোটার তালিকা জনসাধারণের পরিদর্শন ও ভুলত্রুটি সংশোধনের আবেদন দাখিলের আহবান জানিয়ে মসজিদ/মন্দিরসহ ধর্মীয় উপসনালয়ে ইমাম/পুরোহিতদের মাধ্যমে নামাজ/প্রার্থনার আগে বা পরে ঘোষণা প্রদান, স্থানীয় সাংবাদিক ও ক্যাবল অপারেটরের মাধ্যমে জনস্বার্থে তা প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মুদ্রিত খসড়া ভোটার তালিকায় পুরুষ তালিকার মধ্যে মহিলা ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও মহিলা তালিকার মধ্যে পুরুষ ভোটার অন্তর্ভুক্তি এবং ধর্ম সংক্রান্ত ত্রুটি বিচ্যুতিসহ অন্য কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন। আর হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।

কেশবপুর শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
কেশবপুর শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন

কেশবপুর (যশোর)প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ত্রিবার্ষিক অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে মোশাররফ প্যানেল এর নিরঙ্কুশ জয় লাভ । বৃহস্পতিবার সকাল দশটা থেকে ৩ টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে ভোটাররা তাদের ভোট অধিকার প্রয়োগ করেন । এ নির্বাচনে দুটি প্যানেল ছিল, একটি বিএনপি’র ১ নং ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেনের আরেকটি বারবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য ৩ নং মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ আব্দুর রহমানের। মোট ভোট ছিল ( ৩৩৭) প্রাপ্ত ভোট (২৮৬) প্রার্থী ছিল দুই প্যানেল মিলে আট জন। বিজয় প্রার্থীরা হলেন মো: আলমগীর হোসেন মার্কা ছাতা( ১৫৫) মোঃ সোহবান আলী মার্কা ফুটবল( ১৫৩ )তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে ছিলেন মোঃ আমিনুদ্দিন মার্কা ডাব (১০৯) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম মার্কা তালা (১১১ ) মহিলা অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মোছাঃ সাবিনা খাতুন মার্কা মাছ (১৬০) মোছাঃ মুসলিমা খাতুন মার্কা কলস (১৪৭ ) তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মোছাঃ খাদিজা খাতুন মার্কা টিয়া পাখি (১১২ ) মোছাঃ শারমিন নাহার লিজা মার্কা মোরগ (১১০)মোশাররফ প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেন। এ নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালনে ছিলেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার দুলাল চন্দ্র সরকার । তবে স্থানীয়দের অভিযোগ প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে ৪ হাজার ২ শত টাকা করে প্রধান শিক্ষক চলতি দায়িত্ব চন্দ্রা রানী দে গ্রহণ করেছেন। অথচ প্রশাসনের কোন লোক ছিল না, সকাল ১২ টার দিকে দুই গ্রুপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে অফিসার ইনচার্জ কেশবপুর থানাকে অবহিত করলে তিনি একজন এ এস আইকে পাঠান, পরবর্তীতে নির্বাচন শেষে পুলিশের একটি টিম বিদ্যালয় উপস্থিত হন।।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলায় কাঁপছে ইরান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলায় কাঁপছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও তীব্র সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর (সেন্টকম) দাবি, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলায় কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নিহতদের মধ্যে বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্য রয়েছেন। হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের বান্দার আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

হামলার পরপরই ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলাটি শুরু হয় স্থানীয় সময় বুধবার (৮ জুলাই) ভোরের আগে, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী একযোগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চল ও পারস্য উপসাগরসংলগ্ন একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার সময় ইরানের বিভিন্ন শহরে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এতে প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন ঘাঁটি, সামরিক বিমানঘাঁটি, রানওয়ে, সেতু, রাডার স্টেশন, নৌঘাঁটি এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো।

বিশেষ করে বান্দার আব্বাস, সিরিক, কেশম দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এসব স্থাপনা থেকেই সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হচ্ছিল।

সেন্টকমের দাবি, এসব হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল উদ্দেশ্য।

মার্কিন দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বান্দার আব্বাস, সিরিক, কোনারাক ও চাবাহার এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হলেও একাধিক স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে। বান্দার আব্বাস ও আশপাশের এলাকায় বিস্ফোরণের পর কয়েক ঘণ্টা আগুন জ্বলতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।

খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের কাছে এক হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয় এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।

ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, এই হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের ওপর যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে। তবে এসব হামলায় মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

হামলার পরদিন (৯ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে কার্যকর থাকা অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক নৌপথ বা মার্কিন স্বার্থে আবারও হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে।

ট্রাম্প বলেন, “ইরান যদি থামে না, তাহলে আমরা কাজ শেষ করব। আমরা দীর্ঘ যুদ্ধ চাই না, কিন্তু আমাদের স্বার্থ রক্ষায় যা প্রয়োজন, তাই করা হবে।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি ইরানের আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

ট্রাম্পের দাবি, ইরান যুদ্ধবিরতির সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে। তাই প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক অভিযান চালাতে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু হবে বলে তিনি মনে করেন না।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমেরিকা ভেবেছে হামলা চালিয়ে ইরানকে ভয় দেখানো যাবে। কিন্তু প্রতিটি হামলার জবাব আরও শক্তভাবে দেওয়া হবে।” একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদের কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদ এবং দুই দেশের সমঝোতা ভঙ্গ করেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, “হরমুজ প্রণালি কখন খুলবে, সেই সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে। আমাদের ওপর হামলা হলে তার জবাবও দেওয়া হবে।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন, ন্যাটোভুক্ত যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘাঁটি বা অবকাঠামো ব্যবহার করতে দিয়েছে, তারাও এই যুদ্ধের দায় এড়াতে পারে না। তিনি ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে হরমুজ প্রণালিতে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়া ছিল “একেবারেই প্রয়োজনীয়”।

এ ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জাহাজ ইরানের অনুমোদিত রুট ব্যবহার করে চলাচল করছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ববাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। হামলার পরদিনই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

জাতিসংঘসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সংঘাত শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি বৃহৎ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।