বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা ও স্থায়ী সমাধানের তাগিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা ও স্থায়ী সমাধানের তাগিদ

সাতক্ষীরায় স্বাভাবিক বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে জেলার ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং আউশ ধান ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবরটি অত্যন্ত উদ্বেগের। রোববার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভায় জানানো হয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণে ৬ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভেসে গেছে ১২৭টি মাছের ঘের। এতে প্রাথমিকভাবে মৎস্য খাতেই প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন যদিও আশ্বস্ত করেছে যে এই মুহূর্তে বড় ধরনের কোনো বন্যার আশঙ্কা নেই এবং তারা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত, তাও মাঠপর্যায়ের এই ক্ষয়ক্ষতি ও জনদুর্ভোগকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
একটি জেলায় একসঙ্গে ৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকার অর্থ হলো হাজার হাজার শিশুর নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া। এমনিতেই নানাবিধ কারণে প্রাথমিক শিক্ষায় যে ক্ষতি হয়, তা পুষিয়ে নেওয়া কঠিন; তার ওপর যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জলাবদ্ধতার কারণে দিনের পর দিন বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যদিকে আউশ ধান ও মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার ঘটনাটি সরাসরি স্থানীয় অর্থনীতি এবং কৃষকের জীবিকার ওপর বড় আঘাত। সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় ও অর্থনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় এই ধরনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের দীর্ঘ সময় লড়াই করতে হয়।
এই সংকটের মূল কারণটি কিন্তু নতুন নয়। সাতক্ষীরা অঞ্চলে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের তৈরি, নদী-নালার নাব্যতা হ্রাস এবং পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথগুলো ভরাট বা দখল হয়ে যাওয়ার কারণেই সামান্য অতিবর্ষণে এমন তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই এই অঞ্চলের মানুষকে একই ধরণের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কারের মতো বিষয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক। তবে আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, এই ধরণের সিদ্ধান্ত অনেক সময়ই কেবল সভার কার্যবিবরণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরার এই জলাবদ্ধতা ও ফসলি জমির ক্ষতি থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে হলে শুধু জরুরি ত্রাণ বা সাময়িক প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা। কপোতাক্ষসহ স্থানীয় নদী ও খালগুলোর খনন কাজ দ্রুত শেষ করা, পানি নিষ্কাশনের অবৈধ প্রতিবন্ধকতা ও স্লুইসগেটগুলোর দখলদারিত্ব দূর করা এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেবল ‘প্রস্তুত আছি’ বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, বন্ধ হওয়া বিদ্যালয়গুলো যাতে দ্রুত চালু করা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিরা যেন প্রয়োজনীয় সরকারি প্রণোদনা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। উপকূলের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রতিবছর প্রকৃতির দয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। দুর্যোগের এই দুষ্টচক্র ভাঙতে টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Ads small one

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ন্যাশনাল ডেস্ক: আজ ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। আল্লাহর প্রিয় নবী ও রসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন। এ ছাড়া ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে তিনি ৬৩ বছর বয়সে ওফাত লাভ করেন। সারা বিশ্বের মুসলমান এ দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন। আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর একাত্মবাদের দাওয়াত দিয়ে সত্য-ন্যায়, শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে সৃষ্টি করেছিলেন ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ হিসেবে। মহান আল্লাহ তাঁর ওপর নাজিল করেন পবিত্র কোরআন। মুসলিম উম্মাহ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে উদ্যাপন করে থাকে। এ দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, বেশি বেশি দরুদ পাঠ, দান-খয়রাতসহ নফল ইবাদতে মগ্ন থাকেন। অনেকে নফল রোজা রাখেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জশনে জলুস (আনন্দ শোভাযাত্রা), আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি নিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ নানা ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীর মতো প্রধান শহরগুলোয় সুষ্ঠু ও নিরাপদে শোভাযাত্রা নিশ্চিতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

সম্পাদকীয়/ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.): বিশ্ব মানবতার মুক্তি ও সম্প্রীতির বার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.): বিশ্ব মানবতার মুক্তি ও সম্প্রীতির বার্তা

বিশ্বমানবতার পরম বন্ধু, শান্তি, সাম্য ও ইনসাফের প্রতীক সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত মাহান্বিত দিনÑপবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.)। ১২ই রবিউল আউয়াল শুধু মুসলিম জাহানের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসেই এক অনন্য ও বৈপ্লবিক মাইলফলক। যে সময়ে আরব সমাজ চরম অজ্ঞতা, অরাজকতা, সহিংসতা ও অমানবিকতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলÑইতিহাসে যা ‘আইয়ামে জাহিলিয়াত’ বা অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিতÑঠিক সেই প্রাক্কালে আল-আমিন বা পরম বিশ্বাসী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে মহানবী (সা.) বিশ্ববাসীকে মুক্তির আলো দেখিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।” রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বজগতের সব জাতি ও মানুষের জন্য সার্বজনীন হেদায়েতের মশাল। তিনি তাঁর আদর্শ ও চরিত্র দিয়ে হিংসা-বিদ্বেষে জর্জরিত সমাজকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং নারী ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার। ‘মদিনা সনদ’-এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে উপহার দিয়েছিলেন ধর্মীয় সহাবস্থান ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র কাঠামোর কালজয়ী দলিল।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, যখন সারা বিশ্বে হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, যুদ্ধ, অন্যায় এবং সামাজিক অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়েছে, তখন মহানবী (সা.)-এর শিক্ষাকে নতুন করে লালন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা বা মিলাদ মাহফিলের মধ্যে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী-এর তাৎপর্যকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আসল উদ্যাপন লুকিয়ে আছে তাঁর রেখে যাওয়া সুন্নাহ ও নীতি-আদর্শকে দৈনন্দিন জীবনের সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সৎ, আমানতদার ও ইনসাফভিত্তিক আচরণের চর্চা করা।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করা।
মানবিক সেবা: সমাজে দুস্থ, এতিম, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার সেবা নিশ্চিত করা।
পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) আমাদের আত্মশুদ্ধি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। প্রিয় নবী (সা.)-এর মহান আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় জীবন থেকে সব ধরনের অন্যায়, বৈষম্য ও হিংসা দূর করাই হোক আজকের দিনের দৃঢ় অঙ্গীকার। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ মেনে চলে দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তিময় জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন।

 

 

 

 

ফিংড়ী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতির বাবার ইন্তেকাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
ফিংড়ী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতির বাবার ইন্তেকাল

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি ও বর্তমান ইউপি সদস্য মো. আবু সাঈদ মোল্লার বাবা শামছুর রহমান মোল্লা (৮৭) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)। মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজ শেষে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং বিডিএফ প্রেসক্লাবের নেতারা।