রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় টানা বর্ষণে ভাসছে জনপদ, চরম ভোগান্তিতে নি¤œ আয়ের মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় টানা বর্ষণে ভাসছে জনপদ, চরম ভোগান্তিতে নি¤œ আয়ের মানুষ

জিএম আমিনুল হক: গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সাতক্ষীরা জেলায় মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামÑসবত্রই এখন পানির থৈ থৈ অবস্থা। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, বাজার, ফসলের ক্ষেত্র ও মৎস্য ঘের তলিয়ে একাকার হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নি¤œ আয়ের মানুষেরা।

আবহাওয়া অফিসের হিসাব অনুযায়ী, গত চার দিনে সাতক্ষীরায় ২৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় জমা পানি নামতে পারছে না।

সাতক্ষীরা পৌরসভার পলাশপোল, কাটিয়া, ইটাগাছা, বকচরা ও খুলনা রোড এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। দোকানে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

উপজেলাগুলোর পরিস্থিতিও একই রকম। তালা, কলারোয়া, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগরের নিচু এলাকা পুরোপুরি প্লাবিত। বিশেষ করে উপকূলীয় আশাশুনি ও শ্যামনগরে জোয়ার ও বৃষ্টির যৌথ চাপে বহু ঘরবাড়ি ও চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে।

সাতক্ষীরা সদরের ফয়জুল্যাপুর গ্রামের মাছচাষী মমিনুর রহমান আক্ষেপ করে জানান, তিন বিঘা জমির ঘের পানিতে ভেসে গিয়ে তাঁর সব বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে গেছে। ধুলিহর বেড়বাড়ী গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা সোনাভান বিবি ঘরের চাল ফুটো হয়ে পানি পড়ার করুণ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাঁর ঘরে রান্না করার মতো কোনো সামগ্রী নেই।

টানা বৃষ্টির কারণে দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক ও নির্মাণশ্রমিকদের কাজ পুরোপুরি বন্ধ। শহরের ভ্যানচালক আলী হোসেন জানান, চার দিন ধরে আয় বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে তিনি অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। একই ভোগান্তির কথা জানান তালায় গৃহপরিচারিকার কাজ করা রেহেনা বেগম। আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকটে ভুগছে।

কৃষি বিভাগের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, জেলায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর আমন ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, শত শত ঘেরের বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ সাদা মাছ ও চিংড়ি ভেসে গেছে।

জলাবদ্ধতার ফলে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন বিপুল রোগী। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব উপজেলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যে ৪০ মেট্রিক টন চাল ও ৮ লাখ টাকা উদ্ধার সহায়তায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, অনেক দুস্থ পরিবার এখনো কোনো ত্রাণ সহায়তা পায়নি।

পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়া এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ থাকার কারণেই এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা। সংকট নিরসনে স্থায়ী ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

 

Ads small one

জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে ভূমিহীন নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে ভূমিহীন নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার ভূমিহীন নেতারা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় দেবহাটা-কালিগঞ্জের ভূমিহীন জনপদের নেতা মো. আলমগীর হোসেন, মো. বায়োজিদ হোসেন সবুর গাজী, জেলা ভূমিহীন পরিবারের সভাপতি মো. কওছার আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম রেজাউল করিম রেজা, দপ্তর সম্পাদক স্বপন কুমার সানা এবং ভূমিহীন নেতা আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, কালিগঞ্জের ভূমিহীনদের দীর্ঘদিনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে বাবরবাদ ঘের ও জমির বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও পরে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওই আন্দোলনের সময় ঐতিহাসিক সখিপুর কলেজ মাঠে এসে ভূমিহীনদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সে সময় তিনি ভূমিহীনদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকান্ডের বিচার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সরকার গঠনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কালিগঞ্জের ভূমিহীনদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৭ জনকে জমির দলিল প্রদান করেন। এরপর তাঁরা সেখানে ভূমিহীন হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক ওই আন্দোলন এবং ভূমিহীনদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভূমিহীনদের অধিকার রক্ষার নামে কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারেন, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ভূমিহীনদের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে ব্যক্তিস্বার্থে কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারেন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। সাতক্ষীরায় এখনো অনেক প্রকৃত ভূমিহীন পরিবার রয়েছে। সরকারি খাসজমি থাকলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হবে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, সরকারি জমি না থাকলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুনর্বাসন করা সম্ভব নয়। তবে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো যাতে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

 

 

 

কেশবপুরে বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে আমন ধানের চারা রোপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে আমন ধানের চারা রোপন

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): আষাঢ় শ্রাবণ মাস বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্রে বর্ষাকাল। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের কৃষকের জন্য আমন ধানের চারা রোপনের সুবর্ণ সময় এই বর্ষাকাল। তাই বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেশবপুরের কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে।

বৃষ্টির মৌসুম শুরুতে একটু বৃষ্টি কম হলেও বর্তমান যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল বিল ডোবা নালা পানিতে পরিপুর্ণ হয়ে গেছে। তাই কৃষকরা উচু-ডোবা জমি থেকে আগাম পাট কেটে সেই জমিতে আমন ধান রোপন শুরু করেছে।

 

কেশবপুরের মাটি পাট চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকেরা আগাম পাট চাষ করে থাকে। সেই পাট কেটে রোপা আমন ধানের আবাদ করে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কেশবপুরে এবার পাটের আবাদ কম হলেও ফলন ভাল হয়েছে। পুকুর ও ডোবা নালায় যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কৃষকদের ক্ষেতের পাট কেটে পঁচন দিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। তাই তারা পাটকেটে পচন দিয়ে সেই জমিতে আমন আবাদ শুরু করেছে।

 

কেশবপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল জুড়ে এখন চলছে আমন ধানের চারা রোপনের মহোৎসাব। অন্য বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি ও কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে কেশবপুরের প্রায় ৮০টির বেশী গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়ার কারণে আমন আবাদ ব্যহত হলেও এবার কৃষকরা কপোতাক্ষের রাহু গ্রাস থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তাই এসব জমিতে এখন কৃষকরা মনের আনন্দে ধানের চারা রোপন করছে।

এবিষয়ে কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, কেশবপুরে এবার ৮হাজার ৫’শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকল থাকলে লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

 

 

 

কেশবপুর ভোররাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালাল চোর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
কেশবপুর ভোররাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালাল চোর

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে মসজিদে মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালালো চোর। তথ্য সূত্রে জানা গেছে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পৃথক দুটি বাড়িতে হানা দিয়ে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৭টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। আলতাপোল (বারোইপাড়া) গ্রামের কুমারের ৪টি এবং মঙ্গলকোট গ্রামের রবিউল ইসলাম রবির ৩টি গরু নিয়ে যায় তারা। গরুর মূল্য হবে ১০ থেকে ১২ লাখ।

চোরেরা সুকুমারের গরুগুলো বাড়ির পাশের একটি বাগানে এবং রবির গরুগুলো যশোর-চুকনগর সড়কের আলতাপোল চারেরমাথা এলাকার একটি মেহগনি বাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, পরে পিকআপে তুলে গরুগুলো নিয়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা।

কিন্তু ফজরের আজানের সময় বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদের মাইকে গরু চুরির ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণা শুনে চোরেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। রেখে যায় চুরি করা ৭টি গরু। পালানোর সময় তারা গরু বাঁধা বাগানে একটি গামছা ও পানির বোতলও ফেলে যায়।

ঘটনাটির আরও একটি বেদনাদায়ক দিক রয়েছে। রবিউল ইসলাম রবির ছোট ভাই মাত্র শুক্রবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরিবারটির শোক এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা নিঃসন্দেহে তাদের জন্য নতুন করে দুর্ভোগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে বৃষ্টির পানিতে কেশবপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন, অন্যদিকে কৃষকের শেষ সম্বল গবাদিপশুও নিরাপদ নয়-এ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থানীয়রা বলছে রাতের পুলিশি টহল কতটা কার্যকর?

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন আমাদের কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি তবে বিষয়টা আমাদের জেনেছি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।