রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/মেগা প্রকল্পের বেড়িবাঁধ কাটার দুঃসাহস: কঠোর ব্যবস্থা চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/মেগা প্রকল্পের বেড়িবাঁধ কাটার দুঃসাহস: কঠোর ব্যবস্থা চাই

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন দেশের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ একটি উপকূলীয় অঞ্চল। বারবার ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত এই জনপদকে রক্ষায় সরকার ২০২১ সাল থেকে ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। উপকূলবাসীর বহু বছরের কান্নার অবসান ঘটিয়ে যখন এই বাঁধ দৃশ্যমান হচ্ছে, ঠিক তখনই কিছু লোভী ও প্রভাবশালী ঘের ব্যবসায়ীর আত্মঘাতী তৎপরতার খবর আমাদের চরমভাবে উদ্বিগ্ন করে। গত শনিবার পূর্ব চাঁদনীমুখা গ্রামে খোলপেটুয়া নদী সংলগ্ন নবনির্মিত এই টেকসই বেড়িবাঁধের সরকারি ব্লক সরিয়ে এবং মাটি ছিদ্র করে অবৈধভাবে লবণ পানি তোলার পাইপ বসানোর যে চিত্র গণমাধ্যমে এসেছে, তা কেবল আইন পরিপন্থীই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের এক শামিল।
অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন মৎস্য চাষি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বাঁধের পাথর-ব্লক সরিয়ে সেখানে ‘নাইনটি পাইপ’ বসাচ্ছেন। উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়িবাঁধের মাটির নিচে বা ব্লক সরিয়ে পাইপ ঢোকানো কতটা বিপজ্জনক, তা বিগত দিনের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোতে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। লবণ পানি তোলার এই পাইপের চারপাশ দিয়ে ধীরে ধীরে মাটি ধসে পড়ে এবং জোয়ারের পানির চাপে পুরো বাঁধটি একপর্যায়ে ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারের একটি যুগান্তকারী উন্নয়ন প্রকল্পকে এভাবে কতিপয় ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আশার কথা যে, পানি উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টি জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছে। তবে শুধু পরিদর্শন বা মৌখিক সতর্কবার্তাই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়। অতীতেও দেখা গেছে, উচ্ছেদ করার কিছুদিন পর আবারও সুযোগ বুঝে এই পাইপগুলো বসানো হয়। এই ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা জাতীয় নিরাপত্তার প্রতীক এই বেড়িবাঁধের ক্ষতি করছে, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।
গাবুরার সাধারণ মানুষ আজ আতঙ্কিত, কারণ এই বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো ইউনিয়ন আবারও প্লাবিত হবে, ধ্বংস হবে তাঁদের জীবন ও জীবিকা। তাই জনস্বার্থে ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে ওই অবৈধ পাইপগুলো অপসারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অংশ দ্রুত মেরামত করা হোক। পাশাপাশি উপকূলের সর্বত্র বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

Ads small one

পাইকগাছায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা সভা

তালা প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও তীব্র তাপদাহের ফলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ক্ষতি মোকাবিলা এবং অভিযোজনের জন্য উন্নত ও দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিবছর ৩১০ থেকে ৩৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ আদায় করে তা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বন্টন করতে হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার পাইকগাছায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘প্রকৃতির জন্য অনুপ্রাণিত। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অ্যাওসেড’ ও ‘পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম’ যৌথভাবে এই সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে।
পাইকগাছা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সভাপতি অখিল চন্দ্র ম-ল। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাওসেড-এর হেড অব প্রোগ্রাম শংকর রঞ্জন সরকার এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংস্থার নলেজ ম্যানেজমেন্টের টিম লিডার মোসালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যাওসেড-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক হেলেনা খাতুন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য, শ্যামাপদ ম-ল, নুরুন্নাহার পারভীন, শেখ জুলি, সুভাষ চন্দ্র ম-ল, নুর ইসলাম গাজী, মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডা. বাসুদেব রায় ও মানিক ভদ্র। আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় শহীদ এম. এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চারটি ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।

দেবহাটায় চুরির সন্দেহে শিশুকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় চুরির সন্দেহে শিশুকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটায় চুরির অপবাদ দিয়ে এক শিশুকে আখ ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আহত শিশুর বাবা হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন বেলা তিনটার দিকে দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে আব্দুল হাকিম (১৩) পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে সাইফুল ইসলামের (৪৫) দোকানে আখের রস খেতে যায়। হাকিম ২০টাকার রস খেয়ে সাইফুলকে ৫০টাকার একটি নোট দিলে দোকানদার তাকে ৩০টাকা ফেরত দেন। এরপর সাইফুল ক্যাশ টেবিল পাহারা দিতে বলে প্রস্রাব করতে যান। ফিরে এসে তিনি হাকিমের বিরুদ্ধে ক্যাশ টেবিল থেকে টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন।
শিশু হাকিম নিজের জামা-প্যান্ট তল্লাশি করতে বললে সাইফুল তল্লাশি চালিয়ে ফেরত দেওয়া ৩০ টাকা ছাড়া আর কোনো টাকা পাননি। এরপরও সাইফুল চোর সন্দেহে হাকিমের বাঁ কানে সজোরে চড় মারেন এবং আখ দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট ও বেদনাদায়ক ফোলা জখম করেন। ঘটনাটি কাউকে বললে আরও মারধর করা হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখে।
গত ৫ জুন সকালে শরীরে প্রচ- ব্যথা অনুভব হলে হাকিম তাঁর পরিবারকে বিষয়টি জানায়। ওই দিন সকাল ১০টার দিকে হাকিমের বাবা হাফিজুল ইসলাম, দাদা আলাউদ্দীন, দাদি রাফিজা খাতুন ও মা সোমা আক্তার সাইফুলের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার কারণ জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল কাঠের বাটাম এবং তাঁর স্ত্রী বানু খাতুন বঁটি নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে তাঁরা রাফিজা খাতুনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

জেলা যুবদলের শুভেচ্ছা মিছিল ও সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
জেলা যুবদলের শুভেচ্ছা মিছিল ও সমাবেশ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে সাতক্ষীরায় মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল। রোববার বিকেলে শহরের মাওয়া চাইনিজ রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণ থেকে এই শুভেচ্ছা মিছিল বের হয়।
কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি, নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণবঙ্গের আমিনুর রহমান আমিনকে তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং শাহাজান রনিকে মৎস্য ও পশুপালন বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত করায় এই আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর শফিকুল আলম বাবুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আলী শাহিন, সদস্যসচিব মাসুম রানা সবুজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন রহমান, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী রাসিউল করিম রোমান ও জেলা যুবদলের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এস আই আশা।
এছাড়াও বক্তব্য দেন আশাশুনি উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আবু জাহিদ সোহাগ, দেবহাটা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, সদস্যসচিব মেহেদী হাসান সবুজ, কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল্লাহ বাহার, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক এবং আশাশুনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান আখতার প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সাতক্ষীরায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে জেলা যুবদলে যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্বকে সামনে আনা প্রয়োজন। এ সময় জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।