বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সরকারি হাসপাতাল কেন মানুষের আস্থা হারাচ্ছে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:১১ অপরাহ্ণ
সরকারি হাসপাতাল কেন মানুষের আস্থা হারাচ্ছে?

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হিসেবে স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তার কথা বলেছে। কিন্তু বাস্তবতা আজ একটি কঠিন প্রশ্ন সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে রাষ্ট্র কি সত্যিই সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পেরেছে, নাকি চিকিৎসা ধীরে ধীরে এমন এক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যেখানে অর্থই চিকিৎসা পাওয়ার প্রধান শর্ত? বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির।

 

তাদের পক্ষে ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই সরকারি হাসপাতালই তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই হাসপাতালেই যখন চিকিৎসকের সংকট, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি, আধুনিক যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, দীর্ঘ অপেক্ষা, শয্যার স্বল্পতা এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপে সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব আরও বেড়ে যায়।

 

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সরকারি হাসপাতালের অসংখ্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিকূল পরিবেশেও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, স্বাস্থ্যখাতে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা, সীমিত সম্পদ, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং জবাবদিহির ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনমনে অসন্তোষ রয়েছে। কোথাও চিকিৎসক নেই, কোথাও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অকেজো, কোথাও ওষুধের সংকট, আবার কোথাও অতিরিক্ত রোগীর চাপ সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

 

এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এগুলো স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের হাসপাতাল রয়েছে। তবে সেখানে শক্তিশালী সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কার্যকর স্বাস্থ্যবিমা, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন না।

 

রাষ্ট্র স্বাস্থ্যসেবাকে কেবল বাজারের ওপর ছেড়ে দেয় না; বরং নাগরিকের অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। বাংলাদেশে আজও অসংখ্য পরিবার চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ঋণ নেয়, জমি বিক্রি করে কিংবা চিকিৎসাই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। আবার যাদের সামর্থ্য আছে, তারা উন্নত চিকিৎসার আশায় বিদেশে যান। এর ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। অথচ দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তুলতে কার্যকর বিনিয়োগ করা গেলে এই পরিস্থিতির অনেকটাই পরিবর্তন করা সম্ভব। এখন আর খন্ডিত উদ্যোগে কাজ হবে না।

 

স্বাস্থ্যখাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক জাতীয় সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে শূন্যপদ দ্রুত পূরণ, পর্যাপ্ত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ডিজিটাল উপস্থিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, দরিদ্র মানুষের জন্য কার্যকর স্বাস্থ্যবিমা চালু এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান ও ব্যয়ের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

‎একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু উঁচু সেতু, প্রশস্ত মহাসড়ক কিংবা বড় বড় স্থাপনা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। প্রকৃত উন্নয়নের মানদন্ড হলো একজন দরিদ্র কৃষক, জেলে, শ্রমিক, রিকশাচালক কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষ অসুস্থ হলে তিনি সম্মানজনক, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না।

 

স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসপণ্য নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তাই স্বাস্থ্যখাতকে অবহেলা, অদক্ষতা ও দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতার গন্ডি থেকে বের করে এনে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। কারণ সুস্থ মানুষই পারে একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

Ads small one

সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুরা আবারও সক্রিয়? জেলেদের অভিযোগে নতুন আতঙ্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুরা আবারও সক্রিয়? জেলেদের অভিযোগে নতুন আতঙ্ক

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন সাবেক বনদস্যু আবারও বিভিন্ন সক্রিয় ডাকাত দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ডাকাতি ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বনদস্যুদের কাছে জিম্মি থাকার পর সম্প্রতি ফিরে আসা কয়েকজন জেলে এমন অভিযোগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার গনি সানার ছেলে ননে সানা, লোকমানের ছেলে বাবু এবং দাতিনাখালী এলাকার মনতেজ সরদারের ছেলে আসাদুল (ননি গোপাল) গত কয়েকদিন ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন ডাকাত দলের সঙ্গে মিশে পুনরায় বনদস্যু কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বনদস্যুদের কাছ থেকে মুক্ত হয়ে ফেরা একাধিক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুন্দরবনের ভেতরে এখনও কয়েকটি সশস্ত্র ডাকাত দল সক্রিয় রয়েছে। তারা জেলেদের নৌকা থামিয়ে জিম্মি করছে এবং মুক্তিপণ আদায় করছে। এসব দলে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন সাবেক বনদস্যুকেও দেখা গেছে বলে তাদের দাবি।

স্থানীয় বনজীবীদের মধ্যে এ ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা সুন্দরবনে নিরাপদে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ নিশ্চিত করতে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সুন্দরবনে বনদস্যুদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে এবং সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয় নাই।

শ্যামনগরে ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় বুধবার(৫ আগস্ট) বিকালে উপজেলা পরিষদ হল রুমে শ্যামনগর ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের আয়োজনে বেল্ট পরীক্ষার ফলাফল ও বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যসহ উত্তীর্ণদের মাঝে বেল্ট প্রদান করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ রাশেদ হোসাইন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জিয়াউর রহমান, উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এস এম দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের প্রশিক্ষক জি এম রাজগুল বাহার রাজু। ফলাফল অনুযায়ী সাদা থেকে হলুদ বেল্ট প্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন রাফিন, মাইনুল বুশরা, ২য় রাহাত, ৩য় তৈয়েব, ৪র্থ আজমাইন ও আফিফ, ৫ম মাইশা, ৬ষ্ঠ মেহেতাজ, ৭ম নিলয় ও ৮ম মাহির। হলুদ বেল্ট থেকে কমলা বেল্ট প্রাপ্তদের মধ্যে ১ম রাফিন ও ইমন,২য় তামিম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রনজিৎ বর্মন, শিক্ষক কওছারসহ অভিভাবকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের পক্ষ থেকে অতিথিবৃন্দকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ভারত পাচারকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে স্বর্ণেবারসহ পাসপোর্টযাত্রী আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
ভারত পাচারকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে স্বর্ণেবারসহ পাসপোর্টযাত্রী আটক

Oplus_0

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ভারতে পাচারকালে স্বর্নের চালানসহ পাসপোর্টধারী যাত্রীকে আটক করেছে কাষ্টম। আটক স্বর্ন পাচারকারী মোবারক হোসেন মুনসিগঞ্জ সদর এলাকার তাজুউদ্দীনের ছেলে।

বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা শাখার সহকারি কমিশনার সাজিদ মাহাদুদ কৌশিক জানান, বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে যাত্রী মোবারক হোসেন বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে যাবার সময় ঐ যাত্রীর আচারন ও চলাফেরা সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা করা হয়। এসময় তার কাছে স্বর্ন থাকার কথা স্বীকার করে।

 

পরে তার প্যান্টের পকেট থেকে ১০০ গ্রাম ওজনের দুটি স্বর্নবার পাওয়া যায়। যার বাজার মুল্য আনুমানিক ২২ লাখ টাকা। পরে তার শরীরের ভেতর আরো স্বর্ন আছে সন্দেহে এক্সরে করে কিন্তু পাওয়া যায়নি। আটক পাসপোর্টধারীর বিরুদ্ধে স্বর্নপাচার আইনে মামলা করা হয়েছে। তাকে পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান ইমিগ্রেশন পুলিশ।