শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: শ্রমিকের অধিকার ও আগামীর বাংলাদেশ: মহান মে দিবস ২০২৬

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: শ্রমিকের অধিকার ও আগামীর বাংলাদেশ: মহান মে দিবস ২০২৬

১৮৮৬ সালের ১ মে শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিকদের বুকের রক্তে ভেজা সেই অধিকার আদায়ের লড়াই আজ এক বৈশ্বিক চেতনার নাম। ২০২৬ সালের এই মে দিবসে দাঁড়িয়ে আমরা যখন পেছনে ফিরে তাকাই, তখন দেখি শ্রমিকের অধিকার আর মর্যাদা রক্ষার লড়াইটি কেবল আট ঘণ্টা শ্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা এখন উন্নত কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এই যুগে শ্রমিকের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক নতুন চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে।
বিগত দশকগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তরণের এই যাত্রায় প্রধান কারিগর হলেন আমাদের মেহনতি মানুষ। পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণÑসবখানেই শ্রমিকের ঘামের গন্ধ মিশে আছে।
তবে মুদ্রাস্ফীতি আর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই সময়ে প্রশ্ন জাগে, শ্রমিক কি তার ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে? বাজারের ঊর্ধ্বগতির সাথে পাল্লা দিয়ে শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি আজও অনেক ক্ষেত্রে অপূর্ণাঙ্গ। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডির পর অনেক উন্নতি হলেও, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিশাল এক অংশ আজও রয়ে গেছে সব ধরনের সুরক্ষার বাইরে।
২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা এক নতুন সংকটের মুখোমুখি। প্রযুক্তির দ্রুত উত্থান বা অটোমেশন অনেক ক্ষেত্রে কায়িক শ্রমের জায়গা দখল করে নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়ন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার লড়াই। প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হলে সাধারণ শ্রমিকদের আধুনিক যন্ত্রপাতির সাথে পরিচিত করা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। চাকরির নিরাপত্তায় যন্ত্র যেন মানুষের বিকল্প না হয়ে পরিপূরক হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
মে দিবস মানে কেবল বর্ণিল র‌্যালি বা বক্তৃতার মঞ্চ নয়। মে দিবসের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে শ্রমিকের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মধ্যে। আমাদের মনে রাখতে হবেÑশ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দেওয়া ইসলামের শিক্ষা এবং আধুনিক শ্রম আইনের মূল ভিত্তি। অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা বার্ধক্যে শ্রমিকের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাষ্ট্রীয় বীমা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। কাগজে-কলমে থাকা আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগ মাঠ পর্যায়ে নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবেÑ”শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্কই হলো টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি।”
পরিশেষে, ২০২৬ সালের এই মে দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোকÑএমন এক বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে কোনো শ্রমিক শোষিত হবে না। শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা কোনো দয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত। মে দিবসের লাল সালাম পৌঁছে যাক বাংলার প্রতিটি কলকারখানা আর মেহনতি মানুষের ঘরে ঘরে। জয় হোক মেহনতি মানুষের।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।