বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

গ্রুপ জে-তে আর্জেন্টিনার সঙ্গী কারা, ইতিহাস কী বলছে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:১২ পূর্বাহ্ণ
গ্রুপ জে-তে আর্জেন্টিনার সঙ্গী কারা, ইতিহাস কী বলছে?

জে গ্রুপের স্পষ্ট ফেভারিট ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং সাম্প্রতিক সাফল্যসহ সব কিছুই তাদের পক্ষে।

গ্রুপটি আর্জেন্টিনার জন্য তুলনামূলক সহজ বলে মনে করা হচ্ছে। বাকি প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

আর্জেন্টিনা ২০২২ সালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জিতেছিল। পুরুষদের ফুটবলে সর্বশেষ টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল, ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে। এবার সেই কীর্তি স্পর্শ করার সুযোগ মেসিদের সামনে। এবার দেখে নেওয়া যাক গ্রুপ সদস্যদের ইতিহাস।

আর্জেন্টিনা

তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের তৃতীয় স্থানে। ১৬ জুন তারা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। এরপর প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

কাগজে-কলমে গ্রুপটি আর্জেন্টিনার জন্য তুলনামূলক সহজ বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে নকআউট পর্বে ওঠার পথে বড় বাধা দেখছেন না বিশ্লেষকেরা।

বিশ্বকাপের ১৫ মাস আগেই ব্রাজিলকে হারিয়ে মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। সেই ম্যাচে অবশ্য অ্যাডাক্টর পেশির চোটের কারণে খেলেননি লিওনেল মেসি।

বর্তমান দলের ভিত্তি এখনও কাতার বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াড। বিশ্বকাপ ফাইনালের শুরুর একাদশের ৯ জন খেলোয়াড় এখনও দলে আছেন। কেবল অবসর নেওয়া অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া এবং চোটগ্রস্ত মেসির জায়গায় খেলেছিলেন থিয়াগো আলমাদা ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

বিশ্বকাপের সময় নিকোলাস ওতামেন্দির বয়স হবে ৩৮, নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ৩৩ এবং রদ্রিগো দে পলের ৩২। অর্থাৎ অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া এক দল নিয়েই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয় ম্যাচের দুদিন পর ৩৯ বছরে পা দেবেন মেসিও। তিনি খেললে পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নেওয়া প্রথম ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়বেন।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (২৬) খেলার রেকর্ড ইতোমধ্যে মেসির দখলে। ১৩ গোল নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোলসংখ্যা ১১৬, যা কেবল রোনালদোর ১৪৩ গোলের চেয়ে কম।

কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির সামনেও রয়েছে বিশেষ অর্জনের সুযোগ। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালিকে টানা দুটি বিশ্বকাপ জেতানো ভিত্তোরিও পোজ্জোর পর দ্বিতীয় কোচ হিসেবে একই কীর্তি গড়বেন তিনি।

আলজেরিয়া

১৯৯০ ও ২০১৯ সালের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন আলজেরিয়া ২০১৪ সালের পর আবার বিশ্বকাপে ফিরছে। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিল দলটি। তবে অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল।

এবারের বাছাই পর্বে আলজেরিয়ার পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। ১০ ম্যাচে তারা পেয়েছে আট জয়, একটি ড্র ও একটি হার।

৩৫ বছর বয়সী অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ এখনও দলের সবচেয়ে বড় তারকা। সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি উইঙ্গারের আন্তর্জাতিক গোল ৩৮টি। দেশের ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু ইসলাম স্লিমানি (৪৫)। দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন রায়ান আইত-নুরি ও রামি বেনসেবাইনি। সুইজারল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ এখন আলজেরিয়ার কোচের দায়িত্বে।

অস্ট্রিয়া

অস্ট্রিয়া ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে। এটি তাদের অষ্টম বিশ্বকাপ। ১৯৮২ সালের পর প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্ব পেরোনোর স্বপ্ন দেখছে ইউরোপের দেশটি। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মার্কো আরনাউতোভিচ। ৩৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড অস্ট্রিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা (৪৭) এবং সর্বাধিক ম্যাচ খেলা (১৩২) ফুটবলার।

অধিনায়ক ডেভিড আলাবাও থাকছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। ৩৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১২০টির বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন। মার্সেল সাবিৎসার ও কনরাড লাইমারের মতো খেলোয়াড়রাও দলের বড় শক্তি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, হফেনহাইম, শালকে ও লাইপজিগে কাজ করা রালফ রাংনিক ২০২২ সাল থেকে অস্ট্রিয়ার কোচ।

জর্ডান জাতীয় দল।
জর্ডান

বিশ্বকাপের ৯০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম মূল পর্বে খেলতে যাচ্ছে জর্ডান। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় কোনও সাফল্যের ইতিহাস নেই দেশটির। এশিয়ান কাপে তাদের সেরা অর্জন ২০২৩ সালে রানার্সআপ। এছাড়া ২০০৪ ও ২০১১ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা।

দলের সবচেয়ে বড় তারকা মুসা আল-তামারি। ফ্রান্সের ক্লাব রেনে খেলা এই ফরোয়ার্ডের আন্তর্জাতিক গোল ২৪টি। ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলা অল্প কয়েকজন জর্ডানিয়ান ফুটবলারের একজন তিনি।

আক্রমণভাগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম ইব্রাহিম সাবরা, যিনি ক্রোয়েশিয়ার লোকোমোটিভা জাগরেবে খেলেন। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়া জামাল সেল্লামি বিশ্বকাপে জর্ডানের কোচ হিসেবে অভিষেক করবেন।

Ads small one

সম্পাদকীয়/সুন্দরবনে অপরাধের দৌরাত্ম্য: দরকার কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক সততা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/সুন্দরবনে অপরাধের দৌরাত্ম্য: দরকার কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক সততা

বিশ্ব ঐতিহ্য ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যুহ সুন্দরবন আবারও সংবাদের শিরোনামে এসেছে। তবে কোনো ইতিবাচক অর্জনে নয়, বরং অপরাধচক্রের লাগামহীন তৎপরতার খবরে। সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে পাচারের সময় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ভোলা নদী থেকে ২৩০ টন কয়লাবোঝাই কার্গোসহ ৯ জনকে আটক করেছে বন বিভাগ। এর পাশাপাশি খুলনা রেঞ্জের বানিয়াখালী স্টেশনের আওতাধীন ময়দাপাশা খাল এলাকা থেকে হরিণের খণ্ডিত অংশ ও শিকারের সরঞ্জামসহ এক শিকারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই দুটি ঘটনা আলাদা হলেও উভয়ের মূল বার্তা একই—সুন্দরবনের ভেতরে অসাধু চক্রের বিচরণ ও অবৈধ কার্যক্রম চরম উদ্বেগের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

কয়লা পাচারের ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ চোরাচালান নয়; এর পেছনের মাত্রা বেশ ব্যাপক। মোংলার জয়মনি এলাকায় নোঙর করা মাদার ভেসেল থেকে বাজারমূল্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকার এত বড় অঙ্কের কয়লা অবৈধভাবে খালাস করে সুন্দরবনের মতো একটি সংরক্ষিত ও সংবেদনশীল নদীপথ দিয়ে নির্বিঘ্নে পরিবহনের দুঃসাহস কীভাবে তৈরি হলো, তা এক বড় প্রশ্ন। সুন্দরবনের ভেতরে কোনো বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে যে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকার কথা, এই ঘটনা সেখানে গলদের বিষয়টিই স্পষ্ট করে। বন বিভাগের টহল দল অভিযান চালিয়ে এটি ধরেছে—যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়; কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, এমন কোনো বড় চক্র বা প্রভাবশালী মহল কি এর নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে?

অন্যদিকে, সুন্দরবনের ঐতিহ্য ও অন্যতম মূল আকর্ষণ চিত্রা হরিণ শিকারের ঘটনাটি আরও নির্মম ও স্থায়ী ক্ষতির কারণ। ৭০ মিটার দীর্ঘ ছিটকা ফাঁদ, ধারালো অস্ত্র ও জবাই করা হরিণের অবশিষ্টাংশসহ শিকারি আটকের ঘটনা প্রমাণ করে, বন বিভাগের নানামুখী নিষেধাজ্ঞা ও কঠোরতার পরও বনে চোরাশিকারিদের রমরমা বাণিজ্য থেমে নেই। একশ্রেণির সুযোগসন্ধানী স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রের চাহিদার কারণে সুন্দরবনের প্রাণীবৈচিত্র্য আজ মারাত্মক হুমকির মুখে।

সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়; এটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ঢাল। আর এই বনের বাস্তুতন্ত্র (ইকোসিস্টেম) টিকে থাকে এর বন্যপ্রাণী এবং জলপথের বিশুদ্ধতার ওপর। বনের সংরক্ষিত অঞ্চলে অননুমোদিত কার্গো চলাচল, কয়লা বা জ্বালানির মতো ক্ষতিকর পদার্থের পরিবহন কিংবা বন্যপ্রাণী হত্যা কেবল বনের আইন লঙ্ঘন নয়, বরং পুরো উপকূলীয় পরিবেশের ওপর এক মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনে।
বন বিভাগ শরণখোলা ও কয়রা থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছে এবং আসামিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলা হওয়া অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ, কিন্তু কেবল চুনোপুঁটি শ্রমিক বা দু-একজন শিকারিকে ধরে এই ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব নয়। কয়লা পাচারের পেছনে আসল মদদদাতা বা ক্রয়-বিক্রয়ের অসাধু সিন্ডিকেট কে বা কারা, তা নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে। পাশাপাশি হরিণ শিকারের ক্ষেত্রেও মাংস বিক্রির অবৈধ বাজারের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে।

সুন্দরবন রক্ষায় বন বিভাগের টহল ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর (যেমন ড্রোন নজরদারি ও স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং) করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে বনকর্মী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে কারও অবহেলা বা অসাধু চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর ওপর এই তাণ্ডব বন্ধ না হলে সুন্দরবন তাঁর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও সুরক্ষাবলয় হারিয়ে ফেলবে, যার চড়া মাশুল দিতে হবে পুরো দেশকে।

চার মাসের সংসার, প্রথম দুর্গোৎসবেই নববধূর করুণ বিদায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
চার মাসের সংসার, প্রথম দুর্গোৎসবেই নববধূর করুণ বিদায়
মিলন বিশ্বাস: বিয়ের মাত্র চার মাস। নতুন সংসারের স্বপ্ন আর বাবার বাড়িতে প্রথম দুর্গোৎসবের আনন্দ সবকিছু যেন এক মুহূর্তেই থমকে গেল। বিজয়া দশমীতে দেবীর কপালে সিঁদুর দিতে গিয়ে আকস্মিক অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারালেন তন্নি দে (২০) নামে এক নববধূ। উৎসবের আনন্দঘন মুহূর্ত পরিণত হলো শোক আর কান্নায়। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সার্বজনীন প্রতিমা বিসর্জনস্থলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তন্নি দে কুমিরা গ্রামের মহাদেব দের মেয়ে। চার মাস আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে এটাই ছিল তাঁর প্রথম দুর্গোৎসব।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় ননদের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে যান তন্নি। সেখানে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমার কপালে সিঁদুর দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তিনি। কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্তেই হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
ঘটনার পরপরই বিসর্জনস্থলের উৎসবমুখর পরিবেশ শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। যে উৎসবে সিঁদুরের রঙে রঙিন হওয়ার কথা ছিল বিজয়ার শেষ বিকেল, সেখানে নেমে আসে কান্নার আবহ। মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন বাবা মহাদেব দেসহ পরিবারের সদস্যরা।
তালা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ মজুমদার ও স্থানীয় সূত্রে এ মৃত্যুর খবর জানা গেছে।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, বিসর্জনস্থলে এক নববধূর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তন্নি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় তাঁদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

Oplus_131072

পত্রদূত ডেস্ক: আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর বিদায়ের করুণ সুরের মধ্য দিয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় নিয়েছেন দেবী দুর্গা। পূজার আনুষ্ঠানিকতা অনুযায়ী, বুধবার সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা। পরে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো আসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দেওয়াই বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এসব প্রবৃত্তি ত্যাগ করে পরস্পরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।
গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫ দিন রাজধানীসহ দেশের পূজামন্ডপগুলোতে পূজা অর্চনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব শেষ হয়।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক (বাবার বাড়ি) থেকে স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে ফিরে যান। আগামী বছর শরৎকালে তিনি পুনরায় ধরণীতে ফিরে আসবেন।
এর আগে দুপুরে বিভিন্নস্থানে বের হয় বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রা ও বিসর্জনে অংশ নিতে দুপুরের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন মন্ডপ থেকে ভ্যান নৌকা ট্রাকসহ বিভিন্ন বাহনে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা নদ-নদী জলাশয়ের পাশে জড়ো হতে থাকেন। এবছর জেলায় সর্বোচ্চ ৬১২টি মন্ডপে সুষ্ঠ শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।