বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

শেখ সিদ্দিকুর রহমান

গ্রীষ্ম এলেই প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। মাঠে-ঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে আর শহরের অলিগলিতে তখন ছড়িয়ে পড়ে পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রাণ। আর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদ সাতক্ষীরা এখন সেই ঘ্রাণে মুখরিত। জেলার বিস্তীর্ণ আমবাগানে শুরু হয়েছে মৌসুমের প্রথম দিকের আম পাড়া। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত আম পাড়া ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগসহ আগাম জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। আর আগামী ১৫ মে থেকে শুরু হবে বহুল জনপ্রিয় ও সুস্বাদু হিমসাগর আম সংগ্রহ। মৌসুমের শুরুতেই সাতক্ষীরার বাজার, সড়ক ও কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। আমকে ঘিরে যেন পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বাজার এখন আমের বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ভোর হতেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান, ট্রলি, মিনি ট্রাক ও ছোট যানবাহনে করে আমবাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা আম নিয়ে বাজারে আসছেন। পাইকাররা সেই আম কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনদের জন্য সুন্দর কুরিয়ার, এস এ পরিবহনসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পাঠাচ্ছেন। আম মৌসুম ঘিরে কুরিয়ার সার্ভিস ও পরিবহন খাতেও সৃষ্টি হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। বর্তমানে প্রতি মন আম প্রায় ১৬০০ টাকা দরে কিনলেও কুরিয়ারে পাঠাতে প্রতি কেজিতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তবুও সাতক্ষীরার আমের স্বাদ ও সুনামের কারণে মানুষ আগ্রহ নিয়ে এই আম সংগ্রহ করছেন।

একসময় দেশের বাজারে রাজশাহীর আমের কদর ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার আমও দেশের মানুষের কাছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার হিমসাগর আম এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ আমের স্বাদ, মিষ্টতা ও ঘ্রাণ এমন যে, একবার খেলে মানুষ বারবার খেতে চান। অনেকে মজা করে বলেন, সাতক্ষীরার হিমসাগর আম সামনে থাকলে বয়স, ডায়েট কিংবা সংযম-সবকিছু ভুলে মানুষ বেশি খেয়ে ফেলেন। এই আমের আঁশ কম, শাঁস বেশি এবং স্বাদে অনন্য হওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষের কাছে এটি সমান প্রিয়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হয় এবং প্রতিবছর হাজার হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হচ্ছে। জেলার সদর, তালা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য আমবাগান। সাতক্ষীরার মাটি, আবহাওয়া ও লবণাক্ততাসহ পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এখানকার আমে একটি স্বতন্ত্র স্বাদ তৈরি হয়। শুধু দেশেই নয়, সাতক্ষীরার আম এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে আম শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে আম মৌসুমে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে মাঝেমধ্যে এই সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী অপরিপক্ক আম আগেভাগে গাছ থেকে নামিয়ে কৃত্রিম উপায়ে মেডিসিন প্রয়োগ করে দ্রুত পাকিয়ে বাজারজাত করেন। এতে আমের স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সময়ে অপরিপক্ক ও কেমিক্যালযুক্ত আম জব্দ করে ধ্বংসও করা হয়েছে। মূলত এই অনিয়ম ঠেকাতে এবং বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ক আম নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন আম পাড়া ক্যালেন্ডার চালু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়া নিষিদ্ধ করায় ক্রেতারা এখন তুলনামূলক নিরাপদ ও সুস্বাদু আম পাচ্ছেন।

আম শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। আমে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। পাকা আম চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গরমের সময় শরীরে শক্তি জোগাতেও আম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত পরিমাণে আম খেলে হজম শক্তি বাড়ে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায়।

সাতক্ষীরার আম শিল্পকে ঘিরে অর্থনীতির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা আরও বহুগুণ বাড়তে পারতো যদি এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেললাইন বাস্তবায়ন হতো। সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। স্থানীয়দের মতে, এই রেললাইন চালু হলে আম, চিংড়ি মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনে বিপ্লব ঘটবে। বর্তমানে যেখানে কুরিয়ার বা সড়কপথে প্রতি কেজি আম ঢাকায় পাঠাতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে রেলপথ চালু হলে খুব অল্প খরচে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য পরিবহন সম্ভব হতো। এতে একদিকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হতেন, অন্যদিকে দেশের সাধারণ ভোক্তারাও কম দামে মানসম্মত আম কিনতে পারতেন।

এছাড়া রেললাইন চালু হলে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারতো। সাতক্ষীরার বিখ্যাত চিংড়ি মাছ, আম, পাট ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা যেতো। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ভ্রমণেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতো। সড়কপথের তুলনায় রেলপথে আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সহজেই সাতক্ষীরার সুন্দরবন দেখতে আসতে পারতেন। এতে পর্যটন খাত যেমন সমৃদ্ধ হতো, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন গতি পেতো।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব কাজ কিংবা জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। ফলে সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। অথচ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে সাতক্ষীরা শুধু আম কিংবা চিংড়ির জেলা হিসেবেই নয়, দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হতে পারতো।

আজ যখন সাতক্ষীরার বাজার আমের ঘ্রাণে মুখরিত, যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাতক্ষীরার আমের কদর বাড়ছে, তখন এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজন আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষিভিত্তিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। কারণ সাতক্ষীরার আম শুধু একটি ফল নয়, এটি এ অঞ্চলের অর্থনীতি, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার প্রতীক।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

পাইকগাছায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ক অবহিতকরণ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ক অবহিতকরণ সভা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।

 

মেডিকেল অফিসার ডাঃ তানভীর আহম্মেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তৃতা করেন, ডাঃ সজ্ঞয় কুমার মন্ডল, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, এসআই আতিক আলম, প্রেসক্লাব পাইকগাছার সভাপতি প্রকাশ ঘোষ বিধান, রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি জিএম মিজানুর রহমান, স্বাস্থ্য পরিদর্শক রুহুল কুদ্দুস, পরিসংখ্যানবিদ জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য কর্মি মাছুম বিল্লাহ।

পাইকগাছায় ২৮ হাজার ৬ শত শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশ থেকে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব নির্মুল, অপুষ্টি জনিত শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে ২৮ জুন রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন পালন করা হবে।

 

এদিন ২৪১টি টিকা কেন্দ্রে ৬-১১ মাস বয়সী ৩ হাজার ৪৫০জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ২৫ হাজার ১৫০ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ দিন বাদ পড়া শিশুরা পরবর্তী যে কোন দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল সংগ্রহ করতে পারবে।

রাফাতের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
রাফাতের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সেতরপুর এলাকায় মুরগির ফার্মকর্মী রাফাত হোসেন (১৮) এর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের বক্তারা রাফাতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

নিহত রাফাত হোসেন কালিগঞ্জ উপজেলার বারোদা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি প্রায় ছয় থেকে সাত মাস ধরে আশাশুনি উপজেলার সেতরপুর গ্রামের একটি মুরগির ফার্মে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের দাবি, কর্মস্থলে নির্যাতনের শিকার হয়ে গত ১৩ জুন রাফাত বাড়িতে ফিরে আসে। পরে তাকে আবার ফার্মে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তারা জানান, মরদেহে আঘাতের চিহ্ন ও নির্যাতনের আলামত ছিল। তাই তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বারোদা গ্রামের আব্দুল লতিফ সরদার, রুহুল কুদ্দুস গাজী ও আজিজুল ইসলাম।

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলা বিএনপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলা বিএনপি

পত্রদূত ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছু অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি।

 

দলটির জেলা আহবায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ পলাশ ও সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে ব্যবহৃত ‘ধর্মান্ধ’ শব্দটি কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে খাটো, হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। বরং তিনি রাষ্ট্রের নীতি ও চেতনাকে ধারণ করে যুব সমাজে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকান্ডের প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরার প্রেক্ষিতে এ মন্তব্য করেছেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, দুঃখজনকভাবে, তাঁর বক্তব্যকে আংশিক ও বিবৃতভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি মনে করে, কোনো বক্তব্যকে তার প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য বিবেচনা না করে ভিন্নভাবে প্রচার করা অনাকাঙ্খিত এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং সকলকে বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানাচ্ছে।