শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সরকারি সহায়তার বাইরে লক্ষাধিক জেলে পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
সরকারি সহায়তার বাইরে লক্ষাধিক জেলে পরিবার

গভীর সমুদ্রে জীবন বাজি রেখে মাছ শিকার: সাতক্ষীরার উপকূলীয় জেলেদের ঘরে ফিরে অভাবের সংসার
আসাদুজ্জামান সরদার: বাংলাদেশের বিশাল নীল জলরাশি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধারই নয়, বরং এটি হাজার হাজার মৎস্যজীবীর জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস। আর এই বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে উপকূল থেকে ৮০-৯০ কিলোমিটার গভীরে মাছ ধরতে যান সাতক্ষীরার হাজারো জেলে। ঝড়, জলদস্যু আর বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকি নিয়েই চলে তাদের জীবনযুদ্ধ। সমুদ্র থেকে ফিরে রূপচাঁদা, ভোল কিংবা লইট্যা মাছ বাজারে কোটি টাকার বাণিজ্য তৈরি করলেও, সেই মাছ আহরণকারী জেলেদের বড় অংশের জীবন কাটে অনিশ্চয়তা আর অভাবের মধ্যে। সাতক্ষীরার প্রায় ৪৯ হাজার নিবন্ধিত জেলের শ্যামনগর, আশাশুনি ও তালা উপজেলার একটি বড় অংশ সরাসরি গভীর সমুদ্রের ওপর নির্ভরশীল। তবে নিবন্ধিত জেলেদের বাইরেও জেলায় প্রায় লক্ষাধিক অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন, যারা এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনো ধরণের সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না। ফলে এই বিশাল জনগোষ্ঠী বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।”
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা ২০২৩ অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই সময়ে সমুদ্রগামী নৌযান দিয়ে যেকোনো প্রজাতির মাছ ধরা দ-নীয় অপরাধ। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি হলে কর্মহীন হয়ে পড়ে উপকূলের জেলেপাড়াগুলো।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলায় বর্তমানে মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৯ হাজার জন। এই জেলেদের মধ্যে ১২ হাজার ৮৮৯ জন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। এর মধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যার সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ৩৫৫ জন। আশাশুনি উপজেলায় ৪ হাজার ৫৫৫ জন এবং তালা উপজেলায় ৯৭৯ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা জেলেদের মধ্যে বর্তমানে ১২ হাজার ৮৭৯ জন ভিজিএফ বা খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন। মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালীন ৫৮ দিনের জন্য নিবন্ধিত জেলেদের জনপ্রতি মোট ৭৭.৩৩ কেজি করে বিশেষ ভিজিএফ চাল প্রদান করা হচ্ছে।
মৎস্য বিভাগ ও ট্রলার মালিকদের মতে, নিবন্ধিত ছাড়াও শ্যামনগরে আরও ৪০ হাজার, আশাশুনিতে ২০ হাজার এবং তালা ও কালিগঞ্জে আরও কয়েক হাজার অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন, যারা দীর্ঘ বছর ধরে এই পেশায় থাকলেও তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন।
নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে শ্যামনগর, আশাশুনি ও তালার জেলেপাড়াগুলোতে এখন শুধুই হাহাকার। কর্মহীন জেলেদের অলস সময় কাটছে ঘাটে বাঁধা নৌকার পাহারায়, আর চোখেমুখে অনিশ্চয়তার ছাপ।
গভীর সমুদ্রে যাওয়া জেলে আশাশুনির উপজেলার প্রতাপনগরেরর শাহজাহান সরদার বলেন, আমরা প্রতি বছর প্রায় পাঁচ মাসের জন্য দুবলার চরে অবস্থান করি। আমরা মূলত গভীর সমুদ্রের জেলে; উপকূল থেকে প্রায় ৮০-৯০ কিলোমিটার ভেতরে গিয়ে আমরা মাছ শিকার করি। আমাদের জালে ছুরি, লইট্যা, চেলা, ভোল, মেদ, রূপচাঁদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির যে মাছই ধরা পড়ে, তার সবটুকুই আমরা চরে এনে শুঁটকি করি। কিন্তু মৌসুম শেষে আমাদের ধার করে সংসার চালাতে হয়। দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের জীবন কাটছে ঋণ আর দাদনের ওপর।
তিনি আরও বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। বর্তমানে আমাদের বড় আতঙ্কের নাম জলদস্যু। গত বছরের তুলনায় এই বছর সমুদ্রে ডাকাতির উপদ্রব অনেক বেশি বেড়ে গেছে। এই ডাকাতি নির্মূল করা গেলে আমরা সাধারণ জেলেরা অনেক বেশি নির্ভয়ে এবং সুস্থভাবে কাজ করতে পারতাম।
তিনি আরো বলেন, সমুদ্রে এমন কিছু দামী মাছ পাওয়া যায় যার মূল্য অনেক। যেমনÑ ভোল মাছ; এক কেজি ভোল মাছ প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আমাদের সংগৃহীত এসব মাছ চরেই বিক্রি হয়, এছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, আশাশুনির মহেস্বরকাঠি, মুন্সিগঞ্জ বা কয়রার ব্যবসায়ীরাও এসে আমাদের কাছ থেকে মাছ নিয়ে যান।
তিনি আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার থেকে আমাদের যে চাল দেওয়ার কথা, যাদের কার্ড আছে তারা তা পাচ্ছেন। তবে বছরের সব সময় আমরা সাগরে থাকতে পারি না। বিশেষ করে আবহাওয়া যখন খারাপ হয়, তখন সমুদ্রে যে পরিমাণ ঢেউ বা রোলিং শুরু হয়, তাতে জান নিয়ে টানাটানি পড়ে যায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তখন আমাদের পক্ষে সাগরে টিকে থাকতে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামের জেলে আজগর আলী বলেন, টানা ৫৮ দিন সাগরে যাওয়া বন্ধ থাকলে আমাদের চরম অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়তে হয়। সরকারের দেওয়া চাল কিছুটা স্বস্তি দিলেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতাপনগর এলাকার আরেক জেলে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাই, কিন্তু মাছের ন্যায্যমূল্য পাই না। উপকূলে ফিরে আসার পর আমাদের হাতে কোনো কাজ থাকে না। সরকার থেকে যে চাল দেওয়া হয়, তা দিয়ে জীবন চালানো দুষ্কর। শুধু তো চাল দিয়ে হয় না, আনুষঙ্গিক তরিতরকারি কেনার সামর্থ্যও আমাদের নেই। অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে আমাদের একেকটি দিন কাটছে।
মানবাধিকার কর্মী মাধব দত্ত বলেন, শুধু চাল দিলেই একটি মৎস্যজীবী সংসার চলে না। চালের সাথে তেল, নুন, ডাল ও শাকসবজির মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য তাদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রয়োজন। বর্তমানের অগ্নিমূল্যের বাজারে সরকারের উচিত চালের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে অন্তত ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা।
তিনি আরো বলেন, মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকার সময়ে জেলেরা সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়ে। এই অবকাশকালীন সময়ে তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্যজীবী-বান্ধব ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুললে তারা এই অলস সময়ে কাজ করার সুযোগ পাবে। এছাড়া জেলে পরিবারের নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে এই মানুষগুলো মানবেতর জীবনযাপন করে, যার ফলে অনেক সময় তারা নিরুপায় হয়ে জলদস্যু-বনদস্যুসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ে। তাই তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, আমাদের এলাকা থেকে আনুমানিক ১২০০ থেকে ১২৫০ জন জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। সমুদ্রগামী জেলেরা সরকারিভাবে চালের বরাদ্দ পেলেও সেটি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য; জেলেরা মাত্র ৫৬ থেকে ৭৭ কেজির মতো চাল পান, যা দিয়ে তাদের বিশাল খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। সমুদ্রগামী জেলেরা কিছুটা পেলেও আর বেশিরভাগ জেলে কোনো সহায়তা পায়ই না। জেলেরা মূলত লইট্টা, চিংড়ি, ফেশা ও ছুরি মাছ ধরেন, যা খুলনা হয়ে সরাসরি চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটে চলে যায়। তবে জেলেরা যখন স্থানীয়ভাবে মাছ বিক্রি করেন, তখন তারা মোটেও ন্যায্যমূল্য পান না।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে জেলেদের জন্য সবচাইতে বড় আতঙ্কের নাম হলো জলদস্যু। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলে মইন বাহিনী বা জাহাঙ্গীর বাহিনীর মতো জলদস্যুরা জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। একেকজন জেলেকে ছাড়িয়ে আনতে তারা ২ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করে। এই জলদস্যুদের অত্যাচারে আমাদের জেলেরা আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সাতক্ষীরার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিএম সেলিম বলেন, সাতক্ষীরা জেলার বিশাল এক জনগোষ্ঠী মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে আমাদের তালিকাভুক্ত ৪৯ হাজার জেলের মধ্যে একটি বড় অংশ গভীর সমুদ্রে এবং উপকূলীয় নদ-নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। বিশেষ করে সরকারি নির্দেশনায় যখন মাছ ধরা বন্ধ থাকে, তখন আমরা জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল দিয়ে থাকি। তবে আমরা অনুভব করছি যে, শুধুমাত্র চাল দিয়ে একটি পরিবারের সম্পূর্ণ ভরণপোষণ কঠিন। তাই আমরা ঊর্ধ্বতন মহলে প্রস্তাব পাঠিয়েছি যাতে চালের পাশাপাশি ডাল, তেল বা আলুর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যও এই সহায়তার আও্যতা আনা যায়।
তিনি আরও বলেন, জেলেদের স্বাবলম্বী করতে আমরা বিকল্প কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। এছাড়া সমাজসেবা, সমবায় বা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের মতো সরকারি অন্যান্য বিভাগগুলো যদি তাদের সেফটি নেটের আওতায় এই জেলেদের ভাগ করে নিয়ে সহায়তা করে, তবে তাদের দারিদ্র্য বিমোচন আরও দ্রুত সম্ভব হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকারি পুকুর ইজারা। জেলে সমিতিগুলো যদি স্বচ্ছতার সাথে এই পুকুরগুলোর ইজারা পায়, তবে জেলেদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের নিবন্ধিত জেলেরা যেন নিয়মিত সুযোগ-সুবিধা পায় এবং পর্যায়ক্রমে আরও বেশি সংখ্যক জেলেকে সহায়তার আওতায় আনা যায়। পর্যায়ক্রমে অনিবন্ধিত জেলেদেরও সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও চোরাচালানী পন্য আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও চোরাচালানী পন্য আটক

পত্রদূত ডেস্ক: শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কুশখালি, কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, কসমেটিক্স, জিরা ও কাজুবাদাম এবং মদ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কুশখালি বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার চৌরঙ্গী হতে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার ভাদিয়ালি হতে ৯ হাজার টাকার ভারতীয় মদ আটক করে।
এছাড়াও, মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার বারেকের মোড় হতে ১৬ হাজার ৭৭৮ টাকার ভারতীয় কসমেটিক্স, জিরা ও কাজুবাদাম আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ২ লাখ ৫ হাজার ৭৭৮ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

কয়রায় বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
কয়রায় বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: বিএনপি সরকার সবসময় পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে আন্তরিক। দেশের সবুজায়ন বৃদ্ধি, বনভূমি সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

 

স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সড়কের পাশে, খাল-বিলের তীরে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরণ ও সরকারি স্থাপনায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির চেয়ারম্যান, দেশের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে মন্তব্য করেছেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।

বৃক্ষমেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সরদার মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় কয়রার বেদকাশী কাছারীবাড়ী ঐতিহ্যবাহী বটতলায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এই অঞ্চলে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সবাই মিলে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে ও পতিত জমিতে বেশি করে গাছ লাগাই। সরকারের পাশাপাশি আমাদেরকেও এই অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। ঘূর্ণিঝড় সহ পরিবেশের বায়ুদূষণ, বন্যা, খরতাপ, নদীভাঙ্গন রোধ, বজ্রপাত প্রতিরোধে বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ। তেমনি সবুজায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, কয়রা-পাইকগাছার অর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিক ছোঁয়া শুধুই নয় অত্যাধুনিক ভাবে এই অঞ্চল কে গড়ে তুলতে চাই। এই অঞ্চলের জন্য ইতিমধ্যে হাসপাতাল, স্টেডিয়াম, স্কুল, কলেজের নতুন নতুন ভবনের বরাদ্দ দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো কে জাতীয় জাতীয়করনে কাজ করছি, অনেক গুলোর যৌক্তিকতার আলোকে চিঠি ইস্যু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো জাতীয়করণ হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পাইকগাছা উপজেলা বিএনপি আহবায়ক ডাঃ আব্দুল মজিদ, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম শামীম কবির, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী, জেলা জাসাস আহবায়ক শহিদুল ইসলাম সহিদ।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মনিরুজ্জামান বেল্টু, জি এম মাওলা বক্স, শরিফুল আলম, আব্দুস সামাদ, প্রফেসর আবুল কালাম, জিএম রফিকুল, হাবিবুর রহমান, নাজমুল হুদা, সালাউদ্দিন লিটন, সাইফুজ্জামান, আইয়ুব আলী, রওশন মোল্লা, গোলাম রসুল, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা আইয়ুব হোসেন, জিএম রাসেল ইসলাম, জাহিদুর রহমান শোভন, পীর আলী, মোহতাসিম বিল্লাহ, জামাল জাফরিন, ডিএম হেলালউদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ কাজল, আরিফ বিল্লাহ সবুজ, মামুন হাসান, এহসানুল ইছান, জুবায়ের হোসেন প্রমুখ।

বৃক্ষ মেলায় আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

উত্তর বেদকাশি ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ মেলা ২৬ বছর ধরে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। মেলায় উপজেলার বিভিন্ন নার্সারি শতাধিক স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ নিয়ে অংশগ্রহণ করে। মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে জেলা পরিষদ প্রশাসক প্রদর্শিত চারা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদ বৃক্ষ মেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

এরপরে তিনি কয়রার সেন্ট্রাল হাসপাতাল উদ্বোধন করেন এবং কয়রা উপজেলা জামে মসজিদে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ক্লাসভিত্তিক ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ক্লাসভিত্তিক ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

মাসুদ রানা: ‎বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার অন্তর্গত স্কুল বিভাগের উদ্যোগে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাসভিত্তিক ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে।

‎শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮:৩০ মিনিটে স্কুল বিভাগের পরিচালক তাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি রেদোয়ান কবির তাজিমের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শহর শাখার প্রকাশনা সম্পাদক মো. মাসুদুজ্জামান।

‎উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; সৎ, যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে শারীরিক সুস্থতা ও মেধা বিকাশের বিকল্প নেই। মাদক ও অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্রের পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইসলামী ছাত্রশিবির সর্বদা এ ধরনের গঠনমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।”

‎উদ্বোধনী ম্যাচে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণীর দলগুলো উৎসবমুখর পরিবেশে অংশ নেয়। খেলা দেখতে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের উপস্থিতি মাঠে এক প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি করে