রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও ‘জলবায়ু সহনশীল’ প্রকল্পের ড্রেন ঢালাই, গুণগত মান নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও ‘জলবায়ু সহনশীল’ প্রকল্পের ড্রেন ঢালাই, গুণগত মান নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
মো: হোসেন আলী: টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণে যখন সাতক্ষীরা শহরের জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো প্রকল্পের ড্রেন নির্মাণের ঢালাই কাজ। আজ শনিবার (১১ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও শহরের অন্যতম ব্যস্ত সরকারি কলেজ-ঝুটিতলা সড়কের ফজিলা কন্টাক্টারের বাড়ির সম্মুখে এই ঢালাই কাজ চলতে দেখা যায়। ঝুম বৃষ্টির মধ্যে এভাবে তড়িঘড়ি করে কাজ করায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু করে আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় রেকর্ড ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনও এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এমন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো প্রকল্পের অধীনে এই ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ কাজ সচল রাখা হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (কে-এফ-ডাব্লিউ) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে “ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্ট (সিআরআইএমপি)”-এর আওতায় এই উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিবরণী থেকে জানা যায়, ১ কোটি ৮১ হাজার ৫৫৯ টাকা ৬১ পয়সা ব্যয়ে ৪২৪ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি ড্রেনটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যেটি কাটিয়া লস্করপাড়া সাজেদুল করিমের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে লস্করপাড়া ঈদগাহ মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত। চুক্তি অনুযায়ী ‘মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিঃ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের ১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা রয়েছে। তবে ১ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পটি সম্প্রতি শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির পানিতে সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ ধুয়ে যাচ্ছে, যা কিনা ড্রেনের স্থায়িত্বকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে। সরকারি কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে এভাবে চোখের সামনে অনিয়ম চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ঢালাইয়ের বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মীরা। এ প্রসঙ্গে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (ক্যাফ)-এর সদস্য সচিব এডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন বলেন, যে প্রকল্পটি করা হচ্ছে চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করে শহরকে টেকসই রাখার জন্য, সেই ‘জলবায়ু সহনশীল’ প্রকল্পের কাজই যদি এমন চরম বৃষ্টির মধ্যে নিয়ম না মেনে করা হয়, তবে তা চরম প্রহসন। বৃষ্টির পানির তোড়ে সিমেন্টের সঠিক অনুপাত ঠিক থাকে না, ফলে ঢালাই দুর্বল হয়ে যায়। জলবায়ু তহবিলের এই অর্থ আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অধিকার। এর সঠিক ব্যবহার এবং শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যথায় এই কোটি কোটি টাকার প্রকল্প প্রথম বর্ষাতেই ধসে পড়বে।
এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নূর আহম্মদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি, এটা (ঢালাই) দুপাশের বর্ডার লাইন করে তারপরে করা হচ্ছে। অর্থাৎ দুপাশে স্টিলের শিট আটকে দিয়ে তারপরে ঢালাই করা হচ্ছে। তারপরেও বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।

Ads small one

জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে ভূমিহীন নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে ভূমিহীন নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার ভূমিহীন নেতারা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় দেবহাটা-কালিগঞ্জের ভূমিহীন জনপদের নেতা মো. আলমগীর হোসেন, মো. বায়োজিদ হোসেন সবুর গাজী, জেলা ভূমিহীন পরিবারের সভাপতি মো. কওছার আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম রেজাউল করিম রেজা, দপ্তর সম্পাদক স্বপন কুমার সানা এবং ভূমিহীন নেতা আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, কালিগঞ্জের ভূমিহীনদের দীর্ঘদিনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে বাবরবাদ ঘের ও জমির বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও পরে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওই আন্দোলনের সময় ঐতিহাসিক সখিপুর কলেজ মাঠে এসে ভূমিহীনদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সে সময় তিনি ভূমিহীনদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকান্ডের বিচার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সরকার গঠনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কালিগঞ্জের ভূমিহীনদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৭ জনকে জমির দলিল প্রদান করেন। এরপর তাঁরা সেখানে ভূমিহীন হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক ওই আন্দোলন এবং ভূমিহীনদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভূমিহীনদের অধিকার রক্ষার নামে কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারেন, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ভূমিহীনদের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে ব্যক্তিস্বার্থে কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারেন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। সাতক্ষীরায় এখনো অনেক প্রকৃত ভূমিহীন পরিবার রয়েছে। সরকারি খাসজমি থাকলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হবে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, সরকারি জমি না থাকলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুনর্বাসন করা সম্ভব নয়। তবে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো যাতে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

 

 

 

কেশবপুরে বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে আমন ধানের চারা রোপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে আমন ধানের চারা রোপন

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): আষাঢ় শ্রাবণ মাস বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্রে বর্ষাকাল। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের কৃষকের জন্য আমন ধানের চারা রোপনের সুবর্ণ সময় এই বর্ষাকাল। তাই বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেশবপুরের কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে।

বৃষ্টির মৌসুম শুরুতে একটু বৃষ্টি কম হলেও বর্তমান যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল বিল ডোবা নালা পানিতে পরিপুর্ণ হয়ে গেছে। তাই কৃষকরা উচু-ডোবা জমি থেকে আগাম পাট কেটে সেই জমিতে আমন ধান রোপন শুরু করেছে।

 

কেশবপুরের মাটি পাট চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকেরা আগাম পাট চাষ করে থাকে। সেই পাট কেটে রোপা আমন ধানের আবাদ করে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কেশবপুরে এবার পাটের আবাদ কম হলেও ফলন ভাল হয়েছে। পুকুর ও ডোবা নালায় যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কৃষকদের ক্ষেতের পাট কেটে পঁচন দিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। তাই তারা পাটকেটে পচন দিয়ে সেই জমিতে আমন আবাদ শুরু করেছে।

 

কেশবপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল জুড়ে এখন চলছে আমন ধানের চারা রোপনের মহোৎসাব। অন্য বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি ও কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে কেশবপুরের প্রায় ৮০টির বেশী গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়ার কারণে আমন আবাদ ব্যহত হলেও এবার কৃষকরা কপোতাক্ষের রাহু গ্রাস থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তাই এসব জমিতে এখন কৃষকরা মনের আনন্দে ধানের চারা রোপন করছে।

এবিষয়ে কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, কেশবপুরে এবার ৮হাজার ৫’শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকল থাকলে লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

 

 

 

কেশবপুর ভোররাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালাল চোর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
কেশবপুর ভোররাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালাল চোর

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে মসজিদে মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালালো চোর। তথ্য সূত্রে জানা গেছে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পৃথক দুটি বাড়িতে হানা দিয়ে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৭টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। আলতাপোল (বারোইপাড়া) গ্রামের কুমারের ৪টি এবং মঙ্গলকোট গ্রামের রবিউল ইসলাম রবির ৩টি গরু নিয়ে যায় তারা। গরুর মূল্য হবে ১০ থেকে ১২ লাখ।

চোরেরা সুকুমারের গরুগুলো বাড়ির পাশের একটি বাগানে এবং রবির গরুগুলো যশোর-চুকনগর সড়কের আলতাপোল চারেরমাথা এলাকার একটি মেহগনি বাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, পরে পিকআপে তুলে গরুগুলো নিয়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা।

কিন্তু ফজরের আজানের সময় বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদের মাইকে গরু চুরির ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণা শুনে চোরেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। রেখে যায় চুরি করা ৭টি গরু। পালানোর সময় তারা গরু বাঁধা বাগানে একটি গামছা ও পানির বোতলও ফেলে যায়।

ঘটনাটির আরও একটি বেদনাদায়ক দিক রয়েছে। রবিউল ইসলাম রবির ছোট ভাই মাত্র শুক্রবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরিবারটির শোক এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা নিঃসন্দেহে তাদের জন্য নতুন করে দুর্ভোগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে বৃষ্টির পানিতে কেশবপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন, অন্যদিকে কৃষকের শেষ সম্বল গবাদিপশুও নিরাপদ নয়-এ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থানীয়রা বলছে রাতের পুলিশি টহল কতটা কার্যকর?

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন আমাদের কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি তবে বিষয়টা আমাদের জেনেছি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।