মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় জমকালো আয়োজনে ভাই ভাই ট্রেডার্সের হালখাতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জমকালো আয়োজনে ভাই ভাই ট্রেডার্সের হালখাতা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার অন্যতম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’-এর বাৎসরিক হালখাতা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সাতক্ষীরা লেকভিউ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রীতিভোজ এবং দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়।
ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান বাবুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জায়েদ বিন গফুর, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, ভিআরএম গোল্ডের সিনিয়র কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান, এসএস স্টিলের মো. আক্কাজ আলী, মো. আকবর আলী এবং সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. বেলাল হোসাইন। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের নির্বাহী সদস্য কাজী জামাল উদ্দীন মামুন ও কামরুজ্জামান।

Ads small one

খানাখন্দে জর্জরিত পাটকেলঘাটা-চোমরখালি সড়ক: দুর্ভোগে শত গ্রামের মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
খানাখন্দে জর্জরিত পাটকেলঘাটা-চোমরখালি সড়ক: দুর্ভোগে শত গ্রামের মানুষ

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটা বাণিজ্যিক কেন্দ্রের দক্ষিণ অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এখন বেহাল দশা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হওয়া বিশাল খানাখন্দকের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত গ্রামের বাসিন্দা।

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হওয়া এ সড়কটি সরুলিয়া ও খলিশখালী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রসারিত হয়েছে। রাজেন্দ্রপুর, লালচন্দ্রপুর, জুসখোলা, চোমরখালি, আমতলা ডাঙা, শিয়ালডাঙ্গা, কাশিয়াডাঙ্গা ও খলিশখালীসহ বহু গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এটি। প্রতিদিন এই পথ দিয়েই খুলনা, সাতক্ষীরা, কেশবপুর, আশাশুনি ও গোয়ালপোতাগামী যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয় কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শামীম শেখ আফসোস করে জানান, পুরো সাতক্ষীরা জেলায় এত খারাপ রাস্তা আর কোথাও আছে বলে তাঁর জানা নেই। অন্যদিকে খলিশখালী ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দারাও জানান, সড়কটির এমন চরম দুরবস্থা তাঁরা আগে কখনো দেখেননি।

যোগাযোগব্যবস্থার এই নাজুক অবস্থা নিয়ে সরুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাসুদ রানা ও ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রুস্তম মোড়ল জানান, সড়কটি মেরামতের বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোস্তফা লুৎফুল্লাহর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, সড়কটির বেহাল দশার বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

 

জমি দখলের হুমকি ও বেড়া ভাঙচুর: আদালতের দ্বারস্থ অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
জমি দখলের হুমকি ও বেড়া ভাঙচুর: আদালতের দ্বারস্থ অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা

পত্রদূত রিপোর্ট: “কালই জমি দখল নেব, কত ক্ষমতা আছে ঠেকাস”—এমন হুমকি দিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাবাসপুর মৌজায় এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা, লেখক ও গবেষকের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি, অশালীন গালাগাল ও বেড়া ভাঙচুরের মুখে পড়ে আতঙ্কে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভুক্তভোগী শেখ সিদ্দিকুর রহমান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আবেদন করেছেন।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, শেখ সিদ্দিকুর রহমান ২০১০ সালে রেজিস্টারকৃত দলিলের মাধ্যমে হাবাসপুর মৌজার বিআরএস খতিয়ান নং-৪৭১, দাগ নং-১২৩৫-এর ১৬.৩৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। নামজারি সম্পন্ন করে ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি জমিটি ভোগদখল করছিলেন। সীমানা নির্ধারণে সিসি পিলার স্থাপনের পাশাপাশি সেখানে তিনি ফলজ ও বনজ গাছও রোপণ করেন।

সম্প্রতি একই এলাকার মো. খলিলুর রহমান ওই দাগের পশ্চিম পাশে ৩.৩০ শতাংশ জমি কেনার পর শেখ সিদ্দিকুর রহমানকে তাঁর জমির মধ্য থেকে ৪ শতাংশ ছেড়ে দিতে চাপ দেন। পূর্বে কেনা ৮ শতাংশ ও নতুন ৩.৩০ শতাংশ জমি একত্রে ভোগ করার অজুহাতে তিনি ভুক্তভোগীকে পূর্বদিকে সরে যেতে বলেন।

পরিস্থিতি নিরসনে গত ১৮ জুলাই উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত জরিপকারক দিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়। জরিপে শেখ সিদ্দিকুর রহমানের দলিলাংশের ১৬.৩৩ শতাংশ জমি সঠিক পাওয়া গেলেও দেখা যায়, খলিলুর রহমান ৩.৩০ শতাংশের স্থানে প্রায় ৬.৫৭ শতাংশ জমি দখলে রেখেছেন।

পরিমাপ শেষে ঐদিন বিকেলে নিজের জমির এক কোণে গবাদিপশুর সুরক্ষায় একটি অস্থায়ী বেড়া দিয়ে শেখ সিদ্দিকুর রহমান গ্রামে চলে যান। পরে জানতে পারেন, অভিযুক্ত খলিলুর রহমান বেড়াটি উপড়ে ফেলেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাঙচুরের সময় পুনরায় বেড়া দিলে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীকালে ২১ জুলাই বুধহাটা বাজারে জমি জরিপকারী শেখ হেদায়েতুল ইসলামকে হেনস্তা করা হয়। একই দিনে মোবাইল ফোনে শেখ সিদ্দিকুর রহমানকে চরম অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে ২২ জুলাই জমি দখলের হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরমর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলেও শঙ্কা কাটেনি। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে শেখ সিদ্দিকুর রহমান সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করে আদালতের আদেশের অপেক্ষায় আছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. খলিলুর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন

বিএম জুলফিকার রায়হান: ‎সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার নলতা গ্রামে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় হত্যা ও সন্দেহভাজন মহিলা হত্যাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় এবং উত্তেজনা বিরাজ করে। এ ঘটনায় সোমবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দিন।

‎জানা যায়, কালিগঞ্জ থানার ৬নং কালিবাটি কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী নলতা গ্রামের এনামুল ইসলামের কন্যা ফারজানা খানম (৮) গত ২০ জুলাই তারিখে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলে যেয়ে স্কুল ব্যাগ রেখে পার্শ্ববর্তী ঝালমুড়ি ব্যবসায়ী সুমাইয়া বেগম (২৬) এর বাড়িতে যায়। দুপুরে প্রতিদিনের ন্যায় খাওয়ার জন্য বাড়িতে না যাওয়ায় ফারজানার অভিভাবক ও এলাকাবাসী খোঁজাখুঁজি করতে থাকে।

 

এক পর্যায়ে নিশ্চিত হয়ে এলাকাবাসী ঝালমুড়ি ব্যবসায়ী সুমাইয়ার বাড়ীতে তল্লাশী চালায় এবং ঘরের আলমারীর ড্রয়রের মধ্য থেকে হাত, পা বাঁধা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর লাঠি ও ইটের আঘাতে ঝালমুড়ি ব্যবসায়ী সুমাইয়া নিহত হন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।

‎এদিকে সোমবার গভীর রাতে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে সকল স্তরের পুলিশ কর্মকর্তাদের আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। অতিরিক্ত ডিআইজি দুটি ঘটনার আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওসিসহ সকলকে নির্দেশ দেন এবং এলাকাবাসীকে আইন হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।