বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

সরকারি হাসপাতাল কেন মানুষের আস্থা হারাচ্ছে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:১১ অপরাহ্ণ
সরকারি হাসপাতাল কেন মানুষের আস্থা হারাচ্ছে?

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হিসেবে স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তার কথা বলেছে। কিন্তু বাস্তবতা আজ একটি কঠিন প্রশ্ন সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে রাষ্ট্র কি সত্যিই সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পেরেছে, নাকি চিকিৎসা ধীরে ধীরে এমন এক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যেখানে অর্থই চিকিৎসা পাওয়ার প্রধান শর্ত? বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির।

 

তাদের পক্ষে ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই সরকারি হাসপাতালই তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই হাসপাতালেই যখন চিকিৎসকের সংকট, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি, আধুনিক যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, দীর্ঘ অপেক্ষা, শয্যার স্বল্পতা এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপে সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব আরও বেড়ে যায়।

 

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সরকারি হাসপাতালের অসংখ্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিকূল পরিবেশেও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, স্বাস্থ্যখাতে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা, সীমিত সম্পদ, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং জবাবদিহির ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনমনে অসন্তোষ রয়েছে। কোথাও চিকিৎসক নেই, কোথাও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অকেজো, কোথাও ওষুধের সংকট, আবার কোথাও অতিরিক্ত রোগীর চাপ সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

 

এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এগুলো স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের হাসপাতাল রয়েছে। তবে সেখানে শক্তিশালী সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কার্যকর স্বাস্থ্যবিমা, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন না।

 

রাষ্ট্র স্বাস্থ্যসেবাকে কেবল বাজারের ওপর ছেড়ে দেয় না; বরং নাগরিকের অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। বাংলাদেশে আজও অসংখ্য পরিবার চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ঋণ নেয়, জমি বিক্রি করে কিংবা চিকিৎসাই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। আবার যাদের সামর্থ্য আছে, তারা উন্নত চিকিৎসার আশায় বিদেশে যান। এর ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। অথচ দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তুলতে কার্যকর বিনিয়োগ করা গেলে এই পরিস্থিতির অনেকটাই পরিবর্তন করা সম্ভব। এখন আর খন্ডিত উদ্যোগে কাজ হবে না।

 

স্বাস্থ্যখাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক জাতীয় সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে শূন্যপদ দ্রুত পূরণ, পর্যাপ্ত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ডিজিটাল উপস্থিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, দরিদ্র মানুষের জন্য কার্যকর স্বাস্থ্যবিমা চালু এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান ও ব্যয়ের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

‎একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু উঁচু সেতু, প্রশস্ত মহাসড়ক কিংবা বড় বড় স্থাপনা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। প্রকৃত উন্নয়নের মানদন্ড হলো একজন দরিদ্র কৃষক, জেলে, শ্রমিক, রিকশাচালক কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষ অসুস্থ হলে তিনি সম্মানজনক, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না।

 

স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসপণ্য নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তাই স্বাস্থ্যখাতকে অবহেলা, অদক্ষতা ও দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতার গন্ডি থেকে বের করে এনে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। কারণ সুস্থ মানুষই পারে একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

Ads small one

অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

মীর মোস্তফা আলী: প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় চিংড়ি ঘেরের আইল ও পতিত জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে অসময়ের বা বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ। সবজির পাশাপাশি এখন ক্ষেতজুড়ে শোভা পাচ্ছে বাংলালিংক ও আকর্ষণীয় হলুদ জাতের তরমুজ। চলতি মৌসুমে জেলার ১০৮ হেক্টর জমিতে এই তরমুজের সফল আবাদ হয়েছে।
উপকূলীয় সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতেই এখন ঝুলছে মিষ্টি ও রসালো এই ফল। বিশেষ করে তালা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় বাংলালিংক ও হলুদ তরমুজের ফলন বেশি হয়েছে।
তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২৮ জন কৃষক বেসরকারি সংস্থা ‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’ ও পিকেএসএফের সহযোগিতায় ২১ বিঘা জমিতে প্রথম এই হলুদ তরমুজের আবাদ শুরু করেন। মাত্র ৬৫ দিনে ফলন আসায় অল্প খরচে অধিক মুনাফা পাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার কৃষক ইকবাল, শিপন ও হান্নান জানান, জমি প্রস্তুত, সার, মালচিং পেপার, মাচা ও জাল বাবদ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও এই ফল বিক্রি করে বিঘা প্রতি ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তারা। অল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় একই জমিতে বছরে দুইবার তরমুজ চাষ করা সম্ভব।
উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষিবিদ নয়ন হোসেনের মতে, সাতক্ষীরার মাটি অসময়ের তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। চাকরির পেছনে না ঘুরে শিক্ষিত তরুণরা কৃষি উদ্যোগে যুক্ত হলে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বড় অবদান রাখতে পারবেন।

বইয়ের বিকল্প কেবল বই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বইয়ের বিকল্প কেবল বই

 

‎তারিক ইসলাম
‎সভ্যতার সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির জ্ঞানচর্চা, মননশীলতা এবং উৎকর্ষ সাধনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বাহন হলো বই। প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল মাধ্যমের অভূতপূর্ব বিপ্লবের যুগে আজ চারদিকে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দানা বাঁধছে—ডিজিটাল স্ক্রিন, ই-বুক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সময়েও কি বইয়ের আবেদন অপরিবর্তিত থাকবে? নাকি এর কোনো বিকল্প চলে এসেছে? গভীর ও সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করলে একটি সত্যই সামনে ভেসে ওঠে—তা হলো, বইয়ের বিকল্প কেবল আরেকটি বই-ই হতে পারে, অন্য কিছু নয়।
‎আজকের দিনে তথ্য প্রাপ্তির পথ অত্যন্ত সহজলভ্য। ইন্টারনেটের এক ক্লিকেই হাজারো তথ্য, নিবন্ধ ও সারসংক্ষেপ চোখের সামনে চলে আসে। কিন্তু তথ্য আর জ্ঞান এক জিনিস নয়। তথ্য আমাদের সাময়িক কৌতূহল মেটায় বা কাজের সুবিধা করে দেয়, আর জ্ঞান আমাদের ভেতরটাকে সমৃদ্ধ করে, চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে এবং জীবনদর্শনের ভিত্তি গড়ে দেয়। এই পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানলাভের একমাত্র এবং প্রধান মাধ্যম হলো বই পড়া। একটি পূর্ণাঙ্গ বইয়ের পাতায় পাতার সঙ্গে যখন একজন পাঠকের চোখ ও মনের সংযোগ ঘটে, তখন সেখানে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা শুরু হয়, যা কোনো টুকরো তথ্য বা ডিজিটাল স্ক্রিনের ক্ষণস্থায়ী স্ক্রোলিংয়ে পাওয়া অসম্ভব।
‎বই পড়ার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গভীর ও ইন্দ্রিয়গ্রাহী। কাগজের ঘ্রাণ, পাতা উল্টানোর শব্দ এবং একটি আস্ত কাহিনীর ভেতরে ডুবে যাওয়ার অনুভূতি কেবল একটি বস্তুগত বইই দিতে পারে। এর বিপরীতে, ডিজিটাল মাধ্যমে পড়ার সময় মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেশি থাকে। নোটিফিকেশন, পপ-আপ বিজ্ঞাপন বা ইন্টারনেটের নানা প্রলোভন পাঠকের মনোযোগকে বারবার ছিন্ন করে। ফলে লেখকের মূল ভাবনার গভীরে পৌঁছানো বা তার সাথে মানসিক ঐক্য স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বই আমাদের এক ধরনের একাগ্রতা শেখায়, যা আজকের দ্রুতগতির বিক্ষিপ্ত যুগে বড় বেশি দুর্লভ।
‎অনেকে মনে করেন, ই-বুক বা অডিওবুক বইয়ের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। নিঃসন্দেহে এগুলো প্রযুক্তির চমৎকার উপহার এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত উপযোগী। কিন্তু এগুলোকে বইয়ের পরিপূরক বলা চলে, বিকল্প নয়। অডিওবুক শোনার সময় আমাদের কল্পনাশক্তির ওপর শ্রোতা হিসেবে একধরনের সীমাবদ্বতা তৈরি হয়, কারণ কথক বা কণ্ঠশিল্পীর উচ্চারণের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। অথচ নিজে বই পড়ার সময় পাঠক নিজেই তার কল্পনার রঙে চরিত্র ও দৃশ্যপটকে জীবন্ত করে তোলেন। বই পড়ার এই সৃজনশীল প্রক্রিয়াটি একান্তই পাঠকের নিজস্ব।
‎সবশেষে বলা যায়, সমাজ পরিবর্তনশীল, প্রযুক্তির রূপ বদলায়, বিনোদনের মাধ্যমও নতুন থেকে নতুনতর হয়; কিন্তু মানুষের মননশীলতার খোরাক জোগাতে বইয়ের আসন চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকে। একটি ভালো বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, সুসময়ের আনন্দ এবং দুর্দিনের সান্ত¡না। তাই যত আধুনিকতাই আসুক না কেন, মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও আবেগের সঠিক বিকাশ ঘটাতে বইয়ের স্থান কেউ দখল করতে পারবে না। বইয়ের বিকল্প কেবল বই-ই। লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

 

কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় আগামী ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য হাজী সম্মেলন উপলক্ষে কলারোয়ায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কলারোয়ার মরহুম ডাক্তার আনিসুর রহমান ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলারোয়া উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও কলারোয়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু নসরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আলহাজ মো. দ্বীন আলী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ গোলাম মোস্তফা। উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামসুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইউনুস আলী, শাহীনুর রহমান ও আব্দুর রউফ উপস্থিত ছিলেন।