সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: বিচারকশূন্য ট্রাইব্যুনাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: বিচারকশূন্য ট্রাইব্যুনাল

একটি জেলার কয়েক হাজার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার একমাত্র আশ্রয়স্থল যখন দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বিচারকশূন্য থাকে, তখন তাকে কেবল প্রশাসনিক অবহেলা বললে ভুল হবে; বরং এটি বিচারপ্রক্রিয়ার একটি বড় অন্তরায়। সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বর্তমান চিত্র সেই রূঢ় বাস্তবতাকে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। ৪ হাজার ৩৪২টি মামলার স্তূপ আর কয়েক হাজার বিচারপ্রার্থীর অন্তহীন প্রতীক্ষা আমাদের বিচারিক কাঠামোর এক বড় দুর্বলতার দিকে আঙুল তুলছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাতক্ষীরার এই ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যার মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি রাখে। অথচ ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আদালতটি কার্যত অভিভাবকহীন। এর আগে একজন বিচারক যোগদান করলেও মাত্র মাস দেড়েকের মাথায় তার বদলি হয়ে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কিছু জরুরি কাজ করলেও মূল বিচারিক কার্যক্রমÑযেমন নতুন মামলা গ্রহণ, অভিযোগ গঠন বা সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মূল উদ্দেশ্যই হলো ভুক্তভোগীদের দ্রুততম সময়ে আইনি সুরক্ষা ও প্রতিকার দেওয়া। কিন্তু যখন মামলার জট ৪ হাজার ছাড়িয়ে যায় এবং বিচারক না থাকায় প্রতিদিন মানুষ কেবল নতুন তারিখ নিয়ে আদালত থেকে ফিরে যান, তখন আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা টলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই মানুষগুলো কেবল সময় এবং অর্থই ব্যয় করছেন না, তারা মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে মানবপাচার বা শিশুবিষয়ক স্পর্শকাতর মামলাগুলোর ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়া মানেই অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ বেড়ে যাওয়া এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়া।
আমরা মনে করি, একটি জেলার একমাত্র ট্রাইব্যুনালকে এভাবে ছয় মাস ধরে অচল রাখা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে রুটিন কাজ চালানো গেলেও হাজার হাজার মামলার জট কমানো অসম্ভব। মামলার সংখ্যা অনুযায়ী যেখানে আরও ট্রাইব্যুনাল বাড়ানো প্রয়োজন, সেখানে বিদ্যমান একটি আদালতকে বিচারকশূন্য রাখা চরম উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ।
আইন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, বিচারপ্রার্থীদের এই চরম ভোগান্তি লাঘবে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অবিলম্বে একজন স্থায়ী ও দক্ষ বিচারক নিয়োগ দেওয়া হোক। ন্যায়বিচারের পথ সুগম করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অংশ। সাতক্ষীরার বিচারপ্রার্থীদের এই দীর্ঘশ্বাস আর কতকাল দীর্ঘ হবে, সে প্রশ্নটি আমরা প্রশাসনের নিকট রাখতে চাই।

Ads small one

কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান হাফিজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান হাফিজ

সংবাদদাতা: যশোরের কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন চৌকস ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান হাফিজ।

এর আগে তিনি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানা, শ্যামনগর থানা ও কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনকালে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে তিনি পরিচিত।

তালায় সরকারি কর্মকর্তা ও তৃণমূল নারীদের সম্মেলন : উঠে এলো বৈষম্য ও সম্ভাবনার চিত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
তালায় সরকারি কর্মকর্তা ও তৃণমূল নারীদের সম্মেলন : উঠে এলো বৈষম্য ও সম্ভাবনার চিত্র

তালা প্রতিনিধি: প্রান্তিক দলিত নারীদের উন্নয়নের মূল স্্েরাতে সম্পৃক্ত করতে এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরার তালায় এক ব্যতিক্রমী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৃণমূল সংগঠনের সদস্যদের মুখোমুখি হয়েছেন সরকারের ১১টি দপ্তরের কর্মকর্তারা। শুনেছেন তাদের দুঃখ-দুর্দশা, বঞ্চনা আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে তালা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে এ সম্মেলনের আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা ভূমিজ ফাউন্ডেশন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং ‘সমতার জন্য লড়ি (সজল)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তৃণমূল নারী নেত্রী সরস্বতী দাস। সঞ্চালনা করেন ভূমিজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অচিন্ত্য সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মাসুম বিল্লাহ, কৃষি অফিসার হাজিরা খাতুন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাব্বির হোসেন, সিনিয়র মৎস্য অফিসার তারিক ইমাম, সমাজসেবা অফিসার আরিফুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার, আইসিটি অফিসার মোতাহার হোসেন, যুব উন্নয়ন অফিসার আশুতোষ কুমার বিশ্বাস এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাষ কুমার দাস। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ভূমিজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহীদুল ইসলাম।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম, উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল নাহার আশা, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক জোয়ার্দার, সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল দলিত নারীদের কণ্ঠস্বর। সোমা সরকার, ঋতু সরকার, টুম্পা বিশ্বাসের মতো নেত্রীরা জানান, এখনও সমাজে তাদের জাতপাতের কারণে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। সরকারি ভাতা, ভিজিডি কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা কৃষি প্রণোদনা পেতে গিয়ে তারা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। অনেক সময় তথ্য না জানার কারণে তারা সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

তবে হতাশার পাশাপাশি সম্ভাবনার গল্পও উঠে আসে। সজল প্রকল্পের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার পর তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন। নিজেরা সঞ্চয় করছেন, হাঁস-মুরগি পালন ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

প্রধান অতিথি ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বিশ্বাস করে। কোনো নাগরিক যাতে সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য প্রশাসন কাজ করছে। তিনি উপস্থিত সকল কর্মকর্তাকে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে একদিনে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

 

সোমবার বিকালে শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।

 

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ আদেশ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ আসামিদের আদালতে নিয়ে আসে। তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

 

পাঁচ কারণ দেখিয়ে তাদের রিমান্ড আবেদন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—

 

> মরিয়ম গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যাওয়ার সময় আসামিরা বাসায় ছিল। আত্মহত্যায় তাদের প্ররোচনা আছে কি না;

> তারা ভুক্তভোগীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উস্কানি, মানসিক চাপ, ভয়-ভীতিপ্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় ধাবিত করেছেন কি না;

 

> পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার অবস্থান শনাক্তসহ গ্রেপ্তার;

 

> অচেনা আসামি জড়িত আছে কি না তা শনাক্তসহ গ্রেপ্তার;

 

>মামলার মূল রহস্য উদঘাটন।

 

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান।

 

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে।

 

রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

 

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

 

এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে এদিন দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়।

 

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

 

পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।