শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও ‘জলবায়ু সহনশীল’ প্রকল্পের ড্রেন ঢালাই, গুণগত মান নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও ‘জলবায়ু সহনশীল’ প্রকল্পের ড্রেন ঢালাই, গুণগত মান নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
মো: হোসেন আলী: টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণে যখন সাতক্ষীরা শহরের জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো প্রকল্পের ড্রেন নির্মাণের ঢালাই কাজ। আজ শনিবার (১১ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও শহরের অন্যতম ব্যস্ত সরকারি কলেজ-ঝুটিতলা সড়কের ফজিলা কন্টাক্টারের বাড়ির সম্মুখে এই ঢালাই কাজ চলতে দেখা যায়। ঝুম বৃষ্টির মধ্যে এভাবে তড়িঘড়ি করে কাজ করায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু করে আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় রেকর্ড ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনও এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এমন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো প্রকল্পের অধীনে এই ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ কাজ সচল রাখা হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (কে-এফ-ডাব্লিউ) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে “ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্ট (সিআরআইএমপি)”-এর আওতায় এই উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিবরণী থেকে জানা যায়, ১ কোটি ৮১ হাজার ৫৫৯ টাকা ৬১ পয়সা ব্যয়ে ৪২৪ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি ড্রেনটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যেটি কাটিয়া লস্করপাড়া সাজেদুল করিমের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে লস্করপাড়া ঈদগাহ মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত। চুক্তি অনুযায়ী ‘মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিঃ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের ১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা রয়েছে। তবে ১ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পটি সম্প্রতি শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির পানিতে সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ ধুয়ে যাচ্ছে, যা কিনা ড্রেনের স্থায়িত্বকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে। সরকারি কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে এভাবে চোখের সামনে অনিয়ম চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ঢালাইয়ের বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মীরা। এ প্রসঙ্গে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (ক্যাফ)-এর সদস্য সচিব এডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন বলেন, যে প্রকল্পটি করা হচ্ছে চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করে শহরকে টেকসই রাখার জন্য, সেই ‘জলবায়ু সহনশীল’ প্রকল্পের কাজই যদি এমন চরম বৃষ্টির মধ্যে নিয়ম না মেনে করা হয়, তবে তা চরম প্রহসন। বৃষ্টির পানির তোড়ে সিমেন্টের সঠিক অনুপাত ঠিক থাকে না, ফলে ঢালাই দুর্বল হয়ে যায়। জলবায়ু তহবিলের এই অর্থ আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অধিকার। এর সঠিক ব্যবহার এবং শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যথায় এই কোটি কোটি টাকার প্রকল্প প্রথম বর্ষাতেই ধসে পড়বে।
এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নূর আহম্মদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি, এটা (ঢালাই) দুপাশের বর্ডার লাইন করে তারপরে করা হচ্ছে। অর্থাৎ দুপাশে স্টিলের শিট আটকে দিয়ে তারপরে ঢালাই করা হচ্ছে। তারপরেও বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।

Ads small one

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরার চিরচেনা জলাবদ্ধতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরার চিরচেনা জলাবদ্ধতা

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার মানুষের কাছে ‘জলাবদ্ধতা’ কোনো নতুন শব্দ নয়, বরং এটি তাদের জীবনের এক বার্ষিক অভিশাপ। সম্প্রতি মাত্র এক রাতের ১৪৬ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল যেভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে, তা আবারও প্রমাণ করল যেÑআমাদের নগর পরিকল্পনা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর। সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাগুলোতে হাঁটুসমান পানি জমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়া এবং মানুষের ঘরে সাপ-খোপ ঢুকে পড়ার মতো পরিস্থিতি কোনো আধুনিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজের চিত্র হতে পারে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ অত্যন্ত যৌক্তিক। বিশ বছর ধরে এক অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলছেন তারা। ‘দক্ষিণবঙ্গের অক্সফোর্ড’ খ্যাত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোড, মাছখোলা এলাকা কিংবা কলারোয়ার ঐতিহ্যবাহী বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ দেবনগর ও শ্রীফলকাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পানিতে ডুবে থাকার দৃশ্য শুধু শিক্ষার পরিবেশকেই ব্যাহত করছে না, বরং আমাদের কোমলমতি শিশুদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। খাবার পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার বিপর্যয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে, দিনমজুর ও ভ্যানচালকদের মতো খেটে খাওয়া মানুষ কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা।
মূল সংকট কোথায়? স্থানীয়দের অভিযোগ পরিষ্কারÑঅপরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব, ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং স্লুইস গেটগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকা।
নতুন সরকারের অধীনে নদী ও খাল খননের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং আশাব্যঞ্জক। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আশ্বাসের পরিপ্রক্ষিতে বলা যায়, শহরের প্রাণসায়ের খালের সাথে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংযোগ সচল করা এবং স্লুইস গেটগুলো সময়মতো খুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে এই কাজগুলো শুধু কাগজের পরিকল্পনা বা সাময়িক সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এর জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরার এই চিরচেনা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে জেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একযোগে কাজ করতে হবে। পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথগুলো সচল করা, অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খাল ও জলাশয় উদ্ধার করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাঠ ভরাট ও উঁচুকরণ এখন সময়ের দাবি। নতুন সরকারের সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সুফল যেন সাতক্ষীরার মানুষ বাস্তবে পায়Ñসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আশাশুনি কলেজ কেন্দ্রে চার পরীক্ষার্থী বহিস্কার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনি কলেজ কেন্দ্রে চার পরীক্ষার্থী বহিস্কার

আশাশুনি প্রতিনিধি: চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় আশাশুনি সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ৪ কলেজের ৪জন পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিস্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিজনেস ইংলিশ সাবজেক্টের পরীক্ষায় তাদেরকে বহিস্কার করা হয়।
কেন্দের হল সুপার প্রভাষক রবিউল ইসলাম জানান, ভিজিলেন্স টিম সদস্য পরীক্ষা চলাকালে কারিগরি শিক্ষা বিভাগের কক্ষে ৪ পরীক্ষার্থীকে অনৈতিক উপায় অবলম্বনের দায়ে খাতা, নকল, মোবাইল উদ্ধার করেন। পরে তাদেরকে (আশাশুনি সরকারি কলেজের একজন-মোবাইল পাওয়ায়, বড়দল আফতাব উদ্দীন কলেজিয়েট স্কুলের একজন-নকল পাওয়ায়, হাজী জালাল উদ্দীন কলেজের একজন-নকল পাওয়ায় ও বুধহাটা সুন্দরবন টেকনিক্যাল কলেজের একজন-নকল পাওয়ায়) বহিস্কার করা হয়।

শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসির মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসির মতবিনিময়

শ্যামনগর প্রতিনিধি: রাস্ট্র ও সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের কলমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একটি অন্ধকার সমাজকে আলোকিত করতে পারে সাংবাদিকরা। বস্তনিষ্ট সংবাদ সমাজকে আলোকিত করে। শনিবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের হলরুমে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে কথাগুলো বলেছেন অফিসার ইনচার্জ শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে তিনি আরও বলেন পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে যেতে পারে। কোন নিরিহ মানুষ যাতে হয়রাণী না হয় এবং অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে তিনি খেয়াল রাখবেন বলে আশ্বস্থ করেন। স্কুল, কলেজ সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাল্য বিবাহ, মাদক, ইভটিজিং বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা করবেন বলে জানান।শ্যামনগর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা করার জন্য চেষ্টা করবেন মতবিনিময় সভায় অবহিত করেন। শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক ছামিউল আযম মনিরের সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক বিপ্লব হোসেন।
উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ অন্যান্য বিষয়ে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রেসক্লাবের কর্মরত সাংবাদিক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা কামাল, সাংবাদিক শেখ আফজালুর রহমান, রনজিৎ বর্মন, আবু কওছার, এম কামরুজ্জামান, হাজী মুরাদ, হোসাইন বিন আফতাব, মাহমুদুল ফিরোজ বাবুল, গাজী মিশুক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, শ্যামনগর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ ২জুলাই যোগদান করেন। তিনি জেলা শহর সাতক্ষীরায় ডিবি পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন।