বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার যুবকদের জন্য পর্যটন শিক্ষার গুরুত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার যুবকদের জন্য পর্যটন শিক্ষার গুরুত্ব

মো. মামুন হাসান

বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের পরিচয় দিতে গেলে যে নামটি সবার আগে অহংকার জাগায়, সেটি হলো সুন্দরবন। এই দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঝরঝর করে ঝরে পড়া বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবিলা করেছে, বুক পেতে দিয়েছে ঝড়ের মুখে। কিন্তু যুগের পরিবর্তন হয়েছে।

 

একসময় যে সুন্দরবনকে আমরা কেবল কাঠ, গোলপাতা আর মধুর উৎস ভাবতাম, আজ সেই সুন্দরবনকে ঘিরেই দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বুকে জন্ম নিচ্ছে এক নতুন অর্থনৈতিক বিপ্লবের মহাকাব্য। আর এই মহাকাব্যের আসল নায়ক কোনো বহিরাগত পুঁজিপতি নয়, বরং এই মাটিরই সন্তান সাতক্ষীরার লড়াকু যুবসমাজ। তবে এই অমিত সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে গতানুগতিক বিএ, এমএ পাসের সার্টিফিকেট যথেষ্ট নয়, এখানে প্রয়োজন একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন এবং সরাসরি কর্মমুখী শিক্ষা, যার নাম ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট।

আজকের বৈশ্বিক অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, পর্যটন শিল্প কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ধোঁয়াবিহীন শিল্প বা স্মোকলেস ইন্ডাস্ট্রি। আন্তর্জাতিক গবেষণাগুলো স্পষ্ট দেখাচ্ছে যে, একজন পর্যটক যখন কোনো অঞ্চলে পা রাখেন, তখন তিনি একা আসেন না, সঙ্গে করে নিয়ে আসেন বিপুল অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য।

 

তাঁর যাতায়াতের জন্য সচল হয় পরিবহন খাত, থাকার জন্য প্রয়োজন হয় হোটেল বা রিসোর্ট, খাবারের জন্য চাঙ্গা হয় স্থানীয় কৃষি ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা, আর স্মারক হিসেবে কেনাকাটার মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পায় মৃতপ্রায় লোকজ সংস্কৃতি ও হস্তশিল্প। অর্থাৎ, পর্যটন এমন এক জাদুকরি খাত যা পুরো এলাকার অর্থনীতিকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের এত বড় একটি বিশ্ব ঐতিহ্য বা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট থাকা সত্ত্বেও দক্ষ জনবলের অভাবে আমরা এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে ঘরে তুলতে পারিনি। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কখনো একা পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে পারে না, তার জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের পেশাদারিত্ব এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা।

এখানেই সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সামনে এক নতুন আশার আলো হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। অনেক অভিভাবকই এখনো ভাবেন, পড়াশোনা মানেই কেবল বিসিএস বা ব্যাংকের পেছনে বছরের পর বছর বেকার বসে থাকা। এই সনাতন চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে আসার এখনই উপযুক্ত সময়। এই বিভাগটি কোনো সাধারণ তাত্ত্বিক শিক্ষার জায়গা নয়, এটি একটি সরাসরি বাস্তবমুখী এবং প্রয়োগিক বিদ্যার ক্ষেত্র।

 

একজন শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হওয়া মাত্রই আধুনিক হোটেল অপারেশন, ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজমেন্ট, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, ট্রাভেল এজেন্সি অপারেশন এবং ডিজিটাল ট্যুরিজমের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিষয়ে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ পায়। ফলে শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই একজন শিক্ষার্থী নিজেকে পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে এবং দেশ-বিদেশের যেকোনো তারকা হোটেলে কর্মসংস্থানের চমৎকার সুযোগ পেয়ে যায়।

সাতক্ষীরার তরুণদের জন্য এই শিক্ষার গুরুত্ব আরও গভীর ও আবেগের। প্রতিবছর এই অঞ্চলের হাজার হাজার প্রতিভাবান যুবক কেবল একটা চাকরির আশায় রাজধানী ঢাকা কিংবা প্রবাসে পাড়ি জমায়, নিজেদের চেনা পরিবেশ আর পরিবার ছেড়ে দূর পরবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে। অথচ সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে যদি পরিকল্পিত ইকো ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজম গড়ে তোলা যায়, তবে নিজ এলাকাতেই হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।

 

এই বিভাগ থেকে পাস করা একজন তরুণ কেবল অন্যের অধীনে চাকরি করবে না, সে নিজেই একজন উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে। কেউ নিজের পরিবেশবান্ধব বিলাসবহুল রিসোর্ট তৈরি করবে, কেউ আন্তর্জাতিক মানের ক্রুজ শিপ বা নৌভ্রমণ পরিচালনা করবে, আবার কেউবা নিজস্ব ট্রাভেল এজেন্সি খুলে বিশ্বজুড়ে সাতক্ষীরার ট্যুরিজমকে ব্র্যান্ডিং করবে।

বর্তমান যুগটি যেহেতু সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর, তাই পর্যটনের সংজ্ঞাও বদলে গেছে। এখন কেবল একটি স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে একজন দক্ষ তরুণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর চমৎকার তথ্যচিত্র তৈরি করতে পারে, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারে এবং অনলাইন বুকিং সিস্টেমের মাধ্যমে সরাসরি বিদেশি মুদ্রা দেশে নিয়ে আসতে পারে।

 

আজকের পৃথিবীর ধনী দেশগুলোর পর্যটকেরা কংক্রিটের জঙ্গল ছেড়ে সবুজ প্রকৃতি, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, উপকূলের মানুষের সংগ্রামী জীবন আর ম্যানগ্রোভের রহস্য দেখতে ব্যাকুল। এই বিশাল আন্তর্জাতিক বাজারের দরজা খুলে দেওয়ার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক পর্যটন শিক্ষার মধ্যে।

এই শিক্ষার আরেকটি অন্যতম প্রধান বৈপ্লবিক দিক হলো এটি নারী ক্ষমতায়নের এক অনন্য হাতিয়ার। আমাদের সমাজে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এখনো বেশ সীমিত। কিন্তু আতিথেয়তা শিল্প, হোটেল প্রশাসন, ফুড ক্রাফট, অনলাইন ট্যুর অপারেটর কিংবা হস্তশিল্পভিত্তিক ব্যবসায় নারীরা অত্যন্ত মেধা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করতে পারেন। ফলে এই বিভাগটি কেবল তরুণদের নয়, তরুণীদের স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমে সমাজের সামগ্রিক চিত্রকে বদলে দেওয়ার এক নীরব সামাজিক বিপ্লব তৈরি করছে।

একজন অভিভাবক হিসেবে আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা খুঁজে পাওয়াটাই স্বাভাবিক। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা করলে একজন শিক্ষার্থীর শুধু একটা চাকরি জোটে না, তার মধ্যে তৈরি হয় অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, বিশ্বমানের যোগাযোগ দক্ষতা, ভাষাগত পারদর্শিতা এবং উপস্থাপন ক্ষমতা। বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করতে করতে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এতটাই বিশাল হয়ে যায় যে, তারা আর কুয়োর ব্যাঙ হয়ে থাকে না, বরং সত্যিকারের একজন বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এই বিশেষায়িত বিভাগটি আজ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের নতুন স্বপ্নের ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। অভিজ্ঞ শিক্ষক ম-লী এবং আধুনিক ল্যাবরেটরির সমন্বয়ে এখানে ভবিষ্যৎ পর্যটন শিল্পের যোগ্য নেতা তৈরি করা হচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, যে অঞ্চলটি একসময় কেবল সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস আর অবহেলার গল্পে পত্রিকার পাতায় আসত, আজ সময় এসেছে সেই চেনা গল্পটাকে বদলে দেওয়ার।

 

সঠিক পরিকল্পনা আর এই আধুনিক কর্মমুখী শিক্ষার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সাতক্ষীরার যুবসমাজ একদিন নিজেদের ভাগ্য তো বদলাবেই, সেই সঙ্গে সুন্দরবনকে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে এক নম্বর গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আপনার সন্তানকে এই সম্ভাবনাময় যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ করে দিন, কারণ আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে আজকের এই দক্ষ ও আধুনিক তরুণ প্রজন্ম।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

Ads small one

বিশ্বকাপ মাতানো ভাইদের গল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপ মাতানো ভাইদের গল্প

বিশ্বকাপ শুধু দেশ বনাম দেশের লড়াই নয়, তাতে অনেক সময় জড়িয়ে থাকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গল্পও। এই মহারণে অনেক পরিবারই দেখেছে তাদের একাধিক সদস্যকে একই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে। তবে গোল করার মতো স্মরণীয় কীর্তি গড়তে পেরেছেন খুব কমই। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র চার জোড়া ভাই আছেন, যারা গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাদের কেউ হয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, কেউ শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ছুঁতে পারেননি কাঙ্ক্ষিত ট্রফি। তবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে তাদের নাম আজও লেখা আছে রেকর্ডের পাতায়।

বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ভাইদের জুটি ছিলেন পশ্চিম জার্মানির ওটমার ওয়াল্টার ও ফ্রিৎস ওয়াল্টার। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে দুজন মিলে করেছিলেন সাতটি গোল। সেই আসরেই প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে পশ্চিম জার্মানি। ফ্রিৎস ছিলেন দলের অধিনায়ক ও অন্যতম প্রধান তারকা, আর ভাই ওটমারও ছিলেন সেই ঐতিহাসিক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

এর দুই দশক পর বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের নাম লেখান নেদারল্যান্ডসের উইলি ও রেনে ফন ডে কেরখফ। ১৯৭৪ ও ১৯৭৮—দুই বিশ্বকাপেই রানার্সআপ হওয়া ডাচ দলের সদস্য ছিলেন তারা। ১৯৭৮ সালের আসরে দুই ভাই-ই গোল করার কৃতিত্ব দেখান। যদিও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি, তবু ডাচ ফুটবলের স্বর্ণযুগের অন্যতম প্রতীক হয়ে আছেন এই দুই ভাই।

বিশ্বকাপে গোল করা তৃতীয় ভাই জুটি ব্রাজিলের সক্রেটিস ও রাই। তাদের গল্পে আছে এক চমৎকার মিল। দুজনই ব্রাজিলের অধিনায়ক হিসেবে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করেছিলেন, আর দুজনের গোলই এসেছিল দ্বিতীয়ার্ধের পেনাল্টি থেকে। আরও মজার বিষয় হলো, তাদের প্রতিপক্ষও ছিল প্রায় একই—সক্রেটিস ১৯৮২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে এবং রাই ১৯৯৪ সালে রাশিয়ার বিপক্ষে জালে বল পাঠিয়েছিলেন।

বিশ্বকাপে গোল করা সর্বশেষ ভাই জুটি ডেনমার্কের কিংবদন্তি মাইকেল ও ব্রায়ান লডরুপ। ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে একটি করে গোল করেছিলেন মাইকেল। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে দুই গোল করেন ব্রায়ান।

তবে ভাই হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি আরও বিরল। এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ভাই জুটি বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুলতে পেরেছেন। একজন ওটমার ও ফ্রিৎস ওয়াল্টার, যারা ১৯৫৪ সালে পশ্চিম জার্মানিকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। অন্য জুটি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি জ্যাক চার্লটন ও ববি চার্লটন, যারা ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের অংশ ছিলেন।

গ্রুপ জে-তে আর্জেন্টিনার সঙ্গী কারা, ইতিহাস কী বলছে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:১২ পূর্বাহ্ণ
গ্রুপ জে-তে আর্জেন্টিনার সঙ্গী কারা, ইতিহাস কী বলছে?

জে গ্রুপের স্পষ্ট ফেভারিট ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং সাম্প্রতিক সাফল্যসহ সব কিছুই তাদের পক্ষে।

গ্রুপটি আর্জেন্টিনার জন্য তুলনামূলক সহজ বলে মনে করা হচ্ছে। বাকি প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

আর্জেন্টিনা ২০২২ সালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জিতেছিল। পুরুষদের ফুটবলে সর্বশেষ টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল, ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে। এবার সেই কীর্তি স্পর্শ করার সুযোগ মেসিদের সামনে। এবার দেখে নেওয়া যাক গ্রুপ সদস্যদের ইতিহাস।

আর্জেন্টিনা

তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের তৃতীয় স্থানে। ১৬ জুন তারা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। এরপর প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

কাগজে-কলমে গ্রুপটি আর্জেন্টিনার জন্য তুলনামূলক সহজ বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে নকআউট পর্বে ওঠার পথে বড় বাধা দেখছেন না বিশ্লেষকেরা।

বিশ্বকাপের ১৫ মাস আগেই ব্রাজিলকে হারিয়ে মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। সেই ম্যাচে অবশ্য অ্যাডাক্টর পেশির চোটের কারণে খেলেননি লিওনেল মেসি।

বর্তমান দলের ভিত্তি এখনও কাতার বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াড। বিশ্বকাপ ফাইনালের শুরুর একাদশের ৯ জন খেলোয়াড় এখনও দলে আছেন। কেবল অবসর নেওয়া অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া এবং চোটগ্রস্ত মেসির জায়গায় খেলেছিলেন থিয়াগো আলমাদা ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

বিশ্বকাপের সময় নিকোলাস ওতামেন্দির বয়স হবে ৩৮, নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ৩৩ এবং রদ্রিগো দে পলের ৩২। অর্থাৎ অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া এক দল নিয়েই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয় ম্যাচের দুদিন পর ৩৯ বছরে পা দেবেন মেসিও। তিনি খেললে পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নেওয়া প্রথম ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়বেন।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (২৬) খেলার রেকর্ড ইতোমধ্যে মেসির দখলে। ১৩ গোল নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোলসংখ্যা ১১৬, যা কেবল রোনালদোর ১৪৩ গোলের চেয়ে কম।

কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির সামনেও রয়েছে বিশেষ অর্জনের সুযোগ। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালিকে টানা দুটি বিশ্বকাপ জেতানো ভিত্তোরিও পোজ্জোর পর দ্বিতীয় কোচ হিসেবে একই কীর্তি গড়বেন তিনি।

আলজেরিয়া

১৯৯০ ও ২০১৯ সালের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন আলজেরিয়া ২০১৪ সালের পর আবার বিশ্বকাপে ফিরছে। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিল দলটি। তবে অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল।

এবারের বাছাই পর্বে আলজেরিয়ার পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। ১০ ম্যাচে তারা পেয়েছে আট জয়, একটি ড্র ও একটি হার।

৩৫ বছর বয়সী অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ এখনও দলের সবচেয়ে বড় তারকা। সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি উইঙ্গারের আন্তর্জাতিক গোল ৩৮টি। দেশের ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু ইসলাম স্লিমানি (৪৫)। দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন রায়ান আইত-নুরি ও রামি বেনসেবাইনি। সুইজারল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ এখন আলজেরিয়ার কোচের দায়িত্বে।

অস্ট্রিয়া

অস্ট্রিয়া ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে। এটি তাদের অষ্টম বিশ্বকাপ। ১৯৮২ সালের পর প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্ব পেরোনোর স্বপ্ন দেখছে ইউরোপের দেশটি। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মার্কো আরনাউতোভিচ। ৩৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড অস্ট্রিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা (৪৭) এবং সর্বাধিক ম্যাচ খেলা (১৩২) ফুটবলার।

অধিনায়ক ডেভিড আলাবাও থাকছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। ৩৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১২০টির বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন। মার্সেল সাবিৎসার ও কনরাড লাইমারের মতো খেলোয়াড়রাও দলের বড় শক্তি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, হফেনহাইম, শালকে ও লাইপজিগে কাজ করা রালফ রাংনিক ২০২২ সাল থেকে অস্ট্রিয়ার কোচ।

জর্ডান জাতীয় দল।
জর্ডান

বিশ্বকাপের ৯০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম মূল পর্বে খেলতে যাচ্ছে জর্ডান। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় কোনও সাফল্যের ইতিহাস নেই দেশটির। এশিয়ান কাপে তাদের সেরা অর্জন ২০২৩ সালে রানার্সআপ। এছাড়া ২০০৪ ও ২০১১ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা।

দলের সবচেয়ে বড় তারকা মুসা আল-তামারি। ফ্রান্সের ক্লাব রেনে খেলা এই ফরোয়ার্ডের আন্তর্জাতিক গোল ২৪টি। ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলা অল্প কয়েকজন জর্ডানিয়ান ফুটবলারের একজন তিনি।

আক্রমণভাগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম ইব্রাহিম সাবরা, যিনি ক্রোয়েশিয়ার লোকোমোটিভা জাগরেবে খেলেন। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়া জামাল সেল্লামি বিশ্বকাপে জর্ডানের কোচ হিসেবে অভিষেক করবেন।

কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা এলাকায় কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়া জেলে মো. আরিফ হাসানের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত আরিফ হাসান চাকলা গ্রামের মৃত আব্দুল হাই সানার ছেলে। এর আগে গত সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে চাকলা গ্রামের কপোতাক্ষ নদে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফ হাসান প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে একা একটি নৌকা নিয়ে কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরতে যান। বিকেলের দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে একপর্যায়ে তাঁর নৌকার ওপর বজ্রপাত হয়। এতে তিনি নৌকা থেকে ছিটকে নদে পড়ে নিখোঁজ হন এবং নৌকাটি ডুবে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় জেলে, স্বজন ও এলাকাবাসী মিলে ডুবে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করতে পারলেও আরিফের কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও ডুবুরিরা নদে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাটের পাশে নদে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে আরিফ হাসানের মরদেহ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে চিলতে ওই গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই নদের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।