মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: শ্রমিকের অধিকার ও আগামীর বাংলাদেশ: মহান মে দিবস ২০২৬

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: শ্রমিকের অধিকার ও আগামীর বাংলাদেশ: মহান মে দিবস ২০২৬

১৮৮৬ সালের ১ মে শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিকদের বুকের রক্তে ভেজা সেই অধিকার আদায়ের লড়াই আজ এক বৈশ্বিক চেতনার নাম। ২০২৬ সালের এই মে দিবসে দাঁড়িয়ে আমরা যখন পেছনে ফিরে তাকাই, তখন দেখি শ্রমিকের অধিকার আর মর্যাদা রক্ষার লড়াইটি কেবল আট ঘণ্টা শ্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা এখন উন্নত কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এই যুগে শ্রমিকের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক নতুন চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে।
বিগত দশকগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তরণের এই যাত্রায় প্রধান কারিগর হলেন আমাদের মেহনতি মানুষ। পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণÑসবখানেই শ্রমিকের ঘামের গন্ধ মিশে আছে।
তবে মুদ্রাস্ফীতি আর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই সময়ে প্রশ্ন জাগে, শ্রমিক কি তার ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে? বাজারের ঊর্ধ্বগতির সাথে পাল্লা দিয়ে শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি আজও অনেক ক্ষেত্রে অপূর্ণাঙ্গ। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডির পর অনেক উন্নতি হলেও, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিশাল এক অংশ আজও রয়ে গেছে সব ধরনের সুরক্ষার বাইরে।
২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা এক নতুন সংকটের মুখোমুখি। প্রযুক্তির দ্রুত উত্থান বা অটোমেশন অনেক ক্ষেত্রে কায়িক শ্রমের জায়গা দখল করে নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়ন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার লড়াই। প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হলে সাধারণ শ্রমিকদের আধুনিক যন্ত্রপাতির সাথে পরিচিত করা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। চাকরির নিরাপত্তায় যন্ত্র যেন মানুষের বিকল্প না হয়ে পরিপূরক হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
মে দিবস মানে কেবল বর্ণিল র‌্যালি বা বক্তৃতার মঞ্চ নয়। মে দিবসের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে শ্রমিকের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মধ্যে। আমাদের মনে রাখতে হবেÑশ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দেওয়া ইসলামের শিক্ষা এবং আধুনিক শ্রম আইনের মূল ভিত্তি। অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা বার্ধক্যে শ্রমিকের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাষ্ট্রীয় বীমা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। কাগজে-কলমে থাকা আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগ মাঠ পর্যায়ে নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবেÑ”শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্কই হলো টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি।”
পরিশেষে, ২০২৬ সালের এই মে দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোকÑএমন এক বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে কোনো শ্রমিক শোষিত হবে না। শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা কোনো দয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত। মে দিবসের লাল সালাম পৌঁছে যাক বাংলার প্রতিটি কলকারখানা আর মেহনতি মানুষের ঘরে ঘরে। জয় হোক মেহনতি মানুষের।

Ads small one

পাইকগাছায় ৩ ‘শ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে এলপিজি গ্যাস!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় ৩ ‘শ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে এলপিজি গ্যাস!

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা। বাজারে চাহিদামতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। পরিচিত কয়েকটি কোম্পানির সিলিন্ডার খুঁজে পেতেও দোকানে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কোথাও সরবরাহ না থাকায় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে, আবার কোথাও বেশি দাম দিয়েও কিনতে হচ্ছে রান্নার জ্বালানি।

ভোক্তাদের অভিযোগ, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার বর্তমানে পাইকগাছার বিভিন্ন বাজারে ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ চলতি অক্টোবর মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। সে হিসাবে প্রতি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪১৩ থেকে ৪৬৩ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বাজারে যমুনা, ফ্রেশ, বসুন্ধরা, ওমেরা, বিএম ও টোটালের মতো পরিচিত ব্র্যান্ডের সিলিন্ডারের সরবরাহ কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা। তাঁদের ভাষ্য, কোনো কোনো দোকানে নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও অন্য ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার মিলছে না। এতে পছন্দের ব্র্যান্ডের গ্যাস কেনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। পাইকগাছার গৃহিণী আসমা বেগম বলেন, রান্নার জন্য গ্যাস প্রয়োজন হলেও চাহিদামতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। দু-একটি কোম্পানির সিলিন্ডার মিললেও খালি সিলিন্ডার বদলে গ্যাস নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। ফলে নতুন সিলিন্ডারসহ গ্যাস কিনতে হচ্ছে।

আসমা বেগমের ভাষ্য, নতুন সিলিন্ডারসহ ১২ কেজি গ্যাস কিনতে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। সংসারের অন্যান্য খরচের সঙ্গে বাড়তি এই ব্যয় সামলাতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

স্থানীয় ভোক্তারা জানান, গ্যাসের সংকট ও বাড়তি দামের কারণে রান্নার খরচ বেড়ে গেছে। অনেকেই একাধিক দোকানে খোঁজ করেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। আবার রান্নার প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের। বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

 

সরবরাহের ঘাটতি, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কিংবা কৃত্রিম সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোন কোম্পানির সিলিন্ডার কতটা সরবরাহ করা হচ্ছে এবং খুচরা পর্যায়ে কী দামে বিক্রি হচ্ছে, তা নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বসুন্ধরা এলপিজির উপকূলীয় চার উপজেলার পরিবেশক কপিলমুনির মেসার্স নির্মাণ বিপণির স্বত্বাধিকারী বিপ্লব কুমার সাধু বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাসিক চাহিদা ১২ হাজার সিলিন্ডার। কিন্তু গত মাসে কোম্পানি থেকে মাত্র ২ হাজার ৭০০টি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। চলতি মাসে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এ কারণে বাজারে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহের এই ঘাটতির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। পাইকগাছা বাজারের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা আল-মুনসুর বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। এ কারণে তাঁরা চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। যেসব ব্যবসায়ীর কাছে আগে থেকে মজুত ছিল, তাঁদের কেউ কেউ বেশি দামে বিক্রি করেছেন। কপিলমুনি বাজারের শ্রীরামপুর মোড় এলাকার কনক সাহার বিরুদ্ধে বসুন্ধরা গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি ২২ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলপিজি ডিলারদের নিয়ে সভা হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্দেশনা দেওয়ার পরও বাজারে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি এবং সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। ফলে সিলিন্ডার থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পাওয়া এবং বেশি দাম দিয়ে কেনার ভোগান্তি থেকেই যাচ্ছে।

ওভিসিতে নাঈলা নাঈম, পরিচালনায় সৈকত রেজা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
ওভিসিতে নাঈলা নাঈম, পরিচালনায় সৈকত রেজা

নতুন একটি ওভিসিতে মডেল হয়েছেন নাঈলা নাঈম। একটি মোবাইল প্রতিষ্ঠানের মডেল হিসেবে দেখা গেছে তাকে। তার সঙ্গে এতে আরও আছেন সজীব জমাদ্দার।

বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছেন সৈকত রেজা। সম্প্রতি এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে এসেছে।

নির্মাতা জানান, ‘বিএফডিসিতে সিনেমাটিক প্যাটার্নে ওভিসিটির শুটিং হয়েছে।

 

সৈকত রেজা বলেন, ‘এই ওভিসিতে নাঈলা নাঈমকে অ্যাকশন মুডে উপস্থাপন করেছি। বিজ্ঞাপনটি পুরো না দেখলে বোঝা যাবে না এটি কী? আমি চেষ্টা করেছি সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষদের কানেক্ট করার জন্য। এর মধ্যে অনেকে ওভিসিটির প্রশংসা করেছেন।’

নাঈলা নাঈম ন্টাল সার্জারিতে (বিডিএস) পড়াশোনা সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে মিডিয়া অঙ্গনে যুক্ত হন। ক্যারিয়ারের শুরুতে র‌্যাম্প মডেলিং ও বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। পরে আইটেম গান, টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রেও কাজ করেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক ইস্যু নিয়েও কাজ করছেন।

আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার-এক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার-এক

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে সিআর-২৩৪/২৫ মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিদুর রহমান নিজেই অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত মো. হারুনার রশিদ (পরিচয় অনুযায়ী), আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের নাংলা গ্রামের আব্দুল গফফার মোড়লের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার আসামি হারুনার রশিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ওসি শাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়।