বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: উপকূলের জলবায়ু উদ্বাস্তু ও পেশা বদল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: উপকূলের জলবায়ু উদ্বাস্তু ও পেশা বদল

জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখন আর কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় মানুষের জীবনে তা এক নির্মম ও প্রাত্যহিক বাস্তবতা। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আশঙ্কাজনক হারে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে এই অঞ্চলের প্রাতাষ্ঠানিক ও ঐতিহ্যবাহী জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সিডর, আইলা, আম্পানের মতো একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন নতুন দুর্যোগ এসে উপকূলের মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। এই বহুমুখী সংকটের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে মানুষের পেশা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর, যা অবিলম্বে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের, বিশেষ করে কয়রা, পাইকগাছা, শ্যামনগর ও আশাশুনি এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি ও মৎস্য চাষ। কিন্তু জমিতে ও মিষ্টি পানির উৎসে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করার ফলে ফসলি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী ধান চাষ বা মিষ্টি পানির মাছ চাষ এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, টিকে থাকার তাগিদে উপকূলের মানুষ বাধ্য হয়ে তাঁদের আদি পেশা পরিবর্তন করছেন। জেলেরা মাছ ধরার ঝুঁকি ও আকাল দেখে ঝুঁকছেন কাঁকড়া বা কুঁচে চাষে। কৃষকেরা সনাতন চাষাবাদ ছেড়ে লবণ-সহিষ্ণু জাতের ধান কিংবা তরমুজ চাষের চেষ্টা করছেন। এমনকি পুরুষেরা কর্মহীন হয়ে পড়ায় নারীরা বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ বা কাঁকড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো কঠিন পরিশ্রমে যুক্ত হচ্ছেন। কিন্তু জলবায়ুর এই আগ্রাসী পরিবর্তনের সামনে এই স্থানীয় অভিযোজন কৌশলগুলোও দীর্ঘমেয়াদে টিকতে পারছে না।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যখন স্থানীয়ভাবে জীবনধারণের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন মানুষ বাধ্য হয় নিজের ভিটেমাটি ত্যাগ করতে। গত দুই দশকে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে বিভাগীয় শহর ও ঢাকামুখী মানুষের স্রোত অভাবনীয় হারে বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া এই ‘জলবায়ু উদ্বাস্তুরা’ যখন শহরে আসছেন, তখন তাঁদের পূর্বপুরুষ থেকে পাওয়া কৃষিজ্ঞান বা মাছ ধরার দক্ষতা পুরোপুরি অর্থহীন হয়ে পড়ছে। গ্রামের একজন স্বাধীন ও দক্ষ কৃষক কিংবা খামারি শহরে এসে স্রেফ বেঁচে থাকার তাগিদে রিকশাচালক, ইটভাটার দিনমজুর কিংবা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে অত্যন্ত কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। খুলনা, ঢাকা বা চট্টগ্রামের বস্তিগুলোতে তাকালে দেখা যাবে, সেখানকার বাসিন্দাদের একটি বিশাল অংশ এসেছেন এই উপকূলীয় অঞ্চল থেকে। জলবায়ুর এই মরণকামড় কেবল তাঁদের সম্পদই কেড়ে নেয়নি, তাঁদের পেশাগত পরিচয় ও সামাজিক মর্যাদাটুকুও ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের চাল উৎপাদন ৮ শতাংশ এবং গম উৎপাদন ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও উপকূলের অর্থনীতিতে। বাংলাদেশ বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে, যার অগ্রভাগে আছে এই উপকূলের বাসিন্দারা। অথচ বিশ্বমঞ্চে কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা নগণ্য হলেও এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে।
এই চরম সংকট মোকাবিলায় কেবল ত্রাণ বিতরণ বা সাময়িক পুনর্বাসন কোনো টেকসই সমাধান নয়। প্রথমত, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা প্রতিরোধী কৃষি ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সরকারি উদ্যোগে ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, টেকসই ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ফসলি জমিতে নোনা জলের প্রবেশ ঠেকানো যায়। তৃতীয়ত, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা জরুরি। বিশ্ব জলবায়ু তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। উপকূলের মানুষের এই নীরব কান্না ও পেশা হারানোর দীর্ঘশ্বাস বন্ধ করতে রাষ্ট্রকে এখনই সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

 

 

 

Ads small one

কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহতদের ২ জন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। বুধবার (১৯ আগষ্ট) রাত ১০টার দিকে এলাকায় খবর পৌঁছানোর পর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন নিহতদের একজনের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত. ইউনুচ সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী এবং অপরজন একই উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেবতী সরকার। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহত সাজুর নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমরে ব্যাথার জন্য চিকিৎসক দেখাতে ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে যায়। বুধবার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১০টার দিকে বাড়িতে খবর আসে হোটেলে অগ্নিকান্ডে সে নিহত হয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়, ঘটনাটি জানার পর বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে হোটেলটিতে অগ্নিকান্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশী।

৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শার উলাশীতে রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে ৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে মাসিক ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসহায় পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, সাবানসহ এক মাসের প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্বাচিত ৫০টি পরিবারের হাতে দেওয়া হয় মাসিক ত্রাণ কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে এসব পরিবার নিয়মিত প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাবেন।
একই অনুষ্ঠানে অসহায় মো. জাহাঙ্গীরের অপারেশনের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের জন্যও মাসিক ত্রাণ কার্ডের মাধ্যমে এক মাসের প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রুবিয়া রহমানের নিজস্ব অর্থায়নে এসব মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

শ্যামল শীল
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৩ পাশ হয়। ১৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতিকল্পে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইনকিউবেটর-এর মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা অতীব প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত।
একইদিনে নারায়নগঞ্জে আরো একটি বিশ্ববিদ্যালয় এর আইন পাশ করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তবে, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণ করা হয়।
জাতীয় সংসদের গত বাজেট অধিবেশনে ১০৬ সাতক্ষীরা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং একই সাথে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং থাকলে, তা কতদিনে বাস্তবায়ন হতে পাবে? প্রশ্ন করেন।
উত্তরে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে বর্তমানে সরকার কর্তৃক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং আঞ্চলিক বৈষমা হ্রাসের লক্ষ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি সরকার সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করে থাকে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার, উদ্ভাবনী চর্চা, গবেষণামনকতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ, সম্ভাবাতা যাচাই এবং অর্থায়নের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। যদি এ সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদিত হয়, তবে প্রকল্পের ধরন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।”
মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় তাঁর প্রশ্নে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) সম্পর্কে যেমন সুনিদিষ্ঠ কিছু বলেননি, ঠিক একইভাবে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এর উত্তরেও “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি” উল্লেখ করে আইনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যে আইনটি বিগত সময়ে প্রণয়ন হয়েছিল, সেটি বাতিল হয়েছে এমন কোন তথ্য আমরা খুজে পাইনি। যদি আইনটি থাকে, তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আর কি কি প্রয়োজন সেটা সম্পর্কেও সুনিদিষ্ঠ কোন তথ্য কারো কাছ থেকে জানতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন আমার এমন একজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, আইন পাশের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ভিসিসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ এবং একাডেমিক কার্যক্রম যে কোন সময় শুরু করা যেতে পারে।
সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এটা এখন সময়ের দাবী। তবে, রাজনৈতিক গ্যাড়াকলে পড়ে আমাদের অনেক দাবীই বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। বিশ্বাবদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনাটুকু অতিতে সৃষ্টি হয়েছিল তা আবার হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রয়োজন থেকেই এই জনপদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক-এই দাবীতে সাতক্ষীরাবাসীর দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা এখন জরুরি। এব্যাপারে সকলে এগিয়ে আসুন।