রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরার আবাদেরহাটে জমি দখল-পাল্টা দখলের প্রতিযোগিতা, থানায় অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার আবাদেরহাটে জমি দখল-পাল্টা দখলের প্রতিযোগিতা, থানায় অভিযোগ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা সদরের আবাদেরহাট বাজারের পাশে ১৭ শতক জমি দখল ও পাল্টা দখল নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রবিবার ভোর তিনটার দিকে সদ্য দখলে নেওয়া জমিতে নির্মাণাধীন বেড়া ও ঘর ভাংচুর করাসহ আমেনা খাতুন দম্পতিকে মারপিটের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদরের বাঁশদহ গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী আমেনা খাতুন জানান, তার বাবা আবাদেরহাটের ইসমাইল হোসেন পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৫৮ শতক জমি মা রউফুৃন্নেছার নামে লিখে দেন। বর্তমানে তার মা রউফুন্নেছার নামে হাল ৩৫ দাগে ১৭ শতক জমি রয়েছে। ওই জমি নামজারি করে নিয়মিত খাজনা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। ওই জমির বড় অংশ জালজালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে শিয়ালডাঙা গ্রামের শওকত হোসেন, তার ভাই মাহাবুর রহমান পটল, শাজাহান আলী, কওছার আলী, মুজিবর রহমান, মাহাবুবর রহমানের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা তার মায়ের জমি জবরদখল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো।

 

একপর্যায়ে ফারাজি অংশে ঘর ও দোকান বানিয়ে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে ছিলেন। ২০১৩ সালের শেষের দিকে দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে শওকত হোসেন, মাহাবুবর রহমন, রাজিয়া সুলতানা দলীয় ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তার মা রউফুন্নেছাকে বাড়ি থেকে বের করে চুল দিয়ে গাছের ডালে বেঁধে নির্যাতন করে দোকান ও বাড়ি ভাংচুর করে জমি দখলে নেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করতে সাহস পাননি।

আমেনা খাতুন আরো জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর তিনি তার তিনটি দোকানঘরসহ জমি দখলে নেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে কয়েকবার শালিসি সভা বসে। মাহাবুবর রহমান ও তার ভাইয়েরা কাগজপত্র দেখানোর জন্য সময় নিয়ে আর আসেন না।

 

সর্বশেষ তারা(আমেনা) ওই জমি মাপ জরিপ করে মাহাবুবর রহমান ও তার শরীকদের চলাচলের জন্য রাস্তা ছেড়ে দিয়ে জমিতে সিমেন্টের পিলার দিয়ে বেড়া দেন। গত ২ সেপ্টেম্বর ওই ঘেরা ও বেড়া ভেঙে দেয় মাহাবুবর রহমান ও তার লোকজন। পরবর্তীতে শনিবার তারা আবারো ঘেরা-বেড়া দিয়ে টিনের চাল নির্মাণ করে বসবাস করা শুরু করলে রবিবার ভোর তিনটার দিকে মাহাবুবর ও তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা ওই ঘর ও বেড়া ভেঙে দেন। ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় তাদের দোকান। লুটপাট করা হয় দোকানের মালামাল। ভাংচুর ও লুটপাটে বাধা দেওয়ায় তাকে (আমেনা) ও স্বামী আব্দুল হামিদকে পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে মুজিবর রহমান জানান, বিহারীপুর মৌজায় ইসমাইল হোসেন ও তার ভাই ইসহাক যাদের কাছে জমি বিক্রি করেছেন তাদের কাছ থেকে ২০০৯ সালে তিনটি দলিল মূলে এবং ২০১৪ সালে ও ২০২০ সালে দুটি দলিল মূলে তারা হাল ৩৫. ৩৬ ও ৩০৫ দাগে প্রায় ৫৮ শতক জমি কিনেছেন। বর্তমানে রউফউন্নেছার নামে ১৭ শতক জমি বর্তমান মাপে রেকর্ড হলেও তিনি তার বড় জামাতা মনিরুলের সঙ্গে তালাক হওয়া বড় মেয়ের নতুন করে বিয়ে দিতে কাছে সোয়া আট শতক জমি দিয়েছেন।

 

পরবর্তীতে ওই জমি ফেরৎ নিতে আদালতে মামলা করলে রায় রউফউন্নেছার বিপক্ষে যায়। বর্তমানে রফিউন্নেছার পৌনে চার শতক জমি থাকলেও তিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের ব্যবহার করে রেকর্ড অনুযায়ি ১৭ শতক জমি জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা(মুজিবর) জবরদখলকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তারা রেকর্ড সংশোধনের জন্য দেওয়ানী মামলা করেছেন আদালতে।

তবে মুজিবর রহমানের কাছে শনিবার বিকেলে তাদের জমির সমর্থনে দলিল ও নামজারি সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে রবিবার দেখাবার কথা বলে চলে যান। পরে তারা আর যোগাযোগ করেননি।

সরেজমিনে শনিবার ও রবিবার সকালে আবাদেরহাট এলাকায় যেয়ে দেখা গেছে দখল ও পাল্টা দখলকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদুর রহমান জানান, রবিবার ভোরে বাড়ি, বেড়া ও দোকানঘর ভাংচুরের অভিযোগে বাঁশদহা গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী আমেনা খাতুন বাদি হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ads small one

সোনাবাড়ীয়ায় প্রভাতী সংঘের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
সোনাবাড়ীয়ায় প্রভাতী সংঘের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ৬নং সোনাবাড়ীয়া ইউনিয়নে সোনাবাড়ীয়া প্রভাতী সংঘ আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় সোনাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় সোনাবাড়ীয়া ইউনাইটেড ফুটবল একাদশ ও সোনাবাড়ীয়া দুরন্ত ফুটবল একাদশ। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় দুরন্ত ফুটবল একাদশকে ২-১ গোলে পরাজিত করে সোনাবাড়ীয়া ইউনাইটেড ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

ফাইনাল খেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই সোনাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। খেলা উপভোগ করতে সোনাবাড়ীয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো ফুটবলপ্রেমী দর্শক মাঠে উপস্থিত হন। দর্শকদের করতালি, উচ্ছ্বাস ও খেলোয়াড়দের নান্দনিক ফুটবল নৈপুণ্যে পুরো মাঠ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত ক্রীড়াঙ্গনে।

সোনাবাড়ীয়া প্রভাতী সংঘের আহবায়ক মেহেদী হাসান রাজুর সভাপতিত্বে সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান এর সঞ্চালনায় খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।

খেলাটি উপভোগ করেন ৬নং সোনাবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মোকলেছুর রহমান, আকবর আলী বুলবুল, মাস্টার আব্দুল আজিজ বাবু, লেয়াকত আলী,আব্দুস সবুর, আরশাদ আলী,উজ্জল হোসেন, আমির হোসেন, আব্দুর রউফ, মাসুদ রানা, আরশাদ আলী, খালিদ হোসেন, খোরশেদ আলম, রুবেল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, তুহিনুজ্জামান তুহিন, আব্দুল্লাহ, সোহাগ, জুয়েল, শাহাজান, তারেক, আলমগীর, ডাবলু, হাসান, রাজ্জাক, আলামিনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ফাইনাল ম্যাচটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন রেফারি আনার হোসেন বাচ্চু। তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিচালনায় খেলাটি আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে। মাঠে প্রাণবন্ত ধারাভাষ্য দেন আনারুল ইসলাম ও আব্দুস সাত্তার। তাদের সাবলীল ধারাভাষ্য দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।
আয়োজকরা জানান, যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রাখা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের মাধ্যমে এলাকার তরুণদের সুস্থ, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে উৎসাহিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

ফাইনাল খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় আয়োজক ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

তালা কামেল মডেল হাইস্কুল পরিদর্শন করেন ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
তালা কামেল মডেল হাইস্কুল পরিদর্শন করেন ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ

তালা প্রতিনিধি: রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় তালা শহীদ কামেল মডেল হাইস্কুল পরিদর্শন করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি ও তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিয়মিত পড়াশোনা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং বড় স্বপ্ন দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, মাদকের কুফল ও স্মার্ট ফোনের অপব্যবহার নিয়েও কথা বলেন।

 

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, গান, ছবি আঁকা ও স্কাউটিংয়ের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার কথা বলেন। এতে যেমন তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটবে, তেমনি নেতৃত্বের গুণাবলী তৈরি হবে। এছাড়া মন দিয়ে পড়ালেখা করা এবং স্কুলে নিয়মিত উপস্থিত থাকা, শিক্ষকদের শ্রদ্ধা করা, পিতা-মাতাসহ বড়দের মান্য করা, নিয়মমতো চলা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, অসদুপায় বর্জন করা, সত্য কথা বলা, ভালো মানুষ হয়ে গড়ে ওঠা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং দেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার কথা তুলে ধরেন।

 

পরে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সহযোগিতায় পরিচালিত স্কুলের ‘সততা স্টোর’ ঘুরে দেখেন এবং কিছু পরামর্শ প্রদান করেন। এদিকে ইউএনও মহোদয়ের এমন অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য তালা শহীদ কামেল মডেল হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করে। তালা শহীদ কামেল মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক গাজী জাহিদুর রহমানসহ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।

ধামরাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণির অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
ধামরাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণির অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ধামরাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সাকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিদ্যালয়টির ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সাকিবুর রহমান বলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের শতভাগ পাসের লক্ষ্য নিয়ে অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চমৎকার একটি সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। বিগত বছরের তুলনায় আগামী বছরগুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও এসএসসি পরীক্ষায় সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

অনুষ্ঠানে গত আগস্ট মাসে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষে ৮৫ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করা ১৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা সামগ্রী উপহার দেন সভাপতি।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিএম মফিজুল ইসলাম ও সিনিয়র শিক্ষক মো. আবুল বাশার। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে মো. হাসানুজ্জামান, প্রতিষ্ঠাতার পক্ষে তারকনিষ্ঠ পুত্র সালমান হাবিব চয়ন এবং অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।