শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার যুবকদের জন্য পর্যটন শিক্ষার গুরুত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার যুবকদের জন্য পর্যটন শিক্ষার গুরুত্ব

মো. মামুন হাসান

বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের পরিচয় দিতে গেলে যে নামটি সবার আগে অহংকার জাগায়, সেটি হলো সুন্দরবন। এই দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঝরঝর করে ঝরে পড়া বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবিলা করেছে, বুক পেতে দিয়েছে ঝড়ের মুখে। কিন্তু যুগের পরিবর্তন হয়েছে।

 

একসময় যে সুন্দরবনকে আমরা কেবল কাঠ, গোলপাতা আর মধুর উৎস ভাবতাম, আজ সেই সুন্দরবনকে ঘিরেই দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বুকে জন্ম নিচ্ছে এক নতুন অর্থনৈতিক বিপ্লবের মহাকাব্য। আর এই মহাকাব্যের আসল নায়ক কোনো বহিরাগত পুঁজিপতি নয়, বরং এই মাটিরই সন্তান সাতক্ষীরার লড়াকু যুবসমাজ। তবে এই অমিত সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে গতানুগতিক বিএ, এমএ পাসের সার্টিফিকেট যথেষ্ট নয়, এখানে প্রয়োজন একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন এবং সরাসরি কর্মমুখী শিক্ষা, যার নাম ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট।

আজকের বৈশ্বিক অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, পর্যটন শিল্প কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ধোঁয়াবিহীন শিল্প বা স্মোকলেস ইন্ডাস্ট্রি। আন্তর্জাতিক গবেষণাগুলো স্পষ্ট দেখাচ্ছে যে, একজন পর্যটক যখন কোনো অঞ্চলে পা রাখেন, তখন তিনি একা আসেন না, সঙ্গে করে নিয়ে আসেন বিপুল অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য।

 

তাঁর যাতায়াতের জন্য সচল হয় পরিবহন খাত, থাকার জন্য প্রয়োজন হয় হোটেল বা রিসোর্ট, খাবারের জন্য চাঙ্গা হয় স্থানীয় কৃষি ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা, আর স্মারক হিসেবে কেনাকাটার মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পায় মৃতপ্রায় লোকজ সংস্কৃতি ও হস্তশিল্প। অর্থাৎ, পর্যটন এমন এক জাদুকরি খাত যা পুরো এলাকার অর্থনীতিকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের এত বড় একটি বিশ্ব ঐতিহ্য বা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট থাকা সত্ত্বেও দক্ষ জনবলের অভাবে আমরা এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে ঘরে তুলতে পারিনি। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কখনো একা পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে পারে না, তার জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের পেশাদারিত্ব এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা।

এখানেই সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সামনে এক নতুন আশার আলো হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। অনেক অভিভাবকই এখনো ভাবেন, পড়াশোনা মানেই কেবল বিসিএস বা ব্যাংকের পেছনে বছরের পর বছর বেকার বসে থাকা। এই সনাতন চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে আসার এখনই উপযুক্ত সময়। এই বিভাগটি কোনো সাধারণ তাত্ত্বিক শিক্ষার জায়গা নয়, এটি একটি সরাসরি বাস্তবমুখী এবং প্রয়োগিক বিদ্যার ক্ষেত্র।

 

একজন শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হওয়া মাত্রই আধুনিক হোটেল অপারেশন, ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজমেন্ট, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, ট্রাভেল এজেন্সি অপারেশন এবং ডিজিটাল ট্যুরিজমের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিষয়ে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ পায়। ফলে শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই একজন শিক্ষার্থী নিজেকে পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে এবং দেশ-বিদেশের যেকোনো তারকা হোটেলে কর্মসংস্থানের চমৎকার সুযোগ পেয়ে যায়।

সাতক্ষীরার তরুণদের জন্য এই শিক্ষার গুরুত্ব আরও গভীর ও আবেগের। প্রতিবছর এই অঞ্চলের হাজার হাজার প্রতিভাবান যুবক কেবল একটা চাকরির আশায় রাজধানী ঢাকা কিংবা প্রবাসে পাড়ি জমায়, নিজেদের চেনা পরিবেশ আর পরিবার ছেড়ে দূর পরবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে। অথচ সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে যদি পরিকল্পিত ইকো ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজম গড়ে তোলা যায়, তবে নিজ এলাকাতেই হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।

 

এই বিভাগ থেকে পাস করা একজন তরুণ কেবল অন্যের অধীনে চাকরি করবে না, সে নিজেই একজন উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে। কেউ নিজের পরিবেশবান্ধব বিলাসবহুল রিসোর্ট তৈরি করবে, কেউ আন্তর্জাতিক মানের ক্রুজ শিপ বা নৌভ্রমণ পরিচালনা করবে, আবার কেউবা নিজস্ব ট্রাভেল এজেন্সি খুলে বিশ্বজুড়ে সাতক্ষীরার ট্যুরিজমকে ব্র্যান্ডিং করবে।

বর্তমান যুগটি যেহেতু সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর, তাই পর্যটনের সংজ্ঞাও বদলে গেছে। এখন কেবল একটি স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে একজন দক্ষ তরুণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর চমৎকার তথ্যচিত্র তৈরি করতে পারে, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারে এবং অনলাইন বুকিং সিস্টেমের মাধ্যমে সরাসরি বিদেশি মুদ্রা দেশে নিয়ে আসতে পারে।

 

আজকের পৃথিবীর ধনী দেশগুলোর পর্যটকেরা কংক্রিটের জঙ্গল ছেড়ে সবুজ প্রকৃতি, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, উপকূলের মানুষের সংগ্রামী জীবন আর ম্যানগ্রোভের রহস্য দেখতে ব্যাকুল। এই বিশাল আন্তর্জাতিক বাজারের দরজা খুলে দেওয়ার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক পর্যটন শিক্ষার মধ্যে।

এই শিক্ষার আরেকটি অন্যতম প্রধান বৈপ্লবিক দিক হলো এটি নারী ক্ষমতায়নের এক অনন্য হাতিয়ার। আমাদের সমাজে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এখনো বেশ সীমিত। কিন্তু আতিথেয়তা শিল্প, হোটেল প্রশাসন, ফুড ক্রাফট, অনলাইন ট্যুর অপারেটর কিংবা হস্তশিল্পভিত্তিক ব্যবসায় নারীরা অত্যন্ত মেধা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করতে পারেন। ফলে এই বিভাগটি কেবল তরুণদের নয়, তরুণীদের স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমে সমাজের সামগ্রিক চিত্রকে বদলে দেওয়ার এক নীরব সামাজিক বিপ্লব তৈরি করছে।

একজন অভিভাবক হিসেবে আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা খুঁজে পাওয়াটাই স্বাভাবিক। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা করলে একজন শিক্ষার্থীর শুধু একটা চাকরি জোটে না, তার মধ্যে তৈরি হয় অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, বিশ্বমানের যোগাযোগ দক্ষতা, ভাষাগত পারদর্শিতা এবং উপস্থাপন ক্ষমতা। বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করতে করতে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এতটাই বিশাল হয়ে যায় যে, তারা আর কুয়োর ব্যাঙ হয়ে থাকে না, বরং সত্যিকারের একজন বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এই বিশেষায়িত বিভাগটি আজ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের নতুন স্বপ্নের ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। অভিজ্ঞ শিক্ষক ম-লী এবং আধুনিক ল্যাবরেটরির সমন্বয়ে এখানে ভবিষ্যৎ পর্যটন শিল্পের যোগ্য নেতা তৈরি করা হচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, যে অঞ্চলটি একসময় কেবল সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস আর অবহেলার গল্পে পত্রিকার পাতায় আসত, আজ সময় এসেছে সেই চেনা গল্পটাকে বদলে দেওয়ার।

 

সঠিক পরিকল্পনা আর এই আধুনিক কর্মমুখী শিক্ষার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সাতক্ষীরার যুবসমাজ একদিন নিজেদের ভাগ্য তো বদলাবেই, সেই সঙ্গে সুন্দরবনকে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে এক নম্বর গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আপনার সন্তানকে এই সম্ভাবনাময় যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ করে দিন, কারণ আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে আজকের এই দক্ষ ও আধুনিক তরুণ প্রজন্ম।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

Ads small one

এই পৃথিবী বড়ই অভাগা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
এই পৃথিবী বড়ই অভাগা

অরুণ সান্যাল
এই পৃথিবী বড়ই অভাগা
এখানে সুখের চেয়ে
চোখের জলের মাত্রা বেশি দাগা।
মানুষের বুকে নেই মানুষের টান,
স্বার্থের বাজারে বিক্রি হয় পবিত্র সব মান।

স্নেহের আলো নিভে যায় স্বার্থের ঝড়ে
বিশ্বাস হারিয়ে যায় শূন্যতার ঘরে।
চোখের পলকে আপন মানুষ অচেনা হয়ে যায়,
ভালোবাসা শুধু আজ বেদনার খেলায় হারায়।

তবুও মানুষ বাঁচে মিথ্যে আশার টানে,
অশ্রু লুকিয়ে রাখে মলিন হাসির গানে।
ক্ষতের ওপর প্রলেপ মেখে পথ চলে একা,
ভাগ্যের সাথে যেন নেই কোনো সুখের লেখা।
তবুও তো এই ধরায় কোনো এক কোণে,
ভালোবাসা বেঁচে থাকে নিঃস্ব মানুষের মনে।

“কথার ভার”

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
“কথার ভার”

 

 

বাপী নাগ
রাগ-অভিমান ভুলে একবার এসো, জমে থাকা কথাগুলো একটু ভাগ করে নিই।
কী হলো, শুনতে পাচ্ছ? এখনও কিছু না-বলা কথা রয়ে গেছে— সময়ের ভাঁজে, নীরবতার আড়ালে।
না না, ভয় নেই! আমার শত দুঃখের ভার তোমায় নিতে হবে না, তোমার সুখের অংশও আমায় দিতে হবে না। শুধু কিছু কথার বিনিময়— হয়তো এতেই মনটা একটু হালকা হবে।
রাগ কোরো না, তোমার রোজনামচায় জমে থাকা কিছু কথা আজ নির্দ্বিধায় আমায় বলতে পারো। আমিও প্রতিদিনের বুকের ভেতর জমে থাকা কিছু অপ্রকাশিত কথা নিঃসংকোচে তোমার হাতে তুলে দিতে চাই।
বাকশক্তি থাকা কালীন কথা বিনিময় ছাড়া বেঁচে থাকা বোধহয় অসম্ভব। কারণ, কিছু নীরবতা শব্দের অপেক্ষায়ই বেঁচে থাকে।
আজ নিরবে, নিঃশব্দে, জমে থাকা অনেক কথা বলতে চাই। নেবে কি আমার কথার ভার? শুনবে কি আমার হৃদয়ের দীর্ঘদিনের নীরব স্বীকারোক্তি?
বিশ্বাস করো, সব কথা অভিযোগ নয়, কিছু কথা শুধু মানুষ হয়ে মানুষের পাশে বসার আকুতি। কিছু কথা ক্ষমা চায়, কিছু কথা ফিরে পেতে চায় হারিয়ে যাওয়া সেই সহজ সম্পর্ক।
হয়তো কথা বললেই দুঃখের যন্ত্রণা পুরোপুরি মুছে যাবে না, তবু বুকের ভারটা একটু হালকা হবে। কারণ, না-বলা কথার চেয়ে বলা কথার আফসোস অনেক কম।
তাই একবার এসো— শুধু কিছুক্ষণ সময় নিয়ে। আজ কথা হোক, কারণ একদিন হয়তো সময় থাকবে, কিন্তু বলার মতো মানুষটি আর থাকবে না।
কথারা কখনও দূরত্ব বাড়ায় না, দূরত্ব বাড়ায় শুধু নীরবতা। তাই এসো, অভিমানের দেয়াল ভেঙে একবার কথা বলি… হিসেব-নিকেশ নয়,আজ শুধু হৃদয়ের দরজাটা খুলে দিই। যদি কিছুই ফিরে না পাই,তবু এই তৃপ্তিটুকু থাকবে—চেষ্টা করেছিলাম,নীরবতাকে হারিয়েকথার আলোয় ফিরে আসতে।
শেষবারের মতো বলছি- এসো, একবার কথা হোক।
হয়তো সব অভিমান মুছে যাবে না, সব প্রশ্নের উত্তরও মিলবে না। তবু কিছু নীরবতার অবসান হবে, কিছু দীর্ঘশ্বাস ফিরে পাবে মুক্তির পথ।
জীবন তো অনিশ্চিত— কে কখন কোন মোড়ে হারিয়ে যায়, তা কেউ জানে না। তাই সময় থাকতে কথাগুলো বলে নিই, ক্ষমাগুলো চেয়ে নিই, ভালোবাসাগুলো জানিয়ে দিই।
কারণ, একদিন হয়তো মানুষ থাকবে না, শুধু থেকে যাবে— না-বলা কিছু কথা….. আর বুকভরা একরাশ আফসোস।

শ্রাবণের বর্ষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
শ্রাবণের বর্ষা

দুখু হুমায়ুন
শ্রাবণ মেঘে বরষা নামে
বাংলার পল্লী-গাঁয়,
টিনের চালে মজার তালে
নূপুর বেজে যায়।
তালের পাতা শালের পাতা
বৃক্ষ-লতা যত,
নাচছে হেলে রূপের ছন্দে
দক্ষ পটুয়ার মতো।
হঠাৎ ফাঁকে থামলো বৃষ্টি
সূর্য আঁখি খোলে,
উঠলো হেসে পল্লী বাংলা
অরূপ রূপের কোলে।

আকাশকোণে ফিনকি দিয়ে
রংধনুটা হাসে,
ছড়িয়ে পড়ে রূপের ছটা
সাতটি রঙের পাশে।

হঠাৎ আবার আসলো ধেয়ে
ঝমঝমিয়ে ঢল,
একটুখানি জিরিয়ে বুঝি
ফিরে পেল বল।
শ্রাবণ দিনে এমনি চলে
রূপের লুকোচুরি,
বাংলার বুকে বর্ষা সাজায়
হাজার রূপের ডালি।