সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে ত্রাহি দশা, সঙ্গে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে ত্রাহি দশা, সঙ্গে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি

জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরায় বৈশাখের শুরুতেই জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে তীব্র দাবদাহে। একদিকে আগুনঝরা রোদ, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। এতে বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিÑসবখানেই নাভিশ্বাস দশা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলাবাসী।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সাতক্ষীরায় তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় (৮৫-৯০%) অনুভূত তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী ৫-৬ দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা ক্ষীণ, ফলে গরমের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
গত এক সপ্তাহ ধরে সাতক্ষীরা সদরসহ সাতটি উপজেলায় দিনে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। রাতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ছে। সদরের ধুলিহর এলাকার কৃষক ইমরান হোসেন বলেন, “সারাদিন মাঠে কাজ করে রাতে যে একটু ঘুমাব, তার উপায় নেই। রাত ১২টায় কারেন্ট গিয়ে আসে ভোরে। হাতপাখা ঘুরিয়েই রাত পার করতে হচ্ছে।”
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। শহরের জজকোর্ট এলাকার দোকানদার আলতাফ হোসেন জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম ও কোল্ড ড্রিংকস গলে নষ্ট হচ্ছে। জেনারেটর চালিয়ে ব্যবসা সামাল দেওয়ার উপায় নেই ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে। একই অবস্থা শহরের সেলুন, ওয়েল্ডিং ও কম্পিউটার কম্পোজের দোকানগুলোতেও।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকলেও লোডশেডিংয়ের সময় ওটি ও আইসিইউ ছাড়া কোথাও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। শিশু ওয়ার্ডের এক রোগীর স্বজন সালমা বেগম বলেন, “বাচ্চার শ্বাসকষ্টের জন্য নেবুলাইজার দিতে গিয়ে দেখি কারেন্ট নেই। এই গরমে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।” জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে হিট স্ট্রোক ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার লাইট বা মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। ডিবি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলাম বলেন, “স্কুলে সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কিছুই ব্যবহার করা যাচ্ছে না।”
সাতক্ষীরার অর্থনীতির মূল ভিত্তি চিংড়ি ও বোরো চাষ এখন বড় ঝুঁকিতে। আশাশুনির ঘের মালিক ফারুক হোসেন জানান, তীব্র গরমে ঘেরের পানি শুকিয়ে অক্সিজেন সংকট দেখা দিচ্ছে। এয়ারেটর চালানোর মতো বিদ্যুৎ না থাকায় মাছ মরে ভেসে উঠছে। অন্যদিকে, সেচ পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় বোরো ধান চিটা হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৩০ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮৫-৯০ মেগাওয়াট। সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জানান, চাহিদার তুলনায় ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট রুটিন মানা হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ বলেন, “লোডশেডিং হলেও যেন একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে করা হয়, যাতে মানুষ প্রস্তুতি নিতে পারে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও সেচ পাম্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ দেওয়া প্রয়োজন।”
তীব্র গরমে একটু বৃষ্টির জন্য যখন হাহাকার চলছে, তখন অনিয়মিত লোডশেডিং জেলাবাসীর কষ্টকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত হাতপাখা আর বৃষ্টির প্রার্থনাই যেন সাতক্ষীরাবাসীর একমাত্র অবলম্বন।

 

Ads small one

মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে

আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা আল্লু অর্জুন অভিনীত ‘রাকা’ সিনেমার। ছবিটিতে দেখা যাবে দীপিকা পাড়ুকোনকেও। তবে মুক্তির এক বছর আগেই রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি।

‘রাকা’র নাম উঠেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। সর্বভারতীয় এই সিনেমার শুটিংয়ে একসঙ্গে ৩৭ জন শিল্পীর মোশন-ক্যাপচার করা হয়েছে। আর এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সিনেমাটি জায়গা করে নিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।

ছবির প্রযোজক সংস্থা সান পিকচার্স সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক্সে এই আপডেটটি শেয়ার করেছে।

ছবিতে পরিচালকের পাশে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের সনদ হাতে দেখা যায় আল্লু অর্জুনকে। ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইতিহাস তৈরি হলো। এক বিশ্বব্যাপী বিজয় যা ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গেল!’

অন্যদিকে, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিসিয়াল সাইটে ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘বাস্তব সময়ে সর্বাধিক ৩৭ জন মানুষের গতিবিধি ধারণ করার রেকর্ডটি অর্জন করেছে সান টিভি নেটওয়ার্ক লিমিটেড এবং ভি. অরুণকুমার (ওরফে) অ্যাটলি (উভয়েই ভারত), আল্লু অর্জুন অভিনীত ‘রাকা’ সিনেমা।’

বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা

বাংলাদেশে সোনার গহনা পরে চলাফেরা নিরাপদ মনে করেন না জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিশা।

তার কথায়, ‘সত্যি কথা বলতে, বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না। আমাদের দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে।’

তিশা বলেন, ‘আমরা নিজেরাই অনেক ঝামেলায় পড়ি, যেগুলো আমরা ডিজার্ভ করি না। অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো অন্যায় মনে হয়, ন্যায়বিচারও পাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যে কোনও পরিস্থিতিতে নারীদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো দরকার।’

টিভি নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এর মধ্যে সিনেমাতেও নাম লেখালেন তিনি। শাকিব খানের বিপরীতে দেখা যাবে তাকে। ‘সোলজার’ সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন তারা।

বিয়ে না করা কি দেবের ভুল সিদ্ধান্ত? যা বললেন অভিনেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
বিয়ে না করা কি দেবের ভুল সিদ্ধান্ত? যা বললেন অভিনেতা

বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই সাধারণত ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গে খুব বেশি মুখ খুলতে দেখা যায় না টলিউড অভিনেতা দেবকে। তবে ‘দাদাগিরি’র বিশেষ পর্বে অভিনেতাকে কিছুটা অন্যরকম মেজাজে দেখা গেলো। পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং এখনও কেন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি; এসব কিছু নিয়েই সরাসরি কথা বলেছেন তিনি।

দেবকে প্রশ্ন করেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। উত্তরে দেব যেমন নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান, তেমনই অতীতের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপের কথাও স্বীকার করেন।

‘দাদাগিরি’র নতুন প্রোমোতে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ এই পর্বে উপস্থিত রয়েছেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, শ্রীময়ী চট্টরাজ, অম্বরিশ ভট্টাচার্য-সহ আরও অনেকে। সেখানেই দেবকে প্রশ্ন করেন সুদীপা। তার বক্তব্য, ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হওয়ার পরেও এখনও বিয়ের পথে হাঁটেননি কেন? বিয়ে না করেই কি তিনি সত্যিই খুশি?

সুদীপার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গে যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন দেব। অভিনেতা বলেন, ‘আমি এমন কিছু বলতে চাই না, যেখানে আমার পার্টনারের অপমান হয়। বিয়ে করিনি বলে আমি খুশি নই, সেটাও তো নয়। বিয়ে করলেই মানুষ খুশি থাকবে, আর বিয়ে না করলে খুশি থাকবে না; এটা ঠিক নয়। সন্তান হলে তবেই মানুষ খুশি থাকবে, নিজের সন্তান না থাকলে খুশি থাকবে না; এটাও ভুল ধারণা। আমি এখনও খুশি।’

তবে এখানেই থামেননি দেব। নিজের জীবনের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তার মনে আক্ষেপ রয়েছে বলেও জানান অভিনেতা।

দেবের কথায়, ‘কিছু সিদ্ধান্ত আমার নেওয়া ঠিক হয়নি। কিছু সিদ্ধান্ত হয়তো আরও আগে নিতে পারতাম। কিছু সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো ভালো হতো। সেটা নিইনি বলে আক্ষেপ রয়েছে।’