সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: সুন্দরবনের তিন মাসের বিশ্রাম ও উপকূলের প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়: সুন্দরবনের তিন মাসের বিশ্রাম ও উপকূলের প্রস্তুতি

পহেলা জুন থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বনবিভাগ। এই সময়ে বনের ভেতর মাছ ও কাঁকড়া শিকার, মধু আহরণ যেমন বন্ধ থাকবে, তেমনি বন্ধ থাকবে সব ধরনের পর্যটনও। মূলত জুন থেকে আগস্টÑএই তিন মাস সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও মৎস্য সম্পদের প্রজনন মৌসুম। প্রকৃতির নিয়মেই এই সময়ে নিভৃত পরিবেশ প্রয়োজন। তাই সুন্দরবনকে মানুষের আগ্রাসন থেকে সাময়িক মুক্তি দিয়ে যে ‘বিশ্রাম’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়।

সুন্দরবন কেবল আমাদের অহংকার নয়, এটি উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা সিডর-আইলার মতো প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে এই বন বুক চিতিয়ে লাখো মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে। কিন্তু বছরের বাকিটা সময় এই বনের ওপর মানুষের যে চাপ থাকে, তা এককথায় নির্মম। তথ্যমতে, বছরে শুধু বৈধভাবেই লাখাধিকবার বনজীবীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে হাজার হাজার পর্যটকের আনাগোনা। মানুষের এই অতি-উপস্থিতি, কোলাহল এবং যান্ত্রিক নৌযানের শব্দ বনের ভেতরের প্রাণীদের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। এই প্রেক্ষাপটে, বছরের নির্দিষ্ট একটা সময়ে বনের দরজা বন্ধ রাখা প্রকৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য অপরিহার্য।

তবে এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের মুদ্রার ওপিঠে রয়েছে একটি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট। সুন্দরবনের ওপর সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার বনজীবী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। এই তিন মাস মাছ, কাঁকড়া বা মধু সংগ্রহ বন্ধ থাকায় এই বিশাল জনগোষ্ঠী হুট করেই পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়বে। অভাবের তাড়নায় এই সময়ে পরিবারগুলো যাতে মহাজনদের চড়া সুদের ঋণের ফাঁদে না পড়ে, কিংবা জীবিকার তাগিদে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনে অনুপ্রবেশ না করে-সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

সরকারের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিবন্ধিত জেলে ও বনজীবীদের জন্য যে খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ চাল) দেওয়া হয়, তা যেন প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কাছে সময়মতো এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু চাল দেওয়াই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি এই তিন মাস তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, তাও ভেবে দেখা দরকার।

পরিশেষে বলা যায়, সুন্দরবন বাঁচলে বাঁচবে উপকূল, আর উপকূল বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ। সুন্দরবনকে সাময়িক বিশ্রাম দেওয়ার এই উদ্যোগ তখনই শতভাগ সফল হবে, যখন বনের সুরক্ষার পাশাপাশি এর ওপর নির্ভরশীল মানুষগুলোর পেটের ভাত নিশ্চিত করা যাবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানবিক সংকটের টেকসই সমাধানÑএই দুইয়ের সমন্বয়েই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য আবার তার আপন রূপ ফিরে পাক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

 

 

Ads small one

শ্যামনগরে বেড়িবাঁধ প্রকল্প: চাঁদা না পেয়ে বাধার অভিযোগ, তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত দাবি ইউপি চেয়ারম্যানের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বেড়িবাঁধ প্রকল্প: চাঁদা না পেয়ে বাধার অভিযোগ, তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত দাবি ইউপি চেয়ারম্যানের

সংবাদদাতা: শ্যামনগরে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ প্রকল্প নিয়ে চলা বিতর্কের অবসান ঘটেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জমি দখলের যে অভিযোগ তুলে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম আন্দোলন করছিলেন, সরকারি তদন্তে তার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান যে জমিটিকে নিজের লিজ নেওয়া সম্পত্তি বলে দাবি করেছিলেন, প্রকৃতপক্ষে সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তদন্তের এই ফলাফলের পর প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সেই পুরোনো অভিযোগটিই সামনে আসছেÑমোটা অঙ্কের চাঁদা না পেয়েই উন্নয়ন কাজে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছিল।
জানা যায়, জাইকার অর্থায়নে শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ও কাশিমারী ইউনিয়নে প্রায় আড়াই কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছে ‘মেসার্স আর-রাদ করপোরেশন’। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কাজে বাধা দিচ্ছেন। এ নিয়ে পাউবোর প্রকল্প পরিচালক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পানি সম্পদ মন্ত্রীর নির্দেশে গত ১ জুন শ্যামনগর উপজেলা পরিষদে একটি বিশেষ সভা হয়। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, পাউবো কর্মকর্তা, প্রশাসন এবং বিএনপি-জামায়াত ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় চেয়ারম্যান দাবি করেন, প্রকল্পের সিসি ব্লক তৈরির ইয়ার্ডটি তার লিজ নেওয়া জমিতে করা হয়েছে। এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ওসিসহ সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
গত ৪ জুন সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ৮ জুন কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, সিসি ব্লক তৈরির জায়গাটি মূলত বিআরএস ৭০০১ ও ৭০০২ দাগের অন্তর্ভুক্ত, যা যথাক্রমে সরকারি খাস জমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম লিজের কোনো বৈধ বা হালনাগাদ দলিল দেখাতে পারেননি। নিয়ম অনুযায়ী, পাউবোর জমি কোনো ইউপি চেয়ারম্যানকে লিজ দেওয়ার এখতিয়ার উপজেলা খাস জমি বন্দোবস্ত কমিটির নেই। ওই জমিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে কাজ করছে। তবে এই তদন্ত প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামী ও চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি স্বাক্ষর করেননি।
শ্যামনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন বলেন, নির্ধারিত পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যা পাওয়া গেছে, তা-ই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের সময় জামায়াত ও চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় তাদের স্বাক্ষর নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, মূলত চাঁদা না পেয়েই এই বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। আর-রাদ করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সবুজ আলী খান জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে তার কাছে ১২ লাখ টাকা কমিশন দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় শ্রমিক ও সাব-ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ২৫ মে শ্যামনগর থানায় চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার ছেলেসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৯ মে চেয়ারম্যান ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ২৩ মে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করে স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন। ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন। তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তিনি বনায়ন রক্ষা ও পরিবেশগত কারণে আপত্তি তুলেছিলেন, কোনো চাঁদা চাননি।
পাউবো কর্মকর্তারা জানান, বর্ষার আগে এই বাঁধের কাজ শেষ না হলে খোলপেটুয়া, মালঞ্চ ও কালিন্দী নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়নে চলা প্রকল্প এভাবে আটকে থাকায় সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণœ হচ্ছিল।

খোলা কলাম/শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সৌন্দর্য নষ্ট করছে ডাস্টবিন ও উন্মুক্ত শৌচাগার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
খোলা কলাম/শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সৌন্দর্য নষ্ট করছে ডাস্টবিন ও উন্মুক্ত শৌচাগার

মোহাম্মদ মুজাহিদ
নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততা, ক্লান্তি ও অবসাদ কাটাতে মানুষ খোঁজেন একটু নির্মল পরিবেশ ও স্বস্তির নিঃশ্বাস। আর সেই প্রত্যাশা নিয়েই প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহরের একমাত্র উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। কিন্তু পার্কের উত্তর পাশে স্থাপিত ডাস্টবিন এবং পশ্চিম পাশে অবস্থিত উন্মুক্ত শৌচাগারের তীব্র দুর্গন্ধে দর্শনার্থীদের সেই স্বস্তি এখন পরিণত হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের উত্তর পাশে সড়কের ধারে পৌরসভার ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থানে বিভিন্ন এলাকার আবর্জনা জমা করা হচ্ছে। ডাস্টবিনের ঠিক পাশেই অবস্থিত জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার (সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি)। ফলে লাইব্রেরিতে আসা পাঠক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ পথচারীদের দুর্গন্ধের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্কসংলগ্ন এলাকার বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য প্রতিদিন এখানে ফেলা হলেও সময়মতো তা অপসারণ করা হয় না। অনেক সময় সকাল ১০টা পর্যন্তও ময়লা বহনের কনটেইনার সরানো হয় না। এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ডাস্টবিনে জমে থাকা আবর্জনা ঘেঁটে বিভিন্ন ভাঙাচোরা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী সংগ্রহ করেন। এতে ময়লার দুর্গন্ধ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আবর্জনার ময়লা পানি পাশের পয়নিষ্কাশন ড্রেনে গড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ দূষণও বাড়ছে। পার্কে নিয়মিত ব্যায়াম করতে আসা সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা সাইফুল আজম খান মামুন বলেন, পার্কটির আয়তন মাত্র দেড় থেকে দুই একর। ফলে ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ সহজেই পুরো পার্কে ছড়িয়ে পড়ে। সকালে ব্যায়াম করতে আসা মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কিছুদিন পর উত্তর দিকের বাতাস প্রবাহিত হলে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হবে। তখন পার্কে বসে থাকাও কঠিন হয়ে পড়বে। ডায়াবেটিস রোগী মিনাক্ষী জানান, চিকিৎসকের পরামর্শে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় হাঁটতে পার্কে আসেন তিনি। কিন্তু পার্কের উত্তর-পশ্চিম অংশে গেলেই দুর্গন্ধে নাক চেপে হাঁটতে হয়। তিনি বলেন, সুস্থ থাকার জন্য হাঁটতে আসি, অথচ দূষিত বাতাসে উল্টো অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে পার্কে নিয়মিত হাঁটতে আসা মানুষের বড় একটি অংশ ডায়াবেটিস ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত। এছাড়া অনেকেই শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়াম করতে আসেন। কিন্তু পার্কের পরিবেশগত সমস্যার কারণে তাদের অনেকেই অসন্তুষ্ট। উন্মুক্ত শৌচাগারের পাশ দিয়ে নাক চেপে হেঁটে যাচ্ছিলেন মুনজিতপুরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, শৌচাগারটি উন্মুক্ত হওয়ায় এবং নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে পার্কের উত্তর পাশের ডাস্টবিনে সারাদিন ময়লা জমা হচ্ছে। কিন্তু নিয়মিত অপসারণ করা না হওয়ায় এটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ব্যাংকার ইজ্জত উল্লাহ বলেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন শরীরচর্চা করতে পার্কে আসি। কিন্তু আশপাশের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এখন আর আগের মতো ভালো লাগে না। এলাকাবাসী পৌরসভায় অভিযোগ করলে কয়েকদিন পরিস্থিতির উন্নতি হয়, এরপর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। স্থানীয়দের মতে, পার্কের ভেতরের পরিবেশ এখনও মোটামুটি পরিচ্ছন্ন থাকলেও বাইরের অংশের অব্যবস্থাপনা পুরো পার্কের সৌন্দর্য ও পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পার্কের চারপাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, ড্রেনে জমে থাকা বর্জ্য এবং দুর্গন্ধে অনেক দর্শনার্থী বিব্রত হচ্ছেন। বর্তমানে সুলতানপুর, মুনজিতপুর, রসুলপুর, কামালনগর, পুরাতন সাতক্ষীরাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের অন্যতম মিলনস্থল এই পার্ক। শিশুদের খেলাধুলা, কিশোর-কিশোরীদের আড্ডা, শিক্ষার্থীদের অবসর সময় কাটানো এবং বয়স্কদের হাঁটাহাঁটির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। বিকেল হলেই পার্কে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। শিশু-কিশোররা মাঠে ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠে। শহীদ বেদির পাদদেশে বসে চলে আড্ডা, গল্পগুজব। অনেকে পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে আসেন। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যও এই পার্ককে বেছে নেন। বদ্ধ শহুরে পরিবেশে একটু মুক্ত বাতাসের সন্ধান মেলে এখানেই। তবে দিনের বেলায় পার্কের চারপাশে হকারদের দোকান বসানো, ড্রেন থেকে ময়লা উপচে পড়া এবং ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে পরিবেশ ক্রমেই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। অনেককে নাকে রুমাল চেপে চলাচল করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশান্তির এই পার্কের পাশে অশান্তির ডাস্টবিন থাকায় বিনোদনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত ডাস্টবিন স্থানান্তর, উন্মুক্ত শৌচাগারের আধুনিকায়ন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং পার্কসংলগ্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় শহরের মানুষের একমাত্র উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্রটি তার আকর্ষণ হারাবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পার্কে আসা দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির নেতা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাতক্ষীরা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক শুধু একটি পার্ক নয়, এটি সাতক্ষীরা শহরের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে শরীরচর্চা, হাঁটাহাঁটি ও অবসর সময় কাটাতে আসেন। কিন্তু পার্কের পাশে ডাস্টবিন ও উন্মুক্ত শৌচাগারের কারণে পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ। একটি বিনোদনকেন্দ্রের পাশে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে শহরের সৌন্দর্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দ্রুত ডাস্টবিন স্থানান্তর, উন্মুক্ত শৌচাগারের আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পার্ক ও এর আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় পৌরসভা, প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শহরের একমাত্র বৃহৎ উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্রকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, শহরের দৈনন্দিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক সংলগ্ন ডাস্টবিন ও শৌচাগার নিয়ে নাগরিকদের অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পার্কে আগত দর্শনার্থীরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ডাস্টবিন থেকে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং শৌচাগারের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি পার্কের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নাগরিকদেরও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা এবং পৌরসভার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ককে আরও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশে পরিণত করা সম্ভব হবে।

 

চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম: ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম: ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

সংবাদদাতা: গ্রীষ্মের প্রচ- দাবদাহ আর আষাঢ়ের ভ্যাপসা গরমে সাতক্ষীরায় বিদ্যুতের লোডশেডিং আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার কয়েক লাখ গ্রাহক। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় পরিস্থিতি আরও নাজুক। প্রচ- গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বরাদ্দ অনেক কম মেলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাধ্য হয়েই ফিডার ধরে ধরে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি দপ্তরে। ভোমরা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানের দাপ্তরিক সব কাজ অনলাইন নির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ও কম্পিউটার বন্ধ থাকছে, যার ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ফাইল তদারকি ও পণ্য খালাসে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অভিযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে বাসাবাড়ির টেলিভিশন, ফ্রিজসহ দামি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার মালিকেরা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জানান, বিদ্যুতের এই চরম সংকটে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে মোমবাতি, হারিকেন বা ল্যাম্প জ্বালিয়ে পড়তে বসতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে প্রয়োজনীয় চেষ্টা চলছে।