সাংবাদিকতার বটবৃক্ষ: শুভ অবসর, কল্যাণ দা
তারিক ইসলাম
সাতক্ষীরাতে ‘‘প্রথম আলো’’ নামটি উচ্চারণ করলেই যার স্নেহমাখা মুখটি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তিনি আর কেউ নন-সবার প্রিয়, সর্বজনশ্রদ্ধেয় কল্যাণ ব্যানার্জি। সবার ভালোবাসার কল্যাণ দা।
১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর-স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে পথচলা শুরু করেছিল “প্রথম আলো”। আর সেই সূচনা থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই প্রান্তিক জনপদ সাতক্ষীরায় প্রথম আলোর প্রদীপটি যিনি নিজ হাতে জ্বালিয়েছিলেন, তিনি কল্যাণ ব্যানার্জি। দীর্ঘ পথচলায় সাতক্ষীরায় প্রথম আলো মানেই যেমন ছিলেন কল্যাণ দা, ঠিক তেমনই কল্যাণ দা মানেই ছিল প্রথম আলোর নির্ভরযোগ্য কণ্ঠস্বর।
সাতক্ষীরার সাংবাদিকতার ইতিহাস লিখতে গেলে যার নাম প্রথম সারিতে স্থান পাবে, তিনি এই প্রথিতযশা সাংবাদিক ও আধুনিক সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিশাল আয়তনের এই জনপদের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে খবরের খোঁজে তিনি ছুটে চলেছেন দিন-রাত। সত্যের সন্ধানে তার এই ক্লান্তিহীন যাত্রা সাতক্ষীরার মানুষকে দিয়েছে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, আর তরুণ প্রজন্মকে দেখিয়েছে সৎ সাংবাদিকতার পথ।
তবে কল্যাণ ব্যানার্জি কেবল একজন সাংবাদিক নন; তিনি এক চলন্ত প্রতিষ্ঠান, আলোকিত মানুষ গড়ার অনন্য কারিগর। তার স্নেহতলে ও দিকনির্দেশনায় তৈরি হয়েছেন এই অঞ্চলের বহু প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক। কেবল সংবাদ পরিবেশনেই তার দায়িত্ব সীমাবদ্ধ ছিল না-সহকর্মী বা কোনো সাংবাদিক বিপদে পড়লে সবার আগে যিনি অভিভাবক হয়ে পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন, তিনি আমাদের কল্যাণ দা। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা, সাধারণ মানুষের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তিনি সবসময় থেকেছেন প্রথম সারির অগ্রনায়ক হয়ে।
দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল পথচলা শেষে ১ আগষ্ট তিনি ‘প্রথম আলো’র নিজস্ব প্রতিবেদকের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করছেন। প্রথম আলোর পাতা হয়তো তার লেখা নতুন কোনো প্রতিবেদনের অপেক্ষায় থাকবে। সাতক্ষীরার সাংবাদিকতায় এবং মানুষের হৃদয়ে তার অবদান চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
কল্যাণ দা, প্রথম আলো থেকে আপনার প্রশাসনিক বিদায় হতে পারে, কিন্তু সাতক্ষীরার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ইতিহাসের পাতায় আপনার নাম খোদাই করা থাকবে চিরকাল।
আপনার এই অবসর জীবন কাটুক সুস্থতায়, শান্তিতে এবং অনাবিল আনন্দে। শুভ অবসর, প্রিয় কল্যাণ দা।আপনি আমাদের প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবেন আজীবন।
লেখক: তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।








