শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: বিচারকশূন্য ট্রাইব্যুনাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: বিচারকশূন্য ট্রাইব্যুনাল

একটি জেলার কয়েক হাজার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার একমাত্র আশ্রয়স্থল যখন দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বিচারকশূন্য থাকে, তখন তাকে কেবল প্রশাসনিক অবহেলা বললে ভুল হবে; বরং এটি বিচারপ্রক্রিয়ার একটি বড় অন্তরায়। সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বর্তমান চিত্র সেই রূঢ় বাস্তবতাকে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। ৪ হাজার ৩৪২টি মামলার স্তূপ আর কয়েক হাজার বিচারপ্রার্থীর অন্তহীন প্রতীক্ষা আমাদের বিচারিক কাঠামোর এক বড় দুর্বলতার দিকে আঙুল তুলছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাতক্ষীরার এই ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যার মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি রাখে। অথচ ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আদালতটি কার্যত অভিভাবকহীন। এর আগে একজন বিচারক যোগদান করলেও মাত্র মাস দেড়েকের মাথায় তার বদলি হয়ে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কিছু জরুরি কাজ করলেও মূল বিচারিক কার্যক্রমÑযেমন নতুন মামলা গ্রহণ, অভিযোগ গঠন বা সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মূল উদ্দেশ্যই হলো ভুক্তভোগীদের দ্রুততম সময়ে আইনি সুরক্ষা ও প্রতিকার দেওয়া। কিন্তু যখন মামলার জট ৪ হাজার ছাড়িয়ে যায় এবং বিচারক না থাকায় প্রতিদিন মানুষ কেবল নতুন তারিখ নিয়ে আদালত থেকে ফিরে যান, তখন আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা টলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই মানুষগুলো কেবল সময় এবং অর্থই ব্যয় করছেন না, তারা মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে মানবপাচার বা শিশুবিষয়ক স্পর্শকাতর মামলাগুলোর ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়া মানেই অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ বেড়ে যাওয়া এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়া।
আমরা মনে করি, একটি জেলার একমাত্র ট্রাইব্যুনালকে এভাবে ছয় মাস ধরে অচল রাখা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে রুটিন কাজ চালানো গেলেও হাজার হাজার মামলার জট কমানো অসম্ভব। মামলার সংখ্যা অনুযায়ী যেখানে আরও ট্রাইব্যুনাল বাড়ানো প্রয়োজন, সেখানে বিদ্যমান একটি আদালতকে বিচারকশূন্য রাখা চরম উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ।
আইন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, বিচারপ্রার্থীদের এই চরম ভোগান্তি লাঘবে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অবিলম্বে একজন স্থায়ী ও দক্ষ বিচারক নিয়োগ দেওয়া হোক। ন্যায়বিচারের পথ সুগম করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অংশ। সাতক্ষীরার বিচারপ্রার্থীদের এই দীর্ঘশ্বাস আর কতকাল দীর্ঘ হবে, সে প্রশ্নটি আমরা প্রশাসনের নিকট রাখতে চাই।

Ads small one

সাতক্ষীরায় শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা, উড়ছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা, উড়ছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা

পত্রদূত ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১২ দিন বাকি। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে উঠেছে সাতক্ষীরার শহর থেকে গ্রামাঞ্চল। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। প্রিয় দলের শক্তি-সামর্থ্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের দুর্বলতা নিয়ে তর্ক-বিতর্কে ব্যস্ত সময় পার করছেন সমর্থকরা। তবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি অন্যান্য দলের সমর্থকরাও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

 

গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার, বাড়িঘর, ঘরের দেয়াল এমনকি বাড়ির সামনে গাছের ডালেও শোভা পাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা। কোথাও কোথাও দেখা মিলছে অন্যান্য দেশের পতাকাও। বিশ্বকাপকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

 

আশাশুনি উপজেলার কাপসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন জানান, তিনি ক্রোয়েশিয়ার সমর্থক। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে তিনি এলাকার ঈদগাহ মাঠের গেট ক্রোয়েশিয়ার পতাকার আদলে তৈরি কাপড় দিয়ে সাজিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ক্রোয়েশিয়ার সমর্থক। তাই এবার ঈদগাহর গেট ক্রোয়েশিয়ার পতাকার আদলে সাজিয়েছি। আশা করছি, এবারের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ভালো করবে।

 

বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে শিশু-কিশোরদের মাঝেও। সাতক্ষীরা শহরের কালেক্টরেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সোয়াইব হক আর্জেন্টিনার খুদে সমর্থক। আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার মেসির ভক্ত সে। কয়েকদিন আগে দাদার কাছ থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি সংগ্রহ করেছে সোয়াইব। তবে স্কুল খোলা থাকা এবং বাড়ির টেলিভিশনের ডিশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবার সরাসরি খেলা দেখতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে তার। তাই দাদাকে অনুরোধ করেছে আর্জেন্টিনার সব ম্যাচ মোবাইলে রেকর্ড করে রাখতে।

 

বিশিষ্ট সাংবাদিক জি, এম মনিরুল ইসলাম মিনি রাত জেগে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি খেলা দেখেন। গত বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সাপোর্টার থাকলেও এবার তিনি ব্রাজিলের সাপোর্টার। ছেলে সেনা অফিসার আল ইমরান আদনান এর কোথায় তিনি আগের দলে ভিড়েছেন। তবে ছেলে আদনানের ধারণা এবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ান হবে ফ্রান্স।

এদিকে বিশ্বকাপ সামনে রেখে বেড়েছে ক্রীড়া সামগ্রীর বিক্রিও। সাতক্ষীরা শহরের বিউটি খেলাঘর প্লাসের মালিক সেলিম জানান, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

 

তিনি বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হতে আর কয়েকদিন বাকি। ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি বিক্রি শুরু হয়েছে। অনেকেই দুই দলের জার্সি কিনছেন। এছাড়া দু-একজন ক্রোয়েশিয়াসহ অন্যান্য দলের জার্সিও খুঁজছেন। তবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সিই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

 

বিশ্বকাপের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সমর্থকদের উন্মাদনা। প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি ও নানা সাজসজ্জায় ফুটে উঠছে বিশ্বকাপের রঙিন আবহ। শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই এখন একটাই আলোচনা, কে জিতবে এবারের বিশ্বকাপ।

দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৩০ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় মানিকমিয়া এভিনিউয়ে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তিনি।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীর ১৬টি স্থানে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শ্যামলী স্কয়ার, সরকারি বাংলা কলেজ এলাকা, পল্লবী মেট্রো স্টেশন, ইসিবি চত্বর, কুড়িল বিশ্বরোড, ফুজি ট্রেড সেন্টার, জোড়পুকুর খেলার মাঠ, বাংলাবাজার, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

গরমে র‍্যাশ-চুলকানি এড়াতে করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
গরমে র‍্যাশ-চুলকানি এড়াতে করণীয়

গরমকালে অনেকেই চুলকানি, র‌্যাশ বা ঘামাচির সমস্যায় ভোগেন। এই সময়ে আরো একটি সমস্যা দেখা দেয় তা হলো ‘নিকেল অ্যালার্জি’। আংটি, চুড়ি বা ঘড়ি অথবা ধাতব কিছু থেকে এক রকম চর্মরোগ হতে দেখা যায়। এতে ত্বকে জ্বালা, চুলকানি বাড়ে। কারো ত্বকে বড় বড় ফোস্কা পড়ে। ত্বকের রংও বদলে যায়।
ত্বক চিকিৎসকেরা বলেন, গরমের সময়ে হিট র‌্যাশ ও কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের সমস্যা বাড়ে। এর থেকে রেহাই পেতে ঘরোয়া কিছু টোটকাই কাজে আসতে পারে।

গরমে র‍্যাশ-চুলকানি এড়াতে করণীয়-

> গরমে গোসলের বিকল্প নেই। দুই থেকে তিনবার গোসল করুন। এতে ত্বক ঠান্ডা থাকবে। গোসলের সময় খুব বেশি সুগন্ধযুক্ত সাবান ব্যবহার করবেন না। হালকা বডিওয়াশ ব্যবহার করা ভালো। এতে ত্বকে পিএইচ ব্যালান্স বজায় থাকবে। প্রতিবার গোসলের পর অন্তর্বাসসহ পোশাক বদলে ফেলুন।

> গরমের সময় টাইট বা ফিটিং পোশাক পরা থেকে বিরত থাকুন। শরীরে যেন বাতাস প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। টাইট পোশাক পরলেই ত্বকে সংক্রমণ দেখা দেবে। মনে রাখবেন, ত্বকের যেসব স্থানে বেশি ঘাম হয়; সেসব স্থানগুলো যাতে পরিষ্কার ও খোলামেলা থাকে। তাহলেই র্যাশ বা ফুসকুড়ি উঠবে না।

> গোসলের আগে প্রতিবার ত্বকের আক্রান্ত স্থানে বরফের সেঁক নিতে পারেন। এতে জ্বালা-পোড়াভাব ও চুলকানি কমবে। একটি তোয়ালের মধ্যে কিছু বরফ নিয়ে পুরো শরীরে কিছু সময়ের জন্য সেঁক নিতে পারেন।

> চন্দন ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ রোধে জাদুকরী ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, চন্দন কাঠের গুঁড়োয় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যানালজেসিক আছে। যা ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ রোধ করে। পাশাপাশি আক্রান্ত স্থানের জ্বালা-পোড়াভাব কমায়। চন্দনের গুঁড়ো সঙ্গে পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখ, গলাসহ আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করতে পারেন।

> বেকিং সোডা ব্যবহারে ত্বকের চুলকানি বা প্রদাহ মুহূর্তেই কমে। এটি ত্বকের সংক্রমণ রোধে দুর্দান্ত একটি ঘরোয়া প্রতিষেধক। পানির সঙ্গে কয়েক টেবিল চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে গোসল করুন। এভাবে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে তারপর শরীরে পরিষ্কার পানি ঢেলে গোসল সম্পন্ন করুন।

> অ্যালোভেরার নির্যাস ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-সেপটিক উপাদান আছে। যা ত্বক ঠান্ডা করে সংক্রমণ কমায়। ত্বকের অস্বস্তি দূর করতে আক্রান্ত স্থানে অ্যালোভেরার রস ব্যবহার করতে পারেন।

সূত্র: আনন্দবাজার