মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার শাহপুরে ফ্রিল্যান্সারের হাত ধরে গড়ে উঠল বক ও পানকৌড়ির অভয়ারণ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার শাহপুরে ফ্রিল্যান্সারের হাত ধরে গড়ে উঠল বক ও পানকৌড়ির অভয়ারণ্য

পত্রদূত ডেস্ক: একদিকে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ, অন্যদিকে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের নীরব সাধনা। প্রযুক্তিনির্ভর পেশার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের বাসিন্দা ফ্রিল্যান্সার মোহাম্মদ মনজুরুল হাসান গড়ে তুলেছেন বক ও পানকৌড়ি পাখির একটি নিরাপদ অভয়ারণ্য।

মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তার বাড়ির চারপাশের গাছগুলো আজ পরিণত হয়েছে হাজারো বন্যপাখির নিরাপদ আশ্রয়ে। বর্তমানে এলাকাটির বিভিন্ন গাছে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি বক ও পানকৌড়ি বাসা বেঁধেছে। ডিম পাড়া, বাচ্চা ফোটানো এবং বংশবিস্তার-সব মিলিয়ে প্রতিদিনই মুখর থাকছে পুরো এলাকা। ভোরের কিচিরমিচির আর সন্ধ্যার ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির ফিরে আসা এখন শাহপুর গ্রামের নতুন পরিচয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি বক দেখা গেলেও চলতি বছর হঠাৎ করেই বিপুল সংখ্যক বক ও পানকৌড়ি এখানে এসে বসতি গড়েছে। পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত নজর রাখছেন মোহাম্মদ মনজুরুল হাসান ও তার প্রতিবেশীরা। কেউ যেন পাখির বাসা নষ্ট না করে বা শিকার না করে, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ মনজুরুল হাসান বলেন, “বন্যপাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অবাধ শিকার, জলাভূমি ধ্বংস, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে বক ও পানকৌড়ির সংখ্যা কমছে। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরির চেষ্টা করেছি। পাখিগুলো এখানে নিরাপদে থাকুক-এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

তবে এই উদ্যোগের মাঝেও রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জ। এলাকার কয়েকজন কৃষক পাখির বিষ্ঠার কারণে ফসলের ক্ষতির অভিযোগ তুলছেন। ফলে পাখিগুলোকে তাড়িয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
স্থানীয় ওয়ার্ডের মেম্বার শামসুল হুদা পল্টু বলেন, “এত সংখ্যক বক ও পানকৌড়ি আমরা আগে কখনও দেখিনি। আমরা সবাইকে নিয়ে পাখিগুলোকে রক্ষা করছি। এটি শুধু শাহপুর নয়, পুরো সাতক্ষীরার জন্য গর্বের বিষয়। সরকারিভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে এটি পর্যটনেরও আকর্ষণ হতে পারে।”

প্রতিবেশী মোছা. মাহমুদা খাতুন বলেন, “শুরুতে অনেকেই বিরক্ত হতেন। কিন্তু এখন সবাই বুঝতে পারছেন, পাখিগুলো আমাদের গ্রামের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। বাইরে থেকেও মানুষ শুধু পাখি দেখতে আসছেন। আমরা চাই এগুলো নিরাপদে থাকুক।”

স্থানীয় শিক্ষক মোছা. নাজমুন নাহার বলেন, “শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে এই অভয়ারণ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জীবন্ত শিক্ষাকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।”

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা মনে করছেন, ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ ধরনের বন্যপাখির আবাসস্থল বাংলাদেশে খুবই বিরল। যথাযথ সরকারি স্বীকৃতি, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে শাহপুর গ্রামের এই প্রাকৃতিক আবাসস্থল ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বক ও পানকৌড়ির অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে।

প্রকৃতি সংরক্ষণে একজন ফ্রিল্যান্সারের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে। প্রযুক্তির পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তার এই নীরব প্রচেষ্টা প্রমাণ করে-পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তনের সূচনা একজন মানুষের হাত ধরেও সম্ভব।

 

 

 

Ads small one

দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবর পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বক্তব্য, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর ও প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তালা বাজার বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন, সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
তালা বাজার বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন, সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: তালা বাজারকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র, সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং কথিত আন্ডারগ্রাউন্ড মাফিয়া চক্রের তৎপরতার অভিযোগ তুলে তালা বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে তালা ডাকবাংলো হলরুমে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তালা বাজার বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ জুন শাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সাগর তার সিডিআই মোটরসাইকেলটি মেরামতের জন্য মেলা বাজার পাম্পসংলগ্ন ফাহিমের গ্যারেজে জমা দেন। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আনার আশ্বাস দেওয়ার পর ফাহিম দাবি করেন, মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ফাহিম নিজেই মোটরসাইকেলটি চুরি করে ভাঙারি ব্যবসায়ী আব্দুল মাজেদের কাছে কেজি দরে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বণিক সমিতি একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নিলেও ফাহিম উপস্থিত হননি বলে দাবি করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ জুলাই বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আলমগীর হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন ফাহিমের গ্যারেজে গিয়ে অভিযোগকারী সাগরের উপস্থিতিতে তার বক্তব্য গ্রহণ করেন। এ সময় ফাহিমের বাবা, খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল জলিল উপস্থিত থেকে বিষয়টির সিদ্ধান্ত বণিক সমিতির ওপর ছেড়ে দেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে সভাপতি ও কার্যনির্বাহী সদস্য সাময়িকভাবে ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলে কয়েকজন বহিরাগত যুবক সেখানে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজন অস্ত্র প্রদর্শন করে নিজেকে “খুলনার গ্রেনেড বাবু” পরিচয় দিয়ে কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে হত্যার হুমকি দেয়। এ সময় ফাহিম একটি ভারী সাইলেন্সার রেঞ্চ দিয়ে আঘাত করতে গেলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে থাকা মামুন হাওলাদার নামে একজন আহত হন।

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ফেলে অন্য মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা গুলি করে হত্যার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, পুলিশি তদন্ত ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে “গ্রেনেড বাবু” পরিচয়দানকারী ব্যক্তি খুলনা অঞ্চলের কথিত মাফিয়া “গ্রেনেড বাবু”র সহযোগী “কালা তুহিন” বলে জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেন বক্তারা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৪০টিরও বেশি মামলা রয়েছে এবং তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া, তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে খলিলনগর ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল জলিলের আশ্রয়ে থেকে মাদক ও চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বণিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো: ফাহিমকে রিমান্ডে নিয়ে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং কালা তুহিন ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তালা বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বণিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তালা বাজার ও আশপাশের এলাকায় বাইরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা অবস্থান নিয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এসব কর্মকান্ড রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তালা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক স, ম ইয়াছিন উল্লাহ,বণিক সমিতির নেতা ফারুক হোসেন, মেহেদী হাসান, আলমগীর হোসেন, হারুনসহ সমিতির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

সাতক্ষীরায় জামায়াতের সংসদ সদস্যের ভিডিও নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জামায়াতের সংসদ সদস্যের ভিডিও নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

Oplus_131072

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছে। গত সোমবার রাতে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর নানা আলোচনার সুত্রপাত হয়।

ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। কখনো তিনি ফোনে কথা বলছেন, আবার কখনো তাকে ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা থেকে পরিচালনাধীন ‘ক্রাইম বার্তা’ দাবি করে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া দৃশ্য। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল লেন্স’ অনুসন্ধানের পর জানায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো নয়, এটি আসল। সিসিটিভি ফুটেজের সময় উল্লেখ (টাইমস্ট্যাম্প) অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হলেও এটি কোন স্থানের, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভিডিওর বিষয়ে কথা বলতে সংসদ সদস্যের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, এমপি তাকে অবহিত করেছেন যে ভিডিওতে দৃশ্যমান তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ে কবে হয়েছে-জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা জানান, সুনির্দিষ্ট তারিখ জানা না থাকলেও বিয়েটি বেশ কিছুদিন আগেই সম্পন্ন হয়েছে।

তবে ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরে যখন দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ভিডিওতে আলোচিত মরিয়ম খাতুনের একটি জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) সামনে আসে। গত ২২ জুন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সেই জীবনবৃত্তান্তে জোর সুপারিশ করে নিজের স্বাক্ষর প্রদান করেন। জীবনবৃত্তান্তে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মরিয়ম খাতুন ২০০৮ সালের ২২ মে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেন। পরিবারের ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিস্তারিত বিবরণের পাশে তার বৈবাহিক অবস্থার ঘরে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, তিনি ‘অবিবাহিত’।

এদিকে বিতর্কের মুখেই ২১ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ঘটনাটি গত ১৩ জুলাইয়ের এবং এর পেছনে তার নিজস্ব গাড়িচালকের সুপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির নীল নকশা রয়েছে।

বিবৃতিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথমা স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে অবস্থিত দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। অবস্থানকালে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই অপরিচিত ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে তার ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চেয়ে চরম হেনস্তা করে। একপর্যায়ে তাদের কার্যালয়ের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা প্রদান করার পরই তারা সেখান থেকে রেহাই পান।

ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে পারেন যে, এই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি সম্পর্কে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা।

সংসদ সদস্য জানান, তার শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পারিবারিক পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তার কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে চালক ওবায়দুল্লাহ অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে একটি বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে সংসদ সদস্য দাবি করেন। একে নিজের ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র এবং ‘চরিত্র হননের অপচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই ধরনের হীন কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, পুরো বিষয়টি একটি সাজানো ঘটনা। এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা চালক ওবায়দুল্লাহসহ জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।