বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

পানি বাণিজ্য ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
পানি বাণিজ্য ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশে পানির গল্প এখন আর কেবল নদী, খাল বা বৃষ্টির নয়; এটি ক্রমেই হয়ে উঠছে এক জটিল জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত সংকটের প্রতিচ্ছবি। একদিকে নিরাপদ পানির তীব্র চাহিদা, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণহীন বাণিজ্যÑএই দুইয়ের সংঘাতে সারা দেশে তৈরি হয়েছে এক নীরব বিপদ, যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু শরীরে বহন করতে হয় বছরের পর বছর। শহর থেকে গ্রামÑসবখানেই এখন “বিশুদ্ধ পানি” নামের একটি বাজার গড়ে উঠেছে। প্লাস্টিকের জার, বোতল বা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা এই পানি অনেকের কাছে জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এই পানির গুণগত মান কতটা নিশ্চিতÑসে প্রশ্নের জবাব আজও অস্পষ্ট।

 

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, এবং বিভিন্ন এলাকায় আর্সেনিক দূষণÑসব মিলিয়ে নিরাপদ পানির সংকট একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। এই প্রেক্ষাপটে মানুষ বিকল্প খুঁজতে গিয়ে ঝুঁকছে বাণিজ্যিক পানির দিকে। ফলে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে হাজার হাজার পানি পরিশোধন প্লান্ট। কিন্তু এগুলোর একটি বড় অংশই নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হচ্ছে।

 

বাংলাদেশে পানি পরিশোধন ও বাজারজাতকরণের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এই খাতের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ ছোট ও মাঝারি পানির প্লান্ট কোনো অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত পরিদর্শন, নমুনা পরীক্ষা বা লাইসেন্সিং কার্যক্রমÑসবই সীমিত এবং অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। ফলে বাজারে “বিশুদ্ধ পানি” নামে যা বিক্রি হচ্ছে, তার একটি বড় অংশই অজানা মানের।

 

রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তি এখন বাংলাদেশের পানি পরিশোধন খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত। এটি পানির ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সক্ষম হলেও এর একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলোÑএটি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানও সরিয়ে দেয়।ফলে আরও প্রযুক্তিতে পরিশোধিত পানি অনেক সময় “ডেড ওয়াটার”-এ পরিণত হয়, যেখানে শরীরের জন্য দরকারি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা পটাশিয়ামের অভাব থাকে। দীর্ঘদিন এই পানি পান করলে শরীরে খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এছাড়া, ফিল্টার বা মেমব্রেন সময়মতো পরিবর্তন না করলে তা জীবাণুর উৎসে পরিণত হয়। ফলে বিশুদ্ধ করার বদলে পানি আরও দূষিত হয়ে পড়তে পারে।

 

এই নিয়ন্ত্রণহীন পানির বাজার সরাসরি কোনো তাৎক্ষণিক বিপর্যয় তৈরি না করলেও এর প্রভাব ধীরে ধীরে শরীরে জমা হয়। খনিজের ঘাটতি, ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যা, শিশুদের শারীরিক বিকাশে প্রভাব এসব ঝুঁকি এখনো অনেকাংশে অদৃশ্য, কারণ এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ে না। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো পানির মান যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নন। তাদের কাছে স্বচ্ছ ও স্বাদে মিষ্টি পানি মানেই ভালো পানি।

 

এই ধারণা ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ বাজার তৈরি করেছে। অন্যদিকে, বিকল্পের অভাবও একটি বড় কারণ। অনেক এলাকায় নিরাপদ নলকূপ বা পাইপলাইনের পানি না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে বাজারজাত পানির ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল, প্রযুক্তি ও লজিস্টিক সুবিধা না থাকায় তারা কার্যকর তদারকি করতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা দুর্বল। অনেক প্রতিষ্ঠান কোনো নিবন্ধন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। তৃতীয়ত, সমন্বয়ের অভাব।

 

বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে কাজ করলেও একটি সমন্বিত কাঠামো নেই। চতুর্থত, জনসচেতনতা কার্যক্রম অপর্যাপ্ত। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: শেখার সুযোগ বিশ্বের অনেক দেশে বোতলজাত ও প্রক্রিয়াজাত পানির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। নিয়মিত পরীক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ এবং বিতরণÑসবকিছুই নজরদারির আওতায় থাকে। বাংলাদেশেও এই ধরনের কাঠামো আংশিকভাবে থাকলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের সব পানির প্লান্টকে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের আওতায় আনতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর পানির নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

আরও প্রযুক্তিতে পরিশোধিত পানিতে প্রয়োজনীয় খনিজ যোগ করা নিশ্চিত করতে হবে গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, উন্নত নলকূপ এবং পাইপলাইন পানি সরবরাহ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশে পানি এখন এক অদ্ভুত দ্বৈত বাস্তবতার মুখোমুখিÑএকদিকে এটি মৌলিক অধিকার, অন্যদিকে এটি লাভজনক পণ্য। এই দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।নিয়ন্ত্রণহীন বাজারের ওপর নির্ভর করে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন শক্তিশালী নীতিমালা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা। নইলে “বিশুদ্ধ পানি” নামের এই নীরব ব্যবসা একদিন বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নেবেÑযার মূল্য দিতে হবে পুরো জাতিকেই।

লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা, ধর্ষণের অভিযোগে আইনের আওতায় আনার দাবি 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা, ধর্ষণের অভিযোগে আইনের আওতায় আনার দাবি 

 

 

সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনের (শ্যামনগর) জামায়াত দলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা এমন দাবি জানান। এর আগে পৌরসদরের জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শত শত নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক পরিদ দক্ষিণ করে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় হাতে ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে নজরুল ইসলামের ছবিতে আঘাত করতে থাকে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে

উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব সুলাইমান কবিরের সভাপতিত্বে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত পথসভায় অংশগ্রহণ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় বক্তারা কাজী নজরুল ইসলামকে ধর্ষক আখ্যা দিয়ে একটা আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সাথে অবাঞ্চিত ঘোষণা করার পাশাপাশি বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন ১৩ তারিখে ঘটনাটি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দিতে চাইছিল। কিন্তু তার ড্রাইভার দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দিলে কৌশলের অংশ হিসেবে শুরুতেই এআই প্রযুক্তির সৃষ্টি বলে দাবি করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার পর কাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে বিয়ের নাটক সাজিয়েছে।

পদে পদে জালিয়াতি এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে শরীয়ত মোতাবেক পরিচালিত হওয়ার দাবি করা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর আদর্শ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন একটা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন রীতিমতো ধর্ষণের সমান অপরাধ। মহান জাতীয় সংসদের একজন প্রবীণ সদস্য হিসেবে নজরুল ইসলামের এ ঘটনা পবিত্র সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। মহান জাতীয় সংসদের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিশু সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রদর্শনের অংশ হিসেবে অবিলম্বে কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনের আওতায় এনে ধর্ষণকাণ্ডের বিচার করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন ১৭ই জুন বিয়ের কথা বলে ২১ তারিখ বিকালে কাবিনের ঘটনা তার জালিয়াতি ও মিথ্যাচারকে প্রমাণ করে ঠিক আছে দিয়েছে। এমতাবস্থায় অবিলম্বে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এছাড়া নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে জামায়েত ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট করতে আমিরেৎ জামায়েত ডাক্তার শফিকুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ডেঙ্গু সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৩:০০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ডেঙ্গু সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

বর্ষার স্থায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনার পাইকগাছায় হঠাৎ করেই ডেঙ্গু রোগীর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি দাঁড়িয়েছে। হঠাৎ করে এডিস মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, বাসাবাড়ির আঙিনায় কিংবা আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি—যেমন পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ড্রেন ও ডাবের খোসাই এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া উপজেলার বাইরে থেকেও আক্রান্ত রোগী আসার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালানো সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। চিকিৎসকদের বক্তব্য স্পষ্ট—ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা এবং মশারির ব্যবহার প্রাথমিক ও কার্যকর প্রতিরোধক।
তবে বাস্তবতা হলো, কেবল সচেতনতামূলক বার্তা কিংবা পরামর্শ প্রদান করে এমন জনস্বাস্থ্য সংকট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের নিজস্ব সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত সমন্বয় এখানে অত্যন্ত জরুরি।
পাইকগাছার বর্তমান পরিস্থিতি যেন মহামারীর দিকে মোড় না নেয়, সে জন্য অবিলম্বে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তা হলোÑ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর উদ্যোগে পাইকগাছার প্রতিটি ওয়ার্ডে অবিলম্বে কার্যকর ওষুধ প্রয়োগ (ফগিং ও লার্ভিসাইড স্প্রে) শুরু করতে হবে। ড্রেন, বদ্ধ জলাশয় ও জমে থাকা পানির স্থানগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়মিত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নিতে হবে। জ্বর হলেই যেন রোগীরা হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করান, সে লক্ষ্যে চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য রাখা এবং গ্রামপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নজরদারি বাড়াতে হবে। কাজের তাগিদে বা ভ্রমণের কারণে যারা বাইরে থেকে উপজেলায় আসছেন, তাঁদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল রূপ নেওয়ার আগেই সমন্বিত ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনিক তৎপরতা এবং জনসচেতনতাÑএই দুইয়ের সমন্বয় ছাড়া পাইকগাছাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জোর দেবেনÑএমনটাই প্রত্যাশা।

​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

Oplus_131072

​পত্রদূত ডেস্ক: ​সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসামাজিক কার্যকলাপের গোপন তথ্য জেনে ফেলার কারণে সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির বিচার দাবি করে এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ওবায়দুর রহমান। আবেদনটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।
​আবেদনে ওবায়দুর রহমান (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: ২৩৬৭৪৫০৬৫৩) উল্লেখ করেন, বিগত ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার উত্তর কালশীর আলীনগরে অবস্থিত ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার ২’-এর একটি ফ্ল্যাটে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
​আবেদনকারীর দাবি, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন। হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আবেদনে বলা হয়, ওবায়দুরের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তাঁর মা ও ছোট বোন এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি প্রাণভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
​হামলার পেছনের কারণ হিসেবে ওবায়দুর রহমান আবেদনে দাবি করেন, তিনি এমপি গাজী নজরুলের দীর্ঘদিনের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। এই সুবাদে এমপির বিভিন্ন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত অসামাজিক কার্যকলাপের তিনি প্রত্যক্ষদর্শী।
​আবেদনে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এলাকায় জমি ও বালুমহাল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং গ্যাং বা ‘মব’ গঠন করে সন্ত্রাসের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে এমপির বিতর্কিত গতিবিধির কয়েকটি নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ের কথা আবেদনে উল্লেখ করে তা সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়। ​এমপি গাজী নজরুলের আদেশে এই হামলা চালানো হয়েছে দাবি করে ওবায়দুর রহমান অভিযুক্ত হামলাকারী এবং নির্দেশদাতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে বিতর্কের মুখেই ২১ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। লিখিত বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটি গত ১৩ জুলাইয়ের এবং এর পেছনে তাঁর নিজস্ব গাড়িচালকের সুপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির নীল নকশা রয়েছে।
বিবৃতিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথমা স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে অবস্থিত দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। অবস্থানকালে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই অপরিচিত ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চেয়ে চরম হেনস্তা করে। একপর্যায়ে তাঁদের কার্যালয়ের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা প্রদান করার পরই তাঁরা সেখান থেকে রেহাই পান।
ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে পারেন যে, এই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি সম্পর্কে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা। সংসদ সদস্য জানান, তাঁর শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পারিবারিক পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।