জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরার শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে গ্রামপর্যায়ে যুবসমাজসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ মাদক ও অনলাইন জুয়ার আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাবে জেলায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি গভীর উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকেরা। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, মাদক ও জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই অপরাধমূলক কর্মকা-ে যুক্ত হচ্ছে। এতে রাতে চুরির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপ নগর গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোনাওয়ার হুসাইন জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে কিশোর ও যুবকেরা সহজেই জুয়ার ফাঁদে পা দিচ্ছে। দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনাকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে এবং কীভাবে সময় কাটাচ্ছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান এবং ইসলামি সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শেখ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, তরুণদের মেধা ও শক্তিকে শিক্ষা, খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকা-ে কাজে লাগাতে হবে। বর্তমানে সব বয়সের মানুষের মধ্যে মাদক ও জুয়ার আসক্তি দেখা যাচ্ছে, যা সামাজিক অপরাধ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি এলাকায় শিক্ষক, পুলিশ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। মাদক কেনাবেচা বন্ধ করতে পারলে অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে।