বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে দস্যুতা এবং আমাদের নিরাপত্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে দস্যুতা এবং আমাদের নিরাপত্তা

দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর সুন্দরবন আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে জলদস্যু ‘আলিম’ ও ‘নানাভাই’ বাহিনীর হাতে অন্তত ২২ জন জেলের অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনা উপকূলীয় জনপদে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একই সময়ে দাকোপের ইকো রিসোর্টে পর্যটকদের ওপর হামলা এবং সরকারি এক কর্মীকে অপহরণের ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সুন্দরবনের গহিন অরণ্য ও পার্শ্ববর্তী লোকালয়ে দস্যুরা আবারও শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করছে।
২০১৮ সালে সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ছিল সরকারের এক অনন্য সাফল্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সেই অর্জন এখন হুমকির মুখে। উদ্বেগের বিষয় হলো, লোকালয় থেকে মাত্র ১০-১২ মিনিটের দূরত্বে থাকা নদী বা খাল থেকেও জেলেদের অনায়াসে তুলে নিয়ে যাচ্ছে দস্যুরা। এটি বন ও লোকালয় সংলগ্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও সক্রিয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। ফিরে আসা জেলেদের ভাষ্যমতে, বন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ’ নিচ্ছে দস্যুরা। যখন বনজীবীরা বৈধ পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে বনে গিয়েও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তখন তা কেবল তাদের জীবিকাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং দেশের সুনীল অর্থনীতির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অত্যন্ত আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, মুক্তিপণের দাবিতে প্রজনন কর্মীকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে আটককৃতদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যারা ২০১৭ সালে ‘আত্মসমর্পণকারী’ জলদস্যু। এটি একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। এর অর্থ হলো, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় হয়তো কোনো ফাঁক রয়ে গেছে অথবা তাদের কর্মকা-ের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি পর্যাপ্ত ছিল না। যদি আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা আবারও পুরনো পথে ফিরে আসে, তবে তা সাধারণ বনজীবীদের জন্য আরও ভয়াবহ বার্তা বহন করে।
তবে অন্ধকারের মধ্যেও আশার আলো দেখিয়েছে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ। দাকোপে পর্যটকদের ওপর হামলায় জড়িতদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার এবং পুলিশের তৎপরতায় প্রজনন কর্মীর উদ্ধার দস্যুদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা। কিন্তু কেবল বিচ্ছিন্ন উদ্ধার অভিযানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান।
সুন্দরবনকে পুনরায় দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ করতে হলে সমন্বিত টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে কদমতলা, কৈখালী ও হরিনগর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও বন বিভাগের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সাথে, সুন্দরবনের ভেতরে থাকা ছোট ছোট খালগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে যাতে দস্যুরা কোনো স্থায়ী আস্তানা গড়তে না পারে।
উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকা সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। তাদের এই নির্ভীক চলাচল নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আশা করি, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমান পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং দস্যুদের শিকড় উৎপাটনে পুনরায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে সুন্দরবনের শান্তি ফিরিয়ে আনবে।

Ads small one

কলারোয়ায় আধুনিক মৎস্য ও গবাদিপশু পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় আধুনিক মৎস্য ও গবাদিপশু পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আধুনিক মৎস্য ও গবাদিপশু চাষে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ব্রজবাকসা বাজারে ‘নিউ হোপ পোল্ট্রি এন্ড ফিস ফিড’-এর পরিবেশক মেসার্স হাফিজ ট্রেডার্স-এর উদ্যোগে এবং এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সার্বিক সহায়তায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় এলাকার প্রায় ৪০ জন নিবন্ধিত ও স্থানীয় মৎস্য চাষী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে চাষীদের গুণগত মানসম্মত ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টের সঠিক ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রশিক্ষণ প্রদানকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আকরামুল কবীর, সহকারী ম্যানেজার সাজ্জাদ আরেফিন এবং সিনিয়র অফিসার রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন- কলারোয়ার মার্কেটিং অফিসার রবিউল ইসলাম।

 

 

শহরের কামালনগর: নোংরা পানি মাড়িয়েই স্কুলে যাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
শহরের কামালনগর: নোংরা পানি মাড়িয়েই স্কুলে যাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

সংবাদদাতা: সামান্য বৃষ্টি হলেই যেন নরকযন্ত্রণায় পরিণত হয় কামালনগর উদয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তাটি। ড্রেন উপচে আসা কাদা আর নোংরা পানিতে একাকার হয়ে পড়া এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বিদ্যালয়টির কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাস্তার পাশ ঘেঁষে থাকা ড্রেনের দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরাসরি সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে। চলাচলের বিকল্প কোনো পথ না থাকায় প্রতিদিন সকালে এই নোংরা পানি মাড়িয়েই ক্লাসে যেতে বাধ্য হচ্ছে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা।

 

দীর্ঘদিন ধরে জমা এই দূষিত পানির সংস্পর্শে আসায় শিক্ষার্থীদের চর্মরোগ, ঘা-পাঁচড়াসহ নানা পানিবাহিত রোগের উপদ্রব দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্কুলের পোশাকে নোংরা পানি ছিটকে কাদা লেগে যাওয়া এখন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটির বেহাল দশা হলেও তা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

কাদা ও নোংরা পানির মধ্য দিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে প্রতি মুহূর্তে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।

এ অবস্থায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে এবং চলাচলের পথ সুগম করতে সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঠিক সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

 

 

তালায় নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নে নাগরিক সমাজ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
তালায় নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নে নাগরিক সমাজ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালায় নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নে নাগরিক সমাজ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে তালা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ভূমিজ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলন উপলক্ষে সকালে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

ভূমিজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী প্রধান অচিন্ত্য সাহা ও সুশীল প্রকল্প-একশনএইডের প্রজেক্ট ম্যানেজার মৌসুমী বিশ্বাসের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. মাহমুদুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তালা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুল নাহার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাজিরা খাতুন, সমতা ফোরাম ও সিএসও হাবের সভাপতি আনিছুর রহমান, সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন জোয়ারদার এবং তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার প্রমুখ।

এ সময় শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সমতা ফোরাম ও সিএসও হাবের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন বিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। তারা নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ তহবিলের স্বচ্ছ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সকল পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।