শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

শ্যামনগরে ঝুুরঝুরি খালের অবরুদ্ধ প্রবাহ, জলাবদ্ধতায় হাজার বিঘা ফসল বিনষ্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ঝুুরঝুরি খালের অবরুদ্ধ প্রবাহ, জলাবদ্ধতায় হাজার বিঘা ফসল বিনষ্ট

0-0x0-0-0-{}-0-0#

রমজাননগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ঝুরঝুরি খালে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় হাজার বিঘা ধানের জমি ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে আছে। সেই সঙ্গে খালের একাংশ অবৈধভাবে দখল করে মৎস্য ঘের পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ভেটখালী বাজার, ভেটখালী, তারানীপুর ও মানিকখালী বিলের পানি ঝুরঝুরি খাল দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কথা থাকলেও নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ হয়ে আছে। খালের শেষ সীমানায় প্রধান সড়ক এবং বসতভিটা থাকায় পানি আটকে গিয়ে প্রতি বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে ধানের মাঠ, পুকুর, গাছপালা ও গ্রামীণ কাঁচা রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
এদিকে খালের একাংশ দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে তারানীপুর গ্রামের সমসের, মজিদ কারিগর ও সোরা গ্রামের আশরাফ আলী মোল্যাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। অবরুদ্ধ খালের পার্শ্ববর্তী মুন্ডা সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা বর্ষায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় অধিবাসী সাইফুল ইসলাম জানান, খালের অবরুদ্ধ অবস্থা ও দখলদারত্বের কারণে প্রতি বছর বর্ষায় বিপুল ক্ষতি হয়। এ বছর জমিতে ধানের বীজ বপন করা সম্ভব হয়নি। আরেক অধিবাসী আবু সাঈদ জানান, খালের আংশিক পুনর্খনন ও অপ্রশস্ত কালভার্ট নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতার তীব্রতা আরও বেড়েছে। অবিলম্বে খালটি দখলমুক্ত করে সীমানা উন্মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
প্রিয়তোষ মুন্ডা নামের এক বাসিন্দা জানান, প্রতি বর্ষায় ধান ও সবজি চাষের জমি ডুবে যায়, কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও চরম ঝুঁকিতে থাকতে হয়।
দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সমসের জানান, সরকার খাল পুনঃখনন করলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তারা চান খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।
রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন জানান, ইতিপূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে খালটির আংশিক খনন করা হলেও শেষ সীমানায় প্রধান সড়ক ও বসতভিটা থাকায় মানিকখালী খালের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।