বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে দস্যুতা এবং আমাদের নিরাপত্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে দস্যুতা এবং আমাদের নিরাপত্তা

দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর সুন্দরবন আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে জলদস্যু ‘আলিম’ ও ‘নানাভাই’ বাহিনীর হাতে অন্তত ২২ জন জেলের অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনা উপকূলীয় জনপদে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একই সময়ে দাকোপের ইকো রিসোর্টে পর্যটকদের ওপর হামলা এবং সরকারি এক কর্মীকে অপহরণের ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সুন্দরবনের গহিন অরণ্য ও পার্শ্ববর্তী লোকালয়ে দস্যুরা আবারও শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করছে।
২০১৮ সালে সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ছিল সরকারের এক অনন্য সাফল্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সেই অর্জন এখন হুমকির মুখে। উদ্বেগের বিষয় হলো, লোকালয় থেকে মাত্র ১০-১২ মিনিটের দূরত্বে থাকা নদী বা খাল থেকেও জেলেদের অনায়াসে তুলে নিয়ে যাচ্ছে দস্যুরা। এটি বন ও লোকালয় সংলগ্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও সক্রিয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। ফিরে আসা জেলেদের ভাষ্যমতে, বন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ’ নিচ্ছে দস্যুরা। যখন বনজীবীরা বৈধ পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে বনে গিয়েও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তখন তা কেবল তাদের জীবিকাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং দেশের সুনীল অর্থনীতির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অত্যন্ত আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, মুক্তিপণের দাবিতে প্রজনন কর্মীকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে আটককৃতদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যারা ২০১৭ সালে ‘আত্মসমর্পণকারী’ জলদস্যু। এটি একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। এর অর্থ হলো, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় হয়তো কোনো ফাঁক রয়ে গেছে অথবা তাদের কর্মকা-ের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি পর্যাপ্ত ছিল না। যদি আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা আবারও পুরনো পথে ফিরে আসে, তবে তা সাধারণ বনজীবীদের জন্য আরও ভয়াবহ বার্তা বহন করে।
তবে অন্ধকারের মধ্যেও আশার আলো দেখিয়েছে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ। দাকোপে পর্যটকদের ওপর হামলায় জড়িতদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার এবং পুলিশের তৎপরতায় প্রজনন কর্মীর উদ্ধার দস্যুদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা। কিন্তু কেবল বিচ্ছিন্ন উদ্ধার অভিযানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান।
সুন্দরবনকে পুনরায় দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ করতে হলে সমন্বিত টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে কদমতলা, কৈখালী ও হরিনগর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও বন বিভাগের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সাথে, সুন্দরবনের ভেতরে থাকা ছোট ছোট খালগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে যাতে দস্যুরা কোনো স্থায়ী আস্তানা গড়তে না পারে।
উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকা সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। তাদের এই নির্ভীক চলাচল নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আশা করি, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমান পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং দস্যুদের শিকড় উৎপাটনে পুনরায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে সুন্দরবনের শান্তি ফিরিয়ে আনবে।

Ads small one

জলবায়ু সংকটে উপকূলীয় নারী: সংকট ছাপিয়ে সম্ভাবনার খোঁজে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু সংকটে উপকূলীয় নারী: সংকট ছাপিয়ে সম্ভাবনার খোঁজে

নিজস্ব প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ সাতক্ষীরায় উপকূলীয় নারীদের জীবনসংগ্রাম ও সম্ভাবনা নিয়ে জেলা পর্যায়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘জলবায়ু ও নারী: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউএন উইমেনের অর্থায়নে ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) সহযোগিতায় ‘এম্পাওয়ার: ওমেন ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট সোসাইটিজ (ফেজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় এই সভার আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটি বর্তমানে শ্যামনগরে ‘বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠন’ এবং কালিগঞ্জে ‘প্রেরণা’ বাস্তবায়ন করছে। বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক জান্নাতুল মাওয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল। সভাপতির সূচনা বক্তব্যে জান্নাতুল মাওয়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরার উপকূলীয় নারীদের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম, লবণাক্ততার কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দুর্যোগের মধ্যেও তাঁদের অদম্য মানসিকতার কথা তুলে ধরেন। সভায় মূল প্রবন্ধ (কী-নোট) উপস্থাপন করেন প্রেরণার প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর দীপিকা রাণী।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন, সিভিল জজ ও লিগ্যাল এইড অফিসার লিটন দাস এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি।
এছাড়া জেলা মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। ইউএন উইমেনের পক্ষে কাজী রাবেয়া এমি এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষে নাছরিন আহমেদ জলবায়ু অভিযোজনে জেন্ডার সংবেদনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া ডাব্লিউ ক্যান ও জিহা সংগঠনের সদস্যরা তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় নারীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও জীবিকা চরম সংকটের মুখে। তবে এই সংকট ছাপিয়ে অনেক নারী জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও বিকল্প জীবিকার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কানিজ শাইমা।

কলারোয়ায় সোনাই নদীতে অবৈধ পাটা ও নেট অপসারণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় সোনাই নদীতে অবৈধ পাটা ও নেট অপসারণ

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় সোনাই নদীতে অবৈধ পাটা ও নেট অপসারণ করা হয়। মঙ্গলবার কলারোয়া সীমান্তবর্তীগ্রামের সোনাই নদীর ব্রীজ সংলগ্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নদীতে দেওয়া ১৫টি চায়না ও ১০টি মশারি জাল জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম। এসসয় উপস্থিত ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ এইচএম শাহীন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাইদুর রেজা, উপজেলা সরকারি প্রোগ্রামার মোতাহার হোসেন, বিজিবির মাদরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার প্রমুখ। জব্দকৃত জাল স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে খোলপেটুয়া নদীতে রাতে অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে খোলপেটুয়া নদীতে রাতে অভিযান

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভাঙন কবলিত খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত খোলপেটুয়া নদীর শ্যামনগরের বিভিন্ন অংশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) রাশেদ হোসাইনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপ-পরিদর্শক আনোয়ার জাহিদ ও কনস্টেবল শাহিন।
উপজেলা সহকারী কমিশার (ভুমি) রাশেদ হোসাইন জানান, এখন কোন বালুমহাল নেই শ্যামনগরে। কিন্তু কিছু ব্যক্তি ইজারা না থাকা সত্ত্বেও ভাঙন কবলিত খোলপেটুয়ার বিভিন্ন অংশ হতে বালু উত্তোলন করছে। যার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা মত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জড়িতদের আটক করতে রাতে অভিযান চালানো হয়। পরবর্তীতে একই ধারা অব্যাহত থাকবে।