সাতক্ষীরার ঝুটিতলা বাজার এখন উন্নয়নের অপেক্ষায়
মুনসুর রহমান
সাতক্ষীরা শহরের উপকণ্ঠে খুব অল্প সময়ে একটি জনপদ কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে, তার এক অনন্য উদাহরণ ‘ঝুটিতলা বাজার’। এক সবজি ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত সংকট থেকে শুরু হওয়া এই বাজারটি আজ স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে বাজারটির ভবিষ্যৎ ও জনস্বাস্থ্য এখন প্রশ্নের মুখে।
ঝুটিতলা বাজারের গোড়াপত্তনের গল্পটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী লাভলু দীর্ঘ দিন মাছখোলা বাজারে ব্যবসা করতেন। কিন্তু অবিক্রীত পণ্য এবং বকেয়া টাকা আদায়ের ঝক্কিতে পড়ে তিনি লোকসানের মুখে পড়েন। ২০২৩ সালের শেষ দিকে নিজের ভাগ্য বদলাতে তিনি ঝুটিতলা মোড়ে সবজি বিক্রি শুরু করেন। তাঁর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগই পরে সামাজিক রূপ পায়। স্থানীয় বাজার কমিটি ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ওই বছরের ডিসেম্বরে সপ্তাহে দুদিন (শনিবার ও মঙ্গলবার) হাট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকেই শুরু হয় ‘ঝুটিতলা বাজার’-এর আনুষ্ঠানিক পথচলা।
বর্তমানে ঝুটিতলা মোড়টি আর সাধারণ কোনো মোড় নেই। প্রতি হাটবারে এখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কাঁচামাল, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের পসরা নিয়ে বসেন ১২০টিরও বেশি দোকানের ব্যবসায়ীরা। শহরের সুলতানপুর বড়বাজারের ওপর চাপ কমাতেও এই হাটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নব্বইয়ের দশকে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যবসায়ীর হাত ধরে এখানে ব্যবসার সূত্রপাত হলেও এখন এটি পূর্ণাঙ্গ একটি বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। বাজারের পাশেই রয়েছে ঝুটিতলা সার্বজনীন পূজা মন্দির, যা এলাকাটির সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিচয় বহন করছে।
ঝুটিতলা বাজার বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর অবকাঠামো এখনো অবহেলিত। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারটি এখনো পৌরসভার তালিকাভুক্ত হয়নি। ফলে এখানে কোনো আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় বাজার প্রাঙ্গণ। বিক্রেতাদের বসার জন্য নেই কোনো স্থায়ী শেড। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রি করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি ভোগান্তিরও কারণ।
ঝুটিতলা বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোনো সরকারি বা পরিকল্পিত প্রকল্প ছাড়াই কেবল মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে গড়ে ওঠা এই বাজারটি এখন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার দাবি রাখে। বাজারটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও স্থায়ী শেড নির্মাণ করা হলে এটি সাতক্ষীরা শহরের অন্যতম আধুনিক ও সুশৃঙ্খল বাজারে পরিণত হতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঝুটিতলা বাজার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়নে এগিয়ে আসে, তবেই এই শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামের সার্থকতা মিলবে।
লেখক: সংবাদকর্মী






