রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে ত্রাহি দশা, সঙ্গে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে ত্রাহি দশা, সঙ্গে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি

জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরায় বৈশাখের শুরুতেই জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে তীব্র দাবদাহে। একদিকে আগুনঝরা রোদ, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। এতে বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিÑসবখানেই নাভিশ্বাস দশা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলাবাসী।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সাতক্ষীরায় তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় (৮৫-৯০%) অনুভূত তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী ৫-৬ দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা ক্ষীণ, ফলে গরমের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
গত এক সপ্তাহ ধরে সাতক্ষীরা সদরসহ সাতটি উপজেলায় দিনে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। রাতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ছে। সদরের ধুলিহর এলাকার কৃষক ইমরান হোসেন বলেন, “সারাদিন মাঠে কাজ করে রাতে যে একটু ঘুমাব, তার উপায় নেই। রাত ১২টায় কারেন্ট গিয়ে আসে ভোরে। হাতপাখা ঘুরিয়েই রাত পার করতে হচ্ছে।”
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। শহরের জজকোর্ট এলাকার দোকানদার আলতাফ হোসেন জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম ও কোল্ড ড্রিংকস গলে নষ্ট হচ্ছে। জেনারেটর চালিয়ে ব্যবসা সামাল দেওয়ার উপায় নেই ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে। একই অবস্থা শহরের সেলুন, ওয়েল্ডিং ও কম্পিউটার কম্পোজের দোকানগুলোতেও।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকলেও লোডশেডিংয়ের সময় ওটি ও আইসিইউ ছাড়া কোথাও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। শিশু ওয়ার্ডের এক রোগীর স্বজন সালমা বেগম বলেন, “বাচ্চার শ্বাসকষ্টের জন্য নেবুলাইজার দিতে গিয়ে দেখি কারেন্ট নেই। এই গরমে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।” জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে হিট স্ট্রোক ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার লাইট বা মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। ডিবি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলাম বলেন, “স্কুলে সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কিছুই ব্যবহার করা যাচ্ছে না।”
সাতক্ষীরার অর্থনীতির মূল ভিত্তি চিংড়ি ও বোরো চাষ এখন বড় ঝুঁকিতে। আশাশুনির ঘের মালিক ফারুক হোসেন জানান, তীব্র গরমে ঘেরের পানি শুকিয়ে অক্সিজেন সংকট দেখা দিচ্ছে। এয়ারেটর চালানোর মতো বিদ্যুৎ না থাকায় মাছ মরে ভেসে উঠছে। অন্যদিকে, সেচ পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় বোরো ধান চিটা হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৩০ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮৫-৯০ মেগাওয়াট। সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জানান, চাহিদার তুলনায় ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট রুটিন মানা হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ বলেন, “লোডশেডিং হলেও যেন একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে করা হয়, যাতে মানুষ প্রস্তুতি নিতে পারে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও সেচ পাম্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ দেওয়া প্রয়োজন।”
তীব্র গরমে একটু বৃষ্টির জন্য যখন হাহাকার চলছে, তখন অনিয়মিত লোডশেডিং জেলাবাসীর কষ্টকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত হাতপাখা আর বৃষ্টির প্রার্থনাই যেন সাতক্ষীরাবাসীর একমাত্র অবলম্বন।

 

Ads small one

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

বদিউজ্জামান: জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা ২৬ এপ্রিল বিকাল ৩টায় জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সভায় বিচার বিভাগের কর্মকর্তা বৃন্দ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, জেলা তথ্য অফিসার, প্যানেল আইনজীবীবৃন্দ, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়া। দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যাতে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পায়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। এ দিবস পালনের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে।”সভায় আগামী ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—সকাল ৭:৩০ টায় জজ কোর্ট চত্বর হতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি;সকাল ৮:৩০ টায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তদান কর্মসূচি ও লিগ্যাল এইড মেলা;সকাল ৯:৩০ টায় দিবসের তাৎপর্য বিষয়ক আলোচনা সভা;এবং বিকাল ৫:৩০ টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।সভায় উপস্থিত বক্তারা দিবসটি সফলভাবে উদযাপনের জন্য সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।সভাটি পরিচালনা করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও যুগ্ম জেলা জজ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ লিটন দাস।

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: প্রাণসায়ের খাল ও নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষা হোক সর্বাগ্রে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: প্রাণসায়ের খাল ও নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষা হোক সর্বাগ্রে

সাতক্ষীরা শহরের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত প্রাণসায়ের খাল। এক সময়ের খরস্রোতা এই খালটি আজ মৃতপ্রায়, যার অন্যতম কারণ দখল আর দূষণ। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের নেতৃত্বে শহরে যে পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে সুলতানপুর বড় বাজার এলাকার বর্জ্য অপসারণ এবং খালের পানি প্রবাহ সচল রাখার যে দৃঢ় অঙ্গীকার জেলা প্রশাসক ব্যক্ত করেছেন, তা সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।
তবে এই অভিযানের মাঝেই একটি উদ্বেগের বিষয় সামনে এসেছে। সুলতানপুর বড় বাজারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন যে, সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ খালের ধারেই কসাইখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, সেখানে খালের পাড়ে কসাইখানা স্থাপন করা হবে চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কসাইখানার বর্জ্য সরাসরি খালে পড়লে তা কেবল পানিকেই বিষাক্ত করবে না, বরং ডেঙ্গু ও মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়ে জনস্বাস্থ্যকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জায়গার মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান এবং স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পৌরসভার টেন্ডার প্রক্রিয়া কেবল আইনি জটিলতাই বাড়াবে না, বরং খালের অস্তিত্বকেও সংকটে ফেলবে। জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেছেন যে, খালের পাড়ে কোনো ময়লার ভাগাড় হতে দেওয়া হবে না।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে খালের পাড়ে কসাইখানা নির্মাণের মতো হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা প্রয়োজন।
শহরের জনচলাচল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি। জেলা প্রশাসকের এই অভিযান কেবল এক দিনের লোকদেখানো কার্যক্রম না হয়ে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিতে হবে। আগামী শনিবার তিনি পুনরায় পরিদর্শনে আসার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের খালকে বাঁচাতে এবং নাগরিকদের মশাবাহিত রোগ থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও পৌরসভাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। খালের পাড়ে কসাইখানা নয়, বরং সেখানে বৃক্ষরোপণ ও হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) তৈরি করে পরিবেশবান্ধব সাতক্ষীরা গড়ার কাজ এগিয়ে নেওয়া হোক। জনস্বার্থই হোক সকল উন্নয়ন কর্মকা-ের মূল লক্ষ্য।

‎কন্যাসন্তান হওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
‎কন্যাসন্তান হওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: পরপর চারটি কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া এবং সবশেষ সন্তানটি গর্ভে থাকাকালে গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর নাম বিশাখা রাণী দাস। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ফতেপুর গ্রামে। ১৫ বছর আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের শিবপদ দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
বিশাখা দাসের অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁর পরপর তিনটি কন্যাসন্তান হওয়ার পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁর ওপর নির্যাতনের শুরু হয়। চতুর্থবার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। কিন্তু বিশাখা তাতে রাজি হননি। চার মাস আগে চতুর্থ কন্যাসন্তান জন্মের পর তাঁর ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ওই সময় তাঁকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বিশাখা জানান, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী শিবপদ দাস তাঁকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এই খবর শুনে গত শনিবার সকালে তিনি স্বামীর বাড়িতে গেলে স্বামী শিবপদ, দেবর মৃত্যুঞ্জয়, সতিন জ্যোতি দাস ও শাশুড়ি শান্তি দাস মিলে তাঁকে ব্যাপক মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাঁর ভাই রবিন দাস তাঁকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে বিশাখা রাণী দাস বলেন, ‘ছোট মেয়েটা পেটে আসার পর থেকেই তারা বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। আমি রাজি হইনি বলে তারা আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। আমাকে না জানিয়ে আমার স্বামী আবার বিয়ে করেছে।’
বিশাখার ভাই রবিন দাস বলেন, ‘খবর পেয়ে বোনের বাড়িতে গিয়ে দেখি সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। পাষ-রা তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। আমি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে শিবপদ দাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কেশবপুর ও তালা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।