রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: বিদ্যুৎ সাশ্রয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: বিদ্যুৎ সাশ্রয়

বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ সাশ্রয় বিষয়ক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যে তথ্যচিত্র উঠে এসেছে, তা কেবল চোখ খুলে দেওয়ার মতো নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তনের জন্য এক বড় বার্তা। সভায় জানানো হয়েছে, সাতক্ষীরা জেলাতেই বর্তমানে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। এই বিপুলসংখ্যক গ্রাহক যদি স্রেফ সচেতন হয়ে প্রতিদিন মাত্র ১ ইউনিট করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারেন, তবে জেলাজুড়েই বছরে প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সচেতনতা যে কত বড় অর্থনৈতিক ও জাতীয় সম্পদে রূপ নিতে পারে, এই হিসাব তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আমাদের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারকে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তথ্যমতে, সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ প্রায় ১৩ টাকা ০৯ পয়সায় ক্রয় করে তা আবাসিক গ্রাহকদের কাছে মাত্র ৪ টাকার কাছাকাছি দরে সরবরাহ করছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটানো হয় জনগণের করের টাকায়। সুতরাং, ভর্তুকি মূল্যের এই রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা আমাদের প্রত্যেকের নাগরিক দায়িত্ব। বিদ্যুৎ কেবল একটি সেবা নয়, এটি দেশের অগ্রগতির জ্বালানি। আমরা যখন ঘরে বা অফিসে অপ্রয়োজনীয় একটি বাতি জ্বালিয়ে বা ফ্যান চালিয়ে রাখি, তখন শুধু নিজের পকেটের টাকাই নষ্ট করি না, বরং দেশের অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করি।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এখন বড় কোনো ত্যাগের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন কেবল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও সদিচ্ছার। বাজারে এখন ইনভার্টার প্রযুক্তিসম্পন্ন এসি বা ফ্রিজ পাওয়া যায়, যা সাধারণ যন্ত্রপাতির তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম। এ ছাড়া সাধারণ টাংস্টেন বাল্বের পরিবর্তে এলইডি লাইট এবং সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারের মাধ্যমে অনায়াসেই বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব। দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অফিস বা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বৈদ্যুতিক সুইচের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মতো ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এই বার্তাই দেয় যে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লড়াইটি একক কোনো উদ্যোগ নয়, এটি একটি সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রতিটি গৃহকোণে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুতের ব্যবহার পরিহারের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
মনে রাখতে হবে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে আমরা যত বেশি সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হব, ব্যক্তি হিসেবে আমরা নিজেরা যেমন আর্থিক সুবিধা পাব, তেমনি রাষ্ট্রও এক বিশাল অর্থনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত হবে। সাশ্রয়কৃত এই বিদ্যুৎ দিয়ে দেশের কলকারখানা ও উৎপাদনশীল খাতকে সচল রাখা সম্ভব, যা চূড়ান্ত বিচারে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। আসুন, বিদ্যুৎ অপচয় রোধে আমরা নিজেরা সচেতন হই এবং অন্যকেও উদ্বুদ্ধ করি। আমাদের একটি ছোট সচেতন পদক্ষেপই পারে দেশকে আরও অন্ধকারমুক্ত ও সমৃদ্ধিশালী করতে।

Ads small one

দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ পূর্বাহ্ণ
দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ড এবং স্পেনের কাছে ফ্রান্সের বিদায়ের পর দুই দলের সমর্থকদের মাঝেই যেন বিশ্বকাপের আমেজ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ৩টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য দুই ইউরোপীয় জায়ান্টের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী বা ব্রোঞ্জ মেডেল ম্যাচে। ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগমুহূর্তেও ফিফার অফিসিয়াল সাইটগুলোতে হাজার হাজার টিকিট অবিক্রিত পড়ে রয়েছে।

ফিফার টিকিট পোর্টাল এবং অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের এই ম্যাচটি ঘিরে এখনও প্রায় ৭,০০০ টিকিট অবিক্রিত অবস্থায় তালিকাভুক্ত রয়েছে। সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১,২৪৬টি টিকিট অবিক্রিত আছে, যার একেকটির মূল্য হাঁকা হচ্ছে ৮৬৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৫৭ পাউন্ড) থেকে ১,১২৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৫৫ পাউন্ড) পর্যন্ত।

সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে অফিসিয়াল রিসেল বা পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্মে। সেখানে প্রায় ৫,৮৬৪টি টিকিট বিক্রির জন্য জমা পড়ে আছে। সমর্থকরা তাদের কেনা টিকিট নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিতে চাইছেন। সবচেয়ে সস্তা ক্যাটাগরি-৩-এর টিকিটগুলো ফেস ভ্যালু ৪৫৫ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে (এর সঙ্গে ফিফার ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত ফি যুক্ত হবে)।

ম্যাচের আকর্ষণ ও দর্শক আগ্রহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে প্রিমিয়াম বা ক্যাটাগরি-১-এর টিকিটগুলোতে। যে টিকিটগুলোর মূল ক্রয়মূল্য ছিল ১,১২৫ ডলার, সেগুলো এখন প্রায় অর্ধেক বা বিশাল ডিসকাউন্টে মাত্র ৬৫৯ ডলারে রিসেল প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:১০ পূর্বাহ্ণ
মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের মহারণে নামার ঠিক আগের দিন বড়সড় ধাক্কা খেলো স্পেন শিবির। নিউজার্সির বৈরী আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি আর ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন করতে পারলো না লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। প্রবল বৃষ্টি ও লাগাতার বজ্রপাতের কারণে শনিবারের (১৮ জুলাই) নির্ধারিত শেষ দিনের পুরো অনুশীলন সেশনটিই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার নিউজার্সির হুইপ্যানিতে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়) স্পেনের অনুশীলনে নামার কথা ছিল। স্প্যানিশরা এই সেশনের জন্য বেছে নিয়েছিল নিউইয়র্ক রেড বুলসের সাবেক অনুশীলন কেন্দ্র এবং বর্তমানে এনডব্লিউএসএল ক্লাব গথাম এফসির ভবিষ্যৎ ট্রেনিং কমপ্লেক্সটি। কিন্তু সকাল থেকেই শুরু হয় তীব্র বজ্রঝড়। প্রথমে অনুশীলন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুরো সেশনই বাতিল ঘোষণা করা হয়। মাঠে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা সংবাদকর্মীদেরও নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত কর্মক্ষেত্রের ভবনের ভেতরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রে বজ্রঝড় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নিখুঁত ও কঠোর, তা প্রকাশ পেয়েছে মাঠের এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, অনুশীলন বা ম্যাচ ভেন্যুর ৮ মাইলের মধ্যে কোথাও বজ্রপাত শনাক্ত হলেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের সব ধরনের কার্যক্রম সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত করা হয়। এরপর প্রতি ৩০ মিনিট পরপর পরিস্থিতি গভীরভাবে মূল্যায়ন বা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বজ্রপাতের এই ঝুঁকি যখন পুরোপুরি কেটে যায়, তখনই কেবল নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ‘অল ক্লিয়ার’ সংকেত দেওয়া হয়। এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশের অনুমতি পান। তবে শনিবার সকালে হুইপ্যানির পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে স্পেনকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়াই সম্ভব হয়নি।

চলতি বিশ্বকাপজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ভেন্যুগুলোতে একই বজ্রঝড়-সংক্রান্ত কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। এর আগে এই নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে চলমান টুর্নামেন্টের একাধিক ম্যাচের সময়সূচিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল। কোনও কোনও ম্যাচ দীর্ঘ সময় স্থগিতও রাখতে হয়েছিল।

বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় (স্থানীয় সময় সন্ধ্যা) নিউজার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। যেখানে আর্জেন্টিনা দল তাদের প্রস্তুতি ঠিকঠাক সারতে পেরেছে, সেখানে অনুশীলনের এই ঘাটতি স্পেনের জন্য কতটা ভোগান্তি বাড়াবে তা বলা মুশকিল। তবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা— নিউজার্সির এই বৈরী আবহাওয়া ফাইনালকেও কোনও বিঘ্নের মুখে ফেলে কি না!

বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কারই নয়, এটি মর্যাদা ও ঐতিহ্যেরও প্রতীক। সেই ট্রফিকে ফাইনালের মঞ্চে নিয়ে যেতে এবারও বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান লুই ভিতোঁ। ২০১০ সাল থেকে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপে এই দায়িত্ব পালন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বিশেষভাবে তৈরি লুই ভিতোঁর এই ট্রাঙ্কে করেই মাঠে আনা হবে বিশ্বকাপ ট্রফি।

বিশেষ এই ট্রাঙ্কের সামনে রয়েছে সোনালি রঙের ইংরেজি অক্ষর ‘ভি’। যা একদিকে ভিক্টরি তথা জয় -এর প্রতীক, অন্যদিকে ভিতোঁর আলাদা পরিচয় বহন করছে। ট্রাঙ্কজুড়ে রয়েছে লুই ভিতোঁর পরিচিত নকশা এবং সোনালি আবরণযুক্ত পিতলের কর্নার প্রটেক্টর।

এটি টানা পঞ্চম বিশ্বকাপ যেখানে ট্রফির জন্য বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে লুই ভিতোঁ। এর আগে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও একই দায়িত্ব পালন করেছিল ফরাসি এই বিলাসবহুল ব্র্যান্ড।