রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: বিচারকশূন্য ট্রাইব্যুনাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: বিচারকশূন্য ট্রাইব্যুনাল

একটি জেলার কয়েক হাজার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার একমাত্র আশ্রয়স্থল যখন দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বিচারকশূন্য থাকে, তখন তাকে কেবল প্রশাসনিক অবহেলা বললে ভুল হবে; বরং এটি বিচারপ্রক্রিয়ার একটি বড় অন্তরায়। সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বর্তমান চিত্র সেই রূঢ় বাস্তবতাকে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। ৪ হাজার ৩৪২টি মামলার স্তূপ আর কয়েক হাজার বিচারপ্রার্থীর অন্তহীন প্রতীক্ষা আমাদের বিচারিক কাঠামোর এক বড় দুর্বলতার দিকে আঙুল তুলছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাতক্ষীরার এই ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যার মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি রাখে। অথচ ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আদালতটি কার্যত অভিভাবকহীন। এর আগে একজন বিচারক যোগদান করলেও মাত্র মাস দেড়েকের মাথায় তার বদলি হয়ে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কিছু জরুরি কাজ করলেও মূল বিচারিক কার্যক্রমÑযেমন নতুন মামলা গ্রহণ, অভিযোগ গঠন বা সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মূল উদ্দেশ্যই হলো ভুক্তভোগীদের দ্রুততম সময়ে আইনি সুরক্ষা ও প্রতিকার দেওয়া। কিন্তু যখন মামলার জট ৪ হাজার ছাড়িয়ে যায় এবং বিচারক না থাকায় প্রতিদিন মানুষ কেবল নতুন তারিখ নিয়ে আদালত থেকে ফিরে যান, তখন আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা টলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই মানুষগুলো কেবল সময় এবং অর্থই ব্যয় করছেন না, তারা মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে মানবপাচার বা শিশুবিষয়ক স্পর্শকাতর মামলাগুলোর ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়া মানেই অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ বেড়ে যাওয়া এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়া।
আমরা মনে করি, একটি জেলার একমাত্র ট্রাইব্যুনালকে এভাবে ছয় মাস ধরে অচল রাখা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে রুটিন কাজ চালানো গেলেও হাজার হাজার মামলার জট কমানো অসম্ভব। মামলার সংখ্যা অনুযায়ী যেখানে আরও ট্রাইব্যুনাল বাড়ানো প্রয়োজন, সেখানে বিদ্যমান একটি আদালতকে বিচারকশূন্য রাখা চরম উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ।
আইন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, বিচারপ্রার্থীদের এই চরম ভোগান্তি লাঘবে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অবিলম্বে একজন স্থায়ী ও দক্ষ বিচারক নিয়োগ দেওয়া হোক। ন্যায়বিচারের পথ সুগম করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অংশ। সাতক্ষীরার বিচারপ্রার্থীদের এই দীর্ঘশ্বাস আর কতকাল দীর্ঘ হবে, সে প্রশ্নটি আমরা প্রশাসনের নিকট রাখতে চাই।

Ads small one

পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাণিজ্যিক কেন্দ্রে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১০ মে) বিকেলে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সরকারি আদেশ অমান্য করায় অভিযুক্তকে জরিমানাও করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী মৌজার ১৪৯ দাগের ‘ক’ তপশিলভুক্ত সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করছিলেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন পরিদর্শন করে অবৈধ নির্মাণের প্রমাণ পান।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন তালা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, মাত্র এক শতক সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি আদেশ অমান্য করার দায়ে দ-বিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় নির্মাণাধীন স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে জমি উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জনস্বার্থে কোনো অবৈধ দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

এমএ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জাল ডাক্তারি সনদ বিক্রি করে আসছিল ‘প্যারামেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন’ (পিটিএফ) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গতকাল রোববার (১০ মে) দুপুরে যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা অভিযান চালিয়ে ভুয়া এই প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দিয়েছেন।
এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেকসোনা খাতুন এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছিলেন। সে সময় জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এ কে আজাদ ওরফে ইকতিয়ারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে লোকচক্ষুর অন্তরালে চক্রটি তাদের জাল সনদ বিক্রির বাণিজ্য অব্যাহত রাখে।
২০১৬ সালে খুলনার যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (জয়েন্ট স্টক) থেকে নিবন্ধন নিয়ে কেশবপুর শহরের মাইকেল মোড়ে একটি ভাড়া বাসায় পিটিএফের ‘কেন্দ্রীয় হেড অফিস’ খোলেন আবুল কালাম আজাদ। এরপর ডিএমএফ, প্যাথলজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফিসহ ৫৬টি ট্রেডে সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে ট্রেনিং সেন্টার শুরু করেন। আকর্ষণীয় লিফলেটের প্রলোভনে পড়ে বেকার যুবকরা এখানে আসতেন এবং কোর্সভেদে ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া ডাক্তারি সনদ হাতিয়ে নিতেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যবিষয়ক যেকোনো ট্রেনিং বা সনদ প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ কে আজাদ জয়েন্ট স্টকের একটি সাধারণ নিবন্ধনকে পুঁজি করে গত ১১ বছর ধরে অবৈধভাবে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। সরকারি তদারকি না থাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, “পিটিএফ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুয়া সনদ বিক্রি করছেÑএমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তারা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খরিয়াটি গ্রামে স্বামীর গচ্ছিত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে এক গৃহবধূর পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খরিয়াটি হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা আব্দুস সবুর সরদার এই ঘটনায় খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন ও নিজের স্ত্রী রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে আব্দুস সবুরের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আব্দুস সবুর বাড়িতে না থাকার সুযোগে রেশমা খাতুন দুই সন্তানকে ফেলে খোকনের সঙ্গে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি মাদ্রাসার সঞ্চয় তহবিলের নগদ ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা এবং ৩ ভরি ২ আনা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী আব্দুস সবুর জানান, রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংগৃহীত মাদ্রাসার টাকা ব্যাংক ছুটি থাকায় তিনি বাড়িতে রেখেছিলেন। স্ত্রী ও অর্থসম্পদ হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব। মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে। এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে তিনি এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আদালতে সিআর ১৫৯/২৬ (আশাশুনি) নং মামলা দায়ের করার পর আসামিরা বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী ০৮ নং আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।